কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ এ ০৫:০২ PM

প্রশ্নোত্তর

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: পৌষ সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৪-১২-২০২৫

প্রশ্নোত্তর

কৃষিবিদ শারমীন আক্তার

নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
ফারুক, জেলা: রাজশাহী, উপজেলা: দুর্গাপুর
প্রশ্ন : মসুর ডালের গাছের গোড়া পচে যায়। হঠাৎ চারা নেতিয়ে পড়ে মারা যায়। করণীয় কী?
সমাধান : যে সকল জমির মাটিতে বপনের প্রারম্ভে স্বাভাবিক অবস্থার (জো অবস্থা) চেয়ে বেশি রস থাকে সেই সকল জমিতে গোড়া পচা রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। সুতরাং বীজ বপনের সময় জমিতে যেন অতিরিক্ত রস না থাকে সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে।
এ ছাড়া এ রোগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের অটোস্টিন - ৫০ ডবি¬উ/পট নামক ছত্রাকনাশক ২ গ্রাম/লিটার পানির সাথে মিশিয়ে (৭-১০) দিন পর পর (২-৩) তার গাছের গোড়ায় ভিজিয়ে স্প্রে করলে এ রোগ দমন করা যায়। এ ছাড়া শস্যপর্যায় অবলম্বন করতে হবে।
নয়ন মিয়া, উপজেলা: রানীশংকৈল, জেলা: ঠাকুরগাঁও।
প্রশ্ন: গমের সেচ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাই
উত্তর: প্রকারভেদে গম আবাদে ২-৩টি সেচের প্রয়োজন হয়। প্রথম সেচ চারার ও পাতার (বপনের ১৭-২১ দিন পর), ২য় সেচ শীষ বের  হওয়ার সময় (বপনে ৫০-৫৫ দিন পর) এবং ৩য় সেচ দানা গঠনের সময় (বপনের-৭৫-৮০ দিন পর) দিতে হবে। প্রথম সেচটি খুবই হালকাভাবে দিতে  হবে। তা না হলে অতিরিক্ত পানিতে চারার পাতা হলুদ এবং চারা সম্পূর্ণ বা আংশিক নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সেচের পরপরই জমি থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে হবে। তাই বপনের পর জমির ঢাল বুঝে ২০-২৫ ফুট অন্তর নালা কেটে রাখতে হবে। এ ছাড়াও মাটির প্রকারভেদ ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ভালো ফলনের জন্য অতিরিক্ত এক বা একাধিক সেচ দেওয়া যেতে পারে। 
ফাতেমা বেগম, উপজেলা: কাহালু: জেলা: বগুড়া।
প্রশ্ন: আলুর হামপুলিং বা গাছ উপড়ে ফেলা এবং কিওরিং সম্পর্কে জানতে চাই
উত্তর: হামপুলিং হলো গাছ টেনে উপরে ফেলা। হামপুলিং এর ০৭-১০ দিন পূর্বে সেচ বন্ধ করতে হবে। তবে বালু মাটি হলে ৫-৭ দিন পূর্বে  সেচ বন্ধ করা ভালো। বেশিদিন পূর্বে সেচ দেওয়া বন্ধ করলে বালু মাটির কারণে হিট ইনজুরি হতে পারে। হামপুলিং করার সময় মাটিতে পর্যাপ্ত রস থাকলে গাছ ক্ষেত থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। যদি পর্যাপ্ত রস না থাকে তবে গাছ দ্বারা পিলি ঢেকে দিতে হবে। যাতে হিট ইনজুরি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। ফসল কর্ন করে আলুর আকার ও ফলন দেখে হামপুলিং এর তারিখ নির্ধারণ করতে হবে। 
কিউরিং: হামপুলিং-এর পর মাটি ও আলুর  অবস্থার ওপর নির্ভর করে ৭-১০ দিন পর্যন্ত মাটি নিচে রেখে আলুর ত্বক-শক্ত করতে হবে। আলুর ত্বক শক্ত হয়েছে কি না তা দেখার জন্য আলু তুলে  বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা আলুর ত্বকে চাপ দিতে হবে। যদি ছাল না উঠে তাহলে বুঝা যাবে কিউরিং হয়েছে অথবা চটের বস্তায় ২/৩ কেজি নমুনা-আলু উঠিয়ে ঝাঁকুনি দিতে হবে। যদি ছাল না উঠে তাহলে বুঝতে হবে কিউরিং হয়েছে। বীজ আলু ঢেকে দিতে হবে যেন সূর্যালোকে আলুতে সবুজায়ন ও হিট ইনজুরি না হতে পারে।

লেখক : তথ্য অফিসার (কৃষি), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৯১৬৭৪১১৯৩; ই-মেইল : ioag@ais.gov.bd

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন