কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৯ এ ১০:১১ AM

প্রশ্নোত্তর

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: ফাল্গুন সাল: ১৪২৫ প্রকাশের তারিখ: ২৫-০৩-২০১৯

কৃষি বিষয়ক
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।

 

শেফালি বেগম, গ্রাম: কেরাদারি, উপজেলা: রাজারহাট, জেলা: কুড়িগ্রাম
প্রশ্ন: মসুরের গাছের পাতা, শাখা-প্রশাখা ও ফলে হলুদ বা মরিচা রঙের ফোসকা পড়ে এবং পরবর্তীতে গাছগুলো শুকিয়ে যায়। এ সমস্যার সমাধানে কী করণীয়?
উত্তর: মসুরের এ রোগটি মসুরের মরিচা রোগ নামে পরিচিত। এ রোগ প্রতিকারে বারি মসুর-৪ ও বারি মসুর-৮ মরিচা রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করলে সুফল পাওয়া যায়। এছাড়া রোগ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে প্রপিকোনাজল গ্রুপের যেমন- টিল্ট/রেমিডি/প্রাউড প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে ভালোভাবে মিশিয়ে ৭ থেকে ১০ দিন পর পর ২ থেকে ৩ বার স্প্রে করলে এ রোগ দমন করা যায়।

 

সাইমন, গ্রাম: পিরোজপুর, উপজেলা: মেহেরপুর সদর, জেলা: মেহেরপুর
প্রশ্ন: ছোলার ফল আসা শুরু হলে ছোলা গাছের ভেতরের পাতাগুলো হলুদ হয়ে যায় এবং আক্রান্ত পাতাগুলো শুকিয়ে ঝরে পড়ে। এ সমস্যায় এখন আমি কী করব জানাবেন?  
উত্তর:  ছোলা গাছের এ সমস্যাটিকে ছোলার বট্রাইটিস গ্রে মোল্ড রোগ বলে। এ রোগের আক্রমণ রোধে যেসব কর্মকা- করতে হয় তাহলো-গাছ ঘন হয়ে থাকলে পাতলা করে দিতে হয়; ফসলের পরিত্যক্ত অংশ পুড়িয়ে ফেলতে হয়; কার্বেনডাজিম গ্রুপের যেমন অটোস্টিন ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ভালোভাবে স্প্রে করতে হয়। এছাড়া রোগ প্রতিরোধী জাত বারি ছোলা-১০ এর চাষ করলে এ ধরনের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

 

সাইফুল, গ্রাম: মৌতলা, উপজেলা: কালিগঞ্জ, জেলা: সাতক্ষীরা
প্রশ্ন:  সরিষা ক্ষেতে এক ধরনের আগাছার আক্রমণ যা সরিষার গাছের শিকড়ের সাথে যুক্ত। এখন আমি কি করব?
উত্তর: অরোবাংকি নামক পরজীবী উদ্ভিদ এর কারণে সরিষা ক্ষেতে এ ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। বারবার একই জমিতে সরিষা ফসল চাষ করলে এ পরজীবী উদ্ভিদের বিস্তার হয়। এ সমস্যা দূরীকরণে ফুল আসার আগেই পরজীবী উদ্ভিদ জমি থেকে তুলে ধ্বংস করতে হবে। পরিমিত হারে টিএসপি সার ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া পূর্বে আক্রান্ত জমি গভীরভাবে চাষ করতে হবে। আর সব শেষ ব্যবস্থা হিসেবে আগাছানাশক যেমন-২,৪-ডি ছিটিয়ে পরজীবী উদ্ভিদ দমন করা যায়। আশাকরি এসব পদক্ষেপ নিলে আপনি উপকার পাবেন।  

    
আনজুআরা, গ্রাম: দক্ষিণ পাতাকাটা,  উপজেলা: বরগুনা সদর, জেলা: বরগুনা
প্রশ্ন: সূর্যমুখীর পাতা ঝলসানো রোগ কীভাবে দমন করব জানাবেন?
উত্তর : আমাদের দেশে সূর্যমুখীর রোগের মধ্যে পাতা ঝলসানো অন্যতম। এ রোগের আক্রমণ হলে পাতায় প্রথমে ধূসর বা গাঢ় বাদামি বর্ণের অসম দাগ পড়ে। পরে দাগগুলো মিশে গিয়ে বড় দাগের সৃষ্টি হয়। পরে পুড়ো পাতা ঝলসে যায়। এজন্য এ সমস্যা সমাধানে রোগ সহনশীল বারি সূর্যমুখী-২ জাত চাষ করতে হবে। এছাড়া রোগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে ইপ্রোডিয়ন গ্রুপের যেমন রোভরাল ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ২ থেকে ৩ বার পাতায় স্প্রে করলে এ রোগের প্রকোপ কমে যায়। এছাড়া ফসল কাটার পর পরিত্যক্ত অংশ নষ্ট বা পুড়িয়ে ফেললে এ রোগের উৎস নষ্ট হয়ে যায়।
আজাদ হোসেন, গ্রাম: তিনিশপুর, উপজেলা: নরসিংদী সদর, জেলা: নরসিংদী
প্রশ্ন:  ভুট্টার কাণ্ড পচারোধে কী করতে হবে?
উত্তর: খরিফ মৌসুমে এ রোগ বেশি হয়। এছাড়া জমিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশি ও পটাশের পরিমাণ কম হলে এ রোগের সম্ভাবনা বাড়ে। এ রোগে কাণ্ডের নিচের দিকে নরম ও পানি ভেজা দাগ পড়ে পাশাপাশি রোগের আক্রমণে গাছের কা- পচে যায় এবং গাছ মাটিতে ভেঙে পড়ে। সুস্থ ও সবল বীজ বপন এবং সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করতে হবে। আক্রমণ মাত্রা বাড়লে কার্বেনডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন অটোস্টিন অথবা কার্বোক্সিন + থিরাম গ্রুপের প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করলে এ রোগ দমন করা যায়। এছাড়া  ডাইফেনোকোনাজল গ্রুপের  স্কোর ২৫০ ইসি এক লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করলে আপনি সুফল পাবেন।
তাবরিজ, গ্রাম: বিষকা, উপজেলা: তারাকান্দা, জেলা: ময়মনসিংহ
প্রশ্ন:  গ্লাডিওলাসের ঢলে পড়া রোগ দমনের সমাধান কী?
উত্তর:  এ রোগটি কন্দ, পাতা ও শিকড় সর্বত্রই লক্ষণ দেখা যায় এবং মাটির তলায় কন্দে পচন শুরু হয়। প্রথমে পুরনো পাতা ধীরে ধীরে হলুদ হয়ে মরে যায়। পরবর্তীতে কন্দ পচে যায় ও আক্রান্ত গাছ ঢলে পড়ে মারা যায়। রোগ প্রতিরোধী জাত চাষ করার পাশাপাশি শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে। রোগমুক্ত বীজ কন্দ ব্যবহার করতে হবে। এরপরও যদি জমিতে রোগ দেখা  দেয় তবে কার্বেনডাজিম গ্রুপের  যেমন-অটোস্টিন প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় মাটিতে ৭ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। তবেই আপনি সুফল পাবেন বলে আশা করি।
মৎস্য বিষয়ক
মো: হাবিব, গ্রাম: দক্ষিণ মহেশপুর, উপজেলা: ফুলবাড়ি, জেলা: দিনাজপুর
প্রশ্ন: পিজি তৈরি করার ডোজ জানতে চাই?
উত্তর: এক কেজি স্ত্রী ও ১ কেজি পুরুষ মাছের কৃত্রিম প্রজননের জন্য ইনজেকশন দিতে হবে। এক কেজি স্ত্রী মাছের জন্য ৭০ মিলি গ্রাম পিজি ৭ সিসি পানিতে মিশাতে হবে। সিরিঞ্জের প্রতি ১ সিসি তে ১০ দাগ আছে, সেই হিসাবে ১০০ গ্রাম মাছের জন্য ৭ মিলিগ্রাম=৭ দাগ পিজি প্রয়োগ করতে হবে। অনুরূপভাবে, ১ কেজি পুরুষ মাছের জন্য ৩০ মিলিগ্রাম পিজি প্রয়োজন। ৩০ মিলিগ্রাম পিজি ৩ সিসি পানিতে গুলতে হবে (প্রতি ১ সিসি=১০ দাগ)। ১০০ গ্রাম মাছের জন্য ৩ মিলিগ্রাম=৩ দাগ প্রয়োগ করতে হবে।
গোলাম মোস্তফা, গ্রাম: কল্যাণপুর, উপজেলা: সাপাহার, জেলা: নওগাঁ
প্রশ্ন: পুকুরে মাছের বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা যাচ্ছে।              কী করব?
উত্তর:  পোনার পুকুরে বিভিন্ন এককোষী বাহ্যিক পরজীবী, উকুন, ফুলকা পচা, পাখনা পচা ইত্যাদি  রোগের বিস্তার ঘটে থাকে। ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট রোগ প্রতিরোধে পুকুরে ১,২ গ্রাম/শতাংশ/৩০ সেমি পানি হারে ম্যালাকাইট গ্রিন এবং উকুন রোধে ১২ গ্রাম/শতাংশ/৩০ সেমি পানি হারে ডিপটারেক্স/সাইপারমেথ্যিন গ্রুপের কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
প্রাণিসম্পদ বিষয়ক
মো: ফারুক, গ্রাম: রনসিয়া, উপজেলা: পীরগঞ্জ, জেলা:  ঠাকুরগাঁও
প্রশ্ন: আমার মুরগির বাচ্চার বয়স ১০-১৫ দিন। ঝিমাচ্ছে, মাথা ঝুলে পড়েছে। লাইটের নিচে জড়ো হয়ে আছে। বুকের চামড়ার নিচে ফুলে আছে। কী করব পরামর্শ চাই?
উত্তর: অ্যামোক্সিসিলিন অথবা মোক্সাসিলিন অথবা কলিস্টিন গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াতে হবে। ফুসিড ট্যাবলেট ১টা ২ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ১ দিন খাওয়াতে হবে। স্যালাইন খাওয়াতে হবে। হ্যাচারির ইনকিউবেটরের মাধ্যমে আর্দ্রতা, তাপমাত্রা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে রোগের প্রতিরোধ ও বিস্তার রোধ করা সম্ভব।   

 

মোকসেদুর রহমান, গ্রাম: উমরগ্রাম, উপজেলা: গঙ্গাচরা, জেলা: রংপুর
প্রশ্ন: আমার টার্কির বাচ্চার বয়স ৪ সপ্তাহ। গায়ে জ্বর আছে, সাদা চুনের মতো ডায়রিয়া হচ্ছে। ঝিমাচ্ছে এবং এলোমেলোভাবে চলাফেরা করছে। কী করণীয়?
উত্তর: এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ যার নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তবে যেহেতু এই রোগের ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং অন্যান্য রোগের সংক্রমণ খুব সহজেই হয়, তাই নিম্নলিখিত ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।
সিপ্রোফ্লক্সিন গ্রুপের ওষুধ ১ লিটার পানিতে ১ মিলি মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। এছাড়াও ভিটামিন সি ৩ লিটার পানিতে ১ গ্রাম মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।   
(মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক প্রশ্ন কৃষি কল সেন্টার হতে প্রাপ্ত)
কৃষির যে কোনো প্রশ্নের উত্তর বা সমাধান পেতে বাংলাদেশের যে  কোনো জায়গা থেকে যে কোনো মোবাইল থেকে কল করতে পারেন আমাদের কৃষি কল সেন্টারের ১৬১২৩ এ নাম্বারে। শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এবং কৃষি বিষয়ে সকাল ৭টা হতে রাত ৯টা পর্যন্ত। তাছাড়া কৃষিকথার গ্রাহক হতে বার্ষিক ডাক মাশুলসহ ৫০ টাকা মানি অর্ডারের মাধ্যমে পরিচালক, কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫ এ ঠিকানায় পাঠিয়ে ১ বছরের জন্য গ্রাহক হতে পারেন। প্রতি বাংলা মাসের প্রথম দিকে কৃষিকথা পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়।

 

কৃষিবিদ মো. তৌফিক আরেফীন

উপপ্রধান তথ্য অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল নং ০১৭১১১১৬০৩২, ঃtaufiquedae25@gmail.com

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন