কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫ এ ০৫:২২ PM

পেঁয়াজের ফলন পার্থক্য : কারণ ও হ্রাসের উপায়

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: ভাদ্র সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৭-০৮-২০২৫

পেঁয়াজের ফলন পার্থক্য : কারণ ও  হ্রাসের উপায়
ড. মো. আলাউদ্দিন খান
বাংলাদেশে ২.০৪ লক্ষ হেক্টর জমিতে বছরে প্রায় ২৫.৪৭ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়, যার গড় ফলন ১২.৫১ টন/হেক্টর। পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা এবং ঘাটতি যথাক্রমে প্রায় ৩৫.৫০ ও ১০.০৩ লক্ষ মেট্রিক টন (ইইঝ, ঝজঈ, ২০২৪)। এ ঘাটতির অন্যতম কারণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পেঁয়াজের উদ্ভাবিত জাতের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ফলনের তুলনায় কৃষকের মাঠের ফলন খুবই কম। কৃষকের মাঠে চাষকৃত বারি পেঁয়াজ-৪, বারি পেঁয়াজ-৬ এবং লাল তীর কিং এর সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ফলন যথাক্রমে ২২, ২০ এবং প্রায় ২০ টন/হেক্টর (ইঅজও, ২০২০ এবং খঞঝখ, ২০২৪), যার গড় ফলন প্রায় ২০.৬৭ টন/হেক্টর। উপরোক্ত তথ্য মোতাবেক বাংলাদেশে পেঁয়াজের ফলন পার্থক্য কমবেশি ৮.১৬ টন/হেক্টর (সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ফলনের প্রায় ৩৯.৪৮%) কিন্তু অন্য গবেষকদের মতে, এদেশে পেঁয়াজের ফলন পার্থক্য ২৬-৩৩% (ওংষধস বঃ ধষ., ২০১১)। ভারতের মহারাষ্ট্রে ড্রিপ সেচ এবং ড্রিপ সেচ ছাড়া (ভাসমান সেচ) পেঁয়াজের ফলন পার্থক্য যথাক্রমে ৩.১৫ (প্রায় ৮.০০%) ও ১৬.০২ (প্রায় ৩৪.৭১%) টন/হেক্টর (কধষব বঃ ধষ., ২০২৪)। বাংলাদেশে বিভিন্ন ফসলে ৬০% পর্যন্ত ফলন পার্থক্য বিদ্যমান (গড়হফধষ, ২০১১)।
ফলন পার্থক্যের কারণ 
পেঁয়াজের ফলন পার্থক্যের কারণগুলো হলো : কৃষক কর্তৃক নিজস্ব বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উচ্চফলনশীল জাতের সীমিত পরিসরে ব্যবহার, মিশ্রিত নিম্নমানের বীজের ব্যবহার, পেঁয়াজ উৎপাদনে গতানুগতিক অনুন্নত চাষ পদ্ধতি, উন্নত প্রযুক্তি সম্পর্কে  কৃষকের জ্ঞানের অপর্যাপ্ততা, অপর্যাপ্ত এবং অনুপযুক্ত সম্প্রসারণ কার্যক্রম, উন্নত প্রযুক্তি সম্পর্কে অপর্যাপ্ত কৃষক/সম্প্রসারণকর্মী, প্রশিক্ষণ/প্রযুক্তির প্রদর্শন, অনুর্বর মাটি (উদ্ভিদ পুষ্টি ও জৈব পদার্থের ঘাটতি), অনুপযুক্ত সার/সেচ/আগাছা/রোগবালাই দমন ব্যবস্থাপনা, অনিশ্চিত আবহাওয়া (বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, ক্ষরা, লবণাক্ততা, ঝড়/বন্যা, শিলাবৃষ্টি ইত্যাদি)। 
ফলন পার্থক্য হ্রাসের উপায়
পেঁয়াজের উন্নত জাত ও প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও এর পূর্ণ সম্ভাবনা বিভিন্ন কারণে এখনো ভালোভাবে কাজে লাগানো যায়নি। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান লোকসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বর্তমানে বিদ্যমান জমিতেই (২.০৪ লক্ষ হেক্টর) উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগ করে পেঁয়াজের ফলন বৃদ্ধির মাধ্যমে মোট উৎপাদন বাড়াতে হবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অর্জিত প্রাপ্ত সর্বোচ্চ সম্ভাব্য ফলন প্রকৃতপক্ষে কৃষকের মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে অর্জন করা সম্ভব নয়। তবে উন্নত জাত, সমন্বিত ফসল ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির পূর্ণ সম্ভাবনা ভালোভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমে অর্জনযোগ্য ফলন আহরণ করে পেঁয়াজের ফলন পার্থক্য হ্রাস করা সম্ভব, যা নি¤েœ সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো।
উচ্চফলনশীল জাত ও মানস্পন্ন বীজের ব্যবহার : বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১০০০-১১০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বীজের প্রয়োজন হয়, যার বেশির ভাগই কৃষক উৎপাদন করে। কৃষক কর্তৃক উৎপাদিত বীজের প্রায় ১০০% বিভিন্ন জাতের মিশ্রণ। ফলন পার্থক্য হ্রাসের জন্য নিজস্ব বৈশিষ্ট্যপূর্ণ (ঞৎঁব-ঃড়-ঃুঢ়ব) উচ্চফলনশীল বারি পেঁয়াজ-৪, বারি পেঁয়াজ-৫ (খরিপ), বারি পেঁয়াজ-৬, লাল তীর কিং ইত্যাদি জাত ব্যবহার করতে হবে। কথায় আছে, ভালো বীজে ভালো ফসল। পেঁয়াজের বীজের অঙ্কুরোদগমের আদর্শ হার ৬৫-৭০%। সঠিক বীজ উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত সার ব্যবস্থাপনা, জাতের যথাযথ           রোগবালাই/আগাছা নিয়ন্ত্রণ, সময়মতো হাত পরাগায়ন, কদম কর্তনের উপযুক্ত সময় এবং সংগ্রহ পূর্ব/উত্তর সঠিক ব্যবস্থাপনা যথোপযুক্ত হলে অঙ্কুরোদগমের হার ১০০% পর্যন্ত হতে পারে।                                                                                       
আবহাওয়ায় অভিযোজন : বৈশি^ক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে পেঁয়াজ উৎপাদন মৌসুমে ইদানীং উচ্চতাপমাত্রা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে পেঁয়াজের চারা আগাম রোপণ করতে হবে। অত্যধিক তাপমাত্রায় গাছের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনে নাইট্রোজেন সারের মাত্রা বাড়াতে হবে। খরা/তাপসহনশীল পেঁয়াজ জাতের উদ্ভাবন এবং এর চাষের ব্যবস্থা করতে হবে। পানি সেচের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খরা অঞ্চলে ড্রিপ/স্প্রিংকলার সেচের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। লবণাক্ত জমিতে প্রয়োজন মতো পটাশ/জিপসাম সার প্রয়োগ করে ফসলকে ঘধ এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে হবে (ঐধয়ঁব, ২০০৬)। বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, ঝড় ইত্যাদি আবহাওয়াজনিত কারণে পেঁয়াজকে দ্বিতীয় ধাপে ছত্রাক দ্বারা আক্রমণের ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য ছত্রাকনাশক স্প্রে করাই ভালো।
উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থাপনা : পেঁয়াজে উত্তম রোপণ দূরত্ব সাধারণত ১৫ সেমি.দ্ধ১০ সেমি., বেশি হলে ফলন মারাত্বকভাবে হ্রাস পায়। সাধারণত তবে জাতভেদে এ রোপণ দূরত্ব কমবেশি হতে পারে। রবি পেঁয়াজের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় ডিসেম্বরের ১৫-৩০ তারিখের মধ্যে এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উপযুক্ত সময় মার্চ থেকে অক্টোবর। উপযুক্ত সময়ের আগে চারা রোপণ করলে নিম্নতাপমাত্রায় অনাকাক্সিক্ষত ফুলের (ইড়ষঃরহম) সংখ্যা মাত্রারিক্ত হওয়ার কারণে ফলন হ্রাস পায়। এ জন্য বোল্টিং সহনশীল জাত (বারি পেঁয়াজ-৪) ব্যবহার করতে হবে। উপযুক্ত সময়ের পরে চারা রোপণ করলে উচ্চতাপমাত্রার কারণে অনাকাক্সিক্ষত ফুল উৎপাদন হয় না কিন্তু গাছের সঠিক বৃদ্ধি না পাওয়ায় কন্দের ফলন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। গবেষকদের মতে, পেঁয়াজের ১০-৩০ টন/হেক্টর পর্যন্ত ফলন প্রাপ্তির লক্ষ্যে সারের সর্বোত্তম মাত্রা হলো ৯৫-১৬০ নাইট্রোজেন (ঘ), ৫০-১০০ ফসফরাস (চ), ৫০-১৫০ পটাশিয়াম (ক) এবং ৩০-৭৫ সালফার (ঝ) (কেজি/হেক্টর)। পেঁয়াজের চারা রোপণের ১৫-৬০ দিনের মধ্যে গাছ সর্বোচ্চ পরিমাণ ঘ/চ/ক/ঝ গ্রহণ করে, ফলে পুষ্টি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি ও এর ফলন বৃদ্ধির জন্য রোপণের ৬০ দিন আগে সার প্রয়োগ করা উচিত (কযড়শযধৎ, ২০১৯)। পেঁয়াজে  বোরন (ই) (১.৫ কেজি/হেক্টর ) ও জিংক (তহ) (৪-৫ কেজি/হেক্টর) সার প্রয়োগ করলে ফলন বৃদ্ধি পায়। রাসায়নিক সারের সাথে খামারজাত সার ৫ টন/হেক্টর, ভার্মিকম্পোস্ট ২ টন/হেক্টর ও বায়োফার্টিলাইজার (অ্যাজোটোব্যাক্টার) ৫ কেজি/হেক্টর জৈবসার প্রয়োগ করলে ফলন বাড়ে। পেঁয়াজ চাষে সেচের দক্ষতা এবং ফলন বৃদ্ধিতে ভাসমান সেচের পরিবর্তে ড্রিপ সেচ প্রয়োগ করতে হবে। পেঁয়াজের গাছ ৫০% এর বেশি ভেঙে পড়ার পরে পেঁয়াজ মাঠ থেকে সংগ্রহ করলে ফলন বৃদ্ধি পায়। কৃষকের প্রচলিত চাষ পদ্ধতির তুলনায় উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি প্রয়োগ করলে পেঁয়াজের ফলন ১৯-২০% বৃদ্ধি পায়। তবে উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োগ করে পেঁয়াজের ফলন ২৬-৩৩% বৃদ্ধি করার সুযোগ আছে (ওংষধস বঃ ধষ., ২০১১)।
সম্প্রসারণ কার্যক্রম : উন্নত প্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকের মধ্যে সম্প্রসারণ কার্যক্রমের ফলে ফলন অনেক গুণ বেড়ে যায়। উন্নত প্রযুক্তির ওপর কৃষক/সম্প্রসারণকর্মী প্রশিক্ষণ, কৃষকের মাঠে প্রযুক্তির প্রদর্শন, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কর্র্র্তৃক পেঁয়াজের মাঠ পরিদর্শন/পর্যবেক্ষণ, কৃষক-গষেক-সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় ফলন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ভারতে অধিক এবং কম প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে ড্রিপ সেচ পরিচালনায় পেঁয়াজের ফলন পার্থক্য পাওয়া গিয়াছে যথাক্রমে ৩.০৬ এবং ৭.৪৩ টন/হেক্টর (কধষব বঃ ধষ., ২০২৪)। 
আগাছা ও রোগবালাই দমন ব্যবস্থাপনা : আগাছা ফসলের ৪০-৮০% পর্যন্ত ফলন হ্রাস করতে পারে। পেঁয়াজ চাষে চারা রোপণের ৪০-৬০ দিনের (ঈৎরঃরপধষ ঢ়বৎরড়ফ) মধ্যে জমিকে আগাছামুক্ত রাখতেই হবে, নতুবা ফলন ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে। সমন্বিতভাবে পেঁয়াজের চারা রোপণের ৩-৭ দিন পূর্বে ভিজা জমিতে পেন্ডিমেথালিন ২.০০ লিটার/হেক্টর স্প্রে + পেঁয়াজের চারা রোপণের ৪৫ দিন পর একই হারে পেন্ডিমেথালিন স্প্রে + চারা রোপণের ৬৫ দিন পর একবার নিড়ানি ব্যবহার করে হাতের মাধ্যমে আগাছা নিয়ন্ত্রণ করলে এর আগাছা দমন কার্যকারিতা বেশি। পেঁয়াজে পার্পল ব্লচ, স্টেমফাইলিয়াম ব্লাইট, বট্র্রাইটিস লিফ ব্লাইট, আইরিশ ইয়েলো স্পট (থ্রিপস দ্বারা ছড়ায়), পিংক রট, কন্দ পচা ইত্যাদি রোগ হতে পারে। থ্রিপস, অনিয়ন ম্যাগোট, কাটুই পোকা, লিফ মাইনার, নেমাটোড ইত্যাদি পোকা দ্বারা পেঁয়াজ আক্রান্ত হয়ে থাকে। সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ সমস্ত রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মাটির সৌরকরণ (ঝড়ষধৎরুধঃরড়হ), পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ, সুস্থ বীজ/চারার ব্যবহার, বীজ/চারা শোধন (২.৫ গ্রাম প্রোভ্যাক্স ২০০ ডব্লিউপি বা অটোস্টিন ৫০ ডব্লিউডিজি/কেজি বীজ), রোগের প্রতি সহনশীল পেঁয়াজের জাতের ব্যবহার (বারি পেঁয়াজ-৪), সুষম সারের ব্যবহার, শস্যাবর্তন এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন ছত্রাকনাশক পর্যায়ক্রমে ১০-১৫ দিন পর পর ৫-৬ বার স্প্রে করণ এর মাধ্যমে পেঁয়াজ রোগমুক্ত রেখে ফলন বৃদ্ধি করতে হবে। ইপ্রোডিয়ন (রোভরাল ৫০ ডব্লিউপি) ২ গ্রাম/লিটার পানি, ডাইফেনোকোনাজল+এ্যাজোক্সিস্ট্রবিন (এমিস্টার টপ ৩২৫ এসসি) বা ফ্লুপাইরাম+ট্রাইফ্লুক্সিস্ট্রবিন (লুনা সেনসেশন) ১ মিলি/লিটার পানি ইত্যাদি ঔষধ স্প্রে করতে হবে। থ্রিপস নিয়ন্ত্রণে ইমিডাক্লোরোপিড (গেইন, ইমিটাফ) ০.৫ মিলি/লিটার পানি, নেমাটোড/অনিয়ন ম্যাগোট নিয়ন্ত্রণে ক্যাডুসাফোস (রাগবি ৫ জি) ৩০-৩৫ কেজি/হেক্টর, কাটুই পোকা নিয়ন্ত্রণে হাত দ্বারা বা প্লাবন সেচ, লিফ মাইনার নিয়ন্ত্রণে এমামেকটিন বেনজয়েট (প্রোক্লেইম) ১ গ্রাম/লিটার পানি ব্যবহার করতে হবে।         
মাটির উর্বরতা : মাটির উর্বরতার প্রধান উপাদানগুলো হলো জৈব পদার্থের পরিমাণ, মুখ্য/গৌণ পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা, ঢ়ঐ মান, মাটির প্রতিক্রিয়া এবং মাটির ভৌত বৈশিষ্ট্য যেমন- বুনট, গঠন, গভীরতা ইত্যাদি। ভালো ফলনের জন্য পেঁয়াজের জমিতে পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ প্রয়োগ করতে হবে। পেঁয়াজের জন্য সর্বোত্তম ঢ়ঐ মান ৬.৫। বেলে-দো-আঁশ মাটিতে পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়। পেঁয়াজের জমিতে উপযুক্ত সময়ে সুষম মাত্রায় মুখ্য/গৌণ পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করতে হবে। অম্লীয় মৃত্তিকার ভৌত, রাষায়নিক ও জৈব গুণাগুণ উন্নয়ন এবং সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি ৩ বছর পর পর ৪ কেজি/শতাংশ মাত্রায় চুন প্রয়োগ করা আবশ্যক (ঝজউও, ২০২৩)।  
অবকাঠামো উন্নয়ন : কৃষকের খামারে বিভিন্ন অবকাঠামো যেমন, খামারের আকার, খামার যন্ত্রপাতি, সেচ/নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা, দক্ষ শ্রমিক সংখ্যা, জৈবসার উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি ফলন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
কৃষকের আর্থসামাজিক অবস্থা : জমি চাষের ব্যয়, কৃষি যন্ত্রপাতি/বীজ/জৈব-জৈব সার ক্রয় ব্যয়, ছত্রাক/পোকা-মাকড়/আগাছানাশক ক্রয়, সেচ প্রদান/ফসল সংগ্রহ ব্যয় ইত্যাদি আর্থিক দক্ষতা ফলনের উপর প্রভাব পড়ে। এ ছাড়াও বড় খামারের অধিকারী কৃষকের চেয়ে মধ্যম ও ছোট খামার অধিকারী কৃষকের তুলনামূলকভাবে ৫.৩% এবং ১৪% প্রযুক্তিগত দক্ষতা কম থাকে, কারণ বড় খামারির ফসল চাষ সংক্রান্ত সকল উপকরণ সংগ্রহ এবং ব্যবহারের সক্ষমতা বেশি থাকে। পেঁয়াজ চাষে তরুণ ও বয়স্ক কৃষকের তুলনায় মধ্যম বয়সের (কম/বেশি ৪০) কৃষক অধিক দক্ষ এবং উপযুক্ত। পাশাপাশি কৃষক সক্রিয়ভাবে সমবায় পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ করলে ফলন বাড়ে (ঊসসধহঁবষ বঃ ধষ., ২০২৪)।

লেখক : প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মসলা গবেষণা উপকেন্দ্র, বিএআরআই, ফরিদপুর, মোবাইল : ০১৭১১-৫৭৩৩৬১, 
ই-মেইল : khanalauddinsrsc@gmail.com

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন