কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৮ অক্টোবর ২০১৮

৭ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে ৮০ কোটি টাকার প্রণোদনা দেবে সরকার


প্রকাশন তারিখ : 2018-10-08

দেশের  ৬৪টি জেলায় ৬ লক্ষ ৯০ হাজার ৯ শত ৭০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে বিনামূল্যে বীজ ও সার সহায়তা হিসেবে ৭৯ কোটি ৯৯ লক্ষ ৮২ হাজার ৪ শত ৯৫ টাকার  প্রণোদনা দেবে সরকার। ১১ টি ফসলের উৎপাদন বাড়াতে এ প্রণোদনা দেওয়া হবে। ফসলগুলো হচ্ছে গম, ভুট্টা, সরিষা, চিনাবাদাম, ফেলন, খেসারি, বিটিবেগুন, বোরো, শীতকালীন মুগও পরবর্তী খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন মুগ ও গ্রীষ্মকালীন তিল।

 

রবিবার (০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮) বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান মাননীয় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

 

কৃষিমন্ত্রী বলেন, এই প্রণোদনা কার্যক্রমের অর্থ কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ থেকে সংকুলান করা হবে। এ জন্য সরকারের কোনও অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না। রবি মৌসুমে খেসারি, বিটি বেগুন, বোরো, গম, ভুট্টা, সরিষা, চীনাবাদাম, ফেলন, শীতকালীন মুগ এবং পরের খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন মুগ ও গ্রীষ্মকালীন তিল উৎপাদন বৃদ্ধিতে সারাদেশে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রণোদনার মাধ্যমে পরিবার প্রতি সর্বোচ্চ ১ বিঘা জমির জন্য বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার (ডিএপি ও এমওপি) দেওয়া হবে।

 

মন্ত্রী বলেন, গম এর ক্ষেত্রে প্রতি কৃষক ১ বিঘা জমির জন্য ২০ কেজি গম বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার পাবেন ; এতে সর্বসাকুল্যে ব্যয় হবে ১ হাজার ৯ শত ৬৫ টাকা। ভূট্টা’র ক্ষেত্রে  ১ বিঘা জমির জন্য ২ কেজি ভূট্টা বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার পাবেন ।  সর্বসাকুল্যে ব্যয় হবে ১ হাজার ৩ শত ২ টাকা । সরিষা এর ক্ষেত্রে প্রতি কৃষক ১ বিঘা জমির জন্য ১ কেজি সরিষা বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার পাবেন । সর্বসাকুল্যে ব্যয় হবে ৭শত ৮৬ টাকা । চীনাবাদাম এর ক্ষেত্রে প্রতি কৃষক ১ বিঘা জমির জন্য ১০ কেজি চীনাবাদাম বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার পাবেন । সর্বসাকুল্যে ব্যয় হবে ১ হাজার ৫ শত ৬৩ টাকা । গ্রীষ্মকালীন তিল এর ক্ষেত্রে প্রতি কৃষক ১ বিঘা জমির জন্য ১ কেজি তিল বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার পাবেন । সর্বসাকুল্যে ব্যয় হবে ৭ শত ৯২ টাকা । গ্রীষ্মকালীন মুগ এর ক্ষেত্রে প্রতি কৃষক ১ বিঘা জমির জন্য ৫ কেজি মুগ বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার পাবেন । সর্বসাকুল্যে ব্যয় হবে ৯ শত ৩৫ টাকা । খেসারী এর ক্ষেত্রে প্রতি কৃষক ১ বিঘা জমির জন্য ৮ কেজি খেসারী বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার পাবেন ।  সর্বসাকুল্যে ব্যয় হবে ৯ শত ৭৬ টাকা । ফেলন এর ক্ষেত্রে প্রতি কৃষক ১ বিঘা জমির জন্য ৭ কেজি ফেলন বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার পাবেন । সর্বসাকুল্যে ব্যয় হবে ১ হাজার ৪৪ টাকা । বিটি বেগুন এর ক্ষেত্রে প্রতি কৃষক ১ বিঘা জমির জন্য ২০ গ্রাম বিটি বেগুন বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার পাবেন ।  সর্বসাকুল্যে ব্যয় হবে ৯ শত ৯৫ টাকা। বোরো এর ক্ষেত্রে প্রতি কৃষক ১ বিঘা জমির জন্য ৫ কেজি বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার পাবেন । সর্বসাকুল্যে ব্যয় হবে ১ হাজার ২ টাকা । শীতকালীন মুগ এর ক্ষেত্রে প্রতি কৃষক ১ বিঘা জমির জন্য ৫ কেজি মুগ বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার পাবেন । সর্বসাকুল্যে ব্যয় হবে ৯ শত ৩৫ টাকা ।

 

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ প্রণোদনা কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো-শস্যবহুমূখীকরণের মাধ্যমে দেশের মানুষের সার্বিক পুষ্টি চাহিদা মিটানো। বন্যা, জলাবদ্ধতা, ভূমিক্ষয়, অনাবৃষ্টি, খরা, লবণাক্ততা, শৈত্যপ্রবাহ, ঘনকুয়াশাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে বিভিন্ন ফসল চাষে কৃষক সমাজকে অভ্যস্ত করে তোলা । বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি হ্রাস করে কৃষকগণকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা । দেশের বিভিন্ন জেলায় পতিত ও সাময়িক পতিত জমি আবাদের আওতায় এনে শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধি করা। কৃষককে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত করে তোলা । নতুন নতুন কৃষি প্রযুক্তি ও বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাতের সাথে কৃষককে পরিচয় করিয়ে দেয়া । উচ্চ মূল্য ফসলের আবাদ বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি করা । সর্বোপরি লাগসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করে কৃষকগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও সুসংহত করর জন্য গম, ভূট্টা,সরিষা, চিনা বাদাম, ফেলন, খেসারি, বিটি বেগুন, বোরো, শীতকালীন মুগ, গ্রীষ্মকালীন মুগ ও গ্রীষ্মকালীন তিল আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করণ; ফসলের আবাদ এলাকা বৃদ্ধি ; হেক্টর প্রতি ফলন বৃদ্ধি ;  দানাশস্য এবং ডাল, তেল ও সবজী জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি; প্রাকৃতিক কারণে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া জন্য।


প্রেসব্রিফিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিরুজামান,অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও উপকরণ অনুবিভাগ) মোঃ সিরাজুল হায়দার, এনডিসি, অতিরিক্ত সচিব (পিপিসি অনুবিভাগ) মোহাম্মদ নজমুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ অনুবিভাগ) সনৎ কুমার সাহা, বিএডিসি’র চেয়ারম্যান ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মর্তাবৃন্দ।  
 

    
     


    

 

 


Share with :

Facebook Facebook