কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ এ ০৫:২৫ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: কার্ত্তিক সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৫-১০-২০২৫
দারিদ্র্য বিমোচনে ছাগল পালন
কৃষিবিদ ডক্টর এস. এম. রাজিউর রহমান
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জলবায়ু ছাগল পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। দেশের মোট ছাগলের ৮০% গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী দ্বারা পালিত হয়। ছাগল পালন দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ ও চামড়া রপ্তানি বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল উচ্চ প্রজননক্ষম এবং দেশীয় জলবায়ুর সাথে ভালোভাবে অভিযোজিত। এটি টেকসই কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহায়ক। প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই সম্পদকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। যারা গরু পালন করতে অক্ষম, তারা অল্প বিনিয়োগে মাত্র দুটি ছাগল কিনে লাভবান হতে পারেন। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার প্রায় ১৮.৭%, যা গ্রামীণ অঞ্চলে আরও বেড়ে প্রায় ২২% হয়। চরম দারিদ্র্যে বসবাসকারী মানুষের হার প্রায় ৫.৬%, যারা দিনে ১.৯০ ডলারেরও কম দিয়ে জীবনযাপন করে। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৭২% নারী শ্রম দেন, কিন্তু তাদের আয় সীমিত। ছাগল পালন কম বিনিয়োগে উচ্চ মুনাফার জন্য একটি কার্যকর উপায়, এর মাধ্যমে গ্রামের দরিদ্র মহিলারা বার্ষিক ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারে।
ছাগল
পালনের উদ্দেশ্য : গ্রামীণ নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। মাংস ও দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করে প্রোটিনের ঘাটতি কমানো যায়। উচ্চমানের চামড়া উৎপাদন হয়। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হয়। নারীদের জাতীয় অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করা যায়। গরুর তুলনায় ছাগল দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে-প্রতি ৬ মাসে অন্তত দু’টি বাচ্চা দেয়। ফলে বছরে ৪টি বাচ্চা উৎপাদন করা যায়।
বাংলাদেশের ছাগলের জাত
ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল : বিশ্বব্যাপী মাংস ও চামড়ার জন্য বিখ্যাত। বাংলাদেশের একমাত্র স্থানীয় জাত। আকারে ছোট হয়। সাধারণত কালো, সাদা বা মিশ্র রঙের হয়ে থাকে। ছোট ও সূচালো কান হয়। ছোট মাথা ও মসৃণ লোম হয়ে থাকে। খাসির ওজন ২৪-৪০ কেজি, মাদীর ওজন ২০-৩০ কেজি হয়। বছরে দু’বার যমজ বা তিন বাচ্চা দেওয়ার ক্ষমতা থাকে।
যমুনাপারী জাতের ছাগল : দুধ
উৎপাদনের জন্য জনপ্রিয় (২-৩ লিটার/দিন)। বড় আকার লম্বা ও ঢিলেঢালা কান থাকে।
পূর্ণবয়স্ক পুরুষ ছাগলের ওজন ৭০-৭৫ কেজি এবং মাদীর ওজন ৫০-৬০ কেজি হয়ে থাকে। বছরে একবার একটি বাচ্চা দিয়ে থাকে।
ছাগলের আবাসন
বৈজ্ঞানিক উপায়ে আবদ্ধ ও অর্ধ-আবদ্ধ পদ্ধতিতে ছাগল পালন করা হয়; গ্রামে সাধারণত ২-৫টি ছাগল পালন করা হয়; উন্নত উৎপাদনের জন্য বাঁশের চাটাই দিয়ে উঁচু প্লাটফর্ম তৈরি (৮ ফুটী৫ ফুট জায়গায় ১০টি ছাগল); শীতকালে শুষ্ক বিছানা প্রদান করা হয়।
খাদ্য ব্যবস্থাপনা
প্রাণীর খাদ্যকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায় : শর্করা জাতীয় খাদ্য-ভুট্টা, গম, কাওন, চাউলের কুঁড়া, গমের ভুসি ইত্যাদি; আমিষ জাতীয় খাদ্য- সয়াবিন মিল, তিলখৈল, শুঁটকি মাছ, মিটমিল ইত্যাদি; চর্বিজাতীয় খাদ্য-এনিমেল ফ্যাট, ভেজিটেবল অয়েল, সার্কলিভার ওয়েল ইত্যাদি; ভিটামিন জাতীয় খাদ্য-শাকসবজি ও কৃত্রিম ভিটামিন; খনিজ জাতীয় খাদ্য-ঝিনুক, ক্যালসিয়াম ফসফেট, রকসল্ট, লবণ ইত্যাদি;
আঁশযুক্ত খাদ্য (রাফেজ) : নেপিয়ার, আলফা-আলফা, বারসিম, ভুট্টার ডাটা, খড়, সবুজ পাতা এবং রান্নাঘরের সবজির অবশিষ্টাংশ।
সারণি : দানাদার খাদ্য (প্রতি ১০ কেজির মিশ্রণ)
বাচ্চার যত্ন
জন্মের স্থান শুষ্ক ও পরিষ্কার রাখতে হবে; জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শাল দুধ খাওয়াতে হবে; নাভি আয়োডিন দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে; মায়ের দুধ কম থাকলে বোতলে খাওয়াতে হবে (প্রথম সপ্তাহে ৫০-৮০ গ্রাম দুধ, ৫ ঘণ্টা পরপর)।
প্রজনন ব্যবস্থাপনা
মাদী নির্বাচনের মানদ- : বয়স ৮-১২ মাস হতে হয়। উর্বর বংশগতি (মা/দাদী বছরে দুবার বাচ্চা দিয়েছে) ও লম্বা দেহ, বড় পেট, স্পষ্ট দুধের শিরা থাকা প্রয়োজন।
পাঠা নির্বাচন মানদ- : বয়স ১২-১৪ মাস এবং বড় ও সুগঠিত অ-কোষ থাকা প্রয়োজন পাশাপাশি উচ্চ উৎপাদনশীল বংশগতি থাকতে হবে।
পাঠার প্রজনন ব্যবস্থাপনা : সঠিক ব্যবস্থাপনায়, একটি বাক্স ৪-৬ মাস বয়সে প্রজননের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। তবে ৮ মাসের কম বয়সী (প্রায় ১৪-১৭ কেজি) পাঠা কখনো প্রজননের জন্য ব্যবহার করবেন না। ৮-১২ মাস বয়সী পাঠার সপ্তাহে দুইবারের বেশি প্রজননের জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে, পরিণত বয়সের পাঠা সপ্তাহে ৪-৫ বার ব্যবহার করা যেতে পারে। ১০০টি মাদী ছাগলের জন্য সাধারণত ১০টি উর্বর পাঠা প্রয়োজন। খামারে পালিত পাঠার মধ্যে থেকে ৫% পাঠা প্রজননের জন্য নির্বাচন করতে হবে। একই বয়সের অন্যান্য পাঠার তুলনায় বড়, স্বাস্থ্যবান ও আকর্ষণীয় পুরুষ বাচ্চা বাছাই করতে হবে। ইনব্রিডিং এড়িয়ে চলতে হবে: নিজের সন্তানের সাথে পাঠার প্রজনন করা যাবে না। ইনব্রিডিং ডিপ্রেশন রোধ করতে দূরের গ্রাম বা অসম্পর্কিত জেনেটিক লাইন থেকে পাঠা নির্বাচন করতে হবে। ব্ল্যাক বেঙ্গল মাদী ছাগলের সাথে যমুনাপারী জাতের পাঠার ক্রসব্রিডিং করা যাবে না, কারণ এটি ব্ল্যাক বেঙ্গল প্রজাতির বাচ্চা জন্মদান বৈশিষ্ট্য বৈশিষ্ট্য (যেমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, মাংসের গুণমান) কমিয়ে দেয়।
খোঁজাকরণ ও মোটাতাজাকরণ : ছাগলের পুরুষ বাচ্চাকে দুই থেকে চার সপ্তাহ বয়সে খোঁজাকরণের মাধ্যমে প্রজনন অক্ষম করে লালন-পালন করা প্রাণীটি হলো খাসি। আর নির্দিষ্ট সময় উন্নত ব্যবস্থাপনার (উন্নত খাদ্য প্রদান, স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান ও প্রয়োজনীয় টিকা প্রদান) মাধ্যমে পালন করে বাজারজাত করাই হলো খাসি মোটাতাজাকরণ।
ছাগল বাচ্চার খোঁজাকরণ (ঈধংঃৎধঃরড়হ ড়ভ এড়ধঃ করফং) : যেসব পুরুষ ছানাকে প্রজননের জন্য রাখা হবে না, তাদের ২-৪ সপ্তাহ বয়সে অশল্যচিকিৎসা (হড়হ-ংঁৎমরপধষ সবঃযড়ফ) পদ্ধতিতে খোঁজাকরণ করা উচিত। খোঁজাকরণ প্রজনন রোধ করে এবং মাংসের গুণমান উন্নত করে। বাংলাদেশে সাধারণত পুরুষ ছাগল বাচ্চাকে খোঁজাকরণ ২-৪ সপ্তাহে বয়সে করা হয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে ধারালো ছুরি দিয়ে অ-কোষ কেটে ফেলা হয়, যা বীর্য উৎপাদন বন্ধ করে। তবে এতে টিটেনাস সংক্রমণ হয়। নিরাপদ স্বাস্থ্য সেবার জন্য পশু হাসপাতালের মাধ্যমে শল্যচিকিৎসা পদ্ধতিতে খোঁজকরণ করা হয়। গ্রাম পর্যায়ে অপ্রশিক্ষিত ব্যক্তিদের দ্বারা খোঁজকরণ করানো হলে টিটেনাস সংক্রমণ এবং মৃত্যুহার বেশি হয়। তাই সব সময় পশু হাসপাতালের জীবাণুমুক্ত ও সুরক্ষিত শল্যচিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। অস্ত্রোপচার পদ্ধতিতে ভেটেরিনারি হাসপাতালে খাসিকরণ নিরাপদ। খাসি করা বাচ্চাকে ১২-১৫ মাস বয়সে উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পালন করে বাজারে বিক্রি করতে হবে।
খোঁজাকরণ পর যত্ন (চড়ংঃ-ঈধংঃৎধঃরড়হ ঈধৎব) : উপযুক্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে ছাগল ছানার স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পিপিআর (চচজ), খুরা রোগ (ঋড়ড়ঃ-ধহফ-গড়ঁঃয উরংবধংব) ইত্যাদি সাধারণ রোগের বিরুদ্ধে টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
রোগ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা
সুস্থ ছাগলের কিছু স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে যা সহজেই খেয়াল করা যায়। একটি সুস্থ ছাগল সাধারণত দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে এবং সক্রিয় থাকে, যেখানে অসুস্থ ছাগল দল থেকে আলাদা হয়ে ধীরে বা নিথরভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। সুস্থ ছাগল মনোযোগ সহকারে খাদ্য গ্রহণ করে এবং তার মাথা শরীরের সমান্তরালে থাকে, চলাফেরা প্রাণবন্ত ও স্বাভাবিক হয়। ছাগলের চোখ ও নাক পরিষ্কার থাকে, ময়লা বা ক্ষরণ জমে না। সুস্থ ছাগল খুঁড়িয়ে হাঁটে না এবং তার মল দানাদার হয় ও পায়ুপথ পরিষ্কার থাকে। দুধের বাঁট ও ওলান নরম ও স্বাভাবিক থাকে, কোনো গোটা বা অস্বাভাবিক শক্ত অংশ থাকে না। এ ছাড়া, কোনো অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রাণী দেখলে ছাগল সতর্কভাবে মাথা উঁচু করে তাকায় এবং কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক আচরণে ফিরে আসে। এসব লক্ষণ ছাগলের সামগ্রিক সুস্থতার ইঙ্গিত দেয়।
ছাগলের রোগ দমন
ছাগল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। এদের বাসস্থানে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা করতে হয়। ছাগল সবসময় শুকনো ও উঁচুস্থান খুব ভালোবাসে। ছাগলের যাতে ঠা-া না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ ঠা-ায় এরা নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। তাই শীতের সময় মেঝেতে ধানের খড় অথবা নাড়া বিছিয়ে দিতে হয়। শীতের সময় ছাগলকে ঠা-া থেকে রক্ষার জন্য এদের ঘরের দেয়ালে প্রয়োজনে চটের বস্তা টেনে দিতে হবে। নিচে ছাগলের রোগের কারণগুলো উল্লেখ করা হলো-
ভাইরাসজনিত রোগ : পি.পি.আর, নিউমোনিয়া ইত্যাদি।
ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ : গলাফুলা, ডায়রিয়া ইত্যাদি।
পরজীবীজনিত রোগ : ছাগলের দেহের ভেতরে ও বাইরে দুই ধরনের পরজীবী দেখা যায়। দেহের বাইরে চামড়ার মধ্যে উঁকুন, আটালি ও মাইট হয়ে থাকে। দেহের ভেতরে গোলকৃমি, ফিতাকৃমি ও পাতাকৃমি দ্বারা ছাগল বেশি আক্রান্ত হয়। এরা ছাগল কর্তৃক খাওয়া পুষ্টিকর খাদ্যে ভাগ বসায়। অনেক কৃমি ছাগলের শরীর থেকে রক্ত চুষে নেয়। তাছাড়া ছাগলের প্রায়ই রক্ত আমাশয় হতে দেখা যায়। এ রোগটি প্রোটোজোয়া দ্বারা হয়ে থাকে।
টিকা সময়সূচি : পিপিআর-৪ মাস বয়সে প্রথম ডোজ (৩ বছর পর পুনরায়); গোট পক্স-৪ মাস বয়সে প্রথম ডোজ (৬ মাস পর পুনরায়)
ছাগল পালনের মাধ্যমে আয়-বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম (আইজিএ) বাস্তবায়ন কৌশল : গ্রামীণ অবহেলিত ও আগ্রহী নারীদের নির্বাচন এবং সংগঠিত করতে হবে; নেতৃত্বদানকারী নারীকে পাঠা পালনের দায়িত্ব দিতে হবে; দুটি এক বছর বয়সী পাঠা ঋণ হিসেবে প্রদান করতে হবে; আধুনিক ও কম খরচের ছাগল পালন প্রশিক্ষণ দিতে হবে; স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন নিশ্চিত করতে হবে; ৯-১০ মাস বয়সী মাদী ছাগল দিতে হবে; প্রতি ২০-২৫টি মাদীর জন্য ১টি উন্নত জাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল পাঠা নিশ্চিত করতে হবে; সময়মতো টিকা ও কৃমিনাশক ওষুধ দিতে হবে; উঁচু প্লাটফর্ম পদ্ধতিতে বাঁশের চাটাই ব্যবহার করে আবাসন তৈরি করতে হবে; আবাসনে সবুজ পাতা ও গাছের ডাল ঝুলিয়ে রাখতে হবে; গর্ভবতী ও দুধদানকারী ছাগীকে অতিরিক্ত খাদ্য প্রদান করতে হবে; গাছের পাতা (সাজনা, বট, বাবলা, কাঁঠাল, ইপিল-ইপিল ইত্যাদি), ঘাস ইত্যাদি খাওয়াতে হবে; চারণভূমিতে ঘাস কম থাকলে দৈনিক ছাগলপ্রতি ০.৫-১.০ কেজি সবুজ পাতা দেওয়া প্রয়োজন; একসাথে দুটির বেশি বাচ্চা জন্মালে বোতলে দুধ খাওয়াতে হবে; উচ্চ প্রজননক্ষম বাচ্চা নির্বাচন করতে হবে; ছাগী প্রথম ৫-৬ মাস বয়সে গরম হয়, এই বয়সে প্রজনন না করানো উত্তম; প্রজননের জন্য ছাগীর বয়স ৭-৮ মাস ও ওজন ১২-১৩ কেজি প্রয়োজন; ছাগী গরম হওয়ার লক্ষণ: মিউকাস নিঃসরণ, ডাকাডাকি করা, অন্য ছাগীর উপর উঠা ইত্যাদি; প্রজননের সময় কম বয়সী ছাগীকে কম বয়সী পাঠার সাথে মেলানো ঠিক নয় (এতে বাচ্চার মৃত্যুর হার বেশি হয়); ছাগী গরম হওয়ার ১২-১৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রজনন করাতে হবে (সকালে গরম হলে বিকেলে, বিকেলে হলে পরদিন সকালে); নিয়মিত টিকা ও কৃমিনাশক প্রয়োগ করতে হবে; গ্রামের সব ছাগলের জন্য টিকা ক্যাম্পেইন আয়োজন করতে হবে; বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে বাচ্চা বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে; প্রজনন সেবার জন্য ফি আদায় (ঋণ পরিশোধ ও আয়ের উৎস) করতে হবে।
সঠিক প্রজনন, পুষ্টিকর খাদ্য, স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন ও নিয়মিত ভ্যাকসিনেশন নিশ্চিত করে গ্রামীণ নারী ও ক্ষুদ্র খামারিদের আয় দ্বিগুণ করা সম্ভব। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, প্রশিক্ষণ ও বাজার সংযোগের মাধ্যমে এই খাতকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করলে এটি একটি টেকসই আয়ের উৎসে পরিণত হবে, যা দারিদ্র্য বিমোচন ও সমৃদ্ধশীল গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ছাগল পালন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)- ১ (দারিদ্র্য বিমোচন), ২ (খাদ্য নিরাপত্তা), ৫ (জেন্ডার সমতা) ও ৮ (শ্রমিকদের অধিকার ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি) অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
লেখক : পরামর্শক (প্রাণিসম্পদ ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ), বিশ্বব্যাংক গ্রুপ - ইকো সিকিউরিটিজ/এসএসআইএল, মিথেন নির্গমন হ্রাস এবং জলবায়ু অর্থায়ন প্রকল্প, মোবাইল : ০১৭১৭৯৭৯৬৯৭, ই-মেইল :smrajiurrahman@yahoo.com