কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬ এ ১১:০১ AM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: চৈত্র সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৬-০৩-২০২৬
মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদনের গুরুত্ব সমস্যা এবং প্রতিকার
ড. মো. আলাউদ্দিন খান
পেঁয়াজের গুটি থেকে কন্দ উৎপাদন বাংলাদেশে একটি প্রচলিত ও কার্যকর পদ্ধতি। বাংলাদেশে বাৎসরিক মোট উৎপাদিত মুড়িকাটা পেঁয়াজের পরিমাণ কমবেশি ৭.৫-৮.৫ লক্ষ মেট্রিক টন। বিধায় পেঁয়াজের বাৎসরিক চাহিদা পূরণে মুড়িকাটা পেঁয়াজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গুটি রোপণের সর্বোচ্চ ৯০ (স্বল্পমেয়াদি) দিনের মধ্যে এ-পেঁয়াজ সংগ্রহ করা হয়। যেহেতু মুড়িকাটা পেঁয়াজ স্টোরে সংরক্ষণ করতে হয় না, তাই বাজারের অবস্থা ও চাহিদা বুঝে একই জমির পেঁয়াজ ৯০ দিনের পূর্বেও কয়েকবারে সংগ্রহ করা যায়। পেঁয়াজের সর্বোচ্চ ঘাটতির সময়কাল ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাস, এ-সময়কালেই মুড়িকাটা পেঁয়াজ আগাম সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু পেঁয়াজের প্রধান মৌসুমে (নভেম্বর-মার্চ/এপ্রিল) হালি পেঁয়াজ কমপক্ষে দুই মাস পরে মার্চের শেষ-সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম-সপ্তাহের মধ্যে সংগ্রহ করা হয়। তাই এ-চাষ পদ্ধতি পেঁয়াজের সর্বোচ্চ ঘাটতির সময়কালে সরবরাহের ঘাটতি পূরণে, আমদানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করতে, কৃষকদের দ্রুত বাজারে প্রবেশের এবং সম্ভাব্য উচ্চ লাভের সুযোগ প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কচি সবুজ পাতাসহ মুড়িকাটা পেঁয়াজেরও যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। মুড়িকাটা পেঁয়াজে উৎপাদিত কচি-ফুলদ- (পেঁয়াজের কালি) সবজি/সালাদের উপকরণ হিসাবে আলাদা কদর আছে।
ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এড়াতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষের সময়কালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পেঁয়াজের প্রধান মৌসুমে হালি পেঁয়াজ উৎপাদনের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে। জলবায়ু সহনশীল উন্নত চাষ-প্রযুক্তি এবং সেট রোপণ যন্ত্রের উদ্ভাবনের মাধ্যমে এ-পদ্ধতিকে আরও টেকসই করা সম্ভব হবে। প্রধান মৌসুম শুরু হওয়ার পূর্বেই মুড়িকাটা পেঁয়াজ আগাম বাজারজাত করার মাধ্যমে (বাজারমুখী উৎপাদন) কৃষক লাভবান হতে পারে, তাই এ-পদ্ধতি কৃষকবান্ধব। মুড়িকাটা পেঁয়াজ দ্বারা পেঁয়াজের পাউডার, ফ্লেক্স ইত্যাদি তৈরির সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে পরিবর্তনশীল জলবায়ু ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বাংলাদেশে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষের সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদন পদ্ধতি :মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য ২টি-মৌসুমের প্রয়োজন হয়। প্রথম বছর নভেম্বর মাসে ঘন করে বীজ বপনের মাধ্যমে ফেব্রুয়ারি মাসে (বীজ বপন থেকে ১৩৫-১৪০ দিন) সেট সংগ্রহ করা হয়। সেটের উপরের অংশ (ঞড়ঢ়ং) ৮০%-এর বেশি ভেঙ্গে পরলেই পরিপক্কতা লাভ করে। বারি পেঁয়াজ-১/বারি পেঁয়াজ-৪/বারি পেঁয়াজ-৬/লাল তীর কিং-এর মাধমে সেট উৎপাদন করা যায়, তবে বারি পেঁয়াজ-১-এর মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি উত্তম সেট উপাদন করা যায়। সেট উৎপাদনের জন্য সর্বোত্তম বীজ হার ৪-৬ গ্রাম/বর্গমিটার। বীজ হার/বীজের অঙ্কুরোদগম হার/জাত/আবহাওয়া/উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ইত্যাদির উপর সেটের ফলন নির্ভর করে। সেটের ফলন জাতভেদে ১১-১৩ টন/হেক্টর। জমি থেকে সেট পাতাসহ সংগ্রহ করার পর হালকা ছায়ায় ৫-৭ দিন শুকানো হয়। পরে সেটের উপরে ২.০-২.৫ সে.মি. রেখে গাছের উপরের অংশ কাটা হয়। সেট বাছাইয়ের পর স্টোরে সংরক্ষণ করা হয়। দ্বিতীয়/পরবর্তী বছর সংরক্ষণকৃত সেট রোপণ করে পূর্ণ আকারের কাঁচা পেঁয়াজ (ঋৎবংয/মৎববহ ড়হরড়হং) উৎপাদন করা হয়। বারি পেঁয়াজ-১/বারি পেঁয়াজ-৪/বারি পেঁয়াজ-৬/লাল তীর কিং দ্বারা মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করা যায়। মধ্য-সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর সেট রোপণের উত্তম সময়। প্রতিটি সেটের সর্বোত্তম আকার ৪ক্ট০.৫-৬ক্ট০.৫ গ্রাম (কযধহ বঃ ধষ., ২০২১)। সেট রোপণ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে মুড়িকাটা পেঁয়াজ সংগ্রহ করা হয় এবং জাতভেদে ফলন ১৮-২২ টন/হেক্টর।
মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে সমস্যা
সেট আগাম গজানো : আগাম গজানো সেট রোপণ করলে অতিরিক্ত পানি হারানোর ফলে গাছ সহসাই দূর্বল হয়, সেট তার নিজস্ব শক্তি (খাবার) হারায়, মূল উৎপাদন না হওয়ায় গাছ পানি/পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে না, রোগ-বালাই দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে । বিধায় গাছ সহজে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে না। জমিতে গাছের বৃদ্ধি অসম হয়। পরিশেষে কন্দ ছোট হয়ে ফলন হ্রাস পায়।
বোল্টিং : মুড়িকাটা পেঁয়াজে বোল্টিং (ইড়ষঃরহম, ফুলদ- উৎপাদন) একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ঘটনা। পূর্ববর্তী বছরে উৎপাদিত সেট সাধারণত সুপ্ত অবস্তায় থাকে কিন্তু দ্বিতীয় বছর যখন সেট রোপণ করা হয়, তখন চাপ/বয়সের কারণে বোল্টিং হয়। বড় আকারের সেট-এ বোল্টিং হার বেশি। বারি পেঁয়াজ-৪ এর চেয়ে বারি পেঁয়াজ-১-এ তুলনামূলকভাবে বোল্টিং হার বেশি। বোল্টিং-এর কারণে গাছের শক্তি কন্দের পরিবর্তে ফূল উৎপাদনের দিকে ধাবিত হয়, পেঁয়াজের ভিতরে হার্ড-সেন্টার উৎপাদন হয়, কন্দের আকার ছোট হয়। বোল্টিং পেঁয়াজের গুণগতমান/বাজার মূল্য হ্রাস করে।
বহুবিভাজিত পেঁয়াজ : যখন সেট রোপণ করা হয়, তখন তারা পরিণত উদ্ভিদের মতো আচরণ করে এবং দ্বিতীয় বৃদ্ধি চক্রে প্রবেশ করে। ফলে বৃদ্ধি বিন্দু বিভক্ত হয়ে একাধিক অঙ্কুর (ঝযড়ড়ঃং) বৃদ্ধি পেতে পারে, পরিশেষে কন্দ বহুবিভাজিত (ঝঢ়ষরঃঃরহম) হয়ে পড়ে। সেট রোপণের পরে হঠাৎ পানি/নাইট্রোজেন সার সহজলভ্যতার কারণে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কন্দ বহুবিভাজিত হয়। বড় আকারের কন্দ রোপণ করলেও কন্দ বহুবিভাজিত হয় (গড়হফধষ ধহফ অষধস, ২০০৩)। বোল্টিং-এর কারণে কন্দের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্থ হয়ে বহুবিভাজিত হয়। বারি পেঁয়াজ-৪/বারি পেঁয়াজ-৬/লাল তীর কিং-এর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বারি পেঁয়াজ-১-এ বহুবিভাজিত পেঁয়াজের হার বেশি। বহুবিভাজিত পেঁয়াজের গুণগতমান/বাজার মূল্য কম থাকে।
আগাছা/রোগ-বালাই : আগাছা পেঁয়াজের ৪৯-৮৬% পর্যন্ত ফলন হ্রাস করতে পারে। পেঁয়াজে পার্পল ব্লচ/স্টেমফাইলিয়াম ব্লাইট ইত্যাদি রোগ হয়। থ্রিপস/নেমাটোড ইত্যাদি দ্বারা পেঁয়াজ আক্রান্ত হয়। পেঁয়াজে বিভিন্ন রোগ-বালাই হলে ফলন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।
ফলন হ্রাস : জাত, আবহাওয়া, আগাছা/রোগ-বালাই, চাষ/পুষ্টি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি পেঁয়াজের ফলনের উপর প্রভাব বিস্তার করে। মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদনে বারি পেঁয়াজ-১ ব্যবহারে ফলন হ্রাস পায়। উৎপাদন মৌসুমে আগাম বৃষ্টি হলে ফলন হ্রাস পায়। পুষ্টি ব্যবস্থাপনা উপযুক্ত না হলে ফলন হ্রাস পাবে। আগাছা/রোগ-বালাইসহ অন্যান্য চাষ ব্যবস্থাপনা সঠিক না হলে ফলন হ্রাস পাবে।
উচ্চ উৎপাদন খরচ/নিম্ন বাজার মূল্য : কোন কোন বছর সেটসহ বিভিন্ন মূল্য বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বেশি হয়। অন্যদিকে অধিক সরবরাহ কিংবা মুড়িকাটা পেঁয়াজ সংগ্রহ সময়কালে পেঁয়াজ আমদানি করলে মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাজার মূল্য ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। ফলে মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদনকারী ব্যাপকভাবে ক্ষতির মধ্যে পড়ে এবং পরবর্তী বছর এ-পেঁয়াজ উৎপাদনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে।
সংগ্রত্তোর ক্ষতি : হালি পেঁয়াজের তুলনায় মুড়িকাটা পেঁয়াজে বোল্টিং/বহুবিভাজিত পেঁয়াজের হার বেশি। হালি পেঁয়াজের মতো মুড়িকাটা পেঁয়াজ পরিপক্কতা লাভ করে না, তাই এই পেঁয়াজে পানির পরিমাণ বেশি থাকে। এ-পেঁয়াজের গলা মোটা ও নরম থাকায় রোগ-বালাই দ্বারা সহজেই আক্রান্ত হয়।মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদনে গাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের কারণে অ্যাবসিসিক অ্যাসিড সিনথেসিসে বাধাগ্রস্থ হওয়ায় এ-পেঁয়াজের সুপ্ততা কাল কম হয়। দুই-ধাপে উৎপাদনজনিত কারণে দ্বিতীয়-বৃদ্ধি চক্রে কন্দের দ্রুত বিকাশের ফলে মুড়িকাটা পেঁয়াজে দুর্বল সুপ্তাবস্থা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি হয়। জৈবিকভাবে/শারীরবৃত্তীয়ভাবে হালি পেঁয়াজের তুলনায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের বয়স বেশি। উপরেউল্লেখিত কারণে এ-পেঁয়াজ তাড়াতাড়ি পচে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তাই মুড়িকাটা পেঁয়াজের সংরক্ষণ ক্ষমতা ভালো হয় না।
সমস্যা সমাধানের উপায়
গজানো সেট ছাটাইকরণ : রোপণের পূর্বে সেট থেকে গজানো অংশ ছাঁটাই করতে হবে। ছাঁটাই-এর মাধ্যমে সেটের গোড়া (ইধংব) থেকে নতুন গাছ গজাতে বাধ্য করা হয়, যা প্রাথমিক গজানোকে ধীর করে দেয়। ছাঁটাই সেটকে মূল উৎপাদন না করা পর্যন্ত আরও কিছুটা সময় সুপ্ত থাকতে সাহায্য করে। ছাঁটাই-এর ফলে সেটে প্রথমে শক্তিশালী মূল উৎপাদন হয়। ফলে পরবর্তীতে কন্দের বিকাশ ভালো হয়। এ-প্রযুক্তি জমির সকল গাছ সমভাবে বৃদ্ধির নিশ্চয়তা প্রদান করে, মুড়িকাটা পেঁয়াজের ফলন/গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।
বোল্টিং হ্রাসকরণ : বোল্টিং হার হ্রাসের জন্য বারি পেঁয়াজ-৪ জাতের মাধ্যমে মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদন করতে হবে। ছোট থেকে মাঝারি আকারের সেটে (৪ক্ট০.৫-৬ক্ট০.৫ গ্রাম) বোল্টিং হার কম।
বহুবিভাজিত পেঁয়াজ হ্রাসকরণ : বড় আকারের সেট ব্যবহার না করে ছোট থেকে মধ্যম আকারের সেট (৪ক্ট০.৫- ৬ক্ট০.৫ গ্রাম) ব্যবহার করতে হবে। বহুবিভাজিত পেঁয়াজের হার হ্রাসের জন্য বারি পেঁয়াজ-৪ জাতের মাধ্যমে মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদন করতে হবে।
আগাছা/রোগ-বালাই দমন : সেট রোপণের ৩-৭ দিন পূর্বে ভিজা জমিতে পেন্ডিমেথালিন ২.০০ লিটার/হেক্টর স্প্রে + পেঁয়াজের চারা রোপণের ৪৫ দিন পর একই হারে হার্বিসাইড স্প্রে + চারা রোপণের ৬৫ দিন পর একবার নিড়ানি ব্যবহার করে হাতের মাধ্যমে আগাছা নিয়ন্ত্রন করলে আগাছা দমন কার্যকারিতা বেশি। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ/সুস্থ সেট ব্যবহার/গজানো সেট ছাঁটাই, সেট শোধন (২.৫ গ্রাম প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি বা অটোস্টিন ৫০ ডব্লিউডিজি/কেজি বীজ), রোগের প্রতি সহনশীল পেঁয়াজের জাতের ব্যবহার (বারি পেঁয়াজ-৪), সুষম সারের ব্যবহার/শস্যাবর্তন এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন ছত্রাকনাশক পর্যায়ক্রমে ১০-১৫ দিন পর পর ৫-৬ বার স্প্রে করণ-এর মাধমে পেঁয়াজকে রোগমুক্ত রাখতে হবে। ইপ্রোডিয়ন (রোভরাল ৫০ ডব্লিউপি) ২ গ্রাম/লিটার পানি, ডাইফেনোকোনাজল+এ্যাজোক্সিস্ট্রবিন (এমিস্টার টপ ৩২৫ এসসি) বা ফ্লুপাইরাম+ট্রাইফ্লুক্সিস্ট্রবিন (লুনা সেনসেশন)১ মিলি/লিটার পানি ইত্যাদি ঔষধ স্প্রে করতে হবে। থ্রিপস নিয়ন্ত্রণে ইমিডাক্লোরোপিড (গেইন/ইমিটাফ) ০.৫ মিলি/লিটার পানি, নেমাটোড/অনিয়ন ম্যাগোট নিয়ন্ত্রণে ক্যাডুসাফোস (রাগবি ৫ জি) ৩০-৩৫ কেজি/হেক্টর ব্যবহার করতে হবে।
ফলন বৃদ্ধিকরণ : মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদনে বারি পেঁয়াজ ৪/বারি পেঁয়াজ-৬/লাল তীর কিং জাত ব্যবহার করলে ফলন অনেক বেড়ে যায়। উৎপাদন মৌসুমে আগাম বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে, তাই উঁচু-বেড ও নালা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পেঁয়াজ চাষ করতে হবে। পেঁয়াজ চাষে সর্বোত্তম রোপণ দূরত্ব ১৫ সেমি. ী ১০ সেমি.। জৈব/রাসায়নিক সার সঠিক পরিমাণে (পচা গোবর/ইউরিয়া/টিএসপি/এমওপি/জিপসাম যথাক্রমে ২৫০০-৩০০০/২৫০-৩০০/২২৫-২৫০/১২৫-১৫০/১৫০-২০০ কেজি/হেক্টর) এবং উপযুক্ত সময়ে (সম্পূর্ণ গোবর/এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া/সম্পূর্ণ টিএসপি/এমওপি/জিপসাম চাষের পূর্বে এবং অবশিষ্ট ইউরিয়া সমান দুই-ভাগ করে সেট রোপণের ২৫/৪৫ দিন পর) প্রয়োগ করতে হবে। পেঁয়াজের জমিতে উদ্ভিদ হরমোন (ওঅঅ/এঅ৩/ঘঅঅ) প্রয়োগে ফলন বাড়ে (গড়হফধষ ধহফ অষধস, ২০০৩)। সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আগাছা/রোগ-বালাই দমন করতে হবে। মুড়িকাটা পেঁয়াজের অন্যান্য কৃষিতাত্বিক পরিচর্যা/সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা আদর্শ মানদ-ে হতে হবে। জলবায়ু সহনশীল, রোগ প্রতিরোধী/ সহনশীল এবং উচ্চ-ফলনশীল জাত উদ্ভাবন এবং উন্নত-প্রযুক্তির উপর কৃষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
উৎপাদন খরচ হ্রাস/ন্যায্য বাজার মূল্য : পরিকল্পিতভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে সেট উৎপাদন করতে হবে। বড় আকারের সেট ব্যবহার করলে খরচ বেশি হয়, তাই উত্তম আকারের (৪ক্ট০.৫-৬ক্ট০.৫ গ্রাম) সেট ব্যবহার করতে হবে। পেঁয়াজ আমদানি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। আবার বর্তমানে কৃষির অন্যতম মূলনীতি বাণিজ্যিক কৃষি অর্থাৎ ফসল চাষে কৃষক লাভবান হবে। তাই কৃষককে রক্ষা ও পেঁয়াজ চাষে কৃষকের আগ্রহ ধরে রাখার জন্য সংগ্রহ মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। উৎপাদন বেশি হলে ধাপে ধাপে পেঁয়াজ সংগ্রহ করে বাজারজাত করতে হবে। সেট রোপণের যন্ত্র উদ্ভাবন করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার ইউরিয়া/টিএসপি/এমওপি/ডিওপি সারে ভর্তুকি দিয়ে বিক্রয় করে থাকে, যা পেঁয়াজ উৎপাদন খরচে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ৪% সুদে মসলা ফসল উৎপাদনে বিশেষ কৃষি-ঋণ প্রকল্প কৃষকদের যথেষ্ট উপকৃত করেছে। তবে ঝামেলামুক্ত এবং সময়মতো ঋণের ব্যবস্থা করলে কৃষকের পক্ষে পেঁয়াজ উৎপাদন সহজ হবে।
সংগ্রত্তোর ক্ষতি হ্রাসকরণ : বারি পেঁয়াজ-৪ জাতে ফুলদ-ের সংখ্যা কম হওয়ায় মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। সেট ভালোভাবে বায়ুচলাচলযুক্ত অ্যাম্বিয়েন্ট স্টোরেজে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে কিন্তু কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা যাবে না। ছোট থেকে মধ্যম আকারের সেট (৪ক্ট০.৫-৬ক্ট০.৫ গ্রাম) ব্যবহার করতে হবে। অসম-বৃদ্ধি প্রতিরোধে প্রায় সমান আকারের সেট ব্যবহার, রোপণের পূর্বে গজানো সেট ছাঁটাই, জমির সকল স্থানে সঠিক মাত্রায় ও সম-পরিমাণে নাইট্রোজেন/পানি প্রয়োগ ইত্যাদি কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। আগাছা/রোগ-বালাই উপযুক্ত সময়ে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সংগ্রত্তোর ক্ষতি হ্রাসে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ব্যবহার করে ডিহাইড্রেটেড পেঁয়াজ, পেঁয়াজের পাউডার/ফ্লেক্স ইত্যাদি তৈরি করা যেতে পারে।
লেখক : প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মসলা গবেষণা উপ-কেন্দ্র, বিএআরআই, ফরিদপুর, মোবাইল : ০১৭১১-৫৭৩৩৬১,