কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এ ০৪:৫৭ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: আশ্বিন সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৭-০৯-২০২৫
ইঁদুর দমনে পরিবেশবান্ধব সফল প্রযুক্তি
প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান১ সহযোগী প্রফেসর ড. তারিকুল ইসলাম২
বাংলাদেশের কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত, যেখানে ফসল উৎপাদন ও সংরক্ষণের প্রতিটি পর্যায়ে নানা ধরনের বালাইয়ের মুখোমুখি হতে হয়। এর মধ্যে অন্যতম ক্ষতিকর হলো ইঁদুর। ইঁদুর ফসলের ক্ষেত থেকে শুরু করে গুদামজাত শস্য, এমনকি বৈদ্যুতিক তার ও পানি সরবরাহ লাইনেও ক্ষতি সাধন করে। আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষি ব্যবস্থায় ইঁদুরের কারণে ৫-১০% ফসলের ক্ষতি হয়। বাংলাদেশেও এই ক্ষতির হার উদ্বেগজনক।
অতীতে রাসায়নিক বিষই ছিল প্রধান নিয়ন্ত্রণ উপায়, তবে এর পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে বর্তমানে বিকল্প পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা তীব্র। তাই ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ইঁদুর দমনের কার্যকর, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
প্রচলিত ইঁদুর দমন পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা
ঐতিহ্যগতভাবে ইঁদুর দমন পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিষ প্রয়োগ, ফাঁদ বসানো, ধোঁয়া বা গ্যাস প্রয়োগ, গর্ত খুঁড়ে মেরে ফেলা ইত্যাদি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফসলের মাঠ বা গুদামে রাসায়নিক বিষ ব্যবহার করা হয়। যদিও প্রাথমিকভাবে এটি কার্যকর মনে হয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এতে পরিবেশে ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং উপকারী প্রাণী মারা যায়। অনেক সময় ইঁদুর বিষে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিষাক্ত খাদ্য খাওয়ার ফলে পাখি, গৃহপালিত প্রাণী এমনকি মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বর্তমানে অধিকাংশ দেশে বিষের ব্যবহার সীমিত এবং বিকল্প পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উপরন্তু, যান্ত্রিক ফাঁদ সব প্রজাতির ইঁদুরের ক্ষেত্রে কার্যকর নয়।
জৈবিক দমন পদ্ধতি
প্রাকৃতিক শিকারি প্রাণীর ব্যবহার : ইঁদুরের প্রাকৃতিক শত্রুদের ব্যবহার একটি পুরনো অথচ কার্যকর পদ্ধতি। বাংলাদেশে পেঁচা, বিড়াল, বেজি, সাপ, শিয়াল প্রভৃতি ইঁদুরের প্রধান শিকারি। পেঁচা রাতে সক্রিয় থাকে এবং প্রতিরাতে ৪-৫টি পর্যন্ত ইঁদুর শিকার করতে পারে। ধানক্ষেতে কৃত্রিমভাবে পেঁচার বাসা বসানো হলে পেঁচার সংখ্যা বাড়ে এবং প্রাকৃতিকভাবে ইঁদুর দমন সম্ভব হয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। বিড়াল ঘরের ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। সাপ যেমন- কোবরা বা দুধরাজ ইঁদুরের গর্তে ঢুকে শিকার করে। যদিও গ্রামীণ পরিবেশে এটি বেশি দেখা যায়।
প্রজনন নিয়ন্ত্রণ
ইঁদুরের বংশবৃদ্ধি রোধে বিজ্ঞানীরা ইমিউনোকন্ট্রাসেপশন পদ্ধতির কথা বলছেন। এতে বিশেষ ধরনের টিকা বা এজেন্ট ইঁদুরের শরীরে প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে যা নিষিক্তকরণে বাধা দেয়। এটি সাধারণত মুখে খাওয়ার মতো খাবারের (নধরঃ) সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশে রাখা হয়। ইঁদুরের প্রজনন অত্যন্ত দ্রুত ও বিস্তিৃত, একটি স্ত্রী ইঁদুর বছরে প্রায় ৫-৬ বার বাচ্চা দেয় এবং প্রতি বারে ৬-১২টি করে বাচ্চা জন্ম দিতে পারে। অস্ট্রেলিয়ায় হাউজ মাউসের ওপর পরীক্ষায় এই পদ্ধতির কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যদি গবেষণা ও বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ পরিকল্পনা নেওয়া হয়, তাহলে এটি ইঁদুর দমনে ভবিষ্যতের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি হতে পারে।
পরিবেশবান্ধব আধুনিক প্রযুক্তি
আল্ট্রাসনিক শব্দ যন্ত্র : এই যন্ত্র নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তৈরি করে (উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তরঙ্গ, ২০ কিলোহার্টজের উপরে) যা মানুষ শুনতে না পেলেও ইঁদুরের শ্রবণ সংবেদনশীলতায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে যা ইঁদুরের জন্য অস্বস্তিকর। ফলে তারা খাদ্যগ্রহণ, প্রজনন, চলাফেরা ও গর্তে ফিরে যাওয়া থেকে বিরত থাকে এবং কিছুদিনের মধ্যেই নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে স্থান ত্যাগ করে। তবে ইঁদুর যদি অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন শব্দ পাল্টানো বা যন্ত্র সরানো দরকার হয়। আল্ট্রসনিক শব্দ যন্ত্র একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও দীর্ঘস্থায়ী ইঁদুর দমন পদ্ধতি যা মানুষের জন্য ঝুঁকিমুক্ত এবং পরিবেশবান্ধব। এটি বিশেষ করে নগরাঞ্চলে গৃহস্থালি, রেস্টুরেন্ট, গুদাম বা ছোট খামারে ব্যবহারের জন্য আদর্শ।
প্রাকৃতিক বিকর্ষক : এই প্রাকৃতিক বিকর্ষকগুলো সহজলভ্য, স্বাস্থ্যবান্ধব এবং পরিবেশের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবে নিয়মিত ব্যবহার ও পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রয়োগ নিশ্চিত করলেই ভাল ফলাফল পাওয়া যায়। পুদিনা পাতার তীব্র সুগন্ধ ইঁদুর সহ্য করতে পারে না। ইঁদুর প্রবেশের জায়গায় পুদিনা পাতার রস বা তেলের ব্যবহার তাদের দূরে রাখতে সাহায্য করে। তুলসীর প্রাকৃতিক গন্ধ ইঁদুরের ঘ্রাণেন্দ্রিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। তাই ঘরের আশেপাশে তুলসী গাছ লাগানো ইঁদুর প্রতিরোধে কার্যকর। নিমতেলের গন্ধ এবং রাসায়নিক উপাদান ইঁদুরকে বিরত রাখে। এটি তুলনামূলক দীর্ঘস্থায়ী এবং সহজলভ্য। গুদামঘর বা খাদ্য সংরক্ষণ স্থলে নিমতেল ব্যবহার করা যেতে পারে। রসুন ও পেঁয়াজের তীব্র গন্ধ ইঁদুর পছন্দ করে না। এসব কুচি করে ঘরের কোণে বা ইঁদুর প্রবেশ পথে রেখে দিলে ইঁদুর দূরে থাকে। লবঙ্গ ও গোলমরিচের গন্ধ ইঁদুরকে প্রভাবিত করে। এগুলো গুড়া করে গর্ত বা চলাচলের পথগুলোতে ছিটিয়ে দিলে ইঁদুর আসতে চায় না। অ্যামোনিয়ার গন্ধ ইঁদুরের শ্বাসতন্ত্রে অসুবিধা সৃষ্টি করে। সুতরাং পানি ও অ্যামোনিয়া মিশিয়ে কিছু স্থান ছিটিয়ে রাখলে ইঁদুর তা এড়িয়ে চলে। লেবুর খোসা বা পাতায় থাকা সাইট্রাস গন্ধ ইঁদুরকে বিকর্ষণ করে। ঘরের কোণে লেবুর খোসা রেখে দিলে তা ইঁদুর প্রতিরোধে সহায়ক হয়।
জৈব কীটনাশক পরিবেশবান্ধব ফাঁদ : বর্তমানে পরিবেশের ক্ষতি না করে, দীর্ঘস্থায়ীভাবে ইঁদুর দমন করার উপায় হিসেবে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন জৈবিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। ইঁদুরের মধ্যে নির্দিষ্ট ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক, কৃমি বা বিভিন্ন রকমের পরজীবী প্রাণী প্রয়োগ করে তাদের মৃত্যুর কারণ ঘটানো হয়। সালমোনেলা এন্টারাইটিস একধরনের ব্যাকটেরিয়া যা ইঁদুরের অন্ত্রে সংক্রমণ ঘটিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। এই প্রযুক্তি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও অনেক দেশে সীমিতভাবে ব্যবহার হচ্ছে।
ফেরোমন হলো রাসায়নিক সংকেত যা প্রাণীরা একে অপরের সাথে যোগাযোগে ব্যবহার করে। ইঁদুর দমনে সেক্স-ফেরোমন বা সামাজিক ফেরোমনের ব্যবহার করে তাদের প্রজনন ব্যাহত করা যায়। স্ত্রী ইঁদুরের ফেরোমন ব্যবহার করে পুরুষ ইঁদুর আকৃষ্ট করে ফাঁদে ধরা হয়। পুরুষ ইঁদুর বিভ্রান্ত হয়ে সঠিক সঙ্গী খুঁজে না পেয়ে প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয়।
আঠালো ফাঁদে বিষ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। একটি নির্দিষ্ট বোর্ডে গাঢ় আঠালো পদার্থ থাকে। ফাঁদে খাবার রাখলে ইঁদুর সেখানে আটকে যায় এবং মারা যায়। যদিও এটির নৈতিকতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবে বিষহীন হওয়ায় এটি পরিবেশবান্ধব হিসেবে বিবেচিত।
বুদ্ধিমান ফাঁদ এক ধরনের ফাঁদ সেন্সর-নিয়ন্ত্রিত। ইঁদুর ঢুকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দরজা বন্ধ হয়ে যায় এবং মোবাইলে সংকেত পাঠায়। পরবর্তীতে ইঁদুরকে জীবিত অবস্থায় মুক্ত করে দেওয়া যায় অথবা পরিবেশ বান্ধবভাবে নির্মূল করা যায়। এছাড়া বিদ্যুৎচালিত ফাঁদ অনেক জায়গায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এই ফাঁদে ঢুকলে ইঁদুর বৈদ্যুতিক শকের মাধ্যমে মারা যায়। বিষহীন হওয়ায় খাদ্য সংরক্ষণের এলাকায় ব্যবহারে উপযোগী।
বাস্তুতন্ত্র-ভিত্তিক ইঁদুর ব্যবস্থাপনা : এটি একটি সমন্বিত পদ্ধতি যেখানে ইঁদুরের জীববিজ্ঞান, প্রজনন চক্র, কৃষকের আচরণ, এবং পরিবেশ বিবেচনায় রেখে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মূল কৌশল হলো:
জমির বাঁধ (আইল) সংখ্যা কমানো ও পরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনা : ধানক্ষেতে বাঁধ ইঁদুরের বাসা বানানোর অন্যতম স্থান। গবেষণায় দেখা গেছে, বাঁধ কমানো বা চিকন রাখা ও আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন লাইন ব্যবহারে ইঁদুরের বাসা নির্মাণ কমে যায়। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান (ওজজও)-এর একটি প্রকল্পে এই কৌশলে সফলতা পাওয়া গেছে। জমি তৈরির সময় গভীর চাষ, এবং ইঁদুর আক্রমণপ্রবণ অঞ্চলে ‘শূন্য কর্ষণ কিংবা ‘ন্যূনতম কর্ষণ পরিহার করলে ইঁদুরের আক্রমণ কমে আসবে।
সমন্বিতভাবে ধান রোপণ ও কর্তন : এক এলাকায় একসাথে ধান রোপণ ও কর্তন করলে ইঁদুরের খাদ্য উৎস ও প্রজনন মৌসুম ছোট হয়ে যায়, ফলে তাদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে না।
খরা মৌসুমে জমি পতিত রাখা: এক বছরে তিনটি ধান চাষ করার প্রবণতা ইঁদুরের প্রজননের সুযোগ বাড়ায়। খরা মৌসুমে জমি ফাঁকা রেখে ইঁদুরের সংখ্যা কমানো সম্ভব। এটি পোকামাকড় দমনেও সহায়ক। তাছাড়া শস্য বহুমুখীকরণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে ইঁদুরের আক্রমণ কমে আসে।
সঠিক সময়ে দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ : গবেষণায় দেখা গেছে, ধানের মধ্য-টিলারিং পর্যায়ে (গরফ-ঃরষষবৎরহম ংঃধমব) ইঁদুর দুর্বল থাকে এবং তাদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এই সময়ে বিষ প্রয়োগ বা গর্ত ধ্বংস করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। অন্য দিকে, ফসল কাটার পরে গর্ত খুঁড়ে ইঁদুর মারার প্রচলিত পদ্ধতি বাস্তবে কার্যকর নয়, কারণ তখন অনেক ইঁদুর স্বাভাবিকভাবেই মারা যায়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সফল উদ্যোগসমূহ
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইঅজও) এবং ওজজও এর সহযোগিতায় কয়েকটি পাইলট প্রকল্পে দেখা গেছে পেঁচা ব্যবহার ও গর্ত ধ্বংস করে ইঁদুরের সংখ্যা ৭০% পর্যন্ত হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে। নওগাঁ, রাজশাহী ও নাটোর অঞ্চলে গ্রামীণ জনগণকে প্রশিক্ষণ দিয়ে পেঁচার বাসা স্থাপন করানো হয়েছে। এতে রাসায়নিক বিষ ব্যবহার অনেকাংশে কমে এসেছে। রাজশাহী অঞ্চলে ইঁদুর ধরার প্রতিযোগিতা বা ‘ইঁদুর দিবস’ পালন করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সামাজিক ক্যাম্পেইন ও গ্রামীণ শিক্ষায় পরিবেশবান্ধব ইঁদুর দমন পদ্ধতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সুপারিশ
কৃষকের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি যে রাসায়নিক বিষ ব্যবহারে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের মারাত্নক ক্ষতি হয়। জৈবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার গবেষণা ও সম্প্রসারণ বাড়াতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে কৃষক পর্যায়ে প্রযুক্তির হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামীণ উদ্ভাবিত ফাঁদের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করতে হবে। ইঁদুরের আবাসস্থল ধ্বংস এবং বিষের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির প্রসার করতে হবে। স্কুল পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে যেন আগামী প্রজন্ম পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে। আইনগতভাবে ইঁদুর শিকারি প্রাণীদের সংরক্ষণ করতে হবে, বিশেষ করে পেঁচা ও সাপ যেন নির্বিচারে হত্যা না হয়। বাস্তুতন্ত্রভিত্তিক ইঁদুর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির পাইলট প্রকল্প চালু ও সম্প্রসারণ করতে হবে।
ইঁদুর দমন একটি জটিল ও বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ, যার সমাধান একমাত্র রাসায়নিক বিষ নয়। পরিবেশবান্ধব ও জৈবিক পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধান সম্ভব। কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, গবেষণা সংস্থার সমর্থন ও সরকারি নীতিমালার মাধ্যমে বাস্তুতন্ত্রভিত্তিক ইঁদুর দমন কৌশল বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত প্রয়োজন ।
লেখক : ১-২কীটতত্ত্ব বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ-২২০২, মোবাইল : ০১৩২৫৬৯৩২০০, ই-মেইল: rahmanmm_ent@bau.edu.bd