কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ এ ০৫:৩২ PM

নিরাপদ খাদ্য জোগানে সফল তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা দম্পতি

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: অগ্রহায়ণ সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৬-১১-২০২৫

নিরাপদ খাদ্য জোগানে সফল তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা দম্পতি
কৃষিবিদ মনিরুল হক রোমেল
কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার শিবপুরের বাসিন্দা তাজুল-নাজমা দম্পত্তি। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও কম দামে সেরা পণ্য ভোক্তার হাতে তুলে ধরার ক্ষেত্রে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
২০১৩ বিয়ে হয় নাজমা তাজুল দম্পতির। স্বামী তাজুল ইসলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিয়ের পর দুজনেই কলেজ শিক্ষকতায় যোগদান করেন চট্টগ্রামে। স্বামী তাজুল এবং নাজমার চেতনা ও আত্মবিশ্বাস প্রায় একই। সৃজনশীল কিছু করে অর্থাৎ চাকরি না করে স্বাবলম্বী হওয়া এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ছিল তাদের স্বপ্ন। সেই লক্ষ্যে ২০১৫ সালে নাজমা চাকরি ছেড়ে মাত্র ১২টা টার্কি, ২০০ কোয়েল পাখি এবং ২০টা দেশি মুরগি দিয়ে  নিজ বাড়িতে শুরু করেন ব্যতিক্রমী পোল্ট্রি পালন। ২০১৬ সালে কুমিল্লা যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৩ মাস মেয়াদি ‘গবাদিপশু, হাস-মুরগি পালন, মৎসচাষ, কৃষি ও প্রাথমিক চিকিৎসা’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেকে আরো দক্ষ করে তোলেন।
২০১৭ সালে স্বামী তাজুল ইসলামও চাকরি ছেড়ে নাজমার সাথে এসে যোগ দেন নিজস্ব খামারে এবং এক একর জায়গায়  টার্কি, কোয়েল, তিতির, দেশি মুরগি, ফাওমি মুরগি, বাহারি শাকসবজি, মাশরুম এবং ফিশারি নিয়ে একটি নতুন সমন্বিত খামার শুরু করেন।
এরপর করোনাকালীন সময়ে তাদের ব্যবসার গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়ে। কয়েক বছর পর বড় পরিসরে ফিরে আসেন। শুরু করেন চাষাবাদ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন। তার মধ্যে রয়েছে কোয়েল, দেশি মোরগ, গরু পালন, জৈবসার (ভার্মিকম্পোস্ট) উৎপাদন, ধান, সবজি, কলা ও মাছ চাষ, সরিষা সংগ্রহ করে তেল উৎপাদন, নারিকেলের চিঁড়া, আমসত্ত্ব, বরই ও কুলের আচার তৈরি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে জৈবসার, হলুদ ফাঁদ, ফেরোমন ফাঁদ, বিভিন্ন প্রকার জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে নিরাপদ শাকসবজি উৎপাদন করেন। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে তা বাজারজাত শুরু করেন। 
শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল, আত্মকর্মসংস্থান করে উদ্যোক্তা তৈরি। তাদের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৬০ জন উদ্যোক্তা তৈরি হয়। ‘ফার্ম টু ভোক্তা’ এ স্লোগান নিয়ে তারা ২০১৭ থেকেই নিরাপদ পদ্ধতিতে তাদের ফার্মে উৎপাদিত মাংস, ডিম, দেশীয় ফল, সবজি প্যাকেজ আকারে পুরো দেশে হোম ডেলিভারি দিচ্ছেন। কৃষির পাশাপাশি এ দম্পতি এলাকার বেকার, দুস্থ মহিলাদের নিয়ে হোমমেড নানা ধরনের নিরাপদ খাদ্য তৈরি করেন। তাদের ফার্মে ৫ জন নারীকর্মী রয়েছেন। 
কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার শিবপুরে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নাজমা উঠানে গ্রামের নারীদের নিয়ে বসে নারিকেল কুচি করছেন। এদিকে তাজুল ইসলাম পণ্য ডেলিভারি দিয়ে এসে। বসেছেন গুড়ের প্যাকেজিং করতে। তাকে সহযোগিতা করছেন স্ত্রী নাজমা ও ছেলেমেয়ে। স্কুলে পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে বাচ্চারা মা-বাবার কাজে সহযোগিতা করে থাকে। এতে তারা নির্মল আনন্দে বেড়ে উঠছে।
তাজুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে আমার স্ত্রীর ভূমিকা প্রধান। আমরা ফার্ম থেকে সরাসরি ভোক্তার হাতে পণ্য তুলে দিই। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী নেই। এতে ভোক্তা কম দামে ভালো পণ্যটা পান। শিক্ষিত এ দম্পতির উদ্যোগ ব্যতিক্রমধর্মী। তাদের মতো শিক্ষিত উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে কৃষি আরও এগিয়ে যাবে। পাশাপাশি মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো পণ্য পাবে। 

লেখক : বহিরাঙ্গন অফিসার, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া। মোবাইল : ০১৬৮১৬৮৩৩৪২, 

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন