কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫ এ ০১:৪৪ AM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: চৈত্র সাল: ১৪৩১ প্রকাশের তারিখ: ২০-০৩-২০২৫
সম্পাদকীয়
চৈত্র বঙ্গাব্দের শেষ মাস। ষড়ঋতুর দেশে ঋতুর সাথে প্রকৃতি বদলায়। ফাল্গুনে আসা আমের মুকুলে আমের গুটি আসে। বাজারজুড়ে মৌসুমি ফুল, ফলের সমারোহ হতে শুরু করে। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বৈশাখ মাস গ্রীষ্মের শুরু হলেও চৈত্রেই রুক্ষতা ও খরতাপের প্রভাব পড়ে। পাশাপাশি বিজ্ঞানের কল্যাণে ছোঁয়া পড়েছে কৃষিতে। কৃষি বিজ্ঞানীগণ কর্তৃক উদ্ভাবিত নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি কৃষি সম্প্রসারণ কর্মীরা কৃষকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। ফলে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কৃষিজীবী ভাইবোনেরা নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদন অব্যাহত রাখছেন।
বাংলাদেশের জনগণের একটা বিশাল অংশ জীবনধারণের জন্য কৃষির উপর নির্ভর করে। উর্বর জমি ও পানির প্রাচুর্যতার কারণে দানাদার, ফল ও সবজিসহ নানাবিধ ফসল উৎপাদন করে বিশে^ কৃষি উন্নয়নের দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশ বিশে^ পাট রপ্তানিতে প্রথম ও উৎপাদনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। পাট বাংলাদেশের একটি অন্যতম আঁশ ফসল। বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক পণ্য বর্জন ও প্রাকৃতিক তন্তু ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে দেশী পাট, তোষা পাট, কেনাফ ও মেস্তা পাটসহ মোট ৯৫.৮১৫ লক্ষ বেল পাট উৎপাদন হয়েছে। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মিশন- পাটচাষি, ব্যবসায়ী ও পাটকলগুলোর সহায়তায় পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে পাট খাতের উন্নয়ন করা। সে লক্ষ্যে ‘খরাপ্রবণ এলাকায় পাট চাষাবাদ প্রযুক্তি’ তথ্যসমৃদ্ধ নিবন্ধটিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এবারের কৃষিকথায়।
এ ছাড়াও কৃষি বিশেষজ্ঞগণের সময়োপযোগী প্রবন্ধ, আগামীর কৃষি ভাবনা, সফল কৃষকের গল্প ও নিয়মিত বিভাগ দিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের সংখ্যা। কৃষিকথায় এসব মানসম্পন্ন ও তথ্যপ্রযুক্তি লেখা দিয়ে যারা সমৃদ্ধ করেছেন তাদের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আশা করি প্রকাশিত লেখাগুলো কৃষিকে টেকসই ও আধুনিকীকরণের মাধ্যমে উন্নয়নের ধারা গতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।