কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬ এ ১১:০৫ AM

পরিকল্পিতভাবে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে সফল রেশমা

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: চৈত্র সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৫-০৩-২০২৬

পরিকল্পিতভাবে সমন্বিত কৃষি খামার
গড়ে সফল রেশমা
মোঃ গোলাম আরিফ
বাংলাদেশে গতানুগতিক কৃষির বাইরে পরিকল্পিত উপায়ে সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা তেমন দেখা যায় না। তবে সম্প্রতি অবহেলিত কিছু নারী, পুরুষ বা শিক্ষিত তরুণরা ঝুঁকছেন কৃষির দিকে। গড়ে তুলছেন পরিকল্পিতভাবে সমন্বিত কৃষি খামার। হচ্ছেন স্বাবলম্বী ও সফল। ফলে আজ আমরা একজন সফল নারী উদ্যোক্তাকে পেয়েছি, যিনি একাধারে একজন কৃষি উদ্যোক্তা এবং তৈরি করেছেন অসংখ্য কৃষি উদ্যোক্তা, দিচ্ছেন ফ্রি প্রশিক্ষণ ও সমন্বিত খামার গড়ে তুলতে করছেন সার্বিক সহযোগিতা প্রদান। বলছি বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার বোংগা গ্রামের শতভাগ সফল নারী উদ্যোক্তা মোছা: সুরাইয়া ফারহানা রেশমার কথা। তার আজকের সফলতা একদিনে আসেনি। সফলতার পেছনে রয়েছে অনেক চেষ্টা, পরিশ্রম ও চ্যালেঞ্জ। একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে নিজস্ব চেষ্টা, আগ্রহ ও একাগ্রতা দিয়ে এখন সম্পূর্ণ সফল ও স্বাবলম্বী এক নারী। গড়ে তুলেছেন “রেশমা কৃষি উদ্যোগ” নামে সমন্বিত কৃষি খামার। যেখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ভার্মিকম্পোস্ট, ট্রাইকো কম্পোস্ট, দেশি হাঁস-মুরগি, গাভীর দুধ ও মাংসসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করা হয়।
রেশমার সমন্বিত কৃষি খামার তৈরি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, সর্বপ্রথম ২০১৪ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বগুড়া থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ঋণ নিয়ে ১টি গরু ও ১টি ছাগল দিয়ে শুরু হয় তার পথচলা। পরবর্তীতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পল্লী উন্নয়ন একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নেন। কারিগরি সহায়তা ও দিকনির্দেশনা নিয়ে শুরু করেন বিভিন্ন রকম কার্যক্রম। এর মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ, দুগ্ধবর্তী গাভী পালন, ছাগল ও ভেড়া পালন, দেশি হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালন, পুকুরে মাছ চাষ ও নিরাপদ সবজি চাষ উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরো জানান, ২০১৭ সালে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৮টি সিমেন্টের স্যানিটারি রিং এবং অল্প কিছু কেঁচো নিয়ে সর্বপ্রথম কেঁচো/ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেন। প্রথমবারেই তিনি বুঝতে পারেন কেঁচো সার উৎপাদন খুবই সহজ ও অর্থকরী পণ্য। মাত্র ৬০-৬৫ দিন বয়সেই বিক্রি করা সম্ভব। লাভের মুখ দেখে আরো ব্যাপক পরিসরে কেঁচো সার উৎপাদন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। রেশমা মনে করেন, গোবর একটা আবর্জনা, যত্রতত্র ফেলে রাখলে পরিবেশ নষ্ট হয়। তাই নিজের খামারের যতটুকু গোবর পাই সেটুকু কাজে লাগানোর পর গ্রামের অন্যান্য বাড়ি থেকে নির্দিষ্ট দামে গোবর কিনে জৈবসারে রূপ দেন। গোবর/আবর্জনাকে ব্লাক ডায়মন্ডে রূপান্তর করেন। ৯ বছরের ব্যবধানে সমন্বিত খামার হয়েছে সমৃদ্ধ, রেশমা হয়েছেন লাখপতি। বর্তমানে ২০০টি স্যানিটারি রিং, ৭০টি পাকা চৌবাচ্চা, ১৫০০টি ক্যারেট ও খোলা পদ্ধতিতে ভার্মি ও ট্রাইকো কম্পোস্ট উৎপাদন করেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় রেশমা ভার্মি ও ট্রাইকো কম্পোস্টের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। ভার্মিকম্পোস্ট, ট্রাইকো কম্পোস্ট ও অন্যান্য সার মিলিয়ে প্রতি মাসে ১৫০-২০০ মেট্রিক টন জৈবসার উৎপাদন করেন। যেসব শ্রমিক তার খামারে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন তাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। এখানে ২০ এর অধিক নারী ও পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এক সময় যে নারীরা অসহায় ও কষ্টে দিনাতিপাত করত, তারা রেশমা কৃষি উদ্যোগে কাজ করে হয়েছেন স্বাবলম্বী। সকল খরচ বাদ দিয়ে তার খামার থেকে তিনি আয় করছেন প্রতি মাসে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকা। যে আয় দিয়ে তিনি গড়েছেন বাড়ি, কৃষিজমি, দোকানঘরসহ খামারের অন্যান্য স্থাপনা। অর্জন করেছেন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় ও আঞ্চলিক সম্মাননা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার খামারে আগ্রহী জনতা বা উদ্যোগী কেউ আসলে তাকে সকল কার্যক্রম পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিই। সমন্বিত খামার বা উদ্যোক্তা তৈরিতে আমি ব্যাচ আকারে স্বল্পমেয়াদি ফ্রি প্রশিক্ষণ দিচ্ছি ও এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে খামার গড়ে তুলতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছি। ভবিষ্যতে আমার খামারে আবাসিক ভবন তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদি সম্পূর্ণ ফ্রি প্রশিক্ষণ দেয়ার ইচ্ছা আছে। আমি চাই দেশের প্রতিটি জেলায় সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে উঠুক, এর সাথে জড়িত সকল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বাবলম্বী হোক ও দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাক।

লেখক : মোঃ গোলাম আরিফ, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক, কৃষি তথ্য সার্ভিস, আঞ্চলিক কার্যালয়, পাবনা। মোবাইল : ০১৭২৮৬৬০৯২৭,

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন