কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শনিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ এ ০৮:০২ PM

প্রশ্নোত্তর

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: ফাল্গুন সাল: ১৪২৮ প্রকাশের তারিখ: ০৯-০২-২০২২

প্রশ্নোত্তর 

কৃষিবিদ মোঃ আবু জাফর আল মুনছুর
কৃষি বিষয়ক
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের  জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
মো: আরাফাত হোসেন, উপজেলা : ফরিদগঞ্জ, জেলা : চাঁদপুর
প্রশ্ন: শিমের গায়ে ও পাতায় কালো কালো দাগ এবং এর ফলে কচি শিমের আকার ছোট হয়।  এখন করণীয় কী?
উত্তর:  এটা একটি ছত্রাকজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত গাছ হতে বীজ সংগ্রহ করা যাবে না। জমি পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বারবার একই জমিতে একই ফসল চাষ করা যাবে না। শুকনো আবহাওয়ায় বীজ বপন করতে হবে। বীজ বোনার আগে প্রোভেক্স দ্বারা বীজ শোধন করতে হবে। গাছে রোগের লক্ষণ দেখা গেলে টিল্ট ২৫০ ইসি ০.৫ মিলি বা ডাইথেন-এম ৪৫ ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। 
আবু বক্কর, উপজেলা : মধুখালী, জেলা : ফরিদপুর
প্রশ্ন: সরিষা ফুলে কালো ছোট ছোট পোকার উপদ্রব হওয়ার জন্য সরিষা হচ্ছে না। প্রতিকার কী?
উত্তর: জাবপোকা সরিষার পাতা, পুষ্পমঞ্জরী, ফুল ও ফল থেকে রস চুষে খায়। ফলে গাছ দুর্বল হয়ে বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। সাধারণত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে ফুল ও ফল আসার সময় আক্রমণ বেশি হয়ে থাকে। আক্রমণ দেখা মাত্র ৫০ গ্রাম নিমবীজ ভেঙে ১ লিটার পানিতে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে ২-৩ গ্রাম গুঁড়া সাবান মিশিয়ে ছেঁকে ৭ দিন অন্তর ২ বার ছিটাতে হবে। স্বল্পমেয়াদি জাতে (বারি সরিষা-১৪, ১৫ ও ১৭) নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বপন করলে পোকার আক্রমণ কম হয়। পোকার আক্রমণ বেশি হলে ম্যালথিয়ন ৫৭ ইসি বা এডমায়ার ২০০ এম এল ০.৫ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে বিকেল ৩ টার পর ১০ দিন অন্তর স্প্রে করতে হবে। 
মো : শিহাব ম-ল, থানা : আত্রাই, জেলা: নওগাঁ
প্রশ্ন:  লাউ গাছ ফেটে রসের মতো বের হয়। লাল লাল আঠার মতো রস বের হচ্ছে। করণীয় কী?
উত্তর : এ রোগ হলে সাধারণত পানি ভেজা দাগ দেখা যায়, কা- ফেঁটে লালচে রঙের আঠার মতো বের হয়। এটা   ছত্রাকজনিত একটা রোগ। একে লাউয়ের গামি স্টেম ব্লাটইট বা গ্যামোসিস রোগ বলে। এর প্রতিকার হলো : ক্ষেত থেকে আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলতে হবে। রোগমুক্ত বীজ বা চারা ব্যবহার করতে হবে। আক্রান্ত জমি থেকে বীজ রাখবেন না। রোগের আক্রমণ বেশি হলে কপার জাতীয় ছত্রাকনাশক যেমন-সানভিট/ব্লিটক্স/হেমক্সি প্রতি লিটারে ২-৩ গ্রাম মিশিয়ে ৭-১০ দিন পরপর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। এ ছাড়াও মেনকোজেব+মেটালক্সিল জাতীয় ছত্রাকনাশক যেমন-রিডোমিল গোল্ড/মেটারিল/নিউবেন একই নিয়মে ব্যবহার করতে পারেন।
মৎস্য বিষয়ক
মো: নজরুল ইসলাম, গ্রাম: লাউথুতি, উপজেলা: ঠাকুরগাঁও, জেলা: ঠাকুরগাঁও
প্রশ্ন: পুকুরের পানির রঙ সবুজ হয়ে গিয়েছে; কী করব?
উত্তর : সাধারণত পুকুরের পানির রঙ সবুজ হয় অতিরিক্ত খাদ্য বা সার প্রয়োগের কারণে। খাদ্যে অতিরিক্ত আমিষ, ফসফরাস থাকলেও হতে পারে। অতিরিক্ত শেওলার জন্য পানির রঙ ঘন সবুজ হয়ে যায়। ফলে রাতের বেলায় পিএইচ মান বেড়ে যায়। অতিরিক্ত অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে ভোর রাতে মাছ পানির ওপর ভেসে উঠে এবং বেশি সময় ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলে মাছ মারা যায়। এ সমস্যা সমাধানে : মাছ খাবি খেলে তাৎক্ষণিকভাবে পুকুরের পানি সরবরাহ করতে হবে। সেই সাথে পুকুরের খাদ্য ও সার প্রয়োগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। প্রতি শতকে ৫-৮ গ্রাম গ্রানুলার অক্সিজেন প্রয়োগ করতে হবে। সম্ভব হলে ঘাসের দড়ি দিয়ে চাপিয়ে নিয়ে উঠিয়ে ফেলতে হবে। অথবা সবুজ স্তরের জন্য প্রতি শতকে ১৫ গ্রাম (৩-৫ গভীরতায় তুঁতে পাতলা কাপড়ে ছোট ছোট পুঁটলায় বেঁধে পানি পৃষ্ঠের আধা ফুট নিচে খুঁটির মাধ্যমে বেধে দিতে হবে। তুঁতে প্রয়োগের ৩ দিন পর পুকুরে ২০ কেজি/একর হারে জিওলাইট অথবা প্রতি শতকে ৫০০ গ্রাম পাথুরে চুন প্রয়োগ করতে হবে।
প্রাণী বিষয়ক
রীতা রানি মন্ডল, গ্রাম : ভরতখালী সাঘাটা, জেলা : গাইবান্ধা
প্রশ্ন : আমার একটি ক্রস বকনা বাছুর আছে। বয়স ২ বছর।  কম খাবার খায় কিন্তু দুর্বল ও পেট অনেক মোটা। এ থেকে প্রতিকার কী?
উত্তর : আপনার বকনা বাছুরের কৃমি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে          কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়াতে হবে। কৃমিনাশক হিসেবে নাইট্রাক্রিনিল গ্রুপের ইনজেকশন প্রয়োগ করা যেতে পারে। এ ছাড়া রুচি বৃদ্ধির জন্য প্রোবায়োটিক (বায়োগাট/বায়োলাক্স পাউডার ইত্যাদি) সঙ্গে জাইমোভেট পাউডার/ডিজিমিক্স পাউডার খাওয়া যেতে পারে। 
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিবিষয়ক প্রশ্ন কৃষি কল সেন্টার হতে প্রাপ্ত) 
কৃষির যে কোন প্রশ্নের উত্তর বা সমাধান পেতে বাংলাদেশের যে  কোন জায়গা থেকে যে কোনো মোবাইল থেকে কল করতে পারেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের কৃষি কল সেন্টার ১৬১২৩ নাম্বারে।
 
লেখক : তথ্য অফিসার (পিপি), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৭১৪১০৪৮৫৩; ই-মেইল : iopp@ais.gov.bd

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন