কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ এ ১২:২৮ PM
কন্টেন্ট: খবর প্রকাশের তারিখ: ১৪-০৪-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ৩১-১২-২০২৬
‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় কৃষি মন্ত্রী জনাব মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এর বক্তব্য ।
সময় : সকাল ১১:00 টা
তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার
স্থান: সম্মেলন কক্ষ, তথ্য অধিদফতর, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, মৎস্য ও প্রণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি,
সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়, জনাব রফিকুল ই মোহামেদ
সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, জনাব মো: দেলোয়ার হোসেন
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ
প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম ও শুভ সকাল,
বক্তব্যের শুরুতে আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি কৃষকবান্ধব রাষ্ট্রনায়ক স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশের কৃষকের অর্থনৈতিক মুক্তির অন্যতম পুরোধা, গণতন্ত্রের রক্ষক, আপোষহীন নেত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে ।
‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসার জন্য শুরুতেই আপনাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আপনারা সবাই অবগত আছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকের আর্থ-সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ, কৃষি খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সুস্পষ্ট রুপরেখা দিয়েছেন। যার মূল লক্ষ্য হলো আত্ম-নির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তিনির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক একটি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা; যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক, কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যেক্তা এবং কৃষি হবে খাত জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি।
এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসুচির আওতায় প্রতিটি কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড প্রদান কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কৃষকের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট উপযোগী কৃষক কার্ড প্রদানে সরকার গঠনের পরপরই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা প্রদান করেন।
‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে-
কৃষককে একটি সার্বজনীন ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল ইউনিক পরিচয়পত্র প্রদানের মাধ্যমে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করা;
তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা; এবং
কৃষি খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গঠন করা।
এক্ষেত্রে, জমির মালিকানা অনুযায়ী কৃষককে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে:
1. ভূমিহীন কৃষক : ৫ শতকের কম জমির মালিক;
2. প্রান্তিক কৃষক : ০৫-৪৯ শতক;
3. ক্ষুদ্র কৃষক : ৫০-২৪৯ শতক,
4. মাঝারী কৃষক : ২৫০-৭৪৯ শতক
5. বড় কৃষক : ৭৫০ শতকের বেশি
পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। কার্ড বিতরণ কার্যক্রম তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে-
প্রি-পাইলটিং,
পাইলটিং এবং
দেশব্যাপী কার্যক্রম গ্রহণ।
প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে ০৮টি বিভাগের ১০ টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষী/আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারী ও দুগ্ধখামারীসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির সকল কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লবণ চাষীগণও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
প্রাক-পাইলট পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণের জন্য নির্বাচিত জেলা ও কৃষি ব্লকসমূহ :
১. পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক,
২. বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক,
৩. ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক,
৪ পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক,
৫. কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক,
৬. কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লক, ৭. টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক,
৮. রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক,
৯. মৌলভিবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লক,
১০. পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপির ব্লক ও
১১. জামালপুর জেলার, ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লক।
এই ১১টি ব্লকের কৃষক, মৎস্য চাষী, প্রাণিসম্পদ খামারী ও লবন চাষীগণকে "কৃষক কার্ড” বিতরণ করা হচ্ছে। এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকগণের নামে এই কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।
১১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত মোট ২২,০৬৫ জন কৃষক এর সকল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তন্মধ্যে-
ভূমিহীন কৃষক - ২,২৪৬ জন
প্রান্তিক কৃষক - ৯,৪৫৮ জন
ক্ষুদ্র কৃষক - ৮,৯৬৭ জন
মাঝারি কৃষক - ১,৩০৩ জন ও
বড় কৃষক - ৯১ জন ।
বাছাইকৃত কৃষকগণের ধরণঃ
ফসল উৎপাদনকারী কৃষক - ২১,১৪১ জন,
মৎস্যজীবী - ৬৬ জন,
প্রাণিসম্পদ খামারী - ৮৫৫ জন,
লবণ চাষি -০৩ জন।
মোট বাছাইকৃত ২২,০৬৫ জন কৃষকের মধ্যে কেবল প্রণোদনার জন্য নির্বাচিত ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের সংখ্যা ২০,৬৭১ জন, যা মোট কৃষকের ৯৩.৭%।
প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকগণকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি ২৫০০/- টাকা হারে (বার্ষিক) নগদ সুবিধা প্রদান করা হবে।
উক্ত কার্ডের মাধ্যমে কৃষকগণ প্রণোদনা ও সেবা গ্রহণ করবেন; সংশ্লিষ্ট ডিলারের নিকট সরবরাহকৃত POS (point of sale) মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, মৎস্য/প্রাণি খাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ক্রয় করতে পারবেন।
প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের জন্য ব্যয় হবে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রাক-পাইলটিং সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত দেশের ১৫ টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। পাইলাটং এর অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী ০৪ বছরে সারাদেশে এই কার্ড বিতরণ ও ডাটাবেজ তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
• কৃষক কার্ডে প্রদত্ত মূল সেবাসমূহঃ –
১. ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি;
২. ন্যায্য মূল্যে সেচ সুবিধা প্রাপ্তি;
৩. সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রাপ্তি;
৪. স্বল্প মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি;
৫. সরকারি ভর্তুর্কি ও প্রণোদনা প্রাপ্তি;
৬.মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য প্রাপ্তি;
৭. কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রাপ্তি;
৮. ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ প্রাপ্তি;
৯. কৃষি বীমা সুবিধা প্রাপ্তি; এবং
১০. ন্যায্য মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা প্রাপ্তি।
আগামী পহেলা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ তারিখে নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ের ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ উদ্বোধন করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন।
কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লক বাদে দেশের বাকি ০৯টি ব্লকে একই দিনে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লকে ১৭ এপ্রিল ২০২৬ কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে।
কৃষি একটি সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা। এই কৃষক কার্ড কৃষকের মর্যাদাকে আরো মহিমান্বিত করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে বিধিবদ্ধ সেবার বাইরেও সময়োপযোগী নতুন নতুন সেবা যুক্ত হবে। কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড। বাংলাদেশের আগামীর ভবিষ্যৎ কৃষকের হাতে। আমাদের কৃষি জমির উর্বরতা, মাটির গুণাগুণ ও ফসলের বৈচিত্র ফিরিয়ে আনা হবে।
এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত একটি স্মার্ট ডাটাবেজের আওতায় আসবে। সারের অপচয় হ্র্রাস, চাহিদা মাফিক ফসল উৎপাদন সর্বোপরি কৃষকের ক্ষতি শূণ্যের কোটায় আনতে এ কার্ড সহায়ক হবে।
এতক্ষণ ধৈর্য্য সহকারে আমার বক্তব্য শোনার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমার বক্তব্য শেষ করছি।
আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।