কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০২২ এ ১০:০৬ PM

তথ্য ও প্রযুক্তি পাতা

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: শ্রাবণ সাল: ১৪২৯ প্রকাশের তারিখ: ২৫-০৭-২০২২

তথ্য ও প্রযুক্তি পাতা
কৃষিবিদ মোহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন
আউশ  
    এসময় আউশ ধান পাকে। রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে পাকা আউশ ধান রিপার/কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে কম খরচে, স্বল্প সময়ে সংগ্রহ করুন।
আমন ধান
    রোপা আমন ধানের চারা রোপণের লক্ষ্যে মূল জমিতে শেষ চাষের সময় হেক্টর প্রতি ৯০ কেজি টিএসপি, ৭০ কেজি এমওপি, ১১ কেজি দস্তা এবং ৬০ কেজি জিপসাম দিন।
    জমির এক কোণে মিনি পুকুর খনন করে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করুন।
    চারার বয়স ৩০-৪০ দিন হলে জমিতে রোপণ করুন।
    চারা রোপনের ১২-১৫ দিন পর প্রথমবার, এর ১৫-২০ দিন পর দ্বিতীয়বার এবং তার ১৫-২০ দিন পর তৃতীয়বার ইউরিয়া সার উপরিপ্রয়োগ করুন।
    গুটি ইউরিয়া ব্যবহার করলে চারা লাগানোর ১০ দিনের মধ্যে প্রতি চার গুছির জন্য ১৮ গ্রামের ১টি গুটি ব্যবহার করুন।
    পোকা নিয়ন্ত্রণের জন্য ধানের ক্ষেতে বাঁশের কঞ্চি বা ডাল পুঁতে দিন যাতে পাখি বসতে পারে এবং এসব পাখি পোকা ধরে খেতে পারে।
পাট
    ক্ষেতের অর্ধেকের বেশি পাট গাছে ফুল আসলে পাট কেটে, পাতা ঝড়িয়ে জাগ দিন।
    পাট পচে গেলে আঁশ ছাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাটের আঁশ ছাড়িয়ে ভালো করে ধোয়ার পর ৪০ লিটার পানিতে এক কেজি তেঁতুল গুলে তাতে আঁশ ৫-১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন, এতে উজ্জ্বল বর্ণের পাট পাওয়া যায়।
    যেখানে জাগ দেয়ার পানির অভাব সেখানে রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট পচাতে পারেন। এতে আঁশের মান ভালো হয় এবং পচন সময় কমে যায়।
    বন্যার কারণে অনেক সময় সরাসরি পাট গাছ থেকে বীজ উৎপাদন সম্ভব হয় না। তাই পাটের ডগা বা কা- কেটে উঁচু জায়গায় লাগিয়ে তা থেকে খুব সহজেই বীজ উৎপাদন করার ব্যবস্থা নিন।
তুলা
    রংপুর, দিনাজপুর অঞ্চলে আগাম শীত আসে, সে জন্য এসব অঞ্চলেএ মাসের মধ্যে তুলার বীজ বপন করুন। তুলা উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাত যেমন সিবি ১৬, সিবি১৭, সিবি১৮, সিডিবি তুলা এম-১, সিবি হাইব্রিড-১ আবাদ করুন।
শাকসবজি
    বর্ষাকালে শুকনো জায়গার অভাব হলে টব, মাটির চাড়ি, কাঠের বাক্স এমনকি পলিথিন ব্যাগে সবজির চারা উৎপাদনের ব্যবস্থা নিন।
    সবজি বাগানে প্রয়োজনে মাদায় মাটি দিন, আগাছা পরিষ্কার করুন, গাছের গোড়ায় পানি যেন না জমে সে জন্য পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করুন, মরা বা হলুদ পাতা কেটে ফেলুন, প্রয়োজনে সারের উপরিপ্রয়োগ করুন।
    লতা জাতীয় গাছের বৃদ্ধি বেশি হলে ১৫-২০ শতাংশ পাতা ও লতা কেটে দিলে তাড়াতাড়ি ফুল ও ফল ধরবে।
    কুমড়া জাতীয় সব সবজিতে হাত পরাগায়ন বা কৃত্রিম পরাগায়ন অধিক ফলনে দারুণভাবে সহায়তা করে। গাছে ফুল ধরা শুরু হলে প্রতিদিন ভোরবেলা হাতপরাগায়ন নিশ্চিত করুন এতে ফলন অনেক বেড়ে যাবে।
    গত মাসে শিম ও লাউয়ের চারা রোপনের ব্যবস্থা না নিয়ে থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। আগাম জাতের শিম এবং লাউয়ের জন্য প্রায় ৩ ফুট দূরে দূরে ১ ফুট চওড়া ও ১ ফুট গভীর করে মাদা তৈরি করুন।
গাছপালা
    এখন সারা দেশে গাছ রোপণের কাজ চলছে। ফলদ, বনজ এবং ঔষধি বৃক্ষজাতীয় গাছের চারা বা কলম রোপণের ব্যবস্থা নিন।
    উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করে একহাত চওড়া এবং একহাত গভীর গর্ত করে অর্ধেক মাটি এবং অর্ধেক জৈবসারের সাথে ১০০ গ্রাম টিএসপি এবং ১০০ গ্রাম এমওপি ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে সার ও মাটির এ মিশ্রণ গর্ত ভরাট করে রেখে দিন। দিন দশেক পরে গর্তে চারা বা কলাম রোপণ করুন।
    ভালো জাতের স্বাস্থ্যবান চারা রোপণ করুন। চারা রোপণের পর গোড়ার মাটি তুলে দিন এবং খুটির সাথে সোজা করে বেঁধে দিন। রোপণ করা চারার চারপাশে বেড়া দিন।
    কোন পতিত জমি যেন বৃক্ষরোপণ থেকে বাদ না যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
বিবিধ
    উচ্চমূল্যের ফসল আবাদ করুন, অধিক লাভবান হন।
    স্বল্পকালীন ও উচ্চফলনশীল জাত নির্বাচন করুন অধিক ফসল ঘরে তুলুন।
    শ্রম, সময় ও খরচ সাশ্রয়ে আধুনিক কৃষি যন্ত্রের মাধ্যমে আবাদ করুন।

লেখক : তথ্য অফিসার (কৃষি), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা। মোবাইল : ০১৯১১০১৯৬১০, ই-মেইল manzur_1980@yahoo.com

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন