কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১২ জুন, ২০২২ এ ০৫:১৯ PM

প্রশ্নোত্তর

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: আষাঢ় সাল: ১৪২৯ প্রকাশের তারিখ: ১২-০৬-২০২২

প্রশ্নোত্তর 

কৃষিবিদ মোঃ আবু জাফর আল মুনছুর
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
মো: ইসমাইল হোসেন, উপজেলা : চারঘাট, জেলা : রাজশাহী।
প্রশ্ন : কলাগাছ ফুলে ফেটে যাচ্ছে। ভেতরে পানি। করণীয় কী?
উত্তর : আপনার এ সমস্যা দু’টি কারণে হতে পারে। কলাগাছে যদি কেঁচোর আক্রমণ থাকে সেক্ষেত্রে চারিদিকে রিং করে মাটি কুপিয়ে কার্বোফুরান (ফুরাডান-১) কেজি/বিঘায় দিয়ে হালকা সেচ দিতে হবে। অন্যথায় এটা পানামা রোগ। সেক্ষেত্রে আক্রান্ত জমিতে পরবর্তীতে চারা রোপণের চারমাস আগ পর্যন্ত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত আক্রান্ত চারা গোড়াসহ তুলে ফেলতে হবে। চারা লাগানোর পূর্বে গর্তে ১% ফরমালিন ও ৫০ ভাগ পানি দ্বারা ভিজিয়ে দেয়া এবং ১০ দিন পর চারা রোপণ করতে হবে।
মো: জব্বার, উপজেলা : ঠাকুরগাঁ, জেলা : ঠাকুরগাঁ।
প্রশ্ন : ধান গাছের গোড়ায় বাদামি গাছফড়িং দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। রস চুষে খায় এবং ধানের পাতা শুকিয়ে খড়ের মতো হয়ে যাচ্ছে। করণীয় কী?
উত্তর : এ রোগের জন্য ধানক্ষেতে ২-৩ হাত পরপর বিলি কেটে আলো বাতাসের ব্যবস্থা করা; ইউরিয়া ব্যবহার বন্ধ করা; পোকা দেখার সাথে সাথে পাইমেট্রোজিন (পাইরাজিন) গ্রুপের ওষুধ স্প্রে করা; আক্রান্ত ক্ষেতের ধান কাটার পর পুড়ে ফেলা।
কৃষ্ণচন্দ্র রয়, নীলফামারী সদর, নীলফামারী।
প্রশ্ন : লিচু গাছের পাতা মোটা ভেলভেটের মতো হয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে করণীয় কী?
উত্তর : এ সমস্যা মাকড়ের কারণে হয়। এজন্য লিচু গাছের পাতা সংগ্রহ করে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। তারপর ভার্টিমেক/থিওভিট/কুমলাস পাউডার প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
মর্জিনা আকতার, উপজেলা : ফরিদগঞ্জ, জেলা : চাঁদপুর।
প্রশ্ন : মরিচ গাছের গোড়া পচে যাচ্ছে। করণীয় কী?
উত্তর : মরিচ গাছের গোড়ায় পানি জমতে দেয়া যাবে না। এরপর কপার অক্সিফ্লোরাইড গ্রুপের ছত্রাকনাশক (সানভিট) প্রতি লিটারে ৪ গ্রাম হারে স্প্রে করতে হবে ৭ দিন পর পর একবার।
মো: মতিউর রহমান, উপজেলা : আত্রাই, জেলা : নওগাঁ।
প্রশ্ন : পোকার কীড়া ফলের শাঁস খায় এবং পেয়ারা কাটলে তার মধ্যে অনেক পোকা দেখা যায়। করণীয় কী?
উত্তর : পোকাযুক্ত ফল মাটিতে গর্ত করে পুঁতে ফেলা, গাছের গোড়া পরিষ্কার করে ও কুপিয়ে উল্টে পাল্টে দিতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি সনিক্রণ বা ১ মিলি ইমিজাক্লোরপ্রিড, ১ মিলি সাইপারমেথ্রিন মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
বিকাশ রায়, উপজেলা : খোকসা, জেলা : কুষ্টিয়া।
প্রশ্ন :  নারিকেলের পাতায় দাগ পড়ে এবং আক্রান্ত পাতার ধূসর বর্ণের বেষ্টনি থাকে, করণীয় কী?
উত্তর : আক্রান্ত পাতা কেটে নষ্ট বা পুড়ে ফেলতে হবে। সুষম সার ব্যবহার করতে হবে। আক্রান্ত গাছে রিডোমিল গোল্ড ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
মো: কবির, উপজেলা : ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, জেলা : ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
প্রশ্ন : বেগুন গাছের ডগা ঢলে পড়ে এবং শুকিয়ে যাচ্ছে, করণীয় কী?
উত্তর : বেগুনের ক্ষেত পরিষ্কার রাখতে হবে। সেক্স ফেরোমেন ফাঁদ ব্যবহার করে পুরুষ মথ নষ্ট করা। পটাশ সার বেশি পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে। শেষ ব্যবস্থা হিসেবে আক্রান্ত গাছে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের ওষুধ প্রতি লিটারে ১ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
মো: জজ মিয়া (কৃষক), উপজেলা : কটিয়াদী, জেলা : কিশোরগঞ্জ।
প্রশ্ন : কবুতরের বাচ্চা অবস্থায় পায়খানার দরজায় আস্তে আস্তে ফুলে যায়। খাবার খাওয়া ঠিক থাকে, বাচ্চা যখন উড়াল শিখে খাদ্য নালিতে ঘা হয় এবং বোমি হয়, কিছু দিন পর মারা যায়। এ অবস্থায় করণীয় কী?
প্রশ্ন : বয়স্ক কবুতর ঘাড় বেঁকে যায়। এর সমাধান কী?
উত্তর : আপনার ১ম সমস্যাটি হলো কবুতরের ক্যনকার। এর জন্য র‌্যানামাইসিন ও মেট্রোনিডাজল গ্রুপের ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে। ১০০টি কবুতরের জন্য ৪টি র‌্যানামাইসিন প্রতিদিন ও মেট্রোনিডাজল ২ বেলা করে সকালে ও বিকেলে ১০ দিন দিতে হবে। পরবর্তী সমস্যাটি হলো রানীক্ষেত রোগ। এই রোগের চিকিৎসা করে খুব একটা লাভ হবে না। এটা প্রতিরোধ করা উত্তম। এর জন্য ২ মাস বা তার বেশি বয়সী সকল কবুতরকে ১ম ডোজ টিকা দিতে হবে। এরপর প্রতি ৪-৬ মাস পরপর এই ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ দিতে হবে। এরপরও আক্রান্ত সিপ্রোফ্লক/সিপ্রো-১০/রেনাফক্স ইত্যাদির যে কোন একটি ব্যবহার করলে কিছুটা লাভ পাওয়া যায়।

লেখক : কৃষিবিদ মো: আবু জাফর আল মুনছুর, তথ্য অফিসার (উদ্ভিদ সংরক্ষণ), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা। মোবাইল : ০১৭১৪১০৪৮৫৩; ই-মেইল : রড়ঢ়ঢ়@ধরং.মড়া.নফ

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন