কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এ ০৪:৫০ PM

ইঁদুর ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ধরনের টোপ ও ফাঁদের বর্তমান অবস্থা

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: আশ্বিন সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৭-০৯-২০২৫

ইঁদুর ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ধরনের 
টোপ ও ফাঁদের বর্তমান অবস্থা 
ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ
ইঁদুর বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্য সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতিকর কীট হিসেবে বিবেচিত। ধান, গম, ভুট্টা, ফলমূল, সবজি, মাছের পোনা, হাঁস-মুরগি এমনকি গৃহস্থালি খাদ্য দ্রব্যে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে থাকে। এছাড়া ইঁদুর প্লেগ,  লেপটোস্পাইরোসিস, সালমোনেলোসিস বিভিন্ন রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে। তাই ইঁদুর নিয়ন্ত্রণের কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে টোপ ও ফাঁদের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের টোপ ও ফাঁদের প্রকারভেদ, ব্যবহার, কার্যকারিতা, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনার বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
টোপ (ইধরঃ) বা আকর্ষণীয় খাদ্যের ব্যবহার
ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে টোপ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে কাজ করে। মূলত দুই ধরনের টোপ ব্যবহৃত হয় : 
অবিষাক্ত বা মনোহার টোপ 
এই টোপগুলো ইঁদুরকে ফাঁদের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে কোনো বিষ থাকে না। সাধারণত গ্রামীণ বা স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য খাদ্য উপাদান যেমন : চাল, ডাল, নারিকেল, খেজুর, শুকনো মাছ, গুড়, চিনি ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।
ব্যবহারের ধরন : ফাঁদের ভেতরে বা পাশে এসব টোপ রাখা হয়; কখনও একাধিক খাদ্য উপাদান একত্রে মিশিয়ে আরও আকর্ষণীয় করা হয় যেমন: নারিকেল ও গুড়; নির্দিষ্ট স্থানে প্রতিদিন একই টোপ দিলে ইঁদুরের চলাফেরার পথ বা অভ্যাস বোঝা যায়।
কার্যকারিতা : মৌসুমভেদে টোপের কার্যকারিতা ভিন্ন হতে পারে; বর্ষাকালে গন্ধযুক্ত বা তৈলাক্ত টোপ যেমন: নারিকেল, শুকনো মাছ বেশি কার্যকর; ধানক্ষেত বা গুদামে চাল, ডাল, বা ভাঙা ধান অত্যন্ত উপযোগী।
সীমাবদ্ধতা : কিছু টোপ দ্রুত নষ্ট বা পচে যায়, বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র পরিবেশে; টোপের গন্ধ বা স্বাদে পরিবর্তন হলে ইঁদুর আকৃষ্ট হয় না; পিঁপড়া, কুকুর, বিড়াল, পোকামাকড় অনেক সময় এগুলো খেয়ে ফেলে, ফলে ফাঁদ ব্যর্থ হয়।
বিষাক্ত টোপ 
এই টোপে খাদ্য উপাদানের সঙ্গে ইঁদুর নিধনের রাসায়নিক রোডেন্টিসাইড মেশানো হয়। বাংলাদেশে প্রচলিত বিষাক্ত টোপ সাধারণত দুই ধরনের:
একমাত্রিক বিষ : একটি মাত্র ডোজেই ইঁদুর মারা যায়; সাধারণত চাল বা ডালের সঙ্গে ২-৩% পরিমাণে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়; খুব দ্রুত কাজ করলেও একটি সমস্যা হলো ইঁদুর মৃত্যুর আগে বমি করে বা অস্বাভাবিক আচরণ করে। এতে অন্যান্য ইঁদুর সতর্ক হয়ে যায় এবং ওই টোপ আর গ্রহণ করে না। উদাহরণ : জিংক ফসফাইড।
ধীরগতির রক্তজমাট রোধকারী বিষ : ইঁদুর একাধিকবার খেলে ধীরে ধীরে রক্তক্ষরণে মারা যায় (৩৫ দিনের মধ্যে) ইঁদুর বুঝতে পারে না যে খাদ্যটি বিষাক্ত, ফলে সাবধান হওয়ার সুযোগ পায় না; একাধিকবার খাওয়ার মাধ্যমে মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়ে যায়, তাই অনেক কার্যকর। উদাহরণ: ব্রোমাডিওলোন ওয়ারফারিন, ব্রোডিফ্যাকুম।
কার্যকারিতা : টোপ সঠিকভাবে প্রস্তুত করলে কার্যকারিতা অত্যন্ত ভালো; ইঁদুরের খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশ বিবেচনায় টোপ বেছে  নেওয়া হলে সফলতা বেশি।
সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ : অনেক সময় টোপ ঠিকভাবে মেশানো না হলে ইঁদুর খায় না; অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট টোপে ইঁদুর প্রতিরোধী হয়ে  যেতে পারে; শিশু ও পোষা প্রাণীর জন্য ঝুঁকি থাকে; ব্যবহারকারীর প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা জরুরি।
ফাঁদ ব্যবহারের ধরন ও অবস্থা
বাংলাদেশে এখনো ফাঁদ ব্যবহার একটি কার্যকর এবং বিষমুক্ত পদ্ধতি হিসেবে গৃহীত। এতে পরিবেশে বিষের প্রভাব পড়ে না, এবং সহজলভ্য উপকরণ ব্যবহার করে অনেক ক্ষেত্রে তৈরি করা সম্ভব।
প্রচলিত ফাঁদ
কাঠ বা বেতের ফাঁদ (ধরা ফাঁদ) : গ্রামের বাড়িতে তৈরি হয়; সাধারণত সিলিন্ডার আকৃতির কাঠের বা বাঁশের নল ভেতরে টোপ রাখলে ইঁদুর ঢুকে দরজা বন্ধ হয়ে যায়; জীবিত ইঁদুর ধরা যায় এবং নিরাপদে ধ্বংস বা মুক্তি দেওয়া যায়।
ধাতব ফাঁদ : এটি ধাতব পাতা ও স্প্রিং যুক্ত ফাঁদ, যেখানে চাপ পড়লেই ঝট করে দরজা বন্ধ হয়ে ইঁদুর মারা যায়; দ্রুত কাজ করে কিন্তু সাবধানতা জরুরি, না হলে মানুষ বা অন্য প্রাণীও আহত হতে পারে।
জালের ফাঁদ : ধাতব খাঁচা জাতীয় ফাঁদ, টোপ খেতে গেলে দরজা বন্ধ হয়ে যায়; ইঁদুর জীবিত ধরা পড়ে, যা পরে পরিবেশবান্ধব উপায়ে ধ্বংস করা যায়।
কার্যকারিতা : বিষ ছাড়াই ইঁদুর ধরা সম্ভব; সাশ্রয়ী, পুনঃব্যবহারযোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য; নির্দিষ্ট স্থানে ইঁদুরের উপস্থিতি বুঝে লক্ষ্যভেদী ফাঁদ বসানো সম্ভব।
সীমাবদ্ধতা : প্রতিটি ফাঁদে সাধারণত একটি ইঁদুর ধরা পড়ে, তাই প্রচুর ইঁদুর থাকলে কার্যকারিতা কমে; ফাঁদ বসাতে সময় ও শ্রম লাগে; কোনো ইঁদুর যদি ফাঁদে না পড়ে, তবে পরে সেটি আরও সচেতন হয়ে ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
আধুনিক ফাঁদ
আঠালো ফাঁদ (এষঁব ঃৎধঢ়) : প্লাস্টিক বোর্ড বা কার্ডবোর্ডে আঠা লাগানো থাকে; ইঁদুর এর উপর দিয়ে হাঁটলে আটকে যায় এবং নড়তে পারে না; বিষমুক্ত ও সহজলভ্য, ছোট দোকানেও মেলে।
সুবিধা : শিশু ও পোষা প্রাণীর জন্য তুলনামূলক নিরাপদ; ব্যবহারে কোনো রাসায়নিক ঝুঁকি নেই।
অসুবিধা : বেশি গরম বা আর্দ্রতা হলে আঠা কাজ করে না; মানবিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ, কারণ ইঁদুর দীর্ঘ সময় কষ্ট পায়; একবার ব্যবহারের পর পুনরায় ব্যবহার সম্ভব নয়।
ইলেকট্রিক ফাঁদ : এটি ব্যাটারি চালিত বা বিদ্যুৎ সংযোগে পরিচালিত হয়; ইঁদুর প্রবেশ করলেই বৈদ্যুতিক শকে মারা যায়; অত্যন্ত কার্যকর হলেও দাম বেশি এবং গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বা ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা সীমিত।
ইঁদুর দমনের সুপারিশসমূহ 
সঠিক টোপ নির্বাচন : ইঁদুরের খাদ্যাভ্যাস বুঝে মনোহারী ও বিষযুক্ত টোপ বেছে নিতে হবে; ইঁদুর যে ধরনের খাবার খেতে পছন্দ করে, সেই তথ্য জানা এবং তার ভিত্তিতে টোপ তৈরি বা নির্বাচন করাটা অত্যন্ত গুরুত্ব¡পূর্ণ। এটি কার্যকারিতা নিশ্চিত করে এবং ইঁদুর সহজে আকৃষ্ট হয়।
প্রশিক্ষণ : কৃষক ও গৃহস্থদের টোপ তৈরির নিয়ম, রোডেন্টিসাইড ব্যবহারে সতর্কতা, ফাঁদ ব্যবহারে কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
এ ছাড়া টোপ ও ফাঁদ ব্যবহারের পরে সেগুলোর ব্যবস্থাপনা, যেমন- মৃত ইঁদুর অপসারণ, অব্যবহৃত টোপ নিষ্ক্রিয়করণ, সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়েও সচেতনতা খুব কম। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই সব বিষয় কৃষক ও গৃহস্থদের জানানো গেলে, তারা আরও নিরাপদ, কার্যকর এবং পরিবেশবান্ধবভাবে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এতে করে যেমন ফসলের ক্ষতি কমবে, তেমনি জড়ফবহঃরপরফব ব্যবহারের ভুলের ফলে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাও অনেকাংশে কমে আসবে। সঠিক জ্ঞান ও দক্ষতা ছাড়া শুধুমাত্র উপকরণ থাকলেই ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় এজন্য বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ একান্ত প্রয়োজন।
সমন্বিত পদ্ধতি : টোপ, ফাঁদ, স্যানিটেশন, গর্ত বন্ধ করা, গুদামের সুরক্ষা ইত্যাদি মিলিয়ে একযোগে ব্যবস্থা নিতে হবে। সমন্বিত পদ্ধতি বা আইপিএম হলো ইঁদুর ব্যবস্থাপনায় একটি আধুনিক ও টেকসই কৌশল, যেখানে শুধু একটি পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন উপাদানকে একত্রে কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হয়। শুধু টোপ ব্যবহার করলে অনেক সময় ইঁদুর তা না খেয়ে বেঁচে যায়, আবার শুধুমাত্র ফাঁদ ব্যবহার করলে সব ইঁদুর ধরা সম্ভব হয় না। তাই একযোগে টোপ, ফাঁদ, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা (স্যানিটেশন), ইঁদুরের গর্ত বন্ধ এবং গুদামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই প্রকৃতপক্ষে সফলভাবে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যেমন- ফসল ক্ষেত বা বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার না থাকলে ইঁদুর সহজে লুকানোর জায়গা পায় এবং সেগুলো যেকোনো ফাঁদ বা টোপের  কাছাকাছি আসতে চায় না। আবার গর্ত বা সুড়ঙ্গ খোলা থাকলে ইঁদুর সহজে পালাতে পারে এবং সেই গর্তের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে গিয়ে টোপচে থাকে। তাই গর্ত বন্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্ব¡পূর্ণ। একইভাবে, গুদামে খাদ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে যদি ব্যারেল, পাত্র বা কাঠামোগুলো ইঁদুর প্রতিরোধক না হয়, তবে যতই ফাঁদ বা বিষ ব্যবহার করা হোক না কেন, ইঁদুর তাতে প্রবেশ করে ক্ষতি করবেই।
বাজারে অনেকেই কেবল রোডেন্টিসাইড দিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন, কিন্তু এটা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়, বরং পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই ওচগ-এর মূল লক্ষ্য হলো পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং টেকসই উপায়ে ইঁদুরের আক্রমণ কমানো এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা। এক্ষেত্রে প্রতিটি উপাদান যেমন টোপের উপযুক্ততা, ফাঁদের কার্যকরিতা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, গর্ত বন্ধকরণ এবং খাদ্য ও বীজ সংরক্ষণের নিরাপত্তা সব কিছুই পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। এই সমন্বিত কৌশলের মাধ্যমেই ইঁদুর সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব, বিশেষ করে বাংলাদেশে যেখানে ইঁদুর দ্রুত অভিযোজিত হয়ে পড়ে এবং বারবার            পুনরায় আবির্ভূত হয়।
নিরাপদ ব্যবহার : রোডেন্টিসাইড ব্যবহারের সময় অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, যাতে করে শিশু, গৃহপালিত পশু ও মানুষ কোনোভাবেই ক্ষতির শিকার না হয়। বাংলাদেশে অনেক সময় দেখা যায়, বিষ মিশ্রিত টোপ খোলা জায়গায় রাখা হয় বা এমনভাবে প্রয়োগ করা হয়, যা শিশু বা গৃহপালিত প্রাণীর নাগালের মধ্যে পড়ে যায়। এতে করে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে,  যেমন: শিশুরা না জেনে সেই টোপ হাতে নেয় বা মুখে দেয়, কিংবা গরু, ছাগল, মুরগি ইত্যাদি প্রাণী ভুল করে খেয়ে ফেলে, যা তাদের জন্য মারাত্মক হতে পারে।
এ ছাড়া, অব্যবহৃত ইঁদুরনাশক সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে যেমন, সিল করে শিশুর নাগালের বাইরে রাখা, পশুখাদ্যের আশেপাশে না রাখা ও মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে তা সঠিকভাবে নিষ্পন্ন করা। যদি এই সতর্কতাগুলো না মানা হয়, তাহলে রোডেন্টিসাইড ব্যবহারে ইঁদুর মরার পাশাপাশি অনিচ্ছাকৃতভাবে মানুষ বা প্রাণীরও জীবন বিপন্ন হতে পারে। এজন্য সচেতনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করেই ইঁদুরনাশক ব্যবহার করতে হবে।
গবেষণা ও উদ্ভাবন : ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান পদ্ধতিগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকারিতা হারাচ্ছে, কারণ ইঁদুর সহজেই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে অভিযোজিত হতে পারে এবং পুরাতন ফাঁদ বা টোপ চিনে ফেলে। এ কারণে সময়োপযোগী ও আরও কার্যকর কৌশল উদ্ভাবনের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। নতুন ধরনের ফাঁদ, আরও আকর্ষণীয় এবং নির্দিষ্ট ইঁদুর প্রজাতির জন্য উপযোগী টোপ, পরিবেশবান্ধব ইঁদুরনাশক এবং স্বয়ংক্রিয় বা প্রযুক্তিনির্ভর নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি উদ্ভাবনে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ইঁদুরের আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, চলাচলের পথ ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা করে নতুন নতুন ধারণা তৈরি করতে পারেন, যা থেকে উদ্ভাবিত হতে পারে বুদ্ধিবৃত্তিক ফাঁদ বা কম খরচের প্রযুক্তি। একইভাবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বা অন্যান্য কৃষিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দেশীয় উপকরণ দিয়ে কার্যকর টোপ ও ফাঁদের মডেল তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে ইলেকট্রনিক সেন্সরযুক্ত ফাঁদ, মোবাইল-নিয়ন্ত্রিত ট্র্যাপিং সিস্টেম, এবং স্মার্ট মনিটরিং প্রযুক্তি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চালু হচ্ছে। বাংলাদেশেও এমন উদ্ভাবন স্থানীয় বাস্তবতায় খাপ খাওয়ানো সম্ভব হলে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ ও কার্যকর হবে। তাই গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে মাঠপর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং তার ভিত্তিতে নতুন পদ্ধতি ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা। শুধু তাত্ত্বিক গবেষণা নয়, ব্যবহারোপযোগী সমাধান খোঁজাই এই অংশগ্রহণের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। এই ধরনের উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
ইঁদুর বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি। তবে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য উপকরণ কাজে লাগিয়ে টেকসই ও কার্যকর ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। একক পদ্ধতির পরিবর্তে টোপ ও ফাঁদের সমন্বিত ব্যবহার এবং কৃষকের সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য অর্জন করা যেতে পারে। সরকারের সক্রিয় সহযোগিতা এবং গবেষণার প্রসার প্রয়োজন।

লেখক : অধ্যাপক, ল্যাবরেটরি অব অ্যাপ্লাইড এন্টোমলজি অ্যান্ড একারোলজি, কীটতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ-২২০২। মোবাইল: ০১৭১১৪৫২৪৯৬। 

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন