কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ এ ০৬:০৮ PM

পরিবেশবান্ধব গমের আধুনিক চাষাবাদ ও বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: অগ্রহায়ণ সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৬-১১-২০২৫

পরিবেশবান্ধব গমের আধুনিক চাষাবাদ 
ও বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি 
ড. মো: আব্দুল্লাহ্ আল মামুন
গম বাংলাদেশে বর্তমানে ধানের পরেই প্রধান খাদ্য শস্য। বাংলাদেশে আবাদকৃত প্রায় ৩.১১৬ লক্ষ হেক্টর জমিতে ১১.৭২২ লক্ষ টন গম উৎপাদিত হচ্ছে যার হেক্টর প্রতি গড় ফলন প্রায় ৩.৭৬ টন যা দেশের চাহিদার তুলনায় মাত্র ১/৬ অংশ পুরণ করতে পারে।  বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত ৩৮ টি গমের উন্নত জাত ও বেশ কিছু প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে (তথ্যসূত্র : কৃষি ডায়েরি ২০২৫)। এ সমস্ত জাত ও প্রযুক্তি যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে গমের ফলন হেক্টর প্রতি ৪.৫ থেকে ৫.০ টন পর্যস্ত  ফলানো সম্ভব যা গমের আমদানি নির্ভরতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গম চাষের আধুনিক উৎপাদন কলাকৌশল ও বীজ সংরক্ষণ সম্পর্কে সংক্ষেপে প্রধান বিবেচ্য বিষয় গুলো নি¤েœ আলোচনা করা হলো
বপন সময় 
গম বপনের উপযুক্ত সময় ১-১৫ অগ্রহায়ণ (১৫-৩০ নভেম্বর)। তবে উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে শীতের স্থায়িত্ব বেশি বিধায় অগ্রহায়ণ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ (৭ ডিসেম্বর) পর্যন্ত গম বপন করা যায়। দক্ষিণাঞ্চলে মাটি বিলম্বে ‘জোঁ’ অবস্থায় আসার কারণে ৩০ অগ্রহায়ণ (১৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত বীজ বপন করা যেতে পারে। উপযুক্ত সময়ের পরে গম বুনলে প্রতি এক দিন বিলম্বে বপনের জন্য একরপ্রতি প্রায় ১৬-১৮ কেজি ফলন কম হয়। সময় মত গম বপনের জন্য গমের জমিতে পূর্ববর্তী ফসলকে বিবেচনায় রাখতে হবে। যেমন: স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত ব্রি ধান৭৫, বিনাধান১৭ ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে।
জাত নির্বাচন 
ভাল ফলনের জন্য ভাল/আধুনিক জাত নির্বাচন করা পূর্ব শর্ত। আধুনিক জাতের মধ্যে যেমন: বারিগম ৩০, বারিগম ৩২, বারিগম ৩৩, বিডাব্লউএমআরআই গম ১, বিডাব্লউএমআরআই গম ২, বিডাব্লউএমআরআই গম ৩, বিডাব্লউএমআরআই গম ৪ এবং বিডাব্লউএমআরআই গম ৫ ব্যবহার করলে ফলনও ভাল পাওয়া যাবে এবং রোগ বালাই ও কম হবে।
অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা
গমের বীজ বপনের এক সপ্তাহ আগে গমের অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা করতে হবে । মাটি বা বালি, মানকচু বা কলা পাতার ছালার চট, ইত্যাদি যেকোনো পদ্ধতিতে করা যায়। এতে প্রথমে ১০০টি বীজ গণনা করে নিতে হবে। মাটি বা বালি দিয়ে পরীক্ষার ক্ষেত্রে মাটির পাত্রে মাটি বা বালি নিয়ে বীজগুলো ফাঁকা ফাঁকা করে বসাতে হবে। তাই প্রতিদিন পানি দিয়ে তা ভেজা ভেজা রাখতে হবে। বীজ বসানোর ৫-৭ দিন পর গণনা করে দেখতে হবে কতটি সুস্থ-সবল চারা (তিনটি শিকড়সহ) গজিয়েছে। যদি ১০০টির মধ্যে কমপক্ষে ৮০টি সুস্থ-সবল চারা পাওয়া যায়, তবে সেগুলো অবশ্যই ভাল বীজ। 
জমি নির্বাচন 
উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি, যেখানে বৃষ্টি বা সেচের পানি সহজে নেমে যায় এবং নভেম্বর মাসের মধ্যে ‘জোঁ’ আসে এ রকম জমিই গম উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত। দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি গম চাষের জন্য সর্বোত্তম। উপযুক্ত সময়ে গম বপনের জন্য আগাম জাতের আমন ধান (যেমন: ব্রি ধান৫৭, ব্রি ধান৬২, ব্রি ধান৭১, ব্রি ধান৭৫, বিনাধান-১৭) আবাদ করতে হবে। জমিতে পর্যাপ্ত রসের ঘাটতি থাকলে জমি তৈরির আগেই হালকা সেচ দেয়া ভাল। এতে ৩-৪ দিনের মধ্যে ‘জোঁ’ অবস্থায় জমি  তৈরি করা যাবে। জমি উঁচু-নিচু থাকলে বপনের পূর্বেই যথাসম্ভব সমান করে নিতে হবে। অন্যথায়, সেচের পানি প্রয়োজনের তুলনায় কোথাও বেশি ও কোথাও কম হবে এবং গাছের বৃদ্ধি অসমান হবে।
জমির অম্লতা দূরীকরণ
অম্ল মাটিতে (বিশেষত: দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমুুহে) ফসলের বেশিরভাগ খাদ্যোপাদানের সহজলভ্যতা, বিশেষ করে ফসফেট সারের কার্যকারিতা কমে যায়, ফলে গমসহ সকল ফসলের ফলন কম হয়। মাটির অম্লতা মাত্রা ৫.৫ এর কম হলে শতাংশ প্রতি ৪ কেজি হারে ডলোচুন দিলে ফসলের ফলন শতকরা ১৫-২০ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। গম বপনের ৫-৭ দিন আগে মাটিতে ‘জোঁ’ থাকা অবস্থায় ডলোচুন ছিটিয়ে আড়াআড়ি চাষ দিয়ে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। মাটি শুকনো হলে ডলোচুন  প্রয়োগের আগে হালকা সেচ দিয়ে নিতে হবে। মাটিতে ডলোচুন প্রয়োগের পর ৫ দিনের মধ্যে কোনো অবস্থাতেই গম বা অন্য কোন ফসল বপন বা রোপন করা যাবে না। একবার ডলোচুন  প্রয়োগ করলে পরবর্তী ৩ বছর পর্যন্ত সে জমিতে ডলোচুন প্রয়োগের প্রয়োজন নেই।
সার ব্যবস্থাপনা
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট(এসআরডিআই) এর মাধ্যমে মাটি পরীক্ষা করে গমসহ যেকোনো ফসলের জন্য অনুমোদিত মাত্রায় সার প্রয়োগ করা ভাল। মাটি পরীক্ষা করা সম্ভব না হলে উপরে উল্লেখিত হারে সার প্রয়োগ করা যেতে পারে।
গমের সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে, ২/৩ অংশ ইউরিয়া ও অন্যান্য সকল সার জমি  তৈরির শেষ চাষে প্রয়োগ করতে হবে এবং অবশিষ্ট ১/৩ ইউরিয়া  বীজ  বপনের ১৭-২১ দিন পর হালকা সেচের পর প্রয়োগ করতে হবে। ডিএপি সার ব্যবহার করলে (এতে ১৮% নাইট্রোজেনও থাকে বিধায়) শেষ চাষে ইউরিয়া সার প্রয়োগের একরপ্রতি ২১-২৩ কেজি ব্যবহার কমাতে হবে। দস্তা সার কেবল আগের ফসলে প্রয়োগ না করলেই প্রয়োগ করা যেতে পারে।
অঙ্কুরোদগম হার 
বীজের পরিমাণ ৫০-৬০ কেজি/ একর : অঙ্কুরোদগম হারের উপর ভিত্তি করে গমের বীজ হার কমবেশি হতে পারে। যেমন: অঙ্কুরোদগমের হার যথাক্রমে ৮০-৭৫-৭০ শতাংশ হলে বীজের হার যথাক্রমে ৫০-৬০, ৫২-৬২ এবং ৫৪-৬৪ কেজি/একর হতে পারে।
বীজ শোধন 
বীজ ও মাটিবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের জন্য বীজ শোধন করা একান্ত প্রয়োজন। বপনের আগে প্রতি কেজি বীজের সাথে ৩ গ্রাম হারে প্রোভেক্স ২০০ ডব্লিউপি নামক ছত্রাকনাশক মিশিয়ে সহজেই বীজ শোধন করা যায়। বীজ শোধনের সময় বা ছত্রাকনাশক ব্যবহারের সময় হাতে  গ্লোবস্ এবং মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে যাতে রাসায়নিক দ্রব্যাদি শরীরের সংস্পর্শে না আসে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস এর  মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে না পারে।
বপন পদ্ধতি
শেষ চাষের পর আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে দুইবারে বীজ ছিটিয়ে হালকা একটি চাষ ও মই দিতে হবে। এতে সমস্ত জমিতে চারার ঘনত্ব সমান হবে। জমিতে পরিমিত ‘জোঁ’ থাকলে আমন ধান কাটার দিনই পাওয়ার টিলার চালিত বীজ বপন যন্ত্র দিয়ে বীজ বপন করা যায়। এক্ষেত্রে সারি হতে সারির দূরত্ব ২০ সেমি হতে হবে অথবা বা বেড প্লান্টারের সাহায্যে বীজ বপন করলে,  বেড হতে বেডের দূরত্ব ৬০ সেমি এবং প্রতি বেডে দুই সারি বীজ হতে হবে ।
আগাছা দমন 
প্রথম সেচের পর চারার বয়স ২৫-৩০ দিন হলে এবং এসময় মাটিতে জোঁ আসলে নিড়ানী দিয়ে আগাছা দমন করা যায়। তবে শ্রমিক সংকট এবং উৎপাদন খরচ কমানের জন্য বর্তমানে অঙ্কুরোদগম পূর্ব/প্রিইমার্জেন্স আগাছা নাশক : যেমন- পানিডা, ক্লিয়ারআপ ইত্যাদি (পেন্ডিমেথালিন গ্রুপের যেকোনো আগাছানাশক) প্রতি ৫ শতাংশ জমির জন্য ৫০ মিলি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে জমিতে স্প্রে করলে সকল ধরনের আগাছা নিয়ন্ত্রণ হয়। এটি একটি খুবই ফলপ্রসু প্রযুক্তি যা গম বপনের দিন অথবা পরের দিন স্প্রে করতে হবে। আগাছানাশক প্রয়োগের পর গম সংগ্রহ পর্যন্ত আর কোনো আগাছানাশক বা নিড়ানীর প্রয়োজন হয় না।
পাখি তাড়ানো 
বীজ বপনের পর হতে ১০-১২ দিন পর্যস্ত অবশ্যই পাখি তাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তবে পাখি মারা যাবে না।
সেচ ব্যবস্থাপনা
গম চাষে সাধারণত ৩টি সেচের প্রয়োজন হলেও আবহাওয়া ও মাটির অবস্থাভেদে আরোও ২/১টি সেচের প্রয়োজন হতে পারে।
বালাই ব্যবস্থাপনা
রোগ সহনশীল জাতের ব্যবহার : রোগ সহনশীল জাত যেমন :   বারি গম ৩০, বারি গম ৩২, বারি গম ৩৩, বিডাব্লিউএমআরআই গম ১, বিডাব্লিউএমআরআই গম ২, বিডাব্লিউএমআরআই গম ৩, বিডাব্লিউএমআরআই গম ৪ এবং বিডাব্লিউএমআরআই গম ৫  চাষাবাদ ও উপযুক্ত সময়ে (১৫-৩০ নভেম্বর) বীজ বপন এবং বীজ শোধন করার মাধ্যমে সহজেই বালাই দমন করা যায়।
ব্লাস্ট রোগ দমন ব্যবস্থা : ব্লাস্ট মুক্ত গমক্ষেত থেকে গম বীজ সংগ্রহ করতে হবে। ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী বা সহনশীল জাত যেমন-বারি গম ৩৩, বিডাব্লিউএমআরআই গম ৩ ও বিডব্লিউএমআরআই গম ৫ চাষ করেও এ রোগ দমন করা যায়। 
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা : উপযুক্ত সময়ে (অগ্রহায়ণের ১ হতে ১৫ তারিখ) বীজ বপন করলে গমের ব্লাস্ট রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। গমের ব্লাস্ট এবং অন্যান্য রোগ দমনের জন্য প্রতিরোধক ব্যবস্থা হিসেবে শীষ বের হওয়ার সময় একবার এবং ১২-১৫ দিন পর আরো একবার ৫ শতাংশ জমির জন্য ৬ গ্রাম নাটিভো ৭৫ ডব্লিউজি অথবা ১০ মিলি ফলিকুর ২৫০ ইসি বা এমিস্টার টপ ৩২৫ এসসি ১০ মিলি প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ভালভাবে স্প্রে করতে হবে । স্প্রে  করার ফলে গমের পাতা ঝলসানো রোগ, বীজের কালো দাগ রোগ, মরিচা রোগ ইত্যাদিও দমন হবে। 
ইঁদুর দমন : ইঁদুর একটি চালাক প্রাণী। কোনো একক পদ্ধতি অবলম্বন করে ইঁদুর দমন অত্যন্ত কঠিন। বিভিন্ন পদ্ধতি যথা ফাঁদ, বিষটোপ, গ্যাস ট্যাবলেট, আঠা, গর্তে পানি ঢালা বা মরিচের ধোঁয়া দেয়া ইত্যাদি পদ্ধতি অবলম্বন করে ইঁদুর দমন করা যায়। গমের দানার সাথে বিশেষ উপায়ে মিশ্রিত ২% জিঙ্ক ফসফাইড বিষটোপ ইদুঁর দমনে কার্যকর। বাজারে বিভিন্ন বাণিজ্যিক নামে এই বিষটোপ পাওয়া যায়। গর্তের মুখ মাটি দ্বারা বন্ধ করে দিতে হবে। পরদিন যেসমস্ত গর্তের মুখে সরানো মাটির স্তুপ দেখা যাবে সে সমস্ত গর্তের যতখানি ভিতরে সম্ভব কাগজের পুটলিতে ৩-৪  গ্রাম বা ৮-১০ টি বিষমাখা গম (বিষটোপ) ঢুকিয়ে দিয়ে গর্তের মুখ মাটি দ্বারা বন্ধ করে দিতে হবে। এ বিষটোপ খাওয়ার সাথে সাথেই ইঁদুর গর্তের ভিতরই মারা যায়। গর্তে বা গুদাম ঘরে বিষটোপ ব্যবহারের আগে            ২-৩ দিন বিষছাড়া টোপ বা গমের দানা ব্যবহার করে টোপ খেতে অভ্যস্ত করে নিলে ইঁদুরের মৃত্যুর হার অনেক বৃদ্ধি পায়। সক্রিয় গর্তের মুখে বা গুদাম ঘড়ের কিনারা বরাবর ইঁদুরের চলাফেরা করার রাস্তায় বিভিন্ন ধরণের মরণ ফাঁদ পেতেও কার্যকরীভাবে ইঁদুর দমন করা যায়। ফাঁদে টোপ হিসেবে  স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় এমন খাদ্য যেমন মুটকি মাছ, বিস্কুট, আলু, নারিকেলের টুকরা ইত্যাদি টোপ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। ফাঁদে ইঁদুরকে আকৃষ্ট করার জন্য স্ত্রী বা পুরুষ  ইদুরের মলমূত্র, পশম ইত্যাদি ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। 
অন্যজাত বাছাই 
গমের শীষ সম্পূর্ণ বের হওয়ার পর হতে প্রতি সপ্তাহে ১/২  বার অন্যজাত বাছাই করতে হবে এটা ২/৩ সপ্তাহ পর্যন্ত অর্থাৎ গমের শীষ ভারী হয়ে নুয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত করতে হবে। 
শস্য কর্তন, মাড়াই ও ঝাড়াই
পরিপক্ব হলে রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সকালের দিকে গম কাটতে হবে। মাড়াই ও ঝাড়াই এর পর গম বীজ কয়েকদিন হালকা রৌদ্রে এমনভাবে শুকাতে হবে যাতে দাঁত দিয়ে চিবালে কট কট্ করে শব্দ হয়। রৌদ্রে শুকানোর পর গরম বীজ ঠা-া করে পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। বীজ গম ১.৭৫-২.৫০ মিমি ছিদ্রবশিষ্ট চালুনী দিয়ে চালার পর বাছাইকৃত পুষ্ট দানাসমূহ পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। 
বীজ সংরক্ষণ 
বীজের পাত্রে ফাঁকা জায়গা রাখা যাবে না। বীজ দ্বারা পাত্র সম্পূর্ণরূপে ভর্তি করে ঢাকনা দিয়ে মুখ ঢেকে  রাখতে হবে। বীজের পরিমাণ কম থাকলে পাত্রের খালি জায়গা শুকনা বালি, তুষ, নিমপাতার গুঁড়া ইত্যাদি দিয়ে পূর্ণ করে রাখতে হবে। বীজ ভর্তির পর পাত্রের মুখ শক্ত করে ঢাকনা দিয়ে আটকাতে হবে যাতে বাতাস ঢুকতে না পারে। সে জন্য পাত্রের মুখ বন্ধ করার পর পলিথিন দিয়ে বেধে রাখা উচিত। বাজারে বিভিন্ন বাণিজ্যিক নামে অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড (৫৭%) গ্রুপের গ্যাস ট্যাবলেট পাওয়া যায় যা বীজ সংরক্ষণে ব্যবহার করা হয়। বীজের কোনো পাত্রই মাটির সংস্পর্শে রাখা যাবে না। 

লেখক : প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট, নশিপুর, দিনাজপুর মোবাইল : ০১৭১৫৫৭২৫৬৭, 

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন