কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১২ মার্চ, ২০২৪ এ ০৫:৪৮ PM

প্রশ্নোত্তর

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: ফাল্গুন সাল: ১৪৩০ প্রকাশের তারিখ: ২৫-০২-২০২৪

প্রশ্নোত্তর

কৃষিবিদ আকলিমা খাতুন

নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন। 
আবু বক্কর সিদ্দিকী, উপজেলা : হাতীবান্ধা, জেলা : লালমনিরহাট
প্রশ্ন : ঢেঁড়সের পাতায় হলুদ-সবুজ রঙের দাগ পড়েছে এবং শিরাগুলো স্বচ্ছ হয়ে যাচ্ছে, কী করণীয়?
উত্তর : ঢেঁড়সের পাতার মোজাইক ও শিরা স্বচ্ছতা রোগ ণবষষড়ি াবরহ পষবধৎরহম সড়ংধরপ ারৎঁং এর আক্রমণে হয়। এর ফলে সব পাতা হলুদ ও সবুজ রঙের ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়। পাতার শিরাগুলো স্বচ্ছ ও হলুদ হয়ে যায়। গাছের পাতা ছোট ও খর্বাকৃতি হয়। ভাইরাসের বাহক পোকা সাদা মাছি এ রোগ ছড়ায়। আক্রান্ত গাছ দেখা মাত্র তুলে নষ্ট অথবা পুড়ে ফেলতে হবে। আক্রান্ত ক্ষেত থেকে বীজ সংগ্রহ করা যাবে না। বাহকপোকা (জ্যাসিড/সাদা মাছি) দমনের জন্য অনুমোদিত বালাইনাশক যথা: ইমিডাক্লোরপ্রিড গ্রুপের টিডো বা এডমায়ার ০.৫ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে ৩ বার ১০ দিন পরপর।
রেজাউল ইসলাম, উপজেলা : ডিমলা, জেলা : নীলফামারী
প্রশ্ন : তরমুজের পাতায় কালো কালো দাগ দেখা যাচ্ছে, করণীয় কী?
উত্তর : তরমুজের এ্যানথ্রাকনোজ রোগ পড়ষষবঃড়ঃৎরপযঁস ংঢ়. ছত্রাকজনিত রোগ। পাতায় বাদামি  থেকে কালো দাগ দেখা যায়। এ  রোগের আক্রমণে পাতার বোটা, কা- ও ফলে কালো দাগ দেখা যায়। এ রোগ তাড়াতাড়ি বিস্তার লাভ করে এবং গাছ ও ফল সমূহের ক্ষতি করে। এরোগ দমনে ক্ষেত পরিষ্কার রাখতে হবে। রোগাক্রান্ত অংশ সংগ্রহ করে নষ্ট বা পুড়ে ফেলতে হবে। বীজ বপনের পূর্বে প্রোভেক্স বা ভিটাভেক্স ২.৫ গ্রাম বা ব্যাভিস্টিন-২ গ্রাম দ্বারা প্রতি কেজি বীজ শোধন করতে হবে। রোগের আক্রমণ দেখা দিলে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের (ব্যাভিস্টিন) ১ গ্রাম বা ম্যানকোজেব গ্রুপের (ডাইথেন এম ৪৫) ছত্রাকনাশক ২.৫ গ্রাম প্রতিলিটার পানিতে মিশিয়ে ৭ দিন পরপর ৩ বার স্প্রে করতে হবে।
জহুরুল ইসলাম, উপজেলা : বোদা, জেলা : পঞ্চগড়
প্রশ্ন : চিচিঙ্গার পাতায় আঁকা বাঁকা রেখার মতো  দাগ পড়েছে, কী করতে হবে?
উত্তর : চিচিঙ্গার পাতা সুড়ঙ্গকারী পোকার কীড়া পাতার দুইপাশের সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। তাই পাতার উপর আঁকাবাঁকা রেখার মতো দাগ পড়ে এবং পাতা শুকিয়ে ঝরে যায়। আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে ধ্বংস করে বা পুড়ে ফেলতে হবে। আঠালো হলুদ ফাঁদ স্থাপন  করতে হবে। সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক (কট ১০ ইসি বা রিপকর্ড) ১ মিলি./লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে ১০ দিন পরপর ৩ বার। স্প্রে  করার পর ১৫ দিনের মধ্যে সেই সবজি খাওয়া যাবে না বা বিক্রি করা যাবে না।
নাঈম হোসেন, উপজেলা : সিরাজগঞ্জ সদর, জেলা: সিরাজগঞ্জ
প্রশ্ন : পাট চাষের জন্য বীজ হার ও সারের পরিমাণ সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : পাটের বীজ ছিটিয়ে বুনলে ৬.৫-৭.৫ কেজি/ হেক্টর, লাইন করে বুনলে ৩.৫-৫.০০ কেজি/ হেক্টর। লাইন করে বুনলে লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব ৩০ সেমি. বা একফুট এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৭-১০ সেমি. বা ৩-৪ ইঞ্চি হতে হবে। ভালোভাবে প্রস্তুতকৃত জমিতে বপনের ২-৩ সপ্তাহ আগে হেক্টরপ্রতি ৩.৫ টন গোবর সার মিশিয়ে দিতে হবে। বপনের দিন ১৫ কেজি ইউরিয়া, ১৭ কেজি টিএসপি ও ২২ কেজি এমওপি সার জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। অতঃপর বীজবপনের ৬-৭ সপ্তাহ পর ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার  ও চারা পাতলা করে হেক্টরপ্রতি ১০০ কেজি ইউরিয়া সার জমিতে পুনরায় ছিটিয়ে দিতে হবে।
আব্দুর রহিম, উপজেলা : রাজারহাট, জেলা : কুড়িগ্রাম
প্রশ্ন : পুঁইশাকের শিকড়ে গিট দেখা যাচ্ছে, কী করণীয়?
উত্তর : পুঁইশাকের শিকড়ে কৃমির আক্রমণে ছোট ছোট গিট দেখা যায়। গিটগুলো আস্তে আস্তে বড় হয়। আক্রান্ত গাছ ছোট, দুর্বল ও হলদে হয়ে যায়। রোগাক্রান্ত শিকড়ে সহজেই পচন ধরে। একসময় গাছ মরে যায়। এ রোগ দমনে কার্বোফুরান হেক্টরপ্রতি ৪৫ কেজি হারে ব্যবহার করতে হবে। একই জমিতে বারবার পুঁইশাক চাষ করা যাবে না। চারা উৎপাদনের আগে বীজতলায় ৬ সেমি. পুরু স্তরে কাঠের গুঁড়া বিছিয়ে দিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে কৃমি ও অন্যান্য রোগজীবাণু দমন করতে হবে। বীজ বা চারা লাগানোর তিন সপ্তাহ আগে হেক্টর প্রতি আধা পচা মুরগির বিষ্ঠা ৫-১০ টন ও সরিষার খৈল ৩০০-৬০০ কেজি প্রয়োগ করে জমিতে পচালে কৃমি দমন করা যায়।
জনাব সবুজ, উপজেলা : মধুখালী, জেলা : ফরিদপুর
প্রশ্ন : টমেটোর পাতায় ভেজা কালচে দাগ দেখা যাচ্ছে।  করণীয় কী?
উত্তর : এটি টমেটোর নাবী ধসা রোগ ঐধষরপ ঋমংঃ রহভবংঃড়হং নামক ছত্রাক দ্বারা এই রোগ হয়ে থাকে। এ রোগে আক্রান্ত পাতায় প্রথমে ফ্যাকাশে অথবা ফিকে সবুজ গোলাকার বা এলোমেলো পানি ভেজা দাগ পড়ে। পরবর্তীতে তা কালচে থেকে বাদামি রং ধারণ করে। বেশি আক্রমণে কা- ও আক্রান্ত হয় এবং গাছ ঝলসে মারা যায়। ম্যানকোজেব+মেটালিক্সিল গ্রুপের রিডোমিল গোল্ড/করমিল/ মেটারিল ২ গ্রাম অথবা ম্যানকোজেব+ফেনামিডন গ্রুপের সিকিউর ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
জনাব মেহেদি, উপজেলা : পার্বতীপুর, জেলা : দিনাজপুর
প্রশ্ন : কাঁকরোলের গায়ে ছিদ্র দেখা যায়। কারণ ও প্রতিকার কী?
উত্তর : এটি কাঁকরোলের ফল ছিদ্রকারী পোকা। এ পোকার কীড়া কচি ফল ও ডগা ছিদ্র করে ভেতরের শাস খায়। ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয়। থায়ামিথক্সাম+ ক্লোরানট্রানিলিপ্রলি জাতীয় কীটনাশক যেমন-ভলিয়ম ফ্লেক্সি ০.৫ মিলিলিটার অথবা সাইপারমেথ্রিন জাতীয় কীটনাশক যেমন-ওস্তাদ ২ মিলিলিটার বা ম্যাজিক  ১ মিলিলিটার বা কট ১ মিলিলিটার পানিতে মিশিয়ে ১০-১২ দিন পর পর ২-৩ বা স্প্রে করতে হবে।
জনাব আরাফাত, উপজেলা : গফরগাঁও, জেলা : ময়মনসিংহ
প্রশ্ন : তিল গাছের কা-ে খয়েরি রঙের দাগ পড়েছে। কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : এটি তিলের কা- পচা রোগের লক্ষণ। ম্যাক্রোফোমিনা ফ্যাসিওলিনা নামক ছত্রাকের কারণে এ রোগ হয়। এ রোগের আক্রমণে প্রথমে কা-ে পানিভেজা, ছোট, লম্বা ও আঁকাবাঁকা খয়েরি ও কালচে পড়া দাগ দেখা যায়। পড়ে দাগগুলো বড় হয় ও পুরোগাছে ছড়িয়ে পড়ে এবং এক সময় গাছ মারা যায়। কপার অক্সিক্লোরাইড জাতীয় ছত্রাকনাশক চ্যাম্পিয়ন ২ গ্রাম/লিটার পানিতে বা বিটক্স ৪ গ্রাম/ লিটার পানিতে অথবা কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক ব্যাভিস্টিন ১ গ্রাম/লিটার পানিতে অথবা ম্যানকোজেব গ্রুপের ডাইথেন এম ৪৫ ২ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
উত্তম কুমার, উপজেলা : শেরপুর, জেলা : বগুড়া
প্রশ্ন : কাঁঠালের মুচি কালো হয়ে ঝরে পড়ছে। করণীয় কী?
উত্তর : এটি কাঁঠালের মুচি পচা রোগ। ৎযরুড়ঢ়ঁং ংঢ়. নামক ছত্রাক ধারা এ রোগ হয়। এ ছত্রাকের আক্রমণের ফলে বাদামি দাগ পড়ে দাগগুলো কালচে হয় ও মুচি পচে যায়। পচা অংশে অনেক সময় সাদা মাইসেলিয়াম দেখা যায়। ম্যানকোজেব জাতীয় ছত্রাকনাশক ডাইথেন এম-৪৫ বা ইন্সেফিল এম- ৪ ২ গ্রাম অথবা কার্বেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক এমকোজিম ২ গ্রাম অথবা প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে দশ (১০) দিন পর পর ২-৩ বার শেষ বিকেলে স্প্রে করতে হবে।
জনাব সজল, উপজেলা : মঠবাড়িয়া, জেলা : পিরোজপুর
প্রশ্ন : শসার পাতা ও ফলে কালো কালো দাগ দেখা যাচ্ছে। করণীয় কী?
উত্তর : এটি শসার এনথ্রাকনোজ রোগ। পড়ষষবঃড়ঃৎরপযঁস ংঢ়. নামক ছত্রাক দ্বারা এ রোগ হয়। এ রোগে আক্রান্ত পাতা ও ফলে ছোট ছোট কালো পচা দাগ দেখা যায়। পরবর্তীতে দাগগুলো একত্র হয়ে গাছ ও ফল পচে যায়। কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের নোইন ১ গ্রাম অথবা প্রোপিকোনাজল গ্রুপের টিল্ট ০.৫ মিলিলিটার বা কপার অক্সিক্লোরাইড গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ২ গ্রাম হারে স্প্রে করতে হবে ৭ দিন পরপর ৩ বার।
শরিফ, উপজেলা : নড়িয়া, জেলা : শরীয়তপুর
প্রশ্ন : আদা পাতার মাঝে ডিম্বাকৃতির দাগ দেখা যাচ্ছে। দাগগুলোর মাঝে সাদা বা ধূসর রং দেখা যায়। এই সমস্যা থেকে কিভাবে পরিত্রাণ পেতে পারি?
উত্তর : আদার পাতায় দাগ পড়া একটি ছত্রাকবাহিত রোগ। পড়ষষবঃড়ঃৎরপযঁস ংঢ়. নামক ছত্রাক দ্বারা এ রোগের বিস্তার ঘটে। এ রোগের আক্রমণ দেখা দিলে ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক ডাইথেন এম ৪৫ ২ গ্রাম বা কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাক নাশক ব্যাভিস্টিন বা নোইন প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এ ছাড়া রোগ প্রতিরোধক জাত ও রোগমুক্ত গাছ থেকে কন্দ ব্যবহার করতে হবে।
আব্দুর রহিম, উপজেলা : আত্রাই,  জেলা : নওগাঁ
প্রশ্ন : বরবটি গাছে এক ধরনের পোকা পাতার সবুজ অংশ খেয়ে ফেলেছে। এই পোকা কিভাবে দমন করতে পারি?
উত্তর : বরবটি গাছে বিছা পোকার আক্রমণ হয়েছে। এ পোকার আক্রমণ দেখা দিলে সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের রিপকর্ড ১ মিলি অথবা ফেনিট্রোথিয়ন গ্রুপের সুমিথিয়ন ২ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে ১০ দিন পরপর ৩ বার। এ ছাড়া পোকার ডিম ও বাচ্চা হাত দিয়ে বাছাই করতে হবে।
হুমায়ুন শেখ, উপজেলা : শ্রীপুর, জেলা : গাজীপুর
প্রশ্ন : কলাগাছের পাতায় ছোট ছোট হলুদ দাগ দেখা যাচ্ছে। দাগগুলো ক্রমশ বড় হয়ে বাদামি রং ধারণ করে এবং পাতা পুড়ে যাচ্ছে। কিভাবে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি?
উত্তর : এটি কলাগাছের সিগাটোকা রোগ নামে পরিচিত। পবৎপড়ংঢ়ড়ৎধ সঁংধব নামক ছত্রাক দ্বারা ও রোগের বিস্তার ঘটে। প্রতিকার হিসেবে প্রোপিকোনাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক টিল্ট ২৫০ ইসি ০.৫ মিলি অথবা কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক ব্যাভিস্টিন ১ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে ৩ বার। এ ছাড়া আক্রান্ত গাছের পাতা পুড়ে ফেলতে হবে।

লেখক : তথ্য অফিসার (উদ্ভিদ সংরক্ষণ), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৯১৬৫৬৬২৬২; ই-মেইল : aklimadae@gmail.com

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন