কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৫ এ ০৭:১৫ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: কার্ত্তিক সাল: ১৪২২ প্রকাশের তারিখ: ১৯-১০-২০১৫
হাওরে মিষ্টি কুমড়ার চাষ
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে রয়েছে হাওর। সুনামগঞ্জের শাল্লা, হাওর বেষ্টিত একটি উপজেলা। এখানে বছরে একবার শুধু বোরো মৌসুমে প্রচুর পরিমাণ ধান জন্মানো হয়। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় সব জমি জলাবদ্ধ থাকে। বছরে একটি মাত্র ফসল ধান; মার্চ-এপ্রিল মাসের আকস্মিক বন্যা, সেচের পানির অভাব, ঝড়ো হাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন, পোকামাকড়ের বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ ইত্যাদি কারণে প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা হাওরবাসীর জীবনযাত্রাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। হাওরের কিছু জমি আছে যা সাধারণত বন্যার পানিতে অপেক্ষাকৃত দেরিতে ডুবে আবার আগে জাগে। এমন জমিকে স্থানীয় লোকেরা ‘কান্দা’ জমি বলে। এসব কান্দা জমিতে সেচ প্রয়োগ করে ধান চাষ করা সম্ভব হয় না বলে অধিকাংশ জমি পতিত থাকে। এরকম কান্দা জমিতে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত মুলা, মিষ্টি কুমড়া, গম, সরিষা ইত্যাদি চাষ করে অধিক লাভবান হওয়া যায়।
ইসলামিক রিলিফ, বাংলাদেশের সহায়তায় এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের পরামর্শে আনন্দপুর গ্রামের কৃষক বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস গত বছর তার ২৮ শতক জমিতে মুলা ও মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেন। তার ক্ষেতের প্রতিটি কুমড়ার ওজন হয় গড়ে ১২ কেজি। এ সব মিষ্টি কুমড়া তিনি স্থানীয় বাজারে গড়ে ১০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি করে প্রায় ৭০ হাজার টাকা নিট লাভ করেন। অক্টোবর মাসে কান্দা জমি জেগে উঠার পর জো আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি চাষ দিয়ে জমিতে ফালি ফালি করে বেড তৈরি করেন। প্রতিটি বেডের উচ্চতা ১৫-২০ সেমি. এবং প্রস্থ ২.৫ মি., পাশাপাশি ২ বেডের মাঝখানে ৬০ সেমি. ব্যাসের সেচ ও নিকাশ নালা রাখেন। প্রতিটি বেডে ৫০ সেমি. ব্যাস, ৫০ সেমি. গভীর করে গর্ত করেন। সারি বরাবর একটি গর্তের কেন্দ্র থেকে অপর গর্তের কেন্দ্রের দূরত্ব ২ মিটার রাখেন। স্থানীয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে পরিমিত মাত্রায় সার প্রয়োগ ও অন্যান্য পরিচর্যা নিশ্চিত করেন। তিনি নিম্নের ছকে বর্ণিত হারে সার প্রয়োগ করেন।
স্থানীয় অন্যান্য কৃষকের মাঝে প্রযুক্তিটি ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। ভালো বীজ, পরামর্শ আর আর্থিক সহায়তা পেলে এ অঞ্চলে কুমড়া চাষের মাধ্যমে কৃষকদের ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সঙ্গে ফসলের বৈচিত্র্যতা আনা সম্ভব।
| সার | মোট সার /শতাংশ | জমি তৈরির সময় প্রয়োগ | প্রতি মাদায় | |||
| বীজ বপনের ৭-১০ দিন পূর্বে | বীজ বপনের ১০-১৬ দিন পর | বীজ বপনের ৩০-৩৫ দিন পর | বীজ বপনের ৭০-৭৫ দিন পর | |||
| পচা গোবর | ৮০ কেজি | ২০ কেজি | ১০ কেজি | - | - | - |
| টিএসপি | ৭০০ গ্রাম | ৩৫০ গ্রাম | ৬০ গ্রাম | - | - | - |
| ইউরিয়া | ৭০০ গ্রাম | ২০০ গ্রাম | - | ৩০ গ্রাম | ৩০ গ্রাম | ৩০ গ্রাম |
| এমপি | ৬০০ গ্রাম | ২০০ গ্রাম | ৫০ গ্রাম | ২৫ গ্রাম | - | - |
| জিপসাম | ৪০০ গ্রাম | ৪০০ গ্রাম | - | - | - | - |
| দস্তা | ৫০ গ্রাম | ৫০ গ্রাম | - | - | - | - |
| বোরাক্স | ৪০ গ্রাম | ৪০ গ্রাম | - | - | - | - |
জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি অভিযোজনবিষয়ক এ পাতাটি ইসলামিক রিলিফ, বাংলাদেশের সৌজন্যে প্রকাশিত। এ পাতাটিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিযোজন সম্পর্কিত প্রায়োগিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিষয়ে যে কেউ লেখা দিতে পারেন। ইসলামিক রিলিফ, বাংলাদেশ, হাউজ ১০, রোড ১০, ব্লক কে, বারিধারা, ঢাকা।