কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২০ এ ০৩:০৮ PM

প্রশ্নোত্তর

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: পৌষ সাল: ১৪২৭ প্রকাশের তারিখ: ২৮-১২-২০২০

কৃষিবিদ মো. তৌফিক আরেফীন

কৃষি বিষয়ক
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
মো. মাইদুল ইসলাম, গ্রাম: তাম্বুলখানা, উপজেলা: ফরিদপুর সদর, জেলা: ফরিদপুর
প্রশ্ন: ভুট্টা পাতায় ছোট ছোট দাগ পড়ে। পরে বাদামি হয়। এ সমস্যা দূরীকরণে কী করব ?
উত্তর : এ ধরনের সমস্যাকে ভুট্টা পাতায় দাগ বা কারভুলারিয়া লিফ স্পট বলা হয়। বেশি আর্দ্রতা ও তাপমাত্রায় আক্রমণ বাড়ে। আর এ রোগের জীবাণু মাটিতে এবং আক্রান্ত গাছে  থাকে। পরে বাতাস ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। প্রথমে ভুট্টার পাতায় ছোট ছোট গোল অথবা ডি¤¦াকৃতির হলুদাভ দাগ পড়ে। পরবর্তীতে এ দাগগুলো বাদামি রঙ ধারণ করে এবং আকারে বড়  হয়ে কখনো কখনো প্রায় ১ সেমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ সমস্যা রোধে রোগমুক্ত বীজ সংগ্রহ করার সাথে সাথে ফসলের পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হবে। আগাম বীজ বপনও রোগের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে। রোগ দেখা দিলে আক্রান্ত ফসলে কার্বেন্ডাজিম+ম্যানকোজেব গ্রæপের ছত্রাকনাশক যেমন কমপ্যানিয়ন প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ৩ বার ¯েপ্র করতে হবে। আশা করি উপকার পাবেন।
মো: ইমতিয়াজ আহমেদ, গ্রাম: ধল্লাপারা, উপজেলা: ঘাটাইল, জেলা: টাঙ্গাইল
প্রশ্ন: আমন ফসলে বøাস্ট রোগের দমনে কী করণীয় ?
উত্তর :  আমন মওসুমে সুগন্ধি জাতে এ রোগটি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বেশি বৃষ্টি হলে এবং তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকলে প্রথমে পাতায় পাতাবøাস্ট দেখা যায়। পরবর্তীতে শীষ বের হলে শীষ বøাস্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যে সব জমিতে পাতাবøাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে সে সব জমিতে ছত্রাকনাশক যেমন ট্রুপার ৫৪ গ্রাম প্রতি বিঘাতে অথবা নেটিভো ৩৩ গ্রাম প্রতি বিঘাতে অথবা ট্রাইসাইক্লাজোল গ্রæপের অনুমোদিত  ছত্রাকনাশক পরিমাণ মতো ৫ থেকে ৭ দিন পরপর দু’বার স্প্রে করতে হবে। রোগটি পাতা থেকে শীষেও যেতে পারে তাই শীষ বের হওয়ার সাথে সাথেই শেষ বিকেলে এসব ছত্রাকনাশক একই নিয়মে আগেভাগেই স্প্রে করতে হবে। আশা করি ভালো ফলাফল পাবেন।
মো. খাদেমুল ইসলাম, গ্রাম: খাটুরিয়া, উপজেলা: ডোমার, জেলা: নীলফামারী
প্রশ্ন: আলু গাছের গোড়ার দিকে কালো দাগ পড়ে। আলু গাছ শক্ত ও মট করে ভেঙে যায়। এমনকি আলু গাছের কাÐের সাথে ছোট সবুজ আলু দেখা যায়। এ অবস্থায় কী করণীয়। জানাবেন।
উত্তর : আক্রান্ত গাছগুলোকে তুলে পুড়ে ফেলতে হবে। সুস্থ বীজআলু বপন করতে হবে পাশাপশি সুষম সার প্রয়োগ করাও প্রয়োজন। কার্বেন্ডাজিম গ্রæপের অটোস্টিন অথবা কার্বোক্সিন ও থিরাম  সমৃদ্ধ গ্রæপ প্রোভ্যাক্স ২০০ ডবিøউপি প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করতে হবে।  মেনকোজেব গ্রæপের ডাইথেন এম ৪৫ প্রতি ১ লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর ২ থেকে ৩ বার স্প্রে করতে হবে। তাহলে আপনার উল্লিখিত এ সমস্যার সমাধান পাবেন।
মো: রঞ্জু মিয়া, গ্রাম: সাকোয়া  উপজেলা: বোদা, জেলা: পঞ্চগড়
প্রশ্ন :  শুদ্ধ/বিশুদ্ধ/ভেজালমুক্ত বোরন সার চিনব কিভাবে ?
উত্তর : বোরন সার চেনার উপায় ১ গøাস পানিতে ১ চা চামচ বোরন সার বা বোরিক এসিড বা সলুবর মিশাতে হবে। যদি স্বচ্ছ দ্রবণ তৈরি হয় এবং কোনো তলানি না পড়ে তাহলে বুঝা যাবে বোরন সারটি ভালো। তবে নিশ্চিত হবার জন্য ১ চিমটি বেরিয়াম ক্লোরাইড বোরন সারের দ্রবণে মিশালে যদি পরিষ্কার দ্রবণ তৈরি হয়। তবে সারটিতে ভেজাল নেই। আর যদি সারটি সোডিয়াম সালফেট দিয়ে তৈরি হয় সেক্ষেত্রে দ্রবণটি দুধের মতো সাদা হয়ে যাবে। তার মানে বোরন সারটি ভেজাল। আশা করি বোরন সার ভেজাল কি না সে পরীক্ষাটি এখন করতে পারবেন।
মো. জহুরুল ইসলাম গ্রাম:  তৈলটুপি, উপজেলা: হরিণাকুÐু, জেলা: ঝিনাইদহ
প্রশ্ন : সজিনা গাছের সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : সজিনা গাছ লাগানোর পরের বছরে প্রতি গাছের জন্য ৪০ থেকে ৫০ কেজি পচা গোবর, ৫০০ গ্রাম করে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি এবং জিপসাম, বোরাক্স ও জিঙ্ক সালফেট ৫০ গ্রাম করে সার প্রয়োগ করতে হয়। সেক্ষেত্রে দুপুর বেলায় সূর্যের আলো গাছের উপর পড়লে, গাছ যে পরিমাণ জায়গায় ছায়া প্রদান করে, সেই পরিমাণ জায়গা নির্বাচন করতে হয়। পরবর্তীতে গাছের চতুর্দিকে সে পরিমাণ জায়গায় মাটি কোদাল দিয়ে ভালোভাবে কুপিয়ে সার মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। এরপর প্রতি বছরে প্রতি গাছের জন্য ৪০-৫০ কেজি পচা গোবর ঠিক রেখে ৫০০ গ্রাম করে ইউরিয়া, টিএসপি. ও এমওপি সার এবং জিপসাম, বোরাক্স ও জিঙ্ক সালফেট সার ২০ গ্রাম করে বর্ধিত হারে প্রয়োগ করতে হবে। মনে রাখতে হবে সজনে গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। সে কারণে উঁচু জায়গাতে সজনে গাছ লাগানো দরকার। বর্ষাকালে পানি নিকাশ ও খরা মৌসুমে সেচ প্রদান করাও প্রয়োজন।
মো.  মিজানুর রহমান, গ্রাম: ফুলগাছ, উপজেলা: লালমনিরহাট সদর, জেলা: লালমনিরহাট
প্রশ্ন :  মুগডালের পাতা কেমন জানি ছোট ছোট দাগ পড়েছে এবং পাতাগুলোতে ছিদ্র দেখা যাচ্ছে। এ সমস্যার সমাধান জানাবেন।  
উত্তর :  সারকোস্পোরা ক্রয়েন্টা নামক ছত্রাক দ্বারা এ রোগ হয়। পাতায় ছোট ছোট লালচে বাদামি বর্ণের গোলাকৃতি হতে   ডিম্বাকৃতির দাগ পড়ে। এমনকি আক্রান্ত পাতা ছিদ্র হয়ে যায়। আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে সম্পূর্ণ পাতা ঝলসে যায়। পরিত্যক্ত ফসলের অংশ, বায়ু ও বৃষ্টির মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে। বেশি আর্দ্রতা (৮০%) এবং উচ্চ তাপে (২৮ ডিগ্রি সে.) এ রোগ দ্রæত বিস্তার লাভ করে। সে  কারণে এ রোগ প্রতিকারে অটোস্টিন প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম মিশিয়ে ১২ থেকে ১৫ দিন অন্তর ২ থেকে ৩ বার স্প্রে করতে হবে। এছাড়া রোগ প্রতিরোধী জাত বারি মুগ-২, ৩, ৪ এবং ৫ ব্যবহার করতে হবে। আশা করি উপকার পাবেন।
মৎস্য বিষয়
শেফালী বেগম, গ্রাম: আগমাড়াই, উপজেলা: রাজবাড়ী সদর, জেলা: রাজবাড়ী
প্রশ্ন : চিংড়ি মাছের খোলস কালো হয়ে গেছে কী করব ?
উত্তর : আক্রান্ত চিংড়ির খোলসে কালো দাগ পড়লে চিংড়ির খোলস ভেঙে যায়। আক্রান্ত চিংড়ি ধীর গতিতে চলাফেরা করে এবং আহার বন্ধ করে দেয়। এ রোগ প্রতিরোধে ০.৫ থেকে ১০০ পিপিএম ম্যালাকাইট গ্রীন এবং ২০ থেকে ৭৫ পিপিএম ফরমালিন মিশ্রিত করে ব্যবহার করলে এ রোগ সেরে যাবে। এছাড়া খাবারের সাথে ০.৫ থেকে ১০০ পিপিএম অক্সিটেট্রাসাইক্লিন বা ডক্সাসিলিন ব্যবহার করা হলে এ রোগ সেরে যাবে।
মোঃ হাফিজুর রহমান, গ্রাম: নলুয়া, উপজেলা: কচুয়া, জেলা: চাঁদপুর
প্রশ্ন : মাছের  পেট ফোলা বা শোথ রোগ হয়েছে কী করব ?
উত্তর : এ্যারোমোনাস ব্যাকটেরিযা নামক জীবাণুর সংক্রমণের দ্বারা কার্প ও শিং জাতীয় মাছে এর রোগ হয়। এ রোগ সাধারণত বড় মাছে হয়। মাছের দেহ অভ্যন্তরে এক বা একাধিক অঙ্গে তরল পদার্থ জমে যায়। দেহের ভেতরে সবুজ বা হলুদ তরল পদার্থ দেখা যায়। পেট ফুলে উঠে। চোখ  বের হয়ে আসে। আইশ ঢিলা হয়ে যায় ও ফুলে ওঠে। পেটে চাপ দিলে মলদ্বার দিয়ে পানি বের হয়ে আসে দেহের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। মাছ উল্টো হয়ে ভেসে ওঠে। অল্প খাবার খায়। তরল পিচ্ছিল পদার্থ বের হয়। দেহের পিচ্ছিলতা কমে যায়। এ রোগে আক্রান্ত মাছ সাধারণত ভালো হয় না। প্রাথমিক অবস্থায় পুকুরে প্রতি ঘনমিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। মাছের দেহের জমাকৃত তরল সিরিঞ্জের সাহায্যে বের করে প্রতি ৪ কেজি ওজনের জন্য ১০ মিলিগ্রাম হারে অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ইনজেকশন সপ্তাহে দু’বার দিতে হবে বা প্রতি কেজি খাবারের সাথে ১০০ মিলিগ্রাম রেনামাইসিন  পাউডার মিশিয়ে ৭ দিন খাওয়াতে হবে। আর এ রোগ যাতে করে না হয় সেজন্য পুকুর প্রস্ততির সময় শতাংশ প্রতি ১ কেজি চুন প্রয়োগ করতে হবে।   
প্রাণিসম্পদ বিষয়ক
মোঃ রহমত আলী,  গ্রাম: দূর্গাপুর, উপজেলা: সাভার, জেলা: ঢাকা
প্রশ্ন : কবুতরের মুখে ঘা, গায়ে বসন্তের মতো গুটি উঠেছে। কী করব ?
উত্তর :  কবুতরের বসন্ত রোগের জন্য টিকা দিতে হয়। তাহলে এ রোগ হওয়ার আশক্সক্ষা থাকে না। পরবর্তীকালে কবুতরের বাচ্চাকে বসন্তের টিকা দিবেন। আর বর্তমানে আপনি ফ্রা সি ১২ পাউডার ২ গ্রাম ১ লিটার পানিতে, রেনামাইসিন ট্যাবলেট ১ টা ৩ লিটার পানিতে এবং রেনা সি পাউডার ১ গ্রাম ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৩ থেকে ৫ দিন খাওয়াবেন। আশা করি উপকার পাবেন।
মোঃ আশরাফুল ইসলাম, গ্রাম: ভরতের কান্দি, উপজেলা:   শিবপুর, জেলা: নরসিংদীী
প্রশ্ন : মুরগির সর্দি লেগেছে। নাক দিয়ে পানি পড়ে। ঘড় ঘড় শব্দ করে। কখনো ব্যঙের মতো করে ডাকে। কী করব ?
উত্তর : মুরগির মাইকো প্লাজমোলাইসিস  রোগ এর লক্ষণ। এ রোগ হলে মুরগির ভেতরে কফ জমে গিয়ে নিঃশ^াস নিতে পারে না। তাই ঘড় ঘড় শব্দ করে বা কখনো ব্যাঙের মতো ডাকে। এ রোগের প্রতিকার হিসেবে ১ লিটার পানিতে ২.৫ গ্রাম টাইলোসেফ পাউডার, ১ গ্রাম ডক্সিভেট পাউডার ও ১ গ্রাম নিউএক্সেল পাউডার মিশিয়ে ২ বেলা করে খাওয়াতে হবে।
(মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক প্রশ্ন কৃষি কল সেন্টার হতে প্রাপ্ত)

উপপ্রধান তথ্য অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫, ফোন নং: ০২-৫৫০২৮৪০০, ই-মেইল:taufiquedae25@gmail.com

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন