কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ০২:২১ PM

কৃষিকাব্যে প্রকৃতি

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: ফাল্গুন সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৫-০২-২০২৬

কৃষিকাব্যে প্রকৃতি
মুন্সী আবু আল মো. জিহাদ
ধানক্ষেতে বহে দখিনা বাতাস, সবুজ ঢেউয়ের মেলা
উদাস দুপুরে সেই ঢেউয়ে ভাসে কল্পলোকের ভেলা।
শিশিরসিক্ত গমের শীষে লাগে আলতো সূর্যকিরণ
মুক্তাদানা ছড়ানো সে মাঠে, হৃদে জাগে শিহরণ।
হলদে চাদর জড়িয়ে গায়ে সরিষার ক্ষেত হাসে
দু-চোখ জুড়ানো দৃশ্যখানি মনের ক্লান্তি নাশে।
বর্ষা করেছে সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামল অবনী
তরুলতা সব নবরূপে সাজে, পিয়ে সুধা সঞ্জীবনী।
কটিদেশ জলে মিশিয়ে দিয়ে পাট জাগ দেয়া ছবি
সোনালী আঁশের বিষম গন্ধে বিমহিত মানস কবি।
পথের ধারে, বাঁশের আড়ে গাঁথা সে আঁশের বেণী
প্রতি প্যাঁচে মিশে জীবনযুদ্ধ, দুঃখ সুখের কাহিনী।
বাড়ির আঙিনায় পুঁই লতা আর কুমড়ো ফুলের মেলা
খানিক দূরেই লাউয়ের মাচায় ফড়িং করে খেলা।
ঘরের চালে শিমের লতা, বেগুনী ফুলে ঢাকা
বাড়ি তো নয় বাগান যেন, রঙ তুলিতে আঁকা।
বসতবাড়ির শোভা বাড়ায় চাষি-বউয়ের কৃষি
ঠিকরে পড়ে রুচির বাহার, আবেগ থাকে মিশি।
গল্প না ভাই, কল্পনা নয়, এসবই কৃষির ছোঁয়া
কালের গর্ভে, কলের গর্বে, কতকিছু গেছে খোয়া।
বিলীন হয়েছে নিবিড় কৃষি, এখন শুধুই দায়
তবুও থাকুক রূপ, রস, মায়া উত্তম কৃষি চর্চায়।
ভরিয়া উঠুক কৃষকের গোলা আবার সোনালী ধানে
মাছে ভাতে সেই বাঙালিয়ানা খুব করে আজ টানে।
সবুজ ফসল উদগত হোক বাংলার বুক চিরি
কৃষির মাঝেই প্রকৃতিপ্রেমীরা শান্তি খুঁজিয়া ফিরি।
লেখক : বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট, নশিপুর, দিনাজপুর। মোবাইল : ০১৬৮০৩২৬০২৫,

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন