কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৪ এ ০৮:৩১ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: মাঘ সাল: ১৪৩০ প্রকাশের তারিখ: ৩১-০১-২০২৪
সম্পাদকীয়
মাঘ মাস। গ্রামীণ জনপদে আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার হয়, মাঘ আসে শীতের দাপট নিয়ে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশব্যাপী পাল্টে যাচ্ছে মাঘের শীতে বাঘের কাঁপুনি প্রবাদটিও। বিরূপ প্রকৃতির পাশাপাশি চলছে আবাদি জমি হ্রাস, বাড়তি জনসংখ্যার চাপ, বৈশ্বিক সংঘাতময় পরিস্থিতিসহ নানামুখী প্রভাব। এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুপ্রিয় সোনার বাংলা গড়তে থেমে নেই কৃষক, কৃষিবিদ, কৃষিবিজ্ঞানী, গবেষক, সম্প্রসারণকর্মীসহ অংশীজনেরা।
জনসাধারণের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কৃষির ভূমিকা অপরিসীম। ফসলের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শস্য বহুমূখীকরণ, পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের মাধ্যমে কৃষিকে লাভজনক করা এবং জনসাধারণের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের গৃহীত নীতি ও পরিকল্পনা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ এখন ২০টিরও বেশি ফসল উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ দশ দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বিভিন্ন শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদন বেশ উপযোগী। কৃষিপণ্য উৎপাদনে ফসলের তুলনায় সবজিতে ফলন ও আয় দুইই বেশি হয়। এ ছাড়া শাকসবজি ও ফলমূল পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতি সংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী একজন মানুষের গড়ে প্রতিদিন ৪০০ গ্রাম শাকসবজি ফলমূল খাওয়া প্রয়োজন। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে সবজির উৎপাদন ছিল ২৯.০৯ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সবজি উৎপাদন ২২৫.৪১ লাখ মেট্রিক টন, যা ১৫ বছরে শতকরা ৬৭৫ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ফলের উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের রূপকল্প কৃষিপণ্য রপ্তানিমুখী করা। শাকসবজি ও ফলমূল রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। রপ্তানি বাড়াতে কৃষি মন্ত্রণালয় উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করে ফসল উৎপাদন, রপ্তানি উপযোগী জাতের ব্যবহার, আধুনিক প্যাকিং হাউজ নির্মাণ, অ্যাক্রিডিটেড ল্যাব স্থাপনাসহ নানাবিধ কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। এ সম্পর্কে ‘শাকসবজি ও ফলমূল সংগ্রহোত্তর পরিচর্যা, ব্যবস্থাপনা ও মূল্য সংযোজনের গুরুত্ব’ তথ্যসমৃদ্ধ নিবন্ধটিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এবারের কৃষিকথায়।
এ ছাড়াও কৃষি বিশেষজ্ঞবৃন্দের সময়োপযোগী প্রবন্ধ, কবিতা ও নিয়মিত বিভাগ দিয়ে সাজানো হয়েছে এ সংখ্যা। কৃষিকথায় এসব মানসম্পন্ন ও তথ্যপ্রযুক্তি লেখা দিয়ে যারা সমৃদ্ধ করেছেন তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আশা করি সময়োপযোগী লেখাসমূহ নতুন বছরে আপামর জনসাধারণের জন্য কৃষি খাতকে বিজ্ঞানভিত্তিক ও স্মার্ট কৃষিতে এগিয়ে নিতে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।