কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ এ ১২:৪০ PM

প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: বৈশাখ সাল: ১৪৩৩ প্রকাশের তারিখ: ১৬-০৪-২০২৬

প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
ড. মো. জোবাইদুল কবীর, পিএইচডি
একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে ‘পুষ্টিহীনতা’ এবং ‘লুকানো ক্ষুধা’ বা হিডেন হাঙ্গার। একটি জাতির মেধা, শ্রমশক্তি এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতা সরাসরি তার খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টির স্তরের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে মেধাবী ও কর্মক্ষম জনশক্তি গড়ে তোলার মূল ভিত্তি হলো পুষ্টি নিরাপত্তা, যেখানে কৃষিখাতের অন্যতম প্রধান উপখাত প্রাণিসম্পদ কেবল গ্রামীণ অর্থনীতির চালিকাশক্তিই নয়, বরং জাতীয় পুষ্টি নিরাপত্তার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে।
গৃহপালিত পশু ও পাখির মাধ্যমে উৎপাদিত উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ উপাদানের সহজলভ্যতা জাতীয় জনস্বাস্থ্যের মানদ- নির্ধারণে একটি প্রধান সূচক। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, দ্রুত নগরায়ণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট মোকাবিলায় নিরাপদ প্রাণিজ আমিষের ভূমিকা আজ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। তবে এই খাতের অমিত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ‘নিরাপদ উৎপাদ’, ‘জুনোটিক রোগ’ এবং ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের মতো প্রচ্ছন্ন চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের পুষ্টি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও টেকসই উন্নয়নকে হুমকির মুখে ফেলছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় প্রাণিসম্পদ খাতের এই সম্ভাবনা ও বিদ্যমান বাস্তবতার মধ্যকার ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন সময়ের দাবি।
জাতীয় পুষ্টির মানদ-ে প্রাণিজাত পণ্যের গুরুত্ব ও জনস্বাস্থ্য
মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের একটি সিংহভাগ আসে প্রাণিজ উৎস থেকে। একটি সুষম খাদ্যতালিকায় প্রাণিজাত পণ্য-যেমন দুধ, ডিম ও মাংস-অপরিহার্য। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের তুলনায় প্রাণিজ প্রোটিন মানবদেহের জন্য অনেক বেশি কার্যকর ও জৈবিকভাবে গ্রহণযোগ্য (ইরড়ধাধরষধনষব)।
অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিডের সুষম আধার : মানুষের শরীরের গঠনের জন্য আটটি ‘অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড’ প্রয়োজন, যা শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না। দুধ, ডিম ও মাংসের মতো প্রাণিজ খাদ্যে এই উপাদানগুলো সঠিক অনুপাতে বিদ্যমান থাকে। এই অ্যামাইনো এসিডগুলো শরীরের নতুন টিস্যু গঠন, কোষের ক্ষয়পূরণ এবং এনজাইম ও হরমোন তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। প্রোটিনের এই উচ্চমান সম্পন্ন বিন্যাসের কারণে ডিমকে পুষ্টি বিজ্ঞানেও রেফারেন্স প্রোটিন হিসেবে গণ্য করা হয়।
দুগ্ধ খাতের অবদান : আদর্শ ও সুষম খাদ্য দুধকে বলা হয় ‘আদর্শ খাদ্য’ বা ‘সুষম পানীয়’। এতে থাকা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন-ডি হাড়ের গঠন মজবুত করতে এবং দাঁতের সুরক্ষায় অপরিহার্য। জাতীয় দুগ্ধ নীতিমালা অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২৫০ মিলি দুধ পান করা প্রয়োজন। এটি কেবল শৈশবের বৃদ্ধি নয়, বরং বার্ধক্যজনিত হাড়ের ক্ষয়রোধ এবং স্নায়বিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও জাদুকরী ভূমিকা রাখে।
ডিম-সুলভ ও কার্যকরী পুষ্টির উৎস : সাশ্রয়ী মূল্যে উচ্চমানের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ডিমের কোনো বিকল্প নেই। এতে থাকা ‘কোলিন’ শিশুদের মেধাবিকাশে এবং ‘লুটেইন’ ও ‘জেক্সানথিন’ প্রবীণদের চোখের জ্যোতি রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর। সুলভ মূল্য ও সহজলভ্যতার কারণে এটি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদা পূরণে প্রধান হাতিয়ার।
মাংস ও অণুপুষ্টির গুরুত্ব : লাল মাংস ও পোল্ট্রি মাংস আয়রন, জিংক এবং ভিটামিন বি-১২ এর প্রধান উৎস। বিশেষ করে প্রাণিজ আয়রন মানুষের শরীর খুব দ্রুত শোষণ করতে পারে, যা উদ্ভিজ্জ আয়রনের ক্ষেত্রে সীমিত। ফলে নারী ও শিশুদের রক্তাল্পতা দূরীকরণে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে মাংস এক অনন্য ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়াও ভিটামিন বি-১২ এবং উচ্চ শোষণযোগ্য আয়রন উদ্ভিজ্জ খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় না, যা প্রাণিজ খাদ্যের গুরুত্বকে আরো বাড়িয়ে দেয়।
জনস্বাস্থ্যের বিভিন্ন স্তরে প্রাণিসম্পদের ভূমিকা
প্রাণিসম্পদ কেবল মানুষের উদরপূর্তির মাধ্যম নয়, বরং এটি মানবজীবনের প্রতিটি স্তরে-জন্মপূর্বকাল থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত-এক শক্তিশালী স্বাস্থ্য রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। সুস্বাস্থ্যের এই ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রাণিজ আমিষের অবদান অনস্বীকার্য:
শিশু ও কিশোরদের বিকাশ : শিশুর জন্মের পর মাতৃদুগ্ধের পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে মেধাবিকাশ ও দৈহিক বৃদ্ধির জন্য ডিম ও দুধের কোনো বিকল্প নেই। প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের হাড়ের গঠন দূর্বল হওয়া এবং উচ্চতা কম হওয়া বা খর্বকায়ত্ব রোধে প্রাণিজ খাদ্য অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশবে নিয়মিত প্রাণিজ আমিষের সরবরাহ শিশুদের স্নায়বিক দক্ষতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়তা করে।
মাতৃস্বাস্থ্য ও প্রজনন সুরক্ষা : গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের পুষ্টির চাহিদা সাধারণের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। গর্ভাবস্থায় প্রাণিজ আমিষের অভাব হলে শিশুর যথাযথ শারীরিক গঠন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া দূর করতে মাংসের ‘হিম আয়রন’ এবং মায়ের হাড়ের ক্ষয়রোধে দুধের ক্যালসিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি অপুষ্টি দূরীকরণে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ‘স্কুল মিল্ক প্রোগ্রাম’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এটি একটি সুস্থ ও সবল প্রজন্মের নিশ্চয়তা দেয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালীকরণ: প্রাণিজ খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান জিংক এবং সেলেনিয়াম শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রাকৃতিকভাবে শক্তিশালী করে। এই খনিজ উপাদানগুলো বিশেষ করে বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শরীরকে প্রস্তুত রাখে। করোনাকালীন সংকটের মতো সময়েও দেখা গেছে যে, উচ্চমানের প্রাণিজ আমিষ গ্রহণকারীদের রোগ মোকাবিলা করার ক্ষমতা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।
বৃদ্ধ বয়সের স্বাস্থ্য ও পেশি সুরক্ষা : বার্ধক্যে মাংসপেশির ক্ষয় রোধ করতে উচ্চমানের প্রাণিজ প্রোটিন একান্ত প্রয়োজন। এ ছাড়া দুগ্ধজাত পণ্যের নিয়মিত সেবন প্রবীণ বয়সে হাড়ের ভঙ্গুরতা কমিয়ে মানুষকে দীর্ঘকাল কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে।
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও পরোক্ষ পুষ্টি নিরাপত্তা
প্রাণিসম্পদ খাত কেবল সরাসরি আমিষ বা খাদ্য সরবরাহ করে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করে দীর্ঘমেয়াদি পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। মাসিক ‘কৃষিকথার’ পাঠক ও খামারি ভাইদের জন্য এটি জানা জরুরি যে, প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়ন মানেই হলো সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি। প্রত্যক্ষভাবে খাদ্য যোগানের পাশাপাশি এটি পরোক্ষভাবে পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিচের ক্ষেত্রগুলোতে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখছে :
ব্যাপক কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধি : দেশের প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রাণিসম্পদ খাতের ওপর নির্ভরশীল। পশুপালনের মাধ্যমে বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের আয় বৃদ্ধি পায়। যখন একজন খামারির বা শ্রমিকের আয় বাড়ে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার পরিবারের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আসে এবং তারা পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাদ্য ক্রয়ে সক্ষম হয়। এভাবে প্রাণিসম্পদ খাত দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচনেও ঢাল হিসেবে কাজ করছে।
নারীর ক্ষমতায়ন ও পারিবারিক স্বাস্থ্য : গ্রামীণ অর্থনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনে নারীর ক্ষমতায়ন একটি প্রধান শর্ত। বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ নারী গৃহপালিত পশুপাখি-বিশেষ করে হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালনের সাথে সরাসরি যুক্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা এবং তাদের অর্জিত আয় সরাসরি পরিবারের খাদ্য ও পুষ্টির পেছনে ব্যয় হয়। মায়ের হাতে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ থাকায় সন্তানদের খাদ্যে দুধ ও ডিমের উপস্থিতি বাড়ে, যা পরিবারের প্রতিটি সদস্যের স্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে এবং মেধাবী প্রজন্ম গঠনে মুখ্য ভূমিকা রাখে।
বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ: সম্ভাবনা বনাম বাস্তবতা
জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতের বিশাল সম্ভাবনা থাকলেও বর্তমানে এটি বেশ কিছু জটিল ও বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এই প্রতিবন্ধকতাগুলো কেবল উৎপাদনকেই ব্যাহত করছে না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অংশীজনদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স: একটি নীরব ঘাতক বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি হলো পশুপাখির চিকিৎসায় ও খাবারে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। অনেক ক্ষেত্রে খামারিরা দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বা রোগ প্রতিরোধের আগাম ব্যবস্থা হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ‘গ্রোথ প্রোমোটার’ হিসেবে শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন। এই ওষুধের অবশিষ্টাংশ দুধ, মাংস ও ডিমের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। ফলে মানুষের শরীরে জীবনরক্ষাকারী ওষুধগুলো আর কাজ করছে না, যা ভবিষ্যতে সাধারণ রোগকেও নিরাময় অযোগ্য করে তুলতে পারে।
জুনোটিক রোগ ও জুনোসিস : জনস্বাস্থ্যের এক অদৃশ্য হুমকি প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া রোগগুলোকে জুনোটিক রোগ বলা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নতুন আবিষ্কৃত সংক্রামক রোগগুলোর প্রায় ৭৫% ই প্রাণিজ উৎস থেকে আসে । বাংলাদেশে বার্ড ফ্লু, অ্যানথ্রাক্স, নিপাহ ভাইরাস বা জলাতঙ্ক জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি। পশুপালন ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জবাই বা প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হলে এসব রোগ দ্রুত মহামারী আকার ধারণ করতে পারে।
পশুখাদ্যের মান ও উচ্চমূল্য প্রাণিজ পুষ্টির প্রাপ্যতা অনেকাংশেই পশুখাদ্যের মূল্যের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে ভুট্টা, সয়াবিন মিল ও অন্যান্য উপকরণের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার ফলে খামারিরা চরম চাপের মুখে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে খরচ কমাতে নিম্নমানের খাদ্য বা ট্যানারি বর্জ্যের মতো ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এর ফলে প্রাণিজ পণ্যে বিষাক্ততা (যেমন: অ্যাফলাটক্সিন বা ভারী ধাতু) তৈরি হতে পারে, যা মানুষের হরমোন ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গবাদিপশুর চারণভূমি সংকুচিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন ভাইরাসজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে। অতিবৃষ্টি, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রাণীর মৃত্যু এবং খাদ্য সংকট জাতীয় পুষ্টির জোগানে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায়। এটি কেবল উৎপাদনশীলতাই কমায় না, বরং খামারিদের অর্থনৈতিকভাবেও পঙ্গু করে দেয়।
আধুনিক প্রযুক্তির অভাব ও সচেতনতার ঘাটতি দেশের একটি বড় অংশ এখনও সনাতন পদ্ধতিতে পশুপালন করছে। উন্নত ব্রিডিং, বৈজ্ঞানিক রেশন এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পণ্য সংগ্রহের আধুনিক প্রযুক্তির অভাব রয়েছে। পাশাপাশি, সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যেও কোন বয়সে কতটুকু প্রাণিজ আমিষ প্রয়োজন বা নিরাপদ পণ্য চেনার উপায় কী সে বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ কেবল একটি অর্থনৈতিক খাত নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের রক্ষাকবচ। ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (ঝউএ-২ : ক্ষুধা ও অপুষ্টি মুক্তি) অর্জন এবং মেধাবী ও কর্মক্ষম জনশক্তির কোনো বিকল্প নেই। নীতিনির্ধারক, খামারি এবং ভোক্তা-সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টায় প্রাণিসম্পদ খাত হয়ে উঠবে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ পুষ্টির অফুরন্ত উৎস।

লেখক : বিসিএস, থেরিওজেনোলজিস্ট, জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র (উখঝ), রংপুর। মোবাইল : ০১৭১৫২৫০৫৮০ (বিকাশ)/ মোবাইল : ০১৬২৮৮৯৭৩০০

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন