কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০২২ এ ০৫:৩৪ PM

প্রাকৃতিক খাদ্যশস্যের ‘এক পাওয়ার হাউস’ চিয়া বীজ পুষ্টি ও শক্তির জোগানদাতা

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: শ্রাবণ সাল: ১৪২৯ প্রকাশের তারিখ: ২৬-০৭-২০২২

প্রাকৃতিক খাদ্যশস্যের ‘এক পাওয়ার হাউস’ চিয়া বীজ
পুষ্টি ও শক্তির জোগানদাতা
মো: হাফিজুর রহমান
ক্ষুদ্র দানাকৃতির এই বীজ আসলেই - এক পাওয়ার হাউস; পুষ্টি ও শক্তির উৎস। চিয়া অর্থ শক্তি। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মেক্সিকোর অ্যাজটেক এবং মধ্য আমেরিকার মায়ান সভ্যতা পৃথিবীর পুরাতন সভ্যতাগুলোর মধ্যে অন্যতম। যীশু খৃষ্টের জন্মের প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে দক্ষিন আমেরিকায় এই সভ্যতার হদিস পাওয়া যায়। এই সময় থেকেই তারা দানাদার এক শস্যকে ‘ঈশ্বরের আশীর্বাদ হিসেবে গুরুত্ব দিত। এই দানা শস্যের নামই ‘চিয়া। এক জাদুকরী দানা। অ্যাজটেকদের মুল খাবার ছিল এই চিয়া বীজ। এমনকি তাদের প্রার্থনা/ উৎসর্গেও এই বীজের ব্যবহার হত। খৃষ্টপূর্ব ৩৫০০ বছর আগে থেকে এই বীজ ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া গেছে। খৃষ্টপূর্ব ১৫০০ থেকে ৯০০ সালের মধ্যে মেক্সিকোর টিওতিহুয়াকান ও টোলটেক জাতির লোকেরা এর চাষ করত।  
চিয়া বীজ থেকে আটা তৈরি করে খেতো সাধারণ মানুষ- কিন্তু অ্যাজটেক যোদ্ধারা এই দানা সরাসরি ব্যবহার করতো পরিবহন, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহারের সুবিধার্থে। পানিতে ভেজালেই এই বীজ ফুলে উঠে পানিটাকে ঘন ‘জেলি’ বানিয়ে ফেলে; সহজে খেয়ে নেয়া যায়। ক্ষুদ্র বীজে রয়েছে উচ্চ মাত্রার পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ১৫-২০% প্রোটিন, ১৮-৩০% চর্বি, ৪১% ডায়েটারি ফাইবার/আঁশ, ১৮-৩০% অ্যাশ, ৪-৫ এন্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। চিয়া বীজের বিশেষত্ব হল এর পুষ্টিমান। প্রক্রিয়াজাত না হয়েও- সরাসরি শরীরে তা শোষিত হতে পারে!   প্রতি ১০০ গ্রাম চিয়া বীজে ৬৩১ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৪০৭ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ৩৩৫ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম, ৮৬০ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ৫৫.২ মাইক্রোগ্রাম সেলেনিয়াম, ৭.৭২ মাইক্রোগ্রাম আয়রন, ২.৭২ মাইক্রোগ্রাম ম্যাঙ্গানিজ ও ১৮ গ্রাম ওমেগা-৩-ফ্যাটি এসিড। এই এসিড শরীরের ট্রাইগ্লিসারিন বাড়ায় এবং কোলেস্টরল কমায়। চিয়া সীডের পুষ্টিগুণ তুলনা করলে জানা যায় এতে রয়েছে দুধের চেয়ে ৫ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম, কমলার চেয়ে ৭ গুণ বেশি ভিটামিন সি, পালং শাকের চেয়ে ৩ গুণ বেশি আয়রন (লোহা), কলার চেয়ে দ্বিগুণ পটাশিয়াম, স্যামন মাছের থেকে ৮ গুণ বেশি ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। বিভিন্ন ফল ও সবজির তুলনায় চিয়া বীজে বেশি ফাইবার থাকায় কোষ্ঠ্যকাঠিন্য নিরাময়ে খুবই উপযোগী। পেটের রোগ, হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোসহ ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এটি নিয়মিত সেবনে ওজন কমায়। প্রচুর এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে চিয়া বীজে। আর এর এন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি রেডিক্যালস বার্ধক্য আর ক্যান্সার এর বিরুদ্ধে অতি কার্যকর এক বস্তু। চিয়া বীজের পুষ্টিগুণ দানাদার শস্য বা তেলবীজ গুলোর মধ্যে সেরা। ডি এন এ সংশ্লেষণ এবং বিপাকের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি পূরণে এই চিয়া বীজ আমাদের ডায়েটে এক দারুন সংযোজন হতে পারে। ফাইবার আর জেলির মত উপাদানের কারণে তরলের সাথে মিশে চিয়া মানসিক পরিতৃপ্তির কারণ হয়; এটা শারীরিক পুষ্টি ও মানসিক প্রশান্তির জোগান দেয়। এ ছাড়া গ্লুটিন মুক্ত হওয়ায় যাদের শরীরে গ্লুটিন হজম হয় না, তাদের জন্য চিয়া বীজ এক আশীর্বাদ।
চিয়া পুডিং বেশ বাজার পেয়েছে। সিরিয়াল, সস, সব্জি, এমনকি ইউগার্ট এর উপরে ছিটিয়ে দিয়ে খাওয়া যায়। চিয়া সিড সরাসরি যে কোন ফলের জুসের সাথে পান করা যায়। খৈ এর মত ভেজেও খাওয়া যায়। চিয়া বীজের নিরপেক্ষ স্বাদের কারণে এটা সব ধরনের খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়ার উপযুক্ত। সবচেয়ে সহজ হল- ষ্টীম করে নিয়ে সালাদ এর সাথে যোগ করা। বেক করা খাবার (বিস্কুট, কেক ইত্যাদি), সুপ, সালাদ ইত্যাদির সাথে মিশিয়েও চিয়া সীড খাওয়া যায়। যেভাবে ইসপগুলের ভুসি পানিতে ভিজিয়ে খেতে হয়, সেইভাবে পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এক ধরনের জেলি বের হয়। এই জেলিই খেতে হয়। এ ছাড়া রুটি, পুডিং, কেক, পাউরুটির সঙ্গে মিক্সিং করে খাওয়া যায়। ফুটন্ত গরম পানিতে চিয়া পাতা ৩-৫ মিনিট রেখে দিলে হলুদ রংয়ের আকর্ষণীয় চা  তৈরি করে পান করা যায় । এ ছাড়াও পেট্রিডিশ বা প্লাস্টিক পটে চিয়া বীজ থেকে ১০-২১ দিন বয়সের মাইক্রোগ্রীন বা কচি চারা তৈরি করে সালাদ বানিয়ে পিজ্জা ও বার্গারের সাথে খাওয়া যায়।
চিয়ার  উদ্ভিদতাত্ত্বিক পরিচিতি ও চাষবাস  
চিয়া (ঝধষারধ যরংঢ়ধহরপধ), মিন্ট পরিবার বা খধসরধপবধব)’র সদস্য। চিয়া বর্ষজীবী, ওষধি তৈলবীজ- তিল বা তিষির মত। এক মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতা প্রতিপন্ন, দন্তর । ফুল স্পাইকে সজ্জিত, নীল, বেগুনী বা সাদা রং এর হতে পারে। দুটো বর্ধিত ঠোঁটের মত ফুল- যা মিন্ট পরিবারের বৈশিষ্ট, উচ্চ মাত্রায়              স্বপরাগী। গোল বা উপবৃত্তাকার বাদামি থেকে ধূসর  সাদা বা ধূসর-সাদা রঙের বীজ হয়। চিয়া, দানা শস্য ও হেলথ ফুড হিসেবে প্রথমে আমেরিকায় এবং সে সাথে সারা দুনিয়ায় ‘গ্রহণযোগ্যতা পায়।
পুষ্টিমানের দিক থেকে চিয়া বীজ হল- প্রকৃতিতে অধিক মাত্রার আলফা লিনোলিনিক এসিড বা ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিডের উদ্ভিজ্জ উৎস হিসেবে অন্যতম।
চিয়া বীজের প্রকারভেদ
প্রধানত দুটি ভিন্ন ধরনের চিয়া বীজ রয়েছে, একটি কালো চিয়া বীজ এবং অন্যটি সাদা রঙের বীজ। বেগুনি ফুল, উৎপাদনকারী চিয়া গাছগুলি বাদামি বীজ দেয়। এই বাদামি রঙের বীজগুলিকে কালো চিয়া” বলা হয়। সাদা ফুল উৎপন্নকারী চিয়া উদ্ভিদ কেবল সাদা বীজ উৎপন্ন করে। সাদা চিয়া বীজ হল সাদা, ধূসর এবং হলুদ মার্বেলযুক্ত রঙের বীজ ।
চিয়া বীজের বংশ বিস্তার
চিয়া মূলত বীজ এবং চারা উভয় থেকে বংশ বিস্তার করা হয়, বীজ থেকে চিয়া উদ্ভিদ বৃদ্ধি করা সবচেয়ে ভাল। চিয়া বীজ ৫-৭ দিনের মধ্যে অঙ্কুরিত হতে শুরু করে।
চিয়া বীজ চাষের জন্য তাপমাত্রা এবং জলবায়ু
চিয়া বীজ ফসলের বৃদ্ধির জন্য সর্বনিম্ন ১১ ডিগ্রি সে.  এবং সর্বাধিক ৩৬ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রা এবং অনুকূল তাপমাত্রা  ১৬-২৬ ডিগ্রি সে. প্রয়োজন। চিয়া বীজ ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উষ্ণ তাপমাত্রায় ভালো জন্মে। চিয়া বীজ ফসলের জীবন চক্রের সময়কাল অবস্থানের উপর নির্ভর করে এবং বৃদ্ধি  উচ্চতা/অক্ষাংশ দ্বারা প্রভাবিত হয়। অনেক সবজি বীজের মতো চিয়া উদ্ভিদ হল স্বল্প দিনের ফুল গাছ যা ১২-১৩ ঘন্টা ফোটোপেরিওডিক থ্রেশহোল্ডে তার বৃদ্ধি এবং ফলের সময়কাল অক্ষাংশ/উচ্চতার বৃদ্ধির উপর নির্ভর করে। উত্তর গোলার্ধে চিয়া অক্টোবরে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে এপ্রিল মাসে ফুল আসতে শুরু করে।  বিভিন্ন বাস্তুসংস্থানে চিয়া বীজের জীবন চক্রের সময়কাল ১০০-১৫০দিনের মধ্যে।
বাংলাদেশে চিয়া বীজ চাষের জন্য উপযুক্ত মৌসুম
দেশীয় আবহাওয়ায় চিয়া বীজ রবিশস্য হিসেবে চাষ করা যায়। শীত হল চিয়া বীজ রোপণ ও বৃদ্ধির আদর্শ সময়। কারণ এটি একটি স্বল্প দিনের ফুল গাছ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় দীর্ঘ দিনের ঋতুতে বৃদ্ধি পায় না। বেশি ফলনের জন্য ১৫ নভেম্বরের মধ্যে চাষ করতে হবে। তবে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ এবং জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেও বোনা যেতে পারে। ফসল ঘরে উঠাতে ৯০-১০০দিন সময় লাগে।
চিয়া বীজ চাষের জন্য মাটি
ফসলটি সব রকম মাটিতে চাষ করা যায়। হালকা থেকে মাঝারি কাদামাটি বা বেলে থেকে বেলে দোআঁশ মাটি প্রয়োজন। ভালোভাবে নিষ্কাশিত, মাঝারি উর্বর মাটিতে ভালো ফলন দিতে পারে। এটি অ্যাসিড মাটি এবং মাঝারি খরাও প্রতিরোধ করতে পারে। চিয়া বীজ বপন ও চারা স্থাপনের জন্য সম্পূর্ণ আর্দ্র মাটির প্রয়োজন কিন্তু পরিপক্ক চিয়া উদ্ভিদ বৃদ্ধির সময় ভেজা মাটি সহ্য করতে পারে না।
বীজহার, বীজ বপন ও চারা রোপন পদ্ধতি
সাধারণত বিঘা প্রতি  ১০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। ৩/৪টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুড়া করে জমি প্রস্তুত করে নিতে হবে। মাটি আগাছামুক্ত হওয়া উচিত। চিয়া বীজ খুবই ক্ষুদ্র বীজ। তাই সরাসরি বীজ ছিটিয়ে বপন করার আগে প্রায় পাঁচ কেজি শুকনো বালি বা ছাই বীজের সাথে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর সরিষা/তিল এবং ডাটা শাক বীজের মত ৪০-৫০ সেন্টিমিটার সারি থেকে সারিতে বালু বা ছাই মাখা বীজ ক্রমাগত ছিটাতে হবে। এ ছাড়া চারা করে ১৫-২৫ দিন বয়সের চারা ৪০-৫০ সেন্টিমিটার সারি থেকে সারিতে এবং গাছ থেকে গাছ ২০ সেন্টিমিটার দূরত্বে ভিজা মাটিতে লাগানো যায়।
আন্তঃপরিচর্যা
সার ও সেচ : চিয়া বীজ কম সার প্রয়োগের মাধ্যমে চাষ করা যেতে পারে।  সুপারিশকৃত সার বিঘা প্রতি ইউরিয়া ৩০ কেজি, টিএসপি ৪৫ কেজি, এমওপি ২০ কেজি এবং বোরিক এসিড ৩০০ গ্রাম। চূড়ান্ত জমি প্রস্তুতির সময় শেষ চাষে আনুমানিক এক -তৃতীয়াংশ ইউরিয়া এবং সম্পূর্ণ পরিমাণ অন্যান্য সার প্রয়োগ করতে হবে। পরবর্তীতে দুই-তৃতীয়াংশ ইউরিয়া দুটি কিস্তিতে রোপণের ২০ দিন এবং ৪০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে। চিয়া গাছ রোদ, ভেজা-নিষ্কাশন এবং খরা পছন্দ করে কিন্তু নিয়মিতভাবে পানি দিলে এর বাড়বাড়ন্ত বৃদ্ধি পায়। তাই ভাল ফলনের জন্য আবহাওয়া এবং বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভর করে দুই-তিনটি সেচের প্রয়োজন হতে পারে।
রোগ ও কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনা : চিয়া ফসলে তেমন কোন কীটপতঙ্গ বা রোগবালাই এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। চিয়া পাতায় অপরিহার্য এমন কিছু তৈলাক্ত পদার্থ ও গন্ধ রয়েছে যা পোকামাকড়ের প্রতি আরও প্রতিরোধী করে তোলে, ফলে কীটনাশক ছাড়াই  নিরাপদ/জৈব চাষের জন্য উপযুক্ত। কখনও কখনও সাদা মাছি দ্বারা সালভিয়া বংশকে সংক্রমনকারী ভাইরাস যেমন শসার মোজাইক ভাইরাস, ব্রড বিন উইল্ট ভাইরাস, মুগ ডাল হলুদ মোজাইক ভাইরাস, টমেটো হলুদ পাতা কার্ল ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যায় । ফসলে এই ভাইরাসে সংক্রমণ দেখার সাথে সাথে আক্রান্ত গাছ উঠিয়ে মাটিতে পুতে ফেলতে হবে এবং সাদা মাছি নিয়ন্ত্রনের জন্য এডমায়ার ২মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১-২ বার স্প্রে করতে হবে।
ফসল সংগ্রহ
যখন ৬০-৮০ % ফুলের মাথা বাদামি এবং হলুদ-ব্রাউন রঙে পরিণত হয়, তখন চিয়া ফসল কাটার জন্য প্রস্তুত হয়। মাটির উপরে থাকা পুরো চিয়া গাছগুলি কেটে নিয়ে ত্রিপল বা পরিষ্কার মেঝেতে রেখে রোদে শুকাতে হবে । এক-দুই দিনের রোদ শুকানোর পরে, বাঁশ বা কাঠের লাঠি দিয়ে আলতো ভাবে আঘাত করলে গাছ থেকে বীজ আলাদা হয়ে যাবে।  তারপর বীজ ঝেড়ে পরিষ্কার করে সংরক্ষণ করতে হবে। চাষের পদ্ধতি ও ভৌগোলিক অঞ্চল ভেদে ফলন বিঘা প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে।

লেখক : বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, যশোর। মোবাইল-০১৭৫৭-৮০২১৮৯, ই-মেইল : যধভরলৎধযসধহ০৫@মসধরষ.পড়স

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন