কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫ এ ০৫:১১ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: শ্রাবণ সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৬-০৭-২০২৫
পুষ্টি নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকট
নিরসনে বারি অড়হর-১
ড. মোঃ আলতাফ হোসেন
অড়হর একটি ঔষধি গুণসম্পন্ন ডালজাতীয় ফসল। গ্রামাঞ্চলে আঞ্চলিক ভাষায় এটা আটর কালাই বা আড়ল কালাই নামে পরিচিত। এতে প্রায় ২২% আমিষ, ৬৩% কার্বোহাইড্রেট, ১৫% ফাইবার ছাড়াও বিভিন্ন ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে। সুতরাং আমাদের পুষ্টি নিরাপত্তায় অড়হর ডালের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অড়হরের পাতা ও বীজ নানা ধরনের রোগের চিকিৎসায় যেমন- ঠা-াজনিত সমস্যা, আলসার, পাকস্থলির টিউমার, অন্ত্রীয় কৃমিনাশক, আমাশয়, হাম, ম্যালেরিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, যৌন ও চর্ম সংক্রমণ, ডায়বেটিস, জন্ডিস ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ ছাড়া এটা গুল্মজাতীয় স্বল্পস্থায়ী বহুবর্ষজীবী গাছ হওয়ায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জ¦ালানির চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার নানা ধরনের চাহিদানুযায়ী নানা কারণে দিন দিন দেশের বনজ সম্পদ কমে যাচ্ছে। রান্নার কাজে জ¦ালানির সংকট দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে। দেশের ৫৯.৩১ শতাংশ পরিবার রান্নার প্রধান জ¦ালানি হিসেবে কাঠ, খড়ি বা লাকড়ি ব্যবহার করছেন। পল্লী এলাকার পরিবারগুলোর ৭০.১৬ শতাংশ এবং শহরের পরিবারগুলোর ৩৫.৬৪ শতাংশ রান্নার কাজে কাঠ, খড়ি বা লাকড়ি ব্যবহার করেন (বিবিএস, জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১)। এখান থেকে সহজেই অনুমেয় যে, রান্নার জন্য জ¦ালানির চাহিদা এবং সংকটের তীব্রতা এ ক্ষেত্রে বারি অড়হর-১ এর গাছের ডাল-পালা একটি লাগসই প্রযুক্তি হিসেবে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জ¦ালানি নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
বাংলাদেশে বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণত পতিত জমিতে অড়হরের চাষ হয়ে থাকে। তবে বেশির ভাগ অড়হরের চাষ করা হয় কুষ্টিয়া, নওগাঁ, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, যশোর ও কুমিল্লা জেলায়। বর্তমানে দেশে মোট প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের অড়হর চাষ হয় এবং ৩৫০ মেট্রিক টন অড়হর উৎপাদিত হয়, যার গড় ফলন ১১৬৭ কেজি/হেক্টর (কৃষি ডায়েরি, ২০২৪)। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডাল গবেষণা কেন্দ্র, ঈশ^রদী, পাবনা হতে বাংলাদেশে প্রায় সকল অঞ্চলে চাষাবাদযোগ্য বারি অড়হর-১ নামে একটি উচ্চফলনশীল অড়হরের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ২০২৩ সালে অবমুক্ত করা হয়। এটি একটি বহুবর্ষজীবী গাছ তবে সাধারণত বর্ষজীবী হিসাবে চাষ করা হয়ে থাকে। গাছ ঝোঁপালো, ঘন সবুজ পাতা ও ডালপালাযুক্ত, খাড়া ও শক্ত এবং গাছের উচ্চতা ২-৩ মিটার, প্রাথমিক শাখার সংখ্যা গড়ে ৭-৮টি, প্রতি পুষ্পমঞ্জরিতে পডের গড় সংখ্যা ২০টি, প্রতি পডে বীজের সংখ্যা ৪-৫টি এবং বীজের রং লালচে বাদামি। সবগুলো ফল প্রায় একই সাথে পরিপক্ব হয় এবং জীবনকাল ২৬০-২৭৫ দিন। বীজের ফলন প্রতি গাছে ৮০০-১২৫০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে, তবে গড় ফলন প্রতি গাছে ৮০০-৯০০ গ্রাম এবং হেক্টরপ্রতি বীজের ফলন ১৮০০-২২০০ কেজি। বীজ সংগ্রহের পর অড়হর গাছের শুকনো ডালপালা রান্নার কাজে খুব ভালো জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। প্রতি গাছে ৭০০-১৩০০ গ্রাম এবং গড়ে ৯০০ গ্রাম ডালপালা জ¦ালানি হিসেবে পাওয়া যায়। হেক্টরপ্রতি যার পরিমাণ ২০০০-২৫০০ কেজি। মুড়ি ফসল (জধঃড়ড়হ ঈৎড়ঢ়) হিসেবে গাছকে রেখে দিলে দ্বিতীয় বারও ফসল ও জ¦ালানি পাওয়া যায়।
আমাদের দেশে একক ফসল হিসেবে ফসলি জমিতে অড়হর চাষের তেমন সুযোগ নেই। কিন্তু আংশিক ছায়া পছন্দকারী বিভিন্ন ফসল যেমন-কচু, আদা, হলুদ বা অন্য ফসলের সাথে আন্তঃফসল, মিশ্রফসল বা সাথী ফসল হিসেবে চাষের সুযোগ রয়েছে। তবে দেশের ৩,৭৫,০০০ কিলোমিটার সড়ক ও মহাসড়কে এবং ৩৬০০ কিলোমিটার রেলপথ ও গ্রামীণ রাস্তার দুই পাশের্^র পতিত জমিতে, বসতবাড়ির প্রায় ২.৫ লক্ষ হেক্টর পতিত জমিসহ পাহাড়াঞ্চল ও অন্যান্য সুনিষ্কাশিত পতিত জমিতে বারি অড়হর-১ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। নি¤েœ এর চাষাবাদ প্রযুক্তি আলোকপাত করা হলো-
চাষাবাদ প্রযুক্তি আবহাওয়া ও জলবায়ু : অড়হর একটি গরম আবহাওয়ার ফসল। সাধারণত ২৫-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অড়হর চাষের জন্য আদর্শ। অঙ্কুরোদগমের সময় ৩০-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং গাছের অঙ্গজ বৃদ্ধি পর্যায়ে আর্দ্র এবং উষ্ণ আবহাওয়া হলে ভালো হয়। তারপর ধীরে ধীরে শুষ্ক ও ঠা-া আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় বিশেষ করে ফুল ও শুঁটির বিকাশের পর্যায়ে ১৫-১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফুল ফোটার সময় মেঘলা আবহাওয়া, অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং ঘন কুয়াশায় পরাগায়ন ব্যাহত হয়ে ফলন কমে যায়। অপরদিকে, পরিপক্বতার সময় উচ্চতাপমাত্রার (৩৫-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) প্রয়োজন হয়। খরা সহনশীলতা অড়হরের একটি বড় গুণ, এর জন্মানোর জন্য প্রয়োজনীয় গড় বৃষ্টিপাত ৬০০ থেকে ৬৫০ মিমি। একবার স্থাপিত হলে খরা পরিস্থিতির মধ্যেও স্বল্প রসে দীর্ঘ সময়ের জন্য বেঁচে থাকতে পারে।
জমি নির্বাচন ও তৈরি : পানি জমে না এমন উঁচু ও মাঝারি উঁচু প্রায় সব ধরনের মাটিতেই অড়হর চাষ করা যায়। তবে মাটির পিএইচ মাত্রা ৫.৫ থেকে ৭.৫ সহ ছায়াবিহীন উর্বর এবং সুনিষ্কাশিত দো-আঁশ মাটি অড়হর চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। অড়হর চাষের জন্য খুব উত্তমরূপে জমি তৈরির তেমন দরকার হয় না। সাধারণত ১ থেকে ২ বার চাষ ও মই দিয়ে ভালোভাবে সমান করতে হয়। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য মাঝে মাঝে জমিতে নালার ব্যবস্থা রাখা আবশ্যক, যেগুলো প্রয়োজনে সেচের নালা হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।
সার প্রয়োগ : অড়হর ফসলে সারের তেমন প্রয়োজন হয় না। তবে অনুর্বর জমিতে হেক্টরপ্রতি ৪০-৪৫ কেজি ইউরিয়া, ৮০-৯০ কেজি টিএসপি, ৩০-৪০ কেজি এমওপি, ৫০-৫৫ কেজি জিপসাম, ৭-১০ কেজি বোরাক্স/বরিক এসিড এবং ১-২ টন জৈবসার শেষ চাষের সময় অথবা গর্তে প্রয়োগ করে মাটিতে মেশানোর পর বীজ বপন করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
বপনের সময়, বীজের হার ও বপন পদ্ধতি : কাক্সিক্ষত ফলনের জন্য সঠিক সময়ে বীজ বপন আবশ্যক। মে মাস থেকে জুন মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত (বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত) বীজ বপনের উত্তম সময়, এতে ভালো ফলন পাওয়া যায়। তবে এরপরেও বপন করা যাবে, এতে ফলনের পরিমাণ কমে যাবে। বীজ হার সাধারণত বীজ গজানো ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। ভালো অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা (৯০% বা তার বেশি) সম্পন্ন বীজ হলে, সারিতে বপন করলে প্রতি হেক্টরে ১ কেজি বীজের প্রয়োজন হবে। ভালোভাবে গাছের বৃদ্ধির জন্য সারি থেকে সারির দূরত্ব ২.০ থেকে ২.৫ মিটার এবং গাছ হতে গাছের দূরত্ব ২.০ মিটার করে রাখতে হবে। বীজ ছোট ছোট গর্ত করে অথবা খুপী (উরননষরহম) পদ্ধতিতে বপন করতে হবে। গাছের সংখা ঠিক রাখার জন্য প্রতি গর্তে ২-৩টি বীজ বপন করতে হবে এবং গাছ ১৮-২০ ইঞ্চি বড় হলে একটি সবল চারা রেখে বাকি চারাগুলো তুলে ফেলতে হবে। এ ছাড়া পলিব্যাগে চারা করেও রোপণ করা যেতে পারে।
সেচ ও নিষ্কাশন : বীজ বপনের সময় জমিতে পরিমিত মাত্রায় রস না থাকলে বীজ বপনের পরপরই হালকা সেচ দিতে হবে অথবা বীজ বপনের পূর্বেই সেচ দিয়ে ‘জো’ অবস্থায় এনে বীজ বপন করতে হবে। অড়হর প্রধানত বৃষ্টিনির্ভর ফসল হওয়ায় গাছ বড় হলে সেচ দেয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে অনেক সময় উঁচু জমিতে ফুল আসার সময় এবং শুঁটি বৃদ্ধির সময় প্রচ- খরা পরিস্থিতি থাকলে প্রয়োজনে সেচ দিলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। অড়হর যেহেতু পানি সহ্য করতে পারে না, বিধায় পানি নিষ্কাশনের জন্য অবশ্যই নালার ব্যবস্থা থাকতে হবে, অন্যথায় সেচের বা বৃষ্টির পানি জমে থাকলে শিকড় পচে গাছ মারা যেতে পারে।
আন্তঃপরিচর্যা : প্রাথমিক পর্যায়ে অড়হরের চারার বৃদ্ধি ধীরে হয় এবং গাছও বেশ দুর্বল থাকে। তাই এই অবস্থায় আগাছার সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে না। এজন্য গাছের গোড়া ৩০ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত নিড়ানি দিয়ে বা আগাছানাশক প্রয়োগ করে আগাছামুক্ত রাখতে হবে, তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন আগাছানাশক গাছে না পড়ে। ঝড়-বৃষ্টিতে যেন গাছ হেলে না পড়ে সেজন্য ছোট অবস্থায় গাছকে খুঁটি দিয়ে বেঁধে দিতে হবে।
পোকামাকড় ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনা : অড়হর ফসলে ফ্লি বিটল, কাউ বাগ, পাতা মোড়ানো পোকা ও জাবপোকার আক্রমণ পরিলক্ষিত হয় তবে ক্ষতিকর পর্যায়ে নয়। অড়হরে ফুলের থ্রিপস এবং ফুল ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সঠিক মাত্রায় অনুমোদিত কীটনাশক প্রয়োগ করে এদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অড়হর গাছে রোগবালাইয়ের তেমন প্রাদুর্ভাব দেখা যায় না। তবে চারা অবস্থায় গোড়াপচা বা ঢলেপড়া রোগ এবং বৃদ্ধিপর্যায়ে মরিচা রোগ দেখা দিতে পারে। বীজ বপনের পূর্বে বীজ শোধন করে এবং অনুমোদিত ছত্রাকনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ফসল কর্তন, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ : বীজ বপনের ২৬০-২৭৫ দিন পর অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি/মার্চ মাস সময়ের মধ্যে অড়হর পরিপক্ব হয়। তবে কাঁচা ফল (পড) সবজি হিসেবে ব্যবহারের জন্য বীজ পরিপক্ব হওয়ার ৩০-৪০ দিন পূর্বে হাত দিয়ে তুলে ফল সংগ্রহ করতে হয়। পড/শুঁটি পরিপক্ব হওয়ার পর গোড়া থেকে গাছ কেটে আঁটি বেঁধে তা শক্ত মাটিতে বা মাটির উপরে পলিথিন বিছিয়ে অথবা পাকা মেঝেতে ছড়িয়ে অথবা খাড়াভাবে দাঁড় করিয়ে রৌদ্রে রেখে ভালো করে শুকাতে হবে। এরপর লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বা যান্ত্রিক উপায়ে মাড়াই ও ঝাড়াই করে বীজ পরিষ্কার করে নিতে হবে। বীজ সংগ্রহ করার পর ২-৩টি রৌদ্রে শুকিয়ে ৮-৯% আর্দ্রতায় বায়ুরোধী পাত্রে গুদামজাত করতে হবে। ব্রুকিড বা শুসড়ী পোকার আক্রমণ থেকে গুদামজাতকৃত বীজকে সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রতি ১০০ কেজি বীজে ১টি এ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড বড়ি (গ্যাস ট্যাবলেট) ন্যাকড়ার পুঁটলিতে বেঁধে পাত্রের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখতে হবে, এতে বীজ পোকামুক্ত হয়ে সুরক্ষিত থাকবে।
উচ্চফলনশীল বারি অড়হর-১ জাতটি বর্ণিত পতিত জমিগুলোতে যথাযথ পরিকল্পনা অনুযায়ী বপন করলে দেশের অনেক পতিত জমি চাষের আওতায় আসবে। এতে করে বৃহৎ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টি নিরাপত্তা আরো সুরক্ষিত হবে। অধিকন্তু অড়হর গাছের ঔষধী গুণাবলী থাকায় রোগবালাই নিরাময়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে। এ ছাড়াও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম প্রধান সমস্যা রান্নার জন্য জ¦ালানি সংকট, সেটি নিরসনেও অড়হর গাছের শুকনো ডালপালা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এখন দরকার শুধু উদ্যোগ ও সঠিক পরিকল্পনা।
লেখক : মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ডাল গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী, পাবনা। মোবাইল : ০১৭২৫-০৩৪৫৯৫, ই-মেইল :hossain.draltaf@gmail.com