কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১ এ ০৫:৫১ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: পৌষ সাল: ১৪২৮ প্রকাশের তারিখ: ২২-১২-২০২১
প্রশ্নোত্তর
কৃষিবিদ ড. মো. তৌফিক আরেফীন
কৃষি বিষয়ক
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
মো. করিম মিয়া, গ্রাম: বাকতা, উপজেলা: ফুলবাড়িয়া, জেলা: ময়মনসিংহ।
প্রশ্ন : এক ধরনের পোকার আক্রমণে নারকেলের খোসাতে বেশ শক্ত দাগ এবং ফাটাফাটা দাগ দেখা যায়। কী করণীয়?
উত্তর : এ সমস্যাটি মাকড়ের আক্রমণে হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে নারকেল বাগান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি গাছে সুষম সার প্রয়োগ করা দরকার। এসবের পাশাপাশি এবামেকটিন গ্রুপের ১.২৫ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করলে এ ধরনের মাকড়ের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।
মোঃ মতিন তালুকদার, গ্রাম: যাদবপুর, উপজেলা: আলমডাঙ্গা, জেলা: চুয়াডাঙ্গা।
প্রশ্ন: বাড়িতে একটা কাঁঠালগাছ আছে। কিন্তু কাঁঠাল পাকার আগে ফেটে যায়, কোষগুলোর গোড়ার দিকে শলার মতো হয় এবং রস কম হয়। এ অবস্থায় করণীয় কী ?
উত্তর: কাঁঠাল পাকার আগে ফেটে যায় শরীরবৃত্তীয় কারণে। আর বেশির ভাগ সময়েই এটি ঘটে থাকে সেচের অভাবে। সেজন্য ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত শুকনো মৌসুমে ১৫ দিন অন্তর পানি সেচ দিলে কচি ফল ঝরা, ফলন ও ফলের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া ফল ফেটে যাওয়াও রোধ হয়। তবে আরেকটি কথা মনে রাখা দরকার, কাঁঠাল গাছের জাতভেদে ফল অনেক সময়ই ফেটে যায়। সেজন্য গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও বর্ষার আগে ও পরে সুষম সার প্রয়োগ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
মো. মতিউর রহমান, গ্রাম: লাউযুতি, উপজেলা: ঠাকুরগাঁও সদর, জেলা: ঠাকুরগাঁও।
প্রশ্ন: মিষ্টি আলুর পাতায় এক ধরনের দাগ পড়ে গাছের আকার ছোট হয়ে যাচ্ছে। কী করবো?
উত্তর: মিষ্টি আলুর পাতার এ রোগকে ফিদারি মোটল রোগ বলে। এ রোগটি ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে। জাবপোকার মাধ্যমে এ ভাইরাসটি ছড়ায়। সে কারণে বাহক পোকা অর্থাৎ জাবপোকা দমন করতে ইমিডাক্লোরপ্রিড গ্রুপের, যেমন এডমায়ার প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি মিশিয়ে সঠিক নিয়মে বিকেলের দিকে প্রতি ১৫ দিন পর পর ৩ বার স্প্রে করতে হবে। তাহলে এ রোগ দমন করা সম্ভব হবে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে এ রোগ হলে মিষ্টি আলুর ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়।
মোঃ রহমত আলী, গ্রাম: সাকোয়া উপজেলা: বোদা, জেলা: পঞ্চগড়।
প্রশ্ন: পটোল গাছ থেকে কিভাবে শাখা কলম তৈরি করা যায়? জানাবেন।
উত্তর: এক বছর বয়সী ভালো পটোল গাছের যে কোন শাখার মাঝামাঝি অংশ থেকে শাখা কলম তৈরি করা যায়। সেক্ষেত্রে এক মিটার বা দু’হাত লম্বা পরিমাণ শাখা পটোল গাছ থেকে সংগ্রহ করে রিং বা চুড়ি আকার তৈরি করে পিট বা মাদায় লাগানো হয়। পটোলের শাখা কলম ৫০ পিপিএম ইনডোল বিউটারিক এসিড বা আইবিএ দ্রবণে ৫ মিনিট ডুবিয়ে রেখে মাদায় বা পিটে লাগালে তাড়াতাড়ি বা বেশি সংখ্যক মূল গজায়। আর এভাবে পটোলের উন্নতমানের শাখা কলম তৈরি করে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
প্রশ্ন: গাজরের পাতায় দাগ রোগ দমনে করণীয় কী ?
উত্তর: গাজরের পাতায় দাগ রোগ দমনে সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। সেজন্য গাজরের বীজ শোধন করা দরকার। আর বীজ শোধনের জন্য কার্বেনডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন অটোস্টিন ৫০ ডব্লিউজি অথবা কার্বোক্সিন ও থিরাম গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে। শস্যপর্যায় অবলম্বনের পাশাপাশি সুষম সার প্রয়োগ করা দরকার। এছাড়া পাতায় দাগ দেখার সাথে সাথে ইপ্রোডিয়ন গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন রোভরাল ২ গ্রাম অথবা ডাইফেনোকোনাজল ও এ্যাজোক্সিস্ট্রবিন গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন এমিস্টার টপ ৩২৫ এসসি ১ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর পর ২ থেকে ৩ বার সঠিক নিয়মে স্প্রে করতে হবে। আশাকরি আপনি উপকার পাবেন।
প্রশ্ন: মুলা গাছের পাতায় সাদা মরিচার মতো দাগ পড়ে কি করবো? জানাবেন।
উত্তর : এ ধরনের রোগের ক্ষেত্রে সাধারণত পাতার নিচের দিকে সাদা ছত্রাকের দানা দেখা যায়। রোগের মাত্রা বেশি হলে পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে। এ সমস্যারোধে আক্রান্ত পাতা ও গাছ সংগ্রহ করে পুড়ে ফেলতে হবে। পানি নিকাশের ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি সুষম সার ও সময়মতো সেচ সুবিধা রাখা দরকার। জমিতে রোগ দেখা দিলে মেটালেক্সিল ও মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন রিডোমিল গোল্ড ২ গ্রাম অথবা প্রোপিকোনাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন টিল্ট ২৫০ ইসি ০.৫ মিলিলিটার ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর পর মুলা গাছে ২ থেকে ৩ বার স্প্রে করতে হবে। তাহলেই আপনি সুফল পাবেন।
মৎস্য বিষয়ক
মো: খয়বর আলী, গ্রাম: মাছহাড়ি, উপজেলা: কাউনিয়া, জেলা: রংপুর।
প্রশ্ন: মাছের সেপরোলে গনিয়াসিস রোগ দেখা যাচ্ছে। এর প্রতিকার কি?
উত্তর: এটি ছত্রাকজনিত রোগ। সেপরোলেগনিয়া প্রজাতি এ রোগের কারণ। কার্পজাতীয় মাছে এ রোগটি বেশি হয়ে থাকে। আক্রান্ত মাছের ক্ষতস্থানে তুলার ন্যায় ছত্রাক দেখা দেয় এবং পানির স্রোত যখন স্থির হয়ে যায় কিংবা বদ্ধ জলায় অথবা হ্যাচারি ট্যাংকে যেখানে অনিষিক্ত ডিমের ব্যাপক সমাগম ঘটে তাতে ছত্রাক রোগ দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করে। হ্যাচারিতে লালনকৃত ডিমগুলোকে ২৫০ পিপিএম ফরমালিন দিয়ে ধৌত করতে হবে। খাঁচা ও আক্রান্ত মাছগুলোকে শতকরা ৫ ভাগ লবণ পানিতে ১ মিনিট গোসল করাতে হবে।
শেফালী খাতুন, গ্রাম: সারানপুর, উপজেলা: গোদাগাড়ী, জেলা: রাজশাহী।
প্রশ্ন: রুই মাছে সাদা দাগ রোগ হয়েছে। কী করলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবো?
উত্তর : এ রোগে মাছের পাখনা, কানকো ও দেহের উপর সাদা দাগ দেখা যায়। মাছের ক্ষুধামন্দা এবং দেহের স্বাভাবিক পিচ্ছিলতা লোপ পেয়ে খসখসে হয়ে যায়। ইকথায়োপথেরিয়াস প্রজাতি এ রোগের কারণ। এ রোগ প্রতিকারে ১ পিপিএম তুঁতে পানিতে গোসল দেয়া কিংবা শতকরা ২.৫ ভাগ লবণ পানিতে কয়েক মিনিটের জন্য রাখা যতক্ষণ পর্যন্ত মাছ লাফিয়ে না পড়ে। এছাড়া এ ধরনের রোগ যাতে না হয় সেজন্য শামুকজাতীয় প্রাণী পুকুর থেকে সরিয়ে ফেলা। শতকরা ২.৫ ভাগ লবণ পানিতে ৫-৭ মিনিট গোসল দিয়ে জীবাণুমুক্ত করে পোনা মজুদ করতে হয়। তাছাড়া রোদে শুকনা জাল পুকুরে ব্যবহার করাও দরকার। আরেকটি বিষয় অনুসরণীয় সেটি হলো মাছের স্বাভাবিক সংখ্যা বজায় রেখে অতিরিক্ত মাছ সরিয়ে নেয়া।
প্রাণিসম্পদ বিষয়ক
মো. কালাম, গ্রাম: কালের কাঠি, উপজেলা: বাকেরগঞ্জ, জেলা: বরিশাল।
প্রশ্ন: আমার কোয়েল পাখি আছে। পাখি খুঁড়িয়ে হাঁটছে এবং এ সময় নখ বাঁকা দেখা যাচ্ছে। কী করবো ?
উত্তর: ভিটামিন বি-২ যুক্ত প্রাকৃতিক খাদ্য যেমন- প্রাণীর যকৃত, সবুজ কচিঘাস, প্রাণীর কিডনি বা মাছের গুঁড়া ইত্যাদি অথবা ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স খাওয়াতে হবে। তাহলে আপনার কোয়েল পাখির উল্লিখিত সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
মো: ফারুক হোসেন, গ্রাম: রনসিয়া, উপজেলা: পীরগঞ্জ, জেলা: ঠাকুরগাঁও।
প্রশ্ন: গরুর গা খসখসে এবং ঘা হচ্ছে। এ অবস্থায় কি করণীয়?
উত্তর: ইনজেকশন ভারমিক প্রতি ২৫ কেজি গরুর দেহের ওজনের জন্য ১সিসি ১বার চামড়ার নিচে পুশ করতে হবে। যদি সমস্যাটি বেশি হয় তবে ৭ দিন পর বুস্টার ডোজ আবারও ১ বার দিতে হবে। এ ছাড়া ইনজেকশন অ্যাসটাভেট ১০০ কেজি গরুর দেহের ওজনের জন্য ৫সিসি. করে দৈনিক ১ বার ৩ থেকে ৫ দিন মাংসে পুশ করতে হবে এবং ইনজেকশন অ্যামক্সিভেট ১ ভায়েল করে রোজ ১বার ৩দিন মাংসে পুশ করতে হবে। এসব ব্যবস্থা নিলে আপনার গরুর সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
(মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক প্রশ্ন কৃষি কল সেন্টার হতে প্রাপ্ত)
কৃষির যে কোনো প্রশ্নের উত্তর বা সমাধান পেতে বাংলাদেশের যে কোনো জায়গা থেকে যে কোনো মোবাইল থেকে কল করতে পারেন আমাদের কৃষি কল সেন্টারের ১৬১২৩ এ নাম্বারে।
লেখক : উপপরিচালক (হর্টিকালচার), জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (নাটা), কৃষি মন্ত্রণালয়। মোবাইল : ০১৭১১১১৬০৩২, মেইল: taufiquedae25@gmail.com