কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ এ ০৫:৫৯ PM

লেয়ার খামারে ডিমের বিভিন্ন সমস্যা ও তার প্রতিকার

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: অগ্রহায়ণ সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৬-১১-২০২৫

লেয়ার খামারে ডিমের বিভিন্ন সমস্যা ও তার প্রতিকার
ডা: মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ
লেয়ার খামার ব্যবস্থাপনায় ডিমের গুণগত মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিমের আকার, খোসার পুরুত্ব, কুসুমের রঙ এবং অভ্যন্তরীণ উপাদান সঠিক না হলে খামারিরা মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। বিভিন্ন কারণে ডিমের মধ্যে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। লেয়ার খামারে ডিমের সমস্যাগুলোকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-ডিমের বাহ্যিক বা খোসার সমস্যা; ডিমের অভ্যন্তরীণ সমস্যা; উৎপাদন সংক্রান্ত সমস্যা। নিচে লেয়ার খামারে ডিমের সাধারণ সমস্যাগুলো এবং সেগুলোর প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
ডিমের বাহ্যিক বা খোসার সমস্যা
পাতলা খোসা বা খোসাবিহীন ডিম : এ ধরনের ডিম লেয়ার খামারের সবচেয়ে সাধারণ সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম খাদ্যে অপর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম বা মুরগির শরীর কর্তৃক ক্যালসিয়াম শোষণে সমস্যা; খাদ্যে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অনুপাত (সাধারণত ২:১ বা তার বেশি) সঠিক না থাকা;  ভিটামিন উ৩ ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। এর অভাবে ক্যালসিয়াম থাকা সত্ত্বেও মুরগি তা ব্যবহার করতে পারে না; অত্যধিক গরম বা হিট স্ট্রেসে মুরগির খাদ্য গ্রহণ কমে যায় এবং ক্যালসিয়াম বিপাক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়; ইনফেকশাস ব্রঙ্কাইটিস (ওই), এগ ড্রপ সিনড্রোম (ঊউঝ) এবং নিউক্যাসল ডিজিজের (ঘউ) মতো রোগ ডিমের খোসা তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে; মুরগির বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডিমের আকার বড় হয়, কিন্তু খোসা তৈরির জন্য ক্যালসিয়াম ব্যবহারের ক্ষমতা কমে আসে, ফলে খোসা পাতলা হতে পারে; খাবার পানিতে অতিরিক্ত লবণ ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়।
প্রতিকার 
খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম (৩.৫-৪%), ফসফরাস এবং ভিটামিন উ৩ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে; বিকেলে বা সন্ধ্যায় আলাদাভাবে লাইমস্টোন বা ঝিনুকের খোসার গুঁড়া ) দিতে হবে কারণ রাতে ডিমের খোসা তৈরির সময় ক্যালসিয়ামের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। গরমকালে শেড ঠা-া রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ ও ঠা-া পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং পানির সাথে ইলেকট্রোলাইট ও ভিটামিন সি মিশিয়ে দিতে হবে। যথাযথ সিডিউল মেনে টিকা প্রদান করতে হবে এবং খামারের জৈব নিরাপত্তা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। অসুস্থ মুরগিকে দ্রুত আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে; নিয়মিত খাবার পানির লবণাক্ততা এবং খনিজ উপাদানের পরিমাণ পরীক্ষা করতে হবে; বয়স্ক মুরগি (ডিম উৎপাদন কমে গেলে) ছাঁটাই  করতে হবে।
খসখসে, অমসৃণ বা বিকৃত আকারের ডিম : ইনফেকশাস ব্রঙ্কাইটিস (ওই) এবং নিউক্যাসল ডিজিজের (ঘউ) মতো ভাইরাসজনিত রোগ ডিম্বনালীকে  ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে ডিমের আকার বিকৃত হয়; খাদ্যে পুষ্টির অভাবে ডিম খসখসে, অমসৃণ বা বিকৃত হতে পারে; বয়স্ক মুরগির ক্ষেত্রে ডিম খসখসে, অমসৃণ বা বিকৃত হতে পারে; কোন কারণে ভয় পেলে বা বিরক্ত হলে মানসিক চাপের কারণে এবং ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে ডিমের আকার বিকৃত হতে পারে; মুরগির সংখ্যা বেশি হলে তাদের মধ্যে ধকল  বাড়ে। ফলে তার প্রভাব ডিমে পড়তে পারে। 
প্রতিকার : যথাযথ সিডিউল মেনে টিকা প্রদান করতে হবে এবং খামারের জৈব নিরাপত্তা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। অসুস্থ মুরগিকে দ্রুত আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে; সুষম খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে; শেডের পরিবেশ এবং খামার ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে।
ফ্যাকাসে খোসার ডিম :
বিভিন্ন জাতের মুরগির খোসার রং বিভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত, পালকের রঙ অনুসারে ডিমের খোসার রঙ হয়ে থাকে। যেমন- লাল পালকের মুরগির ডিমের খোসার রঙ লালচে বাদামি এবং সাদা পালকের মুরগির ডিমের খোসার রঙ সাধারণত সাদা হয় (ব্যতিক্রম শুভ্রা জাতের মুরগি)। তবে অনেক সময় বিভিন্ন কারণে ডিমের খোসার অস্বাভাবিক রঙ দেখা যায়।
ইনফেকশাস ব্রঙ্কাইটিস (ওই) এবং এগ ড্রপ সিনড্রোম (ঊউঝ) রোগের কারণে ডিমের খোসা ফ্যাকাসে হতে পারে। এ ছাড়া খাদ্যে মাইকো টক্সিনের উপস্থিতি, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ যেমন- নাইকরবাজিন, মোনেনসিন, পাইপেরাজিন ইত্যাদির কারণে খোসার রঙ পরিবর্তন হতে পারে।
এ ছাড়া মুরগির শরীরে অত্যাধিক ধকল (ংঃৎবংং) পড়লে, শরীরে তাপমাত্রা বেশি থাকলে, শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হলে, জরায়ুতে (ঁঃবৎঁং) প্রদাহ হলে এবং অতিরিক্ত   অ্যামোনিয়া গ্যাস শরীরে প্রবেশ করতে ডিমের পিগমেন্টেশনে প্রভাব পড়ে। ফলশ্রুতিতে, ডিমের খোসার রঙ পরিবর্তন  হতে পারে। 
প্রতিকার : মুরগিকে যথাযথ সিডিউল মেনে টিকা প্রদান করতে হবে এবং খামারের জৈব নিরাপত্তা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। অসুস্থ মুরগিকে দ্রুত আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। খামার ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে এবং অ্যামোনিয়া গ্যাসের উৎপাদন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
ডিমের অভ্যন্তরীণ সমস্যা
দুই কুসুমের ডিম : অল্প বয়সী মুরগির প্রজননতন্ত্র যখন পুরোপুরি পরিপক্ব হয় না, তখন হরমোনের অসামঞ্জস্যের কারণে ডিম্বাশয় থেকে দুটি ডিম্বাণু (ঙাঁস) প্রায় একই সময়ে নির্গত হয়। ফলে একটি খোসার ভেতরে দুটি কুসুম দেখা যায়; কিছু জাতের মুরগির মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়; হঠাৎ করে আলোর সময়সূচি পরিবর্তন করলে বা অতিরিক্ত আলো প্রদান করলে এটি হতে পারে।
প্রতিকার 
এটি সাধারণত একটি অস্থায়ী সমস্যা, বিশেষ করে অল্প বয়সী মুরগির ক্ষেত্রে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটি নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। আলোর সময়সূচি (খরমযঃরহম ংপযবফঁষব) নিয়মমাফিক ও ধীরে ধীরে পরিবর্তন করতে হবে।
ডিমের ভেতর রক্তের ছোপ : ডিম্বাণু নির্গত হওয়ার সময় ডিম্বাশয়ের ছোট রক্তনালী (ঈধঢ়রষষধৎু) ছিঁড়ে গেলে কুসুমের গায়ে রক্তের ফোঁটা লেগে থাকে; ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘কে’ রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। এদের অভাবে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে; মুরগি হঠাৎ ভয় পেলে বা মানসিক চাপে থাকলে রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে এটি হতে পারে; ফিডে ছত্রাকের বিষক্রিয়ার ফলেও এটি হতে পারে।
প্রতিকার : খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘কে’ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে; মুরগিকে শান্ত ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে রাখতে হবে। হঠাৎ যাতে ভয় না পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে; ছত্রাকমুক্ত ভালো মানের ফিড ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে টক্সিন বাইন্ডার ব্যবহার করতে হবে। 
ডিমের কুসুমের রঙ ফ্যাকাশে হওয়া : 
খাদ্যে রঞ্জক পদার্থের অভাব ডিমের কুসুমের হলুদ বা কমলা রঙ আসে মূলত জ্যান্থোফিল নামক প্রাকৃতিক রঞ্জক থেকে। ভুট্টা, ভুট্টার গ্লুটেন মিল এবং সবুজ শাকসবজিতে এটি বেশি থাকে। খাদ্যে এগুলোর অভাব হলে কুসুমের রঙ ফ্যাকাশে হয়; কক্সিডিওসিস বা কৃমির সংক্রমণের কারণে অন্ত্রের ভেতর খাদ্য শোষণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে রঞ্জক পদার্থও শোষিত হতে পারে না। ফলে ডিমের কুসুমের রঙ ফ্যাকাশে হয়।
প্রতিকার
খাদ্যে হলুদ ভুট্টা, ভুট্টার গ্লুটেন মিল এবং আলফালফা মিলের মতো উপাদান যোগ করতে হবে; প্রয়োজনে প্রাকৃতিক উৎস থেকে তৈরি পিগমেন্ট (যেমন : গাঁদা ফুলের নির্যাস) ফিডের সাথে ব্যবহার করা যেতে পারে; নিয়মিত কৃমিনাশক প্রদান করতে হবে এবং কক্সিডিওসিস প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে।
পাতলা বা পানির মতো সাদা অংশ/অ্যালবুমেন (ডধঃবৎু যিরঃবং/ধষনঁসবহ) ডিম সংগ্রহের পর বেশি দিন রেখে দিলে সাদা অংশ পাতলা হয়ে যায়; ইনফেকশাস ব্রঙ্কাইটিস (ওই) এর কারণে ডিমের সাদা অংশ পাতলা হতে পারে; খামারের লিটার বা বিষ্ঠা থেকে অ্যামোনিয়া গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে মুরগির শরীরে প্রবেশ করলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে; মুরগির বয়স বাড়লে ডিমের সাদা অংশ পাতলা হতে পারে।
প্রতিকার 
প্রতিদিন সময়মতো ডিম সংগ্রহ করে শীতল স্থানে (১৩০-১৮০ঈ) সংরক্ষণ করতে হবে; খামারের বায়ু চলাচল উন্নত করতে হবে এবং লিটার শুকনা রাখতে হবে। যাতে অতিরিক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস না জমে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে; সময়মতো ইনফেকশাস ব্রঙ্কাইটিস (ওই) রোগের টিকা দিতে হবে। 
উৎপাদন সংক্রান্ত সমস্যা
ডিম উৎপাদন কমে যাওয়া 
খাদ্যে প্রোটিন, শক্তি বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের অভাবে ডিম উৎপাদন কমে যায়; মুরগি পর্যাপ্ত পানি পান করতে না পারলে ডিম উৎপাদন দ্রুত কমে যায়; ডিম পাড়া মুরগির জন্য প্রতিদিন ১৪-১৬ ঘণ্টা আলোর প্রয়োজন। দিনের আলো কমে গেলে বা কৃত্রিম আলো বন্ধ রাখলে উৎপাদন কমে যায়; যে কোন ধরনের অসুস্থতায় ডিম উৎপাদন কমিয়ে দেয়; নির্দিষ্ট বয়সের পর মুরগির উৎপাদন স্বাভাবিকভাবেই কমে এবং বছরে একবার পালক বদলানোর সময় ডিম পাড়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। 
প্রতিকার 
মুরগির বয়স ও উৎপাদন হার অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে প্রোটিন ও শক্তি সমৃদ্ধি সুষম খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে; ২৪ ঘণ্টা বিশুদ্ধ পানির জোগান নিশ্চিত করতে হবে। গরমকালে পানির পাত্রের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে হবে; শেডের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে এবং মুরগির জন্য পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে; নির্দিষ্ট আলোকসূচি অনুসরণ করতে হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে আলো জ¦ালানো ও নেভানোর ব্যবস্থা নিতে হবে; অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ান (প্রাণিচিকিৎসক) এর মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে এবং যথাযথ সিডিউল অনুযায়ী টিকা দিতে হবে; ডিম উৎপাদন ঠিক রাখতে বয়স্ক মুরগি ছাঁটাই করে নতুন মুরগি (চঁষষবঃ) উঠাতে হবে। 
ছোট আকারের ডিম 
মুরগি যখন ডিম পাড়া শুরু করে (চঁষষবঃ), তখন ডিমের আকার সাধারণত ছোট হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটি স্বাভাবিক হয়ে যায়; খাদ্যে অপর্যাপ্ত প্রোটিন, শক্তি (গবঃধনড়ষরুধনষব ঊহবৎমু) বা অ্যামিনো অ্যাসিডের (বিশেষ করে মিথিওনিন ও লাইসিন) অভাবে ডিমের আকার ছোট হতে পারে; মুরগি পরিমাণমতো পানি পান না করলে ডিমের আকার ছোট হতে পারে; হিট স্ট্রেসের কারণে খাদ্য গ্রহণ কমে গেলে ডিমের আকারও ছোট হয়ে যেতে পারে; শেডে জায়গার তুলনায় বেশি মুরগি পালন করলে মানসিক চাপের কারণে ডিম ছোট হতে পারে।
প্রতিকার
মুরগির বয়স ও উৎপাদন হার অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে প্রোটিন ও শক্তি সমৃদ্ধি সুষম খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে; ২৪ ঘণ্টা বিশুদ্ধ পানির জোগান নিশ্চিত করতে হবে। গরমকালে পানির পাত্রের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে হবে; শেডের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে এবং মুরগির জন্য পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে।
সঠিক ব্যবস্থাপনা, সুষম খাদ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে লেয়ার খামারে ডিমের এসব সমস্যা অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, যা খামারকে লাভজনক করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ নিতে হবে। 

লেখক : উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, কৃষি খামার সড়ক, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল : ০১৮১১-৯৮৬৬০৫, 

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন