কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৪ এ ০৫:১১ PM

প্রশ্নোত্তর

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: শ্রাবণ সাল: ১৪৩১ প্রকাশের তারিখ: ১৬-০৭-২০২৪

প্রশ্নোত্তর

কৃষিবিদ ড. আকলিমা খাতুন

নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
রায়হান, উপজেলা : সুন্দরগঞ্জ, জেলা : গাইবান্ধা
প্রশ্ন : আমার ঝিঙা গাছের পাতার গায়ে সাদা বা হলদে থেকে বাদামি রং এর তালির মতো দাগ দেখা যাচ্ছে। অনেকটা মোজাইকের মতন, ধীরে ধীরে পুরো গাছের পাতায় ছড়িয়ে পড়ছে। করণীয় কী?
উত্তর : এটি ঝিঙার ডাউনি মিলডিউ রোগ। এটি (ঢ়ংবঁফড়ঢ়বৎবহড়ংঢ়ড়ৎধ ংঢ়) ছত্রাকের আক্রমণে হয়। এই রোগের আক্রমণে পাতার নিচের পৃষ্ঠে গোলাপী রং এর ছত্রাক দেখা যায়। এই রোগের আক্রমণ দেখা দিলে (ম্যানকোজেব+ মেটালঅক্সিল) গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন : পুটামিল বা রিডোমিল গোল্ড অথবা (ম্যানকোজেব+ ফেনামিডন) গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন : সিকিউর ২  গ্রাম/লিটার হারে অথবা সালফার গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন : কুমুলাস ২ কেজি/ হেক্টর বা ম্যাকভিট ২ মিলি./লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে ১০-১২ দিন অন্তর অন্তর ১-৩ বার শেষ বিকেলে স্প্রে করতে হবে। স্প্রে করার ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাওয়া বা বাজারে বিক্রি করা যাবে না।
মো: জাহিদ আলম, উপজেলা : বিরামপুর, জেলা : দিনাজপুর
প্রশ্ন : আমার কাঁঠাল গাছের শিকড় ও গুঁড়ি পোকা খেয়ে নষ্ট করে ফেলছে। করণীয় কী?
উত্তর : এটি কাঁঠালের উইপোকার আক্রমণে হয়ে থাকে। কাঁঠাল গাছে পোকা আক্রমণ দেখা দিলে ক্লোরোপাইরিফস গ্রুপের কীটনাশক ডার্সবান প্রতি লিটার পানিতে  ৫ মিলি মিশিয়ে গাছের গোড়ায় বা কা-ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার শেষ বিকেলে স্প্রে করতে হবে। এছাড়াও গাছের কা- ও গুঁড়ি থেকে উইপোকার মাটি পরিষ্কার করতে হবে এবং গাছের গোড়ার মাটি কুপিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।
শেখ ফরিদ, উপজেলা : ফুলবাড়ী, জেলা : কুড়িগ্রাম।
প্রশ্ন : আমার লাউ গাছের পাতার শিরা বাদে পূর্ণবয়স্ক পোকা ও কীড়া পাতার সবুজ অংশ খেয়ে ফেলছে। আক্রান্ত পাতা শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। করণীয় কী?
উত্তর : এটি লাউয়ের কাঁঠালে পোকার এর আক্রমণে হয়ে থাকে। এই পোকার আক্রমণ হলে ফেনিট্রোথিয়ন গ্রুপের কীটনাশক যেমন সুমিথিয়ন ২ মিলি/লিটার অথবা কার্বারিল গ্রুপের কীটনাশক সেভিন ২ গ্রাম/লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার শেষ বিকেলে স্প্রে করতে হবে। এ ছাড়াও ক্ষেত সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং পোকা সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে। স্প্রে করার ১৫ দিনের মধ্যে সেই গাছের সবজি খাওয়া বা বাজারে বিক্রি করা যাবে না।
মোমিন ইসলাম, উপজেলা : দেবীগঞ্জ, জেলা : পঞ্চগড়
প্রশ্ন : আমার পান গাছের পাতার শীর্ষে বা কিনারায় প্রথমে হলুদাভ বাদামি রঙের দাগ দেখা যায়। দাগ ভেতরের দিকে যেতে থাকে। ৭-৮ দিনে পাতা পচে যায়। করণীয় কী?
উত্তর : এটি পানের পাতা পচা রোগ (ঢ়যুঃড়ঢ়যঃযড়ৎধ ঢ়ধৎধংরঃরপধ) নামক ছত্রাকের আক্রমণে হয়। বর্ষাকালে এই রোগ বেশি দেখা যায়। এই রোগ দেখা দিলে ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক ডাইথেন এম-৪৫ ২.৫ গ্রাম/লিটার অথবা কপার অক্সিক্লোরাইড গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন : সানভিট কপার ব্লু ৫০ঢ়ি ব্লিটক্স ৫০ঢ়ি ৪গ্রাম/লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে ১২-১৫ দিন অন্তর ২/৩ বার শেষ বিকেলে স্প্রে করতে হবে।
আব্দুস সালাম, উপজেলা : হাটহাজারী, জেলা : চট্টগ্রাম
প্রশ্ন : বেগুনের ফল ও কা- পচে যাচ্ছে। কী করণীয়?
উত্তর : বেগুনের ফল ও কা- পচা রোগ ঢ়যড়সড়ঢ়ংরং াবীধহং নামক ছত্রাকজনিত রোগ। আক্রান্ত গাছের ডালে ও কা-ে ক্যাংকার সৃষ্টি হয়। ডাল চক্রাকারে পচে যায় ফলে গাছ মারা যায়। পরবর্তীতে এ রোগ ফলেও আক্রমণ করে, কালো ক্ষতের সৃষ্টি হয় ও ফল পচে যায়। এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে একই জমিতে প্রতি বছর বেগুন চাষ করা যাবে না। বীজ শোধন করতে হবে (কার্বেন্ডাজিম প্রোভেক্স ২ গ্রাম/প্রতি কেজি বীজ)। মাঠে রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে কার্বেন্ডাজিম (ব্যাভিষ্টিন) ২ গ্রাম দিয়ে ৭ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
ফরিদ, উপজেলা : মেহেরপুর সদর, জেলা : মেহেরপুর
প্রশ্ন : পেঁপের গাছে সাদা তুলার মতো দেখা যাচ্ছে। কি করতে হবে?
উত্তর : পেঁপের মিলিবাগ আক্রমণে সাদা সাদা তুলার মতো দেখা যায়। দলবদ্ধভাবে ফল, পাতা ও ডালের রস চুষে নেয় ফলে গাছ দুর্বল হয়। পোকার আক্রমণে পাতা, ফল ও ডালে সাদা সাদা তুলার মতো দেখা যায়। অনেক সময় পিঁপড়া দেখা যায়। এর আক্রমণে অনেক সময় পাতা ঝরে যায় এবং ডাল মরে যায়। আক্রমণ বেশি হলে ইমিডাক্লোরোপ্রিড জাতীয় কীটনাশক  (যেমন এডমায়ার অথবা টিডো ৭-১০ মিলিলিটার) ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৫ শতকে স্প্রে করতে হবে ১০ দিন পর পর ২/৩ বার।
আনিসুর রহমান, উপজেলা : দেবীগঞ্জ, জেলা পঞ্চগড়
প্রশ্ন : কাঁকরোল হলুদ হয়ে পচে ঝরে যাচ্ছে। ভিতরে পোকা আছে কী করণীয়?
উত্তর : কাঁকরোলের সাদা মাছির আক্রমণে এ লক্ষণ দেখা যায়। স্ত্রী মাছি কচি ফলের নিচের দিকে ওভিপজিটর ঢুকিয়ে ডিম পাড়ে।  ডিম পাড়ার স্থান থেকে পানির মতো তরল পদার্থ  বেড়িয়ে আসে যা শুকিয়ে বাদামি রঙ ধারণ করে। ডিম থেকে কীড়া বের হয়ে ফলের শাস খেতে শুরু করে এবং ফল বিকৃত হয়ে যায় এবং হলুদ হয়ে পচে ঝরে যায়। আক্রান্ত ফল বা ফুল সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে। কচি ফল কাগজ বা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক বিপর্কড ১ মিলি./লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার। স্প্রে করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাওয়া যাবে না বা বিক্রি করা যাবে না।
মো: ফরহাদ হোসেন, উপজেলা : ফুলবাড়ী, জেলা : কুড়িগ্রাম
প্রশ্ন : মরিচের গায়ে কালো দাগ দেখা যাচ্ছে এবং মরিচ পচে যাচ্ছে। কী করতে হবে?
উত্তর : মরিচের ক্ষত বা এ্যানথ্রাকনোজ রোগ (ঈড়ষষবঃড়ঃযৎরপযঁস পধঢ়ংরপর) ছত্রাকজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত পাতা, কা- ও ফলে বাদামি কালো দাগ দেখা যায়। পরে দাগগুলো বড় হয় এবং মরিচ পচে যায়। আক্রান্ত পরিত্যক্ত অংশ সংগ্রহ করে নষ্ট করতে হবে। প্রোভেক্স বা ভিটাভেক্স ২০০ দ্বারা  বীজ শোধন (প্রতি কেজি বীজ ২.৫ম ছত্রাকনাশক) করে লাগাতে হবে। রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি টিল্ট ২৫০ ইসি বা ৪ গ্রাম সানভিট ১০-১২ দিন অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
মো: মাসুদ মিয়া, উপজেলা : পলাশবাড়ি, জেলা : গাইবান্ধা
প্রশ্ন : করলা গাছের পাতা সব একসাথে হয়ে গুচ্ছ আকারে দেখা যাচ্ছে এবং গাছের বৃদ্ধি কমে যাচ্ছে। করণীয় কী?
উত্তর : এটি করলার পাতার গুচ্ছ রোগ নামে পরিচিত। এতে আক্রান্ত গাছের পাতাগুলো গুচ্ছ অকারে থাকে, গাছ বাড়ে না এবং ফুল ও ফল কমে যায়।  বাহক পোকা হিসাবে জ্যাসিড পোকা দ্বারা এই রোগ ছড়ায়। আক্রান্ত গাছ দেখা মাত্র তুলে নষ্ট অথবা পুড়ে ফেলতে হবে। রোগমুক্ত গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। ভাইরাসের মতো মাইকোপ্লাজমা রোগ (গুচ্ছ রোগ) বাহকপোকা দ্বারা বিস্তার লাভ করে। তাই বাহকপোকা ধ্বংস করার জন্য বালাইনাশক যেমন এসাটাফ ৭৫ এসপি গ্রাব (এসিফেট), ইমিব্রক্লোপিড টিডো/এডমায়ায় (ইমিজক্লোপ্রিড) ইত্যাদি প্রয়োগ করতে হবে। টেট্রাসাইক্লিন বা লেডার মাইসিন (৫০০ পিপি এম বা ০.৫ গ্রাম/লিটার পানি) ছিটিয়ে রোগ দমনে ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে।
আমজাদ হোসেন, উপজেলা : কাপাসিয়া, জেলা : গাজীপুর
প্রশ্ন : ধানের বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : ভালো বীজের জন্য যে জমির ধান ভালোভাবে পেকেছে, রোগ ও পোকার আক্রমণ হয়নি এবং আগাছামুক্ত সেসব জমির ধান বীজ হিসাবে রাখতে হবে। বীজ রোদে ৫-৬ দিন ভালোভাবে শুকাতে হবে যাতে বীজের আর্দ্রতা শতকরা ১২ ভাগের নিচে থাকে। দাঁত দিয়ে বীজ কাটলে যদি কটকট শব্দ হয় তাহলে বুঝতে হবে বীজ ঠিকমতো শুকিয়েছে। পুষ্ট ধান কুলা দিয়ে বা অন্যভাবে ঝেড়ে পরিষ্কার করতে হবে। বায়ুরোধী পাত্রে বীজ রাখতে হবে। বীজ রাখার জন্য প্লাস্টিকের ড্রাম উত্তম তবে বায়ুরোধী মাটি বা টিনের পাত্রে রাখা যেতে পারে। মাটির মটকা বা কলসে বীজ রাখলে গায়ে দুইবার আলকাতরার প্রলেপ দিতে হবে। আর্দ্রতারোধক মোটা পলিথিনেও বীজ মজুদ করা যেতে পারে। রোদে শুকানো বীজ ঠা-া করে পুরোপাত্র বীজ দিয়ে না ভরলে বীজের উপর কাগজ বিছিয়ে তার উপর শুকনো বালু বা ছাই দিয়ে পূর্ণ করতে হবে। পাত্রের তলা যেন মাটির সংস্পর্শে না আসে এমনভাবে রাখতে হবে। টনপ্রতি ধানে ৩.২৬ কেজি (প্রতি কেজি বীজ ধানে ৩ গ্রাম) নিম, নিশিন্দা বা বিষকাটালি পাতার গুঁড়া মিশিয়ে গোলাজাত করলে পোকার আক্রমণ হয় না।
আব্দুর রহিম, উপজেলা : পীরগঞ্জ, জেলা : রংপুর
প্রশ্ন : বাঁধাকপি চাষের সময় এবং চারা উৎপাদন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : মৌসুমভেদে বাঁধাকপির বীজ বপনের সময় হলো :
বাঁধাকপির চারা বীজতলায় উৎপাদন করে জমিতে লাগানো হয়। বীজতলার আকার ১ মিটার চওড়া ও ৩ মিটার লম্বা হওয়া উচিত। সমপরিমাণ বালু, মাটি ও জৈবসার মিশিয়ে ঝুরঝুরা করে বীজতলা তৈরি করতে হয়। দ্বিতীয় বীজতলায় চারা রোপণের আগে ৭-৮ দিন পূর্বে প্রতি বীজতলায় ১০০ গ্রাম ইউরিয়া, ১৫০ গ্রাম টিএসপি ও ১০০ গ্রাম এমওপি সার ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। পরে চারা ঠিকমতো না বাড়লে প্রতি বীজতলায় প্রায় ১০০ গ্রাম পরিমাণ ইউরিয়া সার ছিটিয়ে দেয়া ভালো।

লেখক : তথ্য অফিসার (উদ্ভিদ সংরক্ষণ), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৯১৬৫৬৬২৬২; ই-মেইল :aklimadae@gmail.com 

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন