কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২২ এ ০৮:০৫ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: পৌষ সাল: ১৪২৯ প্রকাশের তারিখ: ১৪-১২-২০২২
সম্পাদকীয়
১৬ ডিসেম্বর বীর বাঙালি জাতির মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাসে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। ৩০ লাখ শহিদের আত্মদান, দুই লাখ মা-বোনের ত্যাগ আর তিতিক্ষা এবং কোটি বাঙালির আত্মনিবেদন ও গৌরবগাথা গণবীরত্বের পর পরাধীনতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় বাঙালি জাতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৬ ডিসেম্বর পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের নতুন অভ্যুদয় ঘটে। বিজয় দিবসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সব শহিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জানাই বিন¤্র শ্রদ্ধা।
বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় কৃষি প্রধান নিয়ামক। জাতির পিতা স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার অভিপ্রায়ে কৃষি ও পরিবেশের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন অব্যাহত রেখেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকের কল্যাণকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় এনে সরকারের যুগোপযোগী নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দেশ দানাদার খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ফসলের পাশাপাশি প্রাণিজ আমিষ খাতে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ফলে কৃষি ক্ষেত্রে বিশ্বে নন্দিত হয়েছে রোল মডেল হিসেবে।
বর্তমানে মহামারি, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আগামী ২০২৩ সালকে বিশ^ব্যাপী ক্রাইসিস ইয়ার হিসেবে অনুধাবন করেছেন। বিশ^ব্যাপী অনাগত এই সংকট বাংলাদেশের যেন প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে প্রেক্ষাপটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ‘এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে’Ñ এ বাস্তবায়নে অনুশাসন প্রদান করেছেন।
সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশে সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিমান সম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিতকল্পে কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষিকে টেকসই, লাভজনক ও বাণিজ্যিকীকরণে উত্তম কৃষি চর্চা মেনে উৎপাদন, রপ্তানি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কৃষির উন্নয়নের ধারা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সম্পর্কে ‘বর্তমান বিশ^ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের কৃষিতে করণীয়’ তথ্যসমৃদ্ধ নিবন্ধটিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এবারের কৃষিকথায়।
এ ছাড়াও কৃষি বিশেষজ্ঞগণের সময়োপযোগী প্রবন্ধ, কবিতা ও নিয়মিত বিভাগ দিয়ে সাজানো হয়েছে এ সংখ্যা। আশা রাখছি শুধু বিজয়ের মাসে আবদ্ধ না হয়ে দৈনন্দিন জীবনাচরণে প্রতিফলিত হবে স্বাধীনতার সারমর্ম। নিশ্চিত হবে নিরাপদ পরিবেশ। সমৃদ্ধ হবে কৃষক, কৃষি ও দেশ।