কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৫ এ ০৫:১০ PM

ছাদবাগান স্থাপন কৌশল ও সার ব্যবস্থাপনা

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: ভাদ্র সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৭-০৮-২০২৫

ছাদবাগান স্থাপন কৌশল ও সার ব্যবস্থাপনা
ড. মো: হুমায়ূন কবীর
ছাদবাগান এখন দেশের জনপ্রিয় একটি কৃষি পদ্ধতি। মূলত বাড়ির খালি ছাদে অথবা বেলকনিতে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ফুল, ফল, শাকসবজির বাগান গড়ে তোলাকে ছাদবাগান বলে, ইংরেজিতে একে বলা হয় রুফ টপ গার্ডেন। বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বাড়ির ছাদে বাগান করা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অধিকাংশ বাড়ির ছাদের দিকে তাকালেই বিভিন্ন ধরনের বাগান দেখা যায়। অবশ্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের ছাদে যেসব বাগান দেখা যায় তার অধিকাংশ অপিরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। পরিকল্পিতভাবে উদ্যোগ নেয়া হলে বাড়ির ছাদে যে কোন গাছ, এমনকি শাকসবজিও ফলানো সম্ভব। সারা বিশ্বে দিন দিন ছাদ বাগানের গুরুত্ব বাড়ছে। শহরাঞ্চলে ছাদ বাগানের মাধ্যমে ফুল, ফল ও সবজির পারিবারিক বাগান এখন আর শৌখিনতার প্রতীক নয় বরং অর্থনৈতিক উৎসের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও নির্মল বায়ু উৎপাদনের জীবন্ত কারখানা। 
সিঙ্গাপুরে রাস্তার ফুটপাথগুলো সবুজ ঘাসে আবৃত করা হচ্ছে। টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার নতুন ছাদের ন্যুনতম ২০% জায়গায় বাগান সৃজন বাধ্যতামূলক করে ২০০১ সালে একটি আইন পাস করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে টোকিওর গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট হ্রাস পেয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি বাড়ির ২৫ শতাংশ জায়গা দখল করে থাকে ছাদ, যা মোটামুটিভাবে বলা চলে অব্যবহৃতই থেকে যায়। এক্ষেত্রে ছাদে বাগান করা হলে জায়গাটার যেমন যথোপযুক্ত ব্যবহার হয় তেমনি এর থেকে আর্থিকভাবেও যথেষ্ট লাভবান হওয়া যায়। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ নগরে বসবাস করে। ২০২৫ সালের মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগ অর্থাৎ প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষ নগরে বাস করবে এবং ২০৫০ সালে এই সংখ্যা হবে ১০০ শতাংশ বা ২৭ কোটি। বিপুল জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি জমি হ্রাস, ক্রমাবনতিশীল কৃষিবৈচিত্র্য ইত্যাদি পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা জোগানে ছাদ ও বাড়ির আঙ্গিনা, খালি জায়গায় ব্যাপক ভিত্তিতে সবজি বাগান করে সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি তথা জনগণের পুষ্টির চাহিদা মেটানো সম্ভব।
ছাদ বাগান সৃজনে পরিকল্পনা
বাগান সৃজনের জন্য ছাদের যেন কোন প্রকার ক্ষতি না হয়; গাছগুলো ছাদের বীম (ইবধস) বা কলামের নিকটবর্তী স্থান বরাবর স্থাপন করতে হবে ছাদ যেন ড্যাম্প বা স্যাঁতসেঁতে হতে না পারে; রিং বা ইটের উপর ড্রাম অথবা টব সমূহ স্থাপন করলে নিচে দিয়ে আলো বাতাস চলাচল করবে এবং ছাদও ড্যাম্প হতে রক্ষা পাবে; নেট ফিনিসিং এর মাধ্যমও ছাদকে ড্যাম্প প্রতিরোধ করা যায়; সাধারণত দো-আঁশ  ও বেলে দো-আঁশ মাটিতে গাছ ভালো জন্মে।
নকশা তৈরি : প্রথমে একটা নকশা এবং নকশায় ছাদের চারপাশের সীমানা ও মাপ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। মাঝখানে চলাচল ও চলাফেরা সুবিধার জন্য খানিকটা খোলা জায়গা ও পথ রাখতে হবে। খুব বড় ছাদ হলে ছাদকে কয়েকটি অংশে ভাগ করে প্রতি অংশের মাঝে প্রায় ১ থেকে ১.৫ মিটার চওড়া করে চলাচলের পথ রাখা প্রয়োজন। ছাদের রেলিঙের কোলে ছাদ থেকে প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার উঁচু বা ফাঁকা করে যাতে চারদিকে ঘুরিয়ে পাকা চৌবাচ্চার মতো করা যায়।
ছাদের যে কোন এক কোনে বা চিলেকোঠার সাথে লোহার পাইপ বা কাঠের খুঁটি লাগিয়ে যাতে একটি মাচা করা যায় সেটা নকশায় রাখা প্রয়োজন। এবার ভেতরের এক এক অংশে এক এক ধরনের গাছ রাখা বা লাগানোর জন্য কাঠামো তৈরি বা টবের জায়গা এবং পানি উৎস চিহ্নিত করতে হবে।
ছাদে বাগান এর যন্ত্রপাতি রাখার জন্য নকশায় সেই সার্ভিস এলাকা বা ছোট্ট একটি কোঠাঘরের জায়গা রাখতে হবে। বাগানের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য গাছের আকার-আকৃতি ও রঙের দিকেও নজর দিতে হবে। ছাদের কিনারায় ফল গাছ না লাগিয়ে মাঝের দিকে ফলগাছ লাগানোর পরিকল্পনা করতে হবে। ছাদের কিনারায় যদি কিছু লতানো গাছ লতিয়ে দেয়ার কথা ভাবেন তবে ছাদের রেলিঙের ওপরে অনুচ্চ গ্রীল দিতে হবে। অথবা রেলিঙের ভেতরে বা বাইরের দিকে লোহার কিছু ক্লাম্প বা হুক লাগিয়ে রাখতে হবে। লতানো গাছ (যেমন বরবটি, করলা, প্যাশন ফল, আঙুর) লাগাতে চাইলে সেসব হুকের মধ্যে কাঠ বা বাঁশের খুঁটি ঢুকিয়ে সেই খুটির সাথে জিআই  তার টেনে খাঁড়া মাচা বা বাউনির ব্যবস্থা করে  দেয়া যেতে পারে। খোলা জায়গায় লন তৈরি করে সেখানে সবুজ ঘাসের চাপ বিছিয়ে দেয়া যেতে পারে। জলভর্তি টব বা জলোদ্যান করতে চাইলে চৌবাচ্চা বা জলটব রাখার জায়গা চিহ্নিত করতে হবে।
ছাদ বাগানের প্রয়োজনীয় উপকরণ ও স্থাপন কৌশল
পাত্র : টব, হাফ ড্রাম, চৌবাচ্চা, স্থায়ী বেড পদ্ধতি, ব্যাগে বহু স্তরে সবজি চাষ বা ব্যাগ গার্ডেনিং ব্যবহার করা যেতে পারে। 
মাটি: মাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শাক বা অগভীরমূলী ফুলগাছ লাগানোর জন্য ১৫ থেকে ২০ সে.মিটার পুরু মাটির স্তর থাকলেই চলে। কিন্তু মাঝারি ও যেসব গাছের শিকড় বড় হয় সেসব গাছ লাগানোর জন্য মাটির গভীরতা কমপক্ষে ৫০ সে. মিটার হতে হবে। দোঁ-আশ মাটি হলে সবচেয়ে ভালো হয়। পাতা জাতীয় শাকসবজি, বাহারী পাতার জন্য জৈবসার ও মাটির পরিমাণ সমান সমান হলে ভালো হয়।
পাত্রে চারা স্থাপন : হাফ ড্রামের তলদেশে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য ১ ইঞ্চি ব্যাসের ৫-৬টি ছিদ্র রাখতে হবে, ছিদ্রগুলোর ওপর মাটির টবের ভাঙ্গা টুকরো বসিয়ে দিতে হবে, ড্রামের তলদেশে ১ ইঞ্চি পরিমাণ ইটের খোয়া বিছিয়ে তার উপর বালু দিয়ে ঢেকে দিতে হবে, সমপরিমাণ দোঁ-আশ মাটি ও পচা গোবরের মিশ্রণ দিয়ে ড্রামটির দুই-তৃতীয়াংশ ভরার পর হাফ ড্রাম অনুযায়ী ড্রাম প্রতি মিশ্র সার আনুমানিক ৫০-১০০ গ্রাম প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে এবং সম্পূর্ণ ড্রামটি মাটি দিযে ভর্তি করে নিতে হবে, ১৫ দিন পর ড্রামের ঠিক মাঝে মাটির বল পরিমাণ গর্ত করে কাক্সিক্ষত গাছটি রোপণ করতে হবে। এ সময় চারা গাছটির অতিরিক্ত শিকড়/ মরা শিকড়সমূহ কেটে ফেলতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে মাটির বলটি যেন  ভেঙ্গে না যায়, রোপিত গাছটিতে খুঁটি দিয়ে বেঁধে দিতে হবে, রোপণের পর  গাছের গোড়া ভালভাবে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে।
পাত্রের মাটি বদলানো : প্রতি বছর না হলেও ১ বছর পরপর টবের পুরাতন মাটি পরিবর্তন করে নতুন গোবর মিশ্রিত মাটি দিয়ে পুনরায় টব বা ড্রাম ভরে দিতে হবে। এ সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছ যেন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। যতদূর সম্ভব গোড়ার মাটি তুলে কিছু নতুন সার মাটি দিতে হবে।
ছাদ বাগানে সার দেয়ার নিয়ম : গাছের খাবার পরিমাণ মতো সরবরাহ না করলে-গাছের বৃদ্ধি কমে যায়, গাছের ফলন কমে যায়, পোকা ও রোগের আক্রমণ বৃদ্ধি পায়। মাছ, মাংস ও তরকারি ধোয়া পানি গাছে ব্যবহার করলে গাছের খাবারের অভাব কিছুটা পূরণ হয়। এ ছাড়াও মিশ্রসার, হাড়ের গুঁড়া মাঝে মাঝে এবং অণুখাদ্য (দস্তা, বোরন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ) বছরে একবার প্রয়োগ করা ভালো। মাছের কাঁটা, হাড়ের টুকরা, ডিমের খোসা, তরিতরকারির পরিত্যক্ত অংশ, পাতা, একটা ড্রামে পচিয়ে নিয়ে ছাদবাগানে ব্যবহার করা ভালো। এতে ছাদবাগানের গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ছাদবাগানের কয়েক বছরের বয়স্ক গাছের গোড়ার চারপাশে সাবধানে কিছু মাটি উঠিয়ে ফেলে নতুনভাবে পটিং মিডিয়া দিয়ে ভরাট করা হলে গাছের স্বাস্থ্য ফেরানো সহজ হয়। সম্ভব হলে গাছকে ছাঁটাই করে কিছু মাটিসহ উঠিয়ে নিয়ে সার মিশ্রিত মাটি পরিবর্তন করার ব্যবস্থা নেয়া যায়। অপেক্ষাকৃত ছোট টব থেকে বড় টবে গাছ অপসারণ করার মাধ্যমে গাছকে স্বাস্থ্যবান করা যায়। ফুল-ফল ঝরা রোধে ও ফল ধরা বাড়াতে বিভিন্ন প্রকার অণুখাদ্য হরমোন যেমন সিলভামিক্স, লিটোসেন, ফ্লোরা প্রয়োগ করে অনেকে সুফল আহরণ করে থাকে।
সার প্রয়োগের জন্য একমাসকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে, সেক্ষেত্রে এক মাসে তিন বার সার প্রয়োগ করতে হবে।
প্রথম বার : ১চা চামচ ইউরিয়া, ১ চা চামচ টিএসপি, ১ চা চামচ পটাস ও ১-৪ চা চামচ বোরণ সার, ১ লিটার পানিতে ভালো করে গুলে নিতে হবে ( সেক্ষেত্রে টিএসপি সার ৩-৪ ঘণ্টা আগে ভিজিয়ে রাখা ভাল)। চারা/ছোট গাছের ক্ষেত্রে (টবে হলে) ৪-৫টি গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা যেতে পারে, বড় গাছের ক্ষেত্রে (বড় টবে হলে) ২ টা গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা যেতে পারে আবার হাফ ড্রামে হলে ১ টি গাছের গেড়ায় প্রয়োগ করা যেতে পারে।
২য় বার (১ম বারের ১০ দিন পর) : ১ চা চামচ ইউরিয়া, ১-৪ চা চামচ জিংক, ১ লিটার পানিতে গুলিয়ে, ছোট গাছের ক্ষেত্রে (টবে হলে) ৪-৫টি গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা যেতে পারে, বড় গাছের ক্ষেত্রে (বড় টবে হলে) ২টি গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা যেতে পারে আবার হাফ ড্রামে হলে ১টি গাছের গেড়ায় প্রয়োগ করা যেতে পারে।
৩য় বার ( ২য় বারের ১০ দিন পর) : ১ চা চামচ ইউরিয়া, ১-৪ চা চামচ সালফার সার, ১ লিটার পানিতে গুলিয়ে ছোট গাছের ক্ষেত্রে (টবে হলে) ৪-৫টি গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা যেতে পারে, বড় গাছের ক্ষেত্রে (বড় টবে হলে) ২টি গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা যেতে পারে আবার হাফ ড্রামে হলে ১টি গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা যেতে পারে। এভাবে প্রতি মাসে আবর্তকভাবে দিতে হবে।
২য় ও ৩য় বারের ক্ষেত্রে পাতায় স্প্রে করা যেতে পারে। সার মিশ্রিত পানি পড়ন্ত বিকেলে দেয়া ভালো, গাছের গোড়ার মাটি যতটুকু ভিজালে পরের দিন শুকিয়ে যায় ততটুকু ভিজাতে হবে। বর্ষার সময়, বুঝে প্রয়োগ করতে হবে যাতে গাছের গোড়ায় অতিরিক্ত পানি না জমে সেক্ষেত্রে আপনার শখের গাছটির ক্ষতি হতে পারে। পরিশেষে বলবো ‘নিয়ম মেনে সার দিন, কাক্সিক্ষত ফলন নিন’।
বালাই ব্যবস্থাপনা : বালাই দমনে পরিবেশ বান্ধব আইপিএম পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহার না করে জৈব রাসায়নিক বালাইনাশক যেমন- নিমবিসিডিন, বাইকাও-১ ব্যবহার করা যেতে পারে। পেয়ারা, কুল, লেবু, আম, করমচা, জলপাই, বেগুন প্রভৃতি গাছে ছাতরা পোকার আক্রমণ হতে পারে। এ পোকার আক্রমণ হলে পাতার নিচে সাদা তুলার মতো দেখা যায়, এসব পোকা উড়তে পারে না। গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে, পাতা লাল হয়ে যায়, পাতা ও ফল ঝরে পড়ে, ফলের আকার বিকৃত হয়ে যায়। এ ছাড়া পেয়ারা,  লেবু, জলপাই, বেগুন প্রভূতি গাছে সাদা মাছির আক্রমণ দেখা যায়। হাত বাছাইয়ের মাধ্যমে পোকা দমন করতে হবে। প্রয়োজনে জৈব বালাইনাশক ‘বাইকাও’ ও সাবান পানি প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ৩ থেকে ৪ গ্রাম ডিটারজেন্ট পাউডার মিশিয়ে পাতার নিচে স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ছাদের বাগান পরিচ্ছন্ন রাখলে ও নিয়মিত গাছ ছাঁটাই করলে পোকা ও রোগের আক্রমণ অনেক কম হয়।

লেখক : সহকারী প্রকল্প পরিচালক (প্রশিক্ষণ), ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন এমারজেন্সি এসিসটেন্স প্রজেক্ট (ফ্রিপ), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ঢাকা। মোবাইল : ০১৭১২৫৩৭৩৬৪, 

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন