কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল, ২০২২ এ ০৮:৫৭ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: চৈত্র সাল: (নেই) প্রকাশের তারিখ: ১০-০৩-২০২২
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে কৃষির অগ্রযাত্রা
মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আনন্দোচ্ছ্বাসে ভাসছে সারা বাংলাদেশ। এ আনন্দ পরাধীনতার শেকল ভাঙার আনন্দ, এ উচ্ছ্বাস স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে বাঁচার উচ্ছ্বাস। বাংলার মাটির ঘ্রাণ বুকে ভরে নেবার আকুলতায়, বাংলার মুক্ত আকাশে পাখির ডানা মেলা দেখবার প্রত্যাশায়, এ দেশের মাঠের সজীবতায় উদ্ভাসিত হবার নেশায় প্রাণ দিয়েছে লক্ষ কোটি মুক্তিসেনা। স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কারিগর, স্বাধীনতার নেপথ্যের মহানায়ক, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করেছে এক নতুন দেশ হিসেবে। এ দেশের মায়াভরা মাটিতে মিশে আছে লক্ষ কোটি শহিদের রক্ত। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাংলার সূর্যসন্তানেরা। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এ স্বাধীন বাংলাদেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে সোনার বাংলার রূপান্তরের স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু। পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত পোড়ামাটির বাংলাদেশকে সবুজে শ্যামলে ভরে দিতে চেয়েছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর এ স্বপ্ন পূরণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, গণতন্ত্রের মানসকন্যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সুচিন্তিত কর্মপরিকল্পনার প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার।
স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধে যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের গল্পটি ছিল ধ্বংসলীলা ও বিধ্বস্ততার গল্প। এ সময়ে বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে বিশ্বব্যাংক, অক্সফাম, ইউএসএআইডি, জাতিসংঘসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ আশঙ্কা করেছিলেন যে বাংলাদেশে কমপক্ষে ৫০ লাখ লোক অনাহারে প্রাণ হারাবে। যুদ্ধের ভয়বহতায় কৃষকদের ফসল না বুনতে পারা, দেশান্তরী হওয়ায় কৃষক সঙ্কট, বীজ সারসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ বণ্টন না হওয়া সর্বোপরি অর্থনৈতিক কাঠামো ভঙ্গুর হওয়ার কারণ পর্যবেক্ষণপূর্বক তারা এ আশঙ্কা করেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সময়োচিত কৃষি উন্নয়নের পদক্ষেপের কারণে সম্ভাব্য বিপর্যয় থেকে বাংলাদেশ রক্ষা পায়। সরকার গঠনের পরপরই কৃষিকে অগ্রাধিকারভুক্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি সবুজ বিপ্লবের ডাক দেওয়াসহ স্বল্পমেয়াদি উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ, উন্নত বীজ, সেচ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা ছাড়াও কৃষিঋণ মওকুফ, সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার ও খাসজমি বিতরণ করে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনের চেষ্টা করেন। তাই আজ যদি কেউ সময়যন্ত্রে পরিভ্রমণ করে ৭০ এর দশক থেকে একবিংশ শতকের বাংলাদেশে পরিভ্রমণ করত তবে হেনরি কিসিঞ্জারের বলা সেই তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশকে খুঁজে পেত না কিছুতেই। আজ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর আমাদের কৃষি হয়ে উঠেছে ঐশ্বর্যম-িত, গ্রামীণ জীবন হয়ে উঠেছে বর্ণিল। ১৯৭০-৭১ সালে যেখানে মোট খাদ্যশস্য চাল, গম ও ভুট্টা উৎপাদন ছিল প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন সেখানে ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট খাদ্যশস্যের উৎপাদন (চাল, গাম ও ভুট্টা) ৪ কোটি ৫৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশ চাল উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। এছাড়া, করোনাকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে এক বছরেই কৃষি মন্ত্রণালয় ৭ লাখ টন উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। এ বছর ৩৩ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। পেঁয়াজ উৎপাদনে বিশ্বে এখন বাংলাদেশ ৩য় স্থানে রয়েছে। এসব কিছু সম্ভব হয়েছে বর্তমান কৃষকবান্ধব সরকারের কৃষিবান্ধব ও সময়োপযোগী যুগান্তকারী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের কারণে। এছাড়া সার ও কৃষি পণ্যের উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ, কৃষি উপকরণ সহজলভ্যকরণ, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা আধুনিক যুগোপযোগীকরণসহ অন্যান্য কৃষিবান্ধব কর্মসূচি। কৃষি খাতে বায়োটেকনোলজি, সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ইত্যাদি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ফসল সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন করে পুষ্টি গুণাগুণ অক্ষুণœ রেখে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য জীবন নির্বাহী কৃষি ব্যবস্থাকে আধুুনিকীকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে টেকসই ও লাভজনক কৃষিতে রূপান্তর করা।
করোনার প্রাদুর্ভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মানবসৃষ্ট দুর্যোগসহ নানাবিধ সমস্যায় বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট বিরাজমান। খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা যা বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রচেষ্টা চালায়। এটি ক্ষুধাকে জয় করার আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব দেয়। ঋঅঙ জ্ঞান ও তথ্যের একটি উৎস হিসেবে কাজ করে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোকে কৃষি আধুনিকায়ন, উন্নত বন ও মৎস্য চর্চায় সাহায্য করে এবং সবার জন্য পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। খাদ্য ও কৃষি সংস্থার আঞ্চলিক সম্মেলন এমন একটি আনুষ্ঠানিক ফোরাম যেখানে সদস্য দেশসমূহের কৃষিমন্ত্রীবৃন্দ এবং অন্যান্য সিনিয়র কর্মকর্তাগণ খাদ্য ও কৃষিক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ ও সমাধান নিয়ে বৈঠকে মিলিত হন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সদস্য হিসেবে যোগদান করলেও এবার প্রথমবারের মতো ৩৬তম এশিয়া প্যাসেফিক আঞ্চলিক সম্মেলন আয়োজন করছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আয়োজিত এ সম্মেলনে আয়োজক হিসেবে বাংলদেশের নাম নিঃসন্দেহে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দেয়। কৃষি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নীরব বিপ্লব খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থান খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশে ক্রমধারাবাহিকতা বাংলাদেশকে বিশ্বের মাঝে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।
করোনার ভয়াল থাবা সারা বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। বড় বড় শিল্প সমৃদ্ধ দেশগুলো লুটিয়ে পড়েছে করোনার প্রকোপে। বড় বড় দেশের উন্নয়নের সূচক ক্রমশ নিম্নগামী। এমতাবস্থায় সংকট উত্তরণে বঙ্গবন্ধু যেমন কৃষির উপর জোর দিয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমে বরেণ্য কৃষিবিজ্ঞানী মাননীয় কৃষিমন্ত্রীর কর্মপ্রচেষ্টায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর সংস্থার মাধ্যমে নানাবিধ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। শ্রমিক সংকট নিরসন ও উৎপাদন ব্যয় করার জন্য কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ৫০-৭০% উন্নত সহায়তা প্রদান করে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। যান্ত্রিকীকরণের সুফল পেতে সেই সাথে শুরু হয়েছে সমলয় চাষ ব্যবস্থা। কৃষি উপকরণ কার্ড ও ১০ টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চালু করা হয়েছে যার মাধ্যমে কৃষকগণ ফসল উৎপাদনের ঋণ ও কৃষি উপকরণ সহায়তা পেয়ে থাকেন। সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। কৃষি পণ্য কেনাবেচায় মোবাইল অ্যাপ ‘সদাই’ চালু হয়েছে। সুষ্ঠু বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে শাকসবজি, আলু, ফলমূল ও কৃষিপণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি ও প্রক্রিয়াজাতে কৃষি মন্ত্রণালয় রপ্তানি ও প্রক্রিয়াজাতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/সংস্থা, রপ্তানিকারক, প্রক্রিয়াজাতকারী, কৃষক, উদ্যোক্তা, সুশীলসমাজ, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসসহ বিভিন্ন অংশীজনের সাথে কয়েক দফা মতবিনিময় করেছে। সভার মাধ্যমে চিহ্নিত রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাসমূহ নিরসনে ও সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের মধ্যে আলু রপ্তানি ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে কৃষিপণ্যের রপ্তানি ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে ২টি খসড়া রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া, রপ্তানি বৃদ্ধিতে উত্তম কৃষি চর্চা মেনে ফসল উৎপাদন, রপ্তানি উপযোগী জাতের ব্যবহার বৃদ্ধি, পূর্বাচলে ২ একর জমিতে আধুনিক প্যাকিং হাউজ নির্মাণ ও অ্যাক্রিডিটেড ল্যাব নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে এফএও’র একজন বিশেষজ্ঞকে পরামর্শ প্রদানের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দেশে রপ্তানি খাতকে সমৃদ্ধকরণে দেশব্যাপী ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলা হচ্ছে।
ফসলের উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণ করার নিমিত্ত সবধরনের সারে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি ও সুষ্ঠু বিতরণ অব্যাহত থাকায় কৃষকেরা উপকৃত হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করার জন্য কৃষিক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্গবন্ধু জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। গবেষণাগার, অবকাঠামো, উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টির জন্য গবেষণা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, কৃষি বিজ্ঞানীদের মেধাপাচার রোধ ও কৃষি শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনশীলতার বর্ধিষ্ণু ধারা অব্যাহত রাখার কার্যক্রম চলমান আছে। ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে তালমিলিয়ে চলার প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলছে বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশে ই-কৃষি প্রবর্তনের ধারা জেরদার করা হয়েছে। দেশে মোট ৪৯৯টি কৃষি তথ্য ও যোগযোগ কেন্দ্র (এআইসিসি), কৃষি কল সেন্টার (১৬১২৩), এআইএসটিউব, কৃষি তথ্য বাতায়ন, কৃষক বন্ধু (৩৩৩১), ই-বুক, অনলাইন সার সুপারিশ, ই-সেচ সেবা, কৃষকের জানালা, কৃষকের ডিজিটাল ঠিকানা, ডিজিটাল কৃষি ক্যালেন্ডার বীজতলা বিক্রয়ে ই-সেবা, কমিউনিটি রেডিওসহ বিভিন্ন মোবাইল এবং ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ও সফটওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজসহ আপামর কৃষক সমাজকে কৃষি কাজে আগ্রহী করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ‘এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না রাখা’ বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তুলতে কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সুশিলসমাজ সম্মিলিত অংশগ্রহণে কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমান সময়টি কৃষির সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ সময়। সমৃদ্ধ একটি সময়। ফলে ও ফসলে অভাবনীয় প্রাচুর্য দেখছি আমরা। আমাদের আছে উর্বর মাটি, প্রকৃতি প্রদত্ত অফুরন্ত সম্পদ, সেই সাথে আছে উদয়াস্ত পরিশ্রম করা কৃষক জনবল। সবার মেলবন্ধনে বাংলা হবে পরিপূর্ণ খাদ্যের আধার। অমিত সম্ভাবনার হাতছানি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক অর্থনৈতিক মুক্তি নেওয়া ৫৬ হাজার বর্গমাইলের স্বাধীন মানচিত্রের দেশ বাংলাদেশ। ৫১ বছরের লাল সবুজের পতাকা গর্ব ভরে বয়ে নিয়ে চলা আমাদের দেশ বাংলাদেশ। খাদ্য ঘাটতি থেকে খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা এখন পুরো বিশ্বের জন্য দৃষ্টান্ত। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘রূপকল্প ২০৪১’, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ অর্জনসহ বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সোনা ঝরা রোদে ঝলমল করে উঠুক বাংলার আঙিনা। ফসলের ক্ষেত কৃষকের রাঙা হাসিতে উদ্ভাসিত হোক। বিশ্বের সব উন্নত দেশের সাথে উড়–ক বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা। আমরা বাঙালি জাতি সগৌরবে মাথা উঁচু করে একটাই পরিচয় দেই এটাই আমার দেশ, আমার বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ।
লেখক : অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ), কৃষি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা