কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ০২:০৪ PM

প্রশ্নোত্তর

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: মাঘ সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ২০-০১-২০২৬

প্রশ্নোত্তর

শাহানাজ সুলতানা

নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
মো: এনামুল হক, উপজেলা : চৌগাছা, জেলা : যশোর
প্রশ্ন : আমার আম গাছের মুকুলের ফুল শুকিয়ে যাচ্ছে এবং পাতা কালো বর্ণের দাগ পড়ছে। এর প্রতিকার কী?
উত্তর : এটি আমের হপার পোকার কারণে হয়। পূর্ণ বয়স্ক পোকা ও নিম্ফ (বাচ্চা) উভয়েই আমের কচি অংশ, মুকুল হতে রস চুষে খায়। পোকার আক্রমণে মুকুলের ফুল শুকিয়ে যায়। মুকুলের রস চোষার সময় পোকা প্রচুর পরিমাণ মধুরস ছেড়ে দেয় এর ফলে পাতায় শুটি মোল্ড ছত্রাক আক্রমণ করে পাতা কালো বর্ণ করে ফেলে। এতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যহত হয়। এর ফলে বাগান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে হবে। ছায়াযুক্ত ও ঘন গাছগুলো ছাঁটাই করে রৌদ্র ঢুকানোর ব্যবস্থা করতে হবে। আমের মুকুল এসেছে কিন্তু ফুল ফোটার পূর্বেই (৫-১০ সেমি.) এবং মটরদানা হলে প্রতি লিটার পানিতে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের রিপকর্ড ১০ ইসি ১ মিলি ১ লিটারে অথবা ল্যামডা সাইহেলোথ্রিন গ্রুপের ক্যারাটে ২.৫ ইসি ১ মিলি ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। সূত্র : ফসলের বালাইব্যবস্থাপনা।
ফেরদৌস রহমান, উপজেলা : দিনাজপুর সদর, জেলা : দিনাজপুর
প্রশ্ন : গমের সেচ সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : মাটির প্রকারভেদে গম আবাদে ২-৩টি সেচের প্রয়োজন হয়। প্রথম সেচ চারার তিন পাতার সময় (বপনের ১৭-২১ দিন পর), দ্বিতীয় সেচ শীষ বের হওয়ার সময় (বপনের ৫০-৫৫ দিন পর) এবং তৃতীয় সেচ দানা গঠনের (বপনের ৭৫-৮০ দিন) তবে মাটির প্রকারভেদ ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ভালো ফলের জন্য অতিরিক্ত এক বা একাধিক সেচ দেয়া ভালো। প্রথম সেচটি খুবই হালকাভাবে দিতে হবে। তা না হলে অতিরিক্ত পানিতে চারার পাতা হলুদ এবং চারা সম্পূর্ণ বা আংশিক নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সেচের পর পরই জমি থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে হবে। তাই বপনের পর জমি ঢাল বুঝে ২০-২৫ ফুট অন্তর নালা কেটে রাখতে হবে। সূত্র : কৃষি প্রযুক্তির হাতকই।
বিজুল, উপজেলা : বটিয়াঘাটা, জেলা : খুলনা
প্রশ্ন : মসুর ঢলে পড়া রোগের সমাধান চাই।
উত্তর : প্রতিরোধী জাত হিসাবে ঢ়ধহঃ খ-৬৩৯ বা ঢ়ষধহঃ খ-৪০৬ ব্যবহার করতে পারি। একই জমিতে বারবার মসুরডাল চাষ না করে (২-৩) বছরের শস্য আবর্তন করতে হবে। আগের ফসলের অবশিষ্টাংশ সরিয়ে ফেলতে হবে এবং আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। বীজ বপনের আগে (কার্বেন্ডাজিম এবং থিরাম) গ্রুপের ৩০৮ একত্রে (১:১) অনুপাতে শুকনা বীজের সাথে ২৫% হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করলে এ রোগের আক্রমণ কম হয়। উপযুক্ত সময়ে বপন করে যেমন দেশের মধ্য দক্ষিণাঞ্চলে অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে এবং উত্তরাঞ্চলে নভেম্বর মাসের সপ্তাহে বহন করলে এ রোগের আক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে কম হতে দেখা যায়। এ ছাড়া বপনের সময় জমিতে মাটিতে যাতে ‘জো’ অবস্থার চেয়ে বেশি রস না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ মাটিতে অতিরিক্ত রস থাকা অবস্থায় বপন করলে এ রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া রোগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে কার্বোন্ডাজিম গ্রুপের যেমন নোইন প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২ গ্রাম মিশিয়ে (৭-১০) দিন পর পর (২-৩) বার স্প্রে করলে এ রোগ দমন করা যায়।
আইনুল ইসলাম, উপজেলা : ডিমলা, জেলা : নীলফামারী
প্রশ্ন : বেগুন গাছের কা- ও ফল পচে যাচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান কী?
উত্তর : এটি বেগুন গাছের ফল ও কা- পচা রোগ। চযড়সড়ঢ়ংরং াবীধহং নামক ছত্রাক দ্বারা এ রোগের বিস্তার ঘটে। এ রোগের আক্রমণ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে কার্বোনডাজিম ২ গ্রাম, প্রোপিকোনাজল ০.৫ গ্রাম দিয়ে ৭-১০ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধ জাত ব্যবহার করা যেতে পারে, যেমন- যশোহর লোকাল, কাঁটা বেগুন, ঈশ্বরদী-১ ইত্যাদি ক্ষেত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। রোগমুক্ত ক্ষেত থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। একই জমিতে প্রতি বছর বেগুন চাষ না করা। বপনের আগে বীজ শোধন করে নিতে হবে (গরম পানি ৫১০ সে:-১৫ মিনিট বা কার্বেন্ডাজিম ও প্রোভেক্স-২ গ্রাম/প্রতি কেজি বীজ)।

লেখক : তথ্য অফিসার (উদ্ভিদ সংরক্ষণ), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৫৫৪৯২৫২৫২; ই-মেইল : রড়ঢ়ঢ়@ধরং.মড়া.নফ

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন