কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০১৫ এ ০৫:২৮ PM

দিন বদলের বাংলাদেশ ফল বৃক্ষে ভরবো দেশ (রচনা প্রতিযোগিতা ‘খ’ গ্রুপ)

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: শ্রাবণ সাল: ১৪২২ প্রকাশের তারিখ: ০২-০৮-২০১৫

বৃক্ষ নেই, প্রাণের অস্তিত্ব নেই,
বৃক্ষহীন পৃথিবী যেন প্রাণহীন মহাশ্মশান।

অফুরন্ত সৌন্দর্যের এক মধুর নিকুঞ্জ আমাদের এ পৃথিবী। এ বিশ্বকে সুশীতল ও বাসযোগ্য করে রাখার ক্ষেত্রে বৃক্ষের অবদান অনস্বীকার্য। আবার মানুষের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য যেসব মৌলিক চাহিদা রয়েছে তার অধিকাংশই পূরণ করে বৃক্ষ। তাই মানবজীবনে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে উদ্ভিদের জুড়ি নেই। পরিবেশবিদদের মতে, একটি দেশের মোট আয়তনের শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে বনভূমি রয়েছে মাত্র ১৫ থেকে ১৭ ভাগ। তাছাড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ, পরিবেশ দূষণ কমানো, প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ প্রভৃতি কারণে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
 

বনায়ন বা বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা
বিশ্বের বনভূমি উজাড় হতে হতে অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বিশ্ব পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। মানবজীবনের সঙ্গে বৃক্ষের সম্পর্ক সুগভীর। তাই বৃক্ষকে মানবজীবনের ছায়াস্বরূপ বলা হয়। নিচে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তার কয়েকটি দিক উল্লেখ করা হলো-


১. বৃক্ষ প্রাণীজগতে খাদ্য দেয়। মানুষ ও পশু-পাখি বৃক্ষের ফুল-ফল এবং পাতা-পত্র খেয়ে জীবন ধারণ করে।
২. বৃক্ষ জীবনদানকারী অক্সিজেন দেয়। বৃক্ষ প্রাণীকুলের ত্যাগ করা বিষাক্ত কার্বনডাই অক্সাইড গ্রহণ করে। ফলে প্রাণীরা এ জগতে বেঁচে থাকতে পারে।
৩. বৃক্ষ হতে আমরা রসালো অনেক ফল পাই। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, কলা ইত্যাদি।
৪. গাছপালা দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলে বাতাসে জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে আবহাওয়াকে শীতল করে ও প্রচুর বৃষ্টিপাতে সাহায্য করে।

 

তাই একটি সুখী ও সুন্দর জীবনের জন্য সবাইকে এই মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হওয়া উচিত যে, লাগাব বৃক্ষ, তাড়াব দুঃখ
চলো সবাই গাছ লাগাই/না হয় জীবন রক্ষা নাই। আমাদের দেশে তিন ধরনের বৃক্ষ রয়েছে। যেমন- ফলদ, বনজ এবং ভেষজ বৃক্ষ। তার মধ্যে ফলদ বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা এরা আমাদের খাদ্য, পুষ্টি, ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে। তাছাড়াও আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

 

ফলদ বৃক্ষ রোপণ অভিযান : ফলদ সম্পদকে টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের দেশে প্রতি বছরই বৃক্ষ রোপণ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সপ্তাহ, পক্ষকাল বা মাসব্যাপী এ অভিযান চলে। এ সময় পরিকল্পিত উপায়ে বৃক্ষ রোপণ করা হয়। সাধারণত প্রতি বছর বর্ষাকালে সরকারের বন বিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ অভিযান চালানো হয়। এ সময় জনগণ নিকটস্থ নার্সারি থেকে বিনামূল্যে অথবা স্বল্পমূল্যে ফলদ গাছের চারা সংগ্রহ করে থাকেন। অভিযান চলাকালে আমাদের জীবনে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা ও চারা রোপণের পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষা প্রদান করতে হবে। নিঃসন্দেহে বৃক্ষ রোপণ অভিযান একটি মহৎ প্রচেষ্টা। তাই আমাদের অধিক পরিমাণে ফলদ বৃক্ষ রোপণ করতে হবে এবং দেশের মানুষকে বৃক্ষ রোপণে সজাগ করে তুলতে হবে।

 

মানবজীবনে ফলের গুরুত্ব : মানবদেহের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, মেধার বিকাশ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। ফল আমাদের চিরায়ত ঐত্যিহের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পুষ্টিবিদদের মতে, জনপ্রতি প্রতিদিন ১১৫ থেকে ১২৫ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু আমরা খেতে পারছি মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ গ্রাম। এর মূল কারণ চাহিদার তুলনায় জোগানের স্বল্পতা। তাই ফলদ বৃক্ষ  রোপণ পক্ষে দেশি ফলের চারা রোপণ ও উৎপাদনে আমাদের উদ্যোগী হতে হবে। ফলের দেশ-বাংলাদেশ। আমাদের দেশে প্রায় ৭০ রকমের ফল জন্ম। দেশি ফলগুলো রঙ, রসে, স্বাদে অনন্য। প্রতিটি দেশীয় ফলেই রয়েছে অনেক পুষ্টিমান আর বহুমুখী ব্যবহার। তবে বিদেশি ফলের আধিক্যে আমাদের চিরচেনা উপাদেয় আর সুস্বাদু দেশি ফলগুলো অনেকটা হারিয়ে যেতে বসেছে। এজন্য প্রচলিত অপ্রচলিত সব ধরনের দেশি ফলের আবাদ বাড়িয়ে, উৎপাদন বৃদ্ধি করে বছরব্যাপী আমাদের খাদ্য তালিকায় এদের স্থান করে দিতে হবে।

 

তাই আমাদের উচিত বেশি করে ফলের চারা রোপণ করা। তাহলেই আমাদের দেশ ফলে ভরপুর হয়ে উঠবে।
 

উপসংহার : অস্বীকার করার উপায় নেই যে, কেবল বৃক্ষ রোপণ সপ্তাহ পালন করে সরকারিভাবে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জনসেবা করলেই দেশ সবুজ হয়ে যাবে না। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই এ কর্মসূচি পালন করে আসা হচ্ছে। অথচ বৃক্ষ রোপণ অভিযান এখনো আশানুরূপ নয়। একে সফল করতে হলে দেশব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, এমনকি স্কুল, কলেজে পাঠ্যপুস্তকে এর গুরুত্ব নির্দেশ করে আরও অধিকহারে প্রবন্ধ রচনা লিখতে হবে।

 

মো. সৈকত রায়হান*

শ্রাবণ-১৪২২ কৃষিকথা

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন