কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ৭ জুলাই, ২০১৯ এ ১১:১৮ AM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: জ্যৈষ্ঠ সাল: ১৪২৬ প্রকাশের তারিখ: ০২-০৭-২০১৯
বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণপূর্বে অবস্থিত উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের দেশ। প্রাকৃতিকভাবেই উর্বর জমির এ দেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে আর্থসামাজিক এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাসহ জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা সম্ভব। বিবিএস ২০১৪-১৫ এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি ৩০ লাখ এবং প্রতি বছর ২০-২২ লাখ লোক জনসংখ্যায় যোগ হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জনসংখ্যা যদি ১.৩৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন লোকসংখ্যা হবে প্রায় ২৩ কোটি। এই বাড়তি জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ আবশ্যক। জিডিপিতে কৃষি সেক্টরের অবদান ১৫.৩৩% এবং কৃষি সেক্টরে ফসল খাতের অবদান ৫৪.২৭% (অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৬)। বৈশ্বিক হিসেবে বিশ্বের ১৬ কোটি হেক্টর ধানি জমিতে ৪৭ কোটি টন চাল উৎপন্ন হয়। ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের যে জনসংখ্যা হবে তার চাহিদা পূরণ করতে প্রয়োজন হবে আরও ২৫ ভাগ বাড়তি উৎপাদন। ইউএনডিপির একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল শতকরা ২.৮৫ ভাগ এবং ২০১৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে শতকরা ১.২২ ভাগে। এই হারে বাংলাদেশে ২০৫০ সালে জনসংখ্যা দাঁড়াবে ২১ কোটি ৫৪ লাখ এবং স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীতে অর্থাৎ ২০৭১ সালে ২৪ কোটি ২৮ লাখে এসে স্থিতিশীল হবে (BRRI, 2015)। সর্বোপরি ২৫ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণ করার চিন্তা মাথায় রেখে বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে (BRRI, 2015)।
সরকারের জনবান্ধব কৃষিনীতি ও বিভিন্ন পদক্ষেপ যেমন- ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি সারে উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি এবং তেলের মূল্য হ্রাস, কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি প্রদান, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, কৃষিতে প্রণোদনা প্রদান, সার বিতরণ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, উন্নত মানের ধানের বীজ সরবরাহ, প্রতিকূলতা সহিষ্ণুু জাত উদ্ভাবন ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের ফলে বিগত বছরগুলোয় চালের উৎপাদন ৩.৪ লাখ টন হারে বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দানা শস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ অভূত সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে চালের উৎপাদন ৩ কোটি ৪৭ লাখ টন। শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালে চালের উৎপাদন হবে ৪ কোটি ৭২ লাখ টন এবং এর বিপরীতে ২০৫০ সালে ২১ কোটি ৫৪ লাখ লোকের খাদ্য চাহিদা পূরণে চাল প্রয়োজন হবে ৩ কোটি ৭৯ লাখ টন অর্থাৎ ২০৫০ সালে দেশে ৯৩ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে।
জনগণের টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের লক্ষ্যে ‘পুষ্টি সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা’ কার্যক্রম পরিচালনার ফলে খাদ্য তালিকায় গুণগত পরিবর্তন আসছে। জনগণ ভাতের পরিবর্তে রুটি ব্যবহার করছে এবং ফলমূল ও সবজির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত ও টেকসই উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ করে গ্রামীণ জনগণের কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি ও দারিদ্র্যবিমোচন করা হচ্ছে সরকারের একমাত্র লক্ষ্য। ধান, গম, ভুট্টা, পাট, তুলা, আঁখ এবং অন্যান্য শস্য যেমন-কন্দাল ফসল, ডাল, তেলবীজ, শাকসবজি, ফল, ফুল, মসলা ইত্যাদির নতুন জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি বিজ্ঞানী, কৃষি সম্প্রসারণবিদগণ বিভিন্ন কৃষি পরিবেশ অঞ্চল অনুযায়ী পরিবেশবান্ধব ফসলের জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা যেমন-খরা, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা এবং অধিক তাপমাত্রাসহিষ্ণু তথা উচ্চফলনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন সংক্রান্ত গবেষণা অব্যাহত আছে।
সরকার দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষির ন্যায় দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিকেও উন্নয়নের জন্য মাস্টার প্লান গ্রহণ করছে। সপ্তমপঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, জাতীয় কৃষি নীতি, জাতীয় বীজ নীতি ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG) এর সাথে সঙ্গতি রেখে দেশের জনগণের পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য নিরাপত্তা বিধানকল্পে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য নিরাপদ খাদ্য (Safe food) উৎপাদন, পশ্চাৎপদ নৃ-গোষ্ঠীর জন্য পাহাড়ি অঞ্চলে ফলের বাগান সৃষ্টি ও সবজি আবাদের বিস্তার এবং অনুন্নত চর অঞ্চলে সমন্বিত কৃষি সহায়ক প্রকল্পসহ বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে ফসল উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন স্তরে প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
বাংলাদেশের কৃষির প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ
* ক্রমান্বয়ে কৃষি জমি হ্রাস (বার্ষিক ০.৭৩% বা ৬৮,৭৬০ হেক্টর হারে) (সূত্র : এসআরডিআই-২০১৩);
* জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব যেমন- বন্যা, খরা, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা, উচ্চ তাপমাত্রা, নতুন নতুন পোকামাকড় এবং রোগবালাইয়ের প্রার্দুভাব;
* সেচের পানির অপ্রতুলতা;
* পানি ব্যবহারে দক্ষতার অভাব;
* ক্রমবর্ধমান হারে কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা হ্রাস পাওয়া;
* অধিক ফলন পার্থক্য (High Yield Gap);
* উচ্চ মাত্রায় সংগ্রহোত্তর ক্ষতি (২০ থেকে ৩৫%);
* মাটির উর্বরতা হ্রাস;
* কৌলি সম্পদের অবক্ষয়;
* অপর্যাপ্ত বাজার ব্যবস্থাপনা;
* ফসল উৎপাদনে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার;
* গবেষণা ও সম্প্রসারণ খাতে অপ্রতুল বাজেট;
* ফলনসীমা (Yield ceiling) অতিক্রম করতে না পারা;
* কৃষি উপকরণ ব্যবহারে দক্ষতার অভাব;
* পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগারের অভাব;
* মানসম্পন্ন বীজের অপর্যাপ্ততা;
* শিক্ষা, গবেষণা, সম্প্রসারণ ও কৃষক সংযোগে দুর্বলতা;
* কৃষক প্রশিক্ষণের স্বল্পতা;
* পুষ্টি সম্পর্কে অজ্ঞতা;
* খাদ্যাভাস পরিবর্তন না করা;
* মাঠ পর্যায়ের সম্প্রসারণকর্মীদের তদারকি এবং কমিন্টমেন্টের অভাব;
* কৃষিকাজে তরুণ শ্রেণির আগ্রহের অভাব;
* কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ধীরগতি;
* স্বল্প সুদে ঋণের অপ্রতুলতা; এবং
* সংগ্রহোত্তর কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণও বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে উদ্যোক্তার অভাব।
চ্যালেঞ্জ উত্তরণে গৃহীতব্য পদক্ষেপসমূহ
* ফসলের উচ্চফলনশীল, পুষ্টিমান সম্পন্ন ও প্রতিকূল পরিবেশসহিষ্ণু এবং স্থানভিত্তিক জাত উদ্ভাবন;
* বিলুপ্ত প্রায় ফসলের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রজনন কাজে ব্যবহার;
* উন্নত ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন;
* মাটির জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণ;
* কৃষি পরিবেশ অঞ্চলভিত্তিক লাগসই ফসল নির্বাচন ও ফসল বিন্যাস নির্ধারণ;
* উত্তম কৃষি পদ্ধতি ((Good Agricultural Practices) ) বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ;
* জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি (খরা, বন্যা, জলাবদ্ধতা, অধিক তাপমাত্রা ইত্যাদি) মোকাবিলায় গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম গ্রহণ;
* কৃষিতে জীব প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধী, খরা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও
* উচ্চ তাপসহিষ্ণু ইত্যাদি ফসলের জাত ও অন্যান্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা;
* পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনের নিমিত্ত বৈচিত্র্যময় ফসল উৎপাদন;
* শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধি করা;
* কৃষি যান্ত্রিকীকরণকে উৎসাহিত করা;
* সাপ্লাই ও ভেলুচেইন এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের ওপর গবেষণা পরিচালনা করা;
* এনএআরএস (NARS) কর্তৃক উদ্ভাবিত বিভিন্ন ফসলের নতুন জাতের পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রজনন বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণ;
* শস্য সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি উদ্ভাবন;
* উদ্ভাবিত জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি হস্তান্তর;
* কৃষিতে তথ্য প্রযুক্তি (আইসিটি) এর প্রয়োগ বৃদ্ধি করা;
* সমন্বিত খামার পদ্ধতি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা;
* কৃষিতে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করণ;
* উন্নতমানের বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণ;
* বর্ধিত জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি গবেষণা, মাঠ ও কৃষক পর্যায়ে ফলনের পার্থক্য কমানো;
* জনগণের পুষ্টির স্তর উন্নয়নের লক্ষ্যে খাদ্যভিত্তিক পুষ্টি (ফলিত পুষ্টি) সংক্রান্ত গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন;
* খাদ্যচক্রে (NARS) ব্যবহৃত রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব (Heavy Metal) বিষয়ে গবেষণা এবং ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ;
* গণমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারসহ কৃষি মেলা, বিশ্বখাদ্য দিবস, পুষ্টি সপ্তাহ, পরিবেশ দিবস ইত্যাদি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সব স্তরের
জনগোষ্ঠীর পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ;
* বিভিন্ন শিক্ষাস্তরের কারিকুলামে ফলিত পুষ্টি বিষয়ক পাঠসমূহ যথাযথ অন্তর্ভুক্ত বা হালনাগাদকরণ, পাঠ প্রণয়ন এবং প্রণয়নে সহায়তা প্রদান;
* টেকসই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে ধানসহ অন্যান্য ফসলের আধুনিক জাত উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কৌলিতাত্ত্বিক অর্জন বা
* জেনেটিক গেইন ত্বরান্বিতকরণে ফসলের জাত উদ্ভাবনে জীব প্রযুক্তিসহ অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি;
* ঘঅজঝ এর মাধ্যমে কৃষিতে মৌলিক গবেষণাকে উৎসাহ প্রদান);
* মাটির উর্বরতা ও সার ব্যবস্থাপনায় আইন প্রণয়ন এবং জমিতে জৈব সার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা;
* অলবণাক্ত জোয়ার-ভাটা অঞ্চলের জন্য উচ্চফলনশীল ধানের জাতের পাশাপাশি স্থানভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, স্বাদু পানির পরিকল্পিত ব্যবহার, শস্য চাষের নিবিড়তা বৃদ্ধি, উপযুক্ত ফসল ভিত্তিক শস্য উৎপাদন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে উৎপাদন বাড়ানো;
* পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় বোরো চাষ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তাই টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন স্থিতিশীল রাখাসহ কম পানি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন নিশ্চিত করা।
* ব্রি, বিনার মাধ্যমে আউশের আধুনিক জাতের উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ ;
* ধানের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, মধ্য-স্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, চাষিরা ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই সরাসরি কৃষকের নিকট হতে ধান সংগ্রহ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা;
* ফসল উৎপাদনে প্রয়োজন অনুযায়ী বালাইনাশক ব্যবহার করা এবং জৈব বালাই নাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি করা;
* শিক্ষা, গবেষণা, সম্প্রসারণ ও কৃষক সংযোগ জোরদার করা;
* কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাধ্যমে প্রর্দশনী স্থাপন করে কৃষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা (চীনে কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়);
* বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, খাল ও নদী পুনঃখনন এবং ডিস্যালানাইজেশন ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভূ-উপরস্থ পানির বর্ধিত ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। রাবার ড্যাম, স্লুইস গেট, ফ্লাস গেট, ডাগ ওয়েল, হাজামজা পুকুর সংস্কার, আইল ব্যবস্থাপনা ইত্যাদির মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণপূর্বক সেচ সুবিধা উন্নয়ন করা;
* বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা, সম্প্রসারণ কর্মী ও কৃষককে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের ওপর দেশে/বিদেশে প্রশিক্ষণ প্রদানের সুযোগ বৃদ্ধি করা;
* বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন;
* কৃষিপণ্য সংরক্ষনাগার স্থাপন;
* কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে উদ্যেক্তা পর্যায়ে প্রণোদনা প্রদান এবং স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা; এবং
* চাষাবাদে যান্ত্রিকীকরণ উৎসাহিতকরণ।
আমরা জানি কৃষিতে নানাবিধ সমস্যা আছে যার সমাধান ও রয়েছে। আমরা কৃষিতে অনেক দেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছি। বিশ্বের পাট রপ্তানিতে ১ম, পাট ও ফল উৎপাদনে ২য়, সবজি উৎপাদনে ৩য়, ধান উৎপাদনে ৪র্থ, আম উৎপাদনে ৭ম, আলু উৎপাদনে ৮ম, পেয়ারা উৎপাদনে ৮ম ও ফল উৎপাদনে ২৮তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিরলস প্রচেষ্টা বর্তমান কৃষিকে একটি টেকসই ও সমৃদ্ধ অবস্থানে নিয়ে গেছে। তবে কৃষক তার উৎপাদিত দ্রব্যের যথাযথ মূল্য পেতে হলে বিশেষ করে ধান ও আলুসহ অন্যান্য ফসলে কৃষককে ফসল সংগ্রহের সময় উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে বাজার ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে। তবে এখানে কৃষককে সংগঠিত হতে হবে। যেখানে কৃষক ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষিত হবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে আরও গতিশীল করে সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
ড. মোঃ দেলোয়ার হোসেন মজুমদার
উপপরিচালক (কৃষি সম্প্র. ও গ্রামীণ অর্থনীতি), জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (নাটা), সেল : +৮৮-০১৮১৫৫৯৭৩০৪ e-mail : dhossain1960@yahoo.com