কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২২ এ ০৬:০০ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: জ্যৈষ্ঠ সাল: ১৪২৯ প্রকাশের তারিখ: ২৬-০৪-২০২২
প্রশ্নোত্তর
কৃষিবিদ মোঃ আবু জাফর আল মুনছুর
কৃষি বিষয়ক
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
১। নাম : চন্দন, উপজেলা : সখিপুর, জেলা : টাংগাইল
প্রশ্ন : শসার ঢলে পড়া রোগ হলে করণীয় কী?
উত্তর : আক্রান্ত গাছ তুলে নষ্ট বা পুড়ে ফেলা। যে জমিতে এ রোগ হয় একই ফসল ২/৩ বছর চাষ করা যাবে না। আক্রান্ত গাছের গোড়ায় ১% বর্দোমিকচার বা ৪০ গ্রাম অক্রিবিট ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা বা ২ গ্রাম ব্যাকটল/ব্যাকট্রোবান ১ লি: পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
২। নাম : আমিনুল ইসলাম, উপজেলা : যশোর সদর, জেলা : যশোর
প্রশ্ন : ধান বীজে বা দানায় দাগ হলে করণীয় কী?
উত্তর : আক্রমণ বেশি হলে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে প্রোপিকোনাজল গ্রুপের যেমন- টিল্ট ২৫০ ইসি/কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি ৭ দিন পর পর বিকেলে স্প্রে করতে হবে ২/৩ বার। জমিতে ইউরিয়া সার ব্যবহার কমাতে হবে।
৩। নাম : শাহীন, উপজেলা : মান্দা, জেলা : নওগাঁ
প্রশ্ন : আমের ব্লাইট বা পোড়া রোগ হলে করণীয় কী?
উত্তর : আক্রান্ত গাছে ১% বর্দোমিকচার বা ৪ গ্রাম কপারব্লু/প্রাউড ১ মিলি/২ গ্রাম মেটারিল প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। আক্রান্ত অংশ সংগ্রহ করে পুড়ে ফেলা। রোগ প্রতিরোধ জাত ব্যবহার করা।
৪। নাম : জুয়েল গাজী, আমতলী, জেলা : বরগুনা
প্রশ্ন : ধান গাছের পাতার উপরের অংশ শুকিয়ে যায় করণীয় কী?
উত্তর : ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইটের জন্য এ সমস্যা হয়ে থাকে। পটাশ সার দিতে হবে এবং চ্যাপিয়ন নামক ছত্রাকনাশক দিতে হবে।
৫। নাম : শরিফুল ইসলাম, বেলাবো, জেলা : নরসিংদী
প্রশ্ন : ধানের কা-ের ভেতর থেকে মাঝ পাতা ও শীষের গোড়া কেটে দেয়, করণীয় কী?
উত্তর : ধানের সাকারা পোকার আক্রমণ হলে এমন হয়। সমন্বিত উপায়ে পোকা দমন করতে হবে। যেমন-কঞ্চি পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা এবং কার্বোসালফান গ্রুপের ওষুধের ব্যবহার করতে হবে।
৬। নাম : রশিদুল, উপজেলা : কটিয়াদী, জেলা : নওগাঁ
প্রশ্ন : লিচুর ফল ছিদ্রকারী পোকা আক্রমণ করণীয় কী?
উত্তর : আক্রমণ বেশি হলে ট্রেসার-০.৪ মিলি, সাইপারমেথ্রিন ১ মিলি বা ২ মিলি সুমিথিয়ন বা ডায়াজিনন ৬০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এ ছাড়া নিমতেল বা বাইকাও ২ মিলি/লি: পানিতে গুলে স্প্রে করতে হবে।
৭। নাম : নওফেল, দুর্গাপুর, জেলা : রাজশাহী
প্রশ্ন : বেগুনের ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ, করণীয় কী?
উত্তর : জমিতে ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার করতে হবে চারা রোপণের ২/৩ সপ্তাহের মধ্যে। আক্রমণের মাত্রা বেশি হলে জৈব বালাইনাশক স্পেনোসেড ট্রেসার ৪ সি.লি/১০ লিটার) স্প্রে করতে হবে। গাছের ফুল আসার পর হতে প্রতি ২ সপ্তাহ অন্তর ৩-৪ বার স্প্রে করতে হবে।
প্রাণী বিষয়ক
১। নাম : মো: আল মামুন, গ্রাম : চিথুলিয়া, পো:+উপজেলা : সাঘাটা, জেলা : গাইবান্ধা
প্রশ্ন : ভেড়ার খামারে সংক্রামক রোগের প্রতিরোধ করার উপায় কী কী হতে পারে?
উত্তর : জন্মের সাথে সাথে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের তেমন কোন ক্ষমতা থাকে না। তাই মায়ের উৎপাদিত শাল দুধ বাচ্চাকে এন্টিবডির মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করতে পারে। ভেড়ার বাচ্চার অন্ত্রে ১২ ঘণ্টার পর থেকে শাল দুধে বিদ্যমান এন্টিবডি শোষণের হার কমতে থাকে। এ কারণে জন্মের পর ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বাচ্চাকে শাল দুধ খাওয়াতেই হবে। মায়ের শাল দুধের প্রদত্ত রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি দিন স্থায়ী হয় না। ভেড়ার বাচ্চার ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানার সাথে রক্তও আসতে পারে। এমতাবস্থায় বাচ্চাকে দিনে বারবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে এবং দুর্বল বাচ্চাকে বোতলের মাধ্যমে দুধ না খাইয়ে ফিডারে দুধ খাওয়াতে হবে।
২। নাম : রেজভীব সুলতানা, গ্রাম : গুপ্তপাড়া, উপজেলা : মিঠাপুকুর, জেলা : রংপুর
প্রশ্ন : মুরগীর ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিকের প্রত্যাহারকাল এ বিষয়ে জানতে চাই।
উত্তর : আপনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করছেন। এর উত্তর সারণি দ্রষ্টব্য।
৩। নাম : মোছলেউদ্দিন, গ্রাম : দড়িনারিচা, পো:+উপজেলা : ঈশ্বরদী, জেলা : পাবনা
প্রশ্ন : ব্রয়লার খামারে মুরগির শারীরিক বৃদ্ধি ঠিক রাখতে করণীয় কী?
উত্তর : ব্রয়লার মুরগির খামার স্থাপনের সময় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খামার স্থাপন করতে হবে। খামারে যাতে আলো ও বাতাস ঠিকমতো চলাচল করতে পারে সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
খামারে পালন করা ব্রয়লারকে খাদ্য প্রদানের সময় ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে খাদ্যে যেন কোন প্রকার ময়লা কিংবা রোগের জীবাণু না থাকে। আর খাদ্য প্রদানের পাত্র নিয়মিতভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
খামারে ব্রয়লার মুরগির জন্য যেসব খাদ্য উপকরণ ব্যবহার করা হবে সেগুলো যেন মুরগির পরিপাকে কোন বাধার সৃষ্টি না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এমন সমস্যায় মুরগির শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
ব্রয়লার মুরগির খামারকে নিয়মিত জীবাণুমুক্ত ও পরিষ্কার রাখতে হবে। এতে করে খামারের মুরগিগুলো সহজেই কোন রোগের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারবে না। ফলে শারীরিক বৃদ্ধি স্বাভাবিক হবে।
ব্রয়লার মুরগির খামারের জন্য যে ওষুধ ব্যবহার করা হবে সেই ওষুধের গুণগত মান পরীক্ষা করাতে হবে। তারপরেই সেই ওষুধকে ব্রয়লার মুরগির খামারে ব্যবহার করতে হবে।
(প্রাণী বিষয়ক প্রশ্ন উত্তর কৃষি তথ্য সার্ভিস কল সেন্টার থেকে প্রাপ্ত)
এ ছাড়া যে কোনো পরামর্শের জন্য নিকটস্থ কৃষি, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ অফিসারের সাথে যোগাযোগ করুন ও কৃষি কল সেন্টার ১৬১২৩ নম্বরে কল করুন।
লেখক : তথ্য অফিসার (পিপি), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৭১৪১০৪৮৫৩; ই-মেইল : রড়ঢ়ঢ়@ধরং.মড়া.নফ