কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ০২:২৮ PM

বীজতুলা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: মাঘ সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ২০-০১-২০২৬

বীজতুলা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ
অসীম চন্দ্র শিকদার
বীজতুলা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ : সাধারণত ডিসেম্বর মাস থেকে জমি থেকে বীজতুলা সংগ্রহ শুরু হয়। জমি থেকে পরিপক্ব বীজতুলা সংগ্রহ করতে হয়। যখন বোলের খোসা সম্পূর্ণভাবে ফেটে ও শুকিয়ে যায় এবং বীজতুলা পরিপূর্ণ দৃশ্যমান হয় তখন বীজতুলা জমি থেকে সংগ্রহ করতে হয়। রৌদ্রজ্জ্বল আবহাওয়াতে বীজতুলা জমি থেকে সংগ্রহ করতে হবে। কখনও মেঘলা বা স্যাঁতস্যেঁতে আবহাওয়াতে বীজতুলা সংগ্রহ করা যাবে না। বীজতুলা সংগ্রহের সময় আঁশ ও বীজ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, আর তুলার সঙ্গে মরা পাতার গুঁড়া বা আবর্জনা যাতে না মিশে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গাছের মধ্যভাগের বীজতুলা আলাদাভাবে সংগ্রহ করে আলাদা বস্তায় সংরক্ষণ করতে হবে। এই বীজতুলার মান সবচেয়ে ভালো হয়, যা ১ম গ্রেড হিসেবে গণ্য করা হয়। বীজতুলা সংগ্রহ করতে কাপড়ের ব্যাগ বা বাঁশের ডালি বা প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার করলে ভালো হয়। বীজতুলা সংগ্রহের পর ২-৩ দিন রৌদ্রে ভালোভাবে শুকাতে হবে- যাতে আর্দ্রতা ১২-১৩% এর নিচে থাকে। কৃষক ভাইয়েরা তুলাবীজ দাঁতে কামড় দিয়ে আর্দ্রতা অনুমান করতে পারেন। যদি দাঁতে কাটলে কট করে শব্দ হয় তবে মনে করতে হবে কাক্সিক্ষত আর্দ্রতা বীজতুলায় বর্তমান। বীজতুলা শুকানোর পর বাজারজাত করার পূর্ব পর্যন্ত কাপড়ের/চটের ব্যাগে বীজতুলা ভরে গুদামে মাচার ওপর সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতি বস্তায় ৩-৪টি ন্যাপথালিন দিয়ে সংরক্ষণ করলে বীজতুলায় পোকাদ্বারা আক্রমণের আশঙ্কা থাকে না। মনে রাখতে হবে যে, উচ্চফলনশীল জাতের বীজতুলা থেকে আঁশ ছাড়া বীজও সংগ্রহ করা হয়। এই বীজের কিছু অংশ পরবর্তী মৌসুমে বপন কাজে ব্যবহার করা হয়। বাকি বীজ থেকে তেল ও খৈল পাওয়া যায়।
বীজতুলার গ্রেডিং : বীজতুলার গ্রেডিং নির্ভর করে আঁশের দৈর্ঘ্য, শক্তি, বর্ণ, পরিপক্বতা, আর্দ্রতা ও বীজতুলায় ময়লা-আবর্জনা প্রভৃতির ওপর। আমাদের দেশে সাধারণত বীজতুলাকে দু’টি গ্রেডে ভাগ করা হয়ে থাকে- ১ম গ্রেড ও ২য় গ্রেড। ১ম গ্রেডের বীজতুলার মূল্য বেশি থাকে। জমি থেকে বীজতুলা সংগ্রহের সময়ই গ্রেডিং করা হয়ে থাকে। আঁশের দৈর্ঘ্য সাধারণত জাতের ওপর নির্ভর করে। তবে আঁশের শক্তিনির্ভর করে বীজতুলার পরিপক্বতার ওপর। তাই পরিপক্ব বীজতুলা জমি থেকে সংগ্রহ করতে হবে। সাদা বা হালকা রঙের তুলা সাধারণত গাঢ় রঙের তুলার চেয়ে বেশি মূল্যবান। তুলায় যত কম ময়লা- আবর্জনা এবং অন্যান্য অপদ্রব্য থাকবে, গ্রেড তত উন্নত হবে। তুলা গাছের মাঝের দিকের বীজতুলা সাধারণত উন্নতমানের বা ১ম গ্রেডের হয়। ১ম গ্রেডের তুলা থেকে উন্নত মানের সুতা ও কাপড় তৈরি হয়ে থাকে।
বাজারজাতকরণ : তুলা বাজারজাতকরণের জন্য তুলা উঠানোর আগমুহূর্তে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে সকল অংশীজনকে সাথে নিয়ে একটি মূল্য নির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় বীজতুলার উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য বিবেচনায় নিয়ে বীজতুলার মূল্য নির্ধারণ করা হয়। বীজতুলা তুলা উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে প্রাইভেট জিনারের মাধ্যমে সরকারি নির্ধারিত মূলে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। বীজতুলার ক্রয় কেন্দ্র সাধারণত তুলাচাষিদের সুবিধার্থে ইউনিট অফিসে অথবা তুলা উৎপাদন মাঠের কাছাকাছি স্থাপন করা হয়ে থাকে। ব্যাংক চেকের মাধ্যমে বীজতুলার মূল্য ক্রয়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিশোধ করা হয়ে থাকে। জিনারবৃন্দ বীজতুলা জিনিং করে আঁশগুলো স্পিনিং মিলে বিক্রয় করে। অন্যদিকে তুলাবীজ থেকে তেল ও খৈল উৎপাদন করা হয়। তুলাবীজের তেল কোলেস্টেরল ফ্রি হওয়ায় মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি। তাছাড়া খৈল প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় গবাদিপশু ও মৎস্য খামারের জন্য খুবই জনপ্রিয় খাদ্য।
বাংলাদেশে তুলা একটি ক্যাশক্রপ ফসল। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে থেকে সরাসরি বীজতুলা ক্রয় করা হয়ে থাকে। তুলা উন্নয়ন বোর্ড তুলার উৎপাদন বৃদ্ধি এবং চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য সর্বদা তৎপর। কেননা বাংলাদেশে তুলা উৎপাদন সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়সহ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেরও প্রধান খাত। আশার কথা দেশে খাদ্য উৎপাদনের মতো তুলা উৎপাদনও সরকার গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন। আসুন সবাই মিলে তুলা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাহায্য ও সহযোগিতা করি এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

লেখক : কটন ইউনিট অফিসার (অব:), তুলা উন্নয়ন বোর্ড, মোবাইল : ০১৫৫২-৩৬২৯০১, ১০৪/১ (বি-২), শেরেবাংলা রোড (কাঁটাসুর), জাফরাবাদ, মোহাম্মদপুর-১২০৭।

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন