কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৫ এ ০৫:২৬ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: মাঘ সাল: ১৪৩১ প্রকাশের তারিখ: ১২-০১-২০২৫
সম্পাদকীয়
মাঘ, হাড়কাপানো শীতের মাস। গ্রামীণ জনপদে কৃষি ও কৃষকের সাথে এ মাসের যোগসূত্র রয়েছে। খনার বচনে রয়েছে ‘পৌষের শেষ আর মাঘের শুরু/এর মধ্যে শাইল বোরো যত পারো।’ এ সময় কৃষক-কৃষাণি ব্যস্ত হয়ে পড়ে বোরো মৌসুমের ফসল চাষাবাদে। মাঘ এর বড় স্বাতন্ত্র্য হচ্ছে প্রকৃতিতে বসন্তের আগমন বার্তা জানায়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশব্যাপী পাল্টে যাচ্ছে প্রকৃতির রূপরেখা। বিরূপ প্রকৃতির পাশাপাশি চলছে আবাদি জমি হ্রাস, বাড়তি জনসংখ্যার চাপ, বৈশ্বিক সংঘাতময় পরিস্থিতিসহ নানামুখী প্রভাব। এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও কৃষিকে সমৃদ্ধ করতে থেমে নেই কৃষক, কৃষিবিদ, কৃষিবিজ্ঞানী, গবেষক, সম্প্রসারণকর্মীসহ অংশীজনেরা। নতুন বছর ‘২০২৫’ কৃষিভুবনসহ বিশে^ সুস্বাস্থ্য ও দুর্দান্ত সাফল্য বয়ে নিয়ে আসুক।
সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাদেশ। জনসাধারণের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষির ভূমিকা অপরিসীম। বোরো মৌসুম ধান উৎপাদনে সর্বাধিক জনপ্রিয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের আবহাওয়া বিভিন্ন শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদন বেশ উপযোগী। কৃষিপণ্য উৎপাদনে শস্যের তুলনায় সবজিতে ফলন ও আয় দুই-ই বেশি হয়। এছাড়া শাকসবজি ও ফলমূল পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী একজন মানুষের গড়ে প্রতিদিন ৪০০ গ্রাম শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া প্রয়োজন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সবজির উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩৪.৫২৭ লাখ মেট্রিক টন এবং উৎপাদন হয়েছে ২৪১.৭৮৭ লাখ মেট্রিক টন, যা চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের রূপকল্প হচ্ছে কৃষিপণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিমুখী করা। শাকসবজি ও ফলমূল রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। রপ্তানি বাড়াতে কৃষি মন্ত্রণালয় উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করে ফসল উৎপাদন, রপ্তানি উপযোগী জাতের ব্যবহার, আধুনিক প্যাকিং হাউজ ও অ্যাক্রিডিটেড ল্যাব বাস্তবায়নসহ নানা কাজ চলমান আছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের কৃষিকথায় “নতুন উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতের টমেটো বারি টমেটো-২২ ও বারি টমেটো-২৩” তথ্যসমৃদ্ধ নিবন্ধটিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
এ ছাড়াও কৃষি বিশেষজ্ঞদের সময়োপযোগী প্রবন্ধ, মৎস্য ও প্রাণিবিভাগ, আগামীর কৃষি ভাবনা, সফল কৃষকের গল্প ও নিয়মিত বিভাগ দিয়ে সাজানো হয়েছে এ সংখ্যা। কৃষিকথায় এসব মানসম্পন্ন ও তথ্যপ্রযুক্তি লেখা দিয়ে যারা সমৃদ্ধ করেছেন তাদের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আশা করি কৃষিকথার এবারের সংখ্যা নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।