কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ এ ১২:০৪ PM

. প্রশ্নোত্তর

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: বৈশাখ সাল: ১৪৩৩ প্রকাশের তারিখ: ১৬-০৪-২০২৬

প্রশ্নোত্তর

রুপালী সাহা

নাম : জনাব মো: সুজন, উপজেলা- ধামইরহাট, জেলা- নওগাঁ
প্রশ্ন : পেঁপের চারা ঢলেপড়া (ড্যাম্পিং অফ) ও কা- পচা রোগে কী করতে হবে।
উত্তর : এ রোগ প্রতিকারের তেমন কোনো সুযোগ থাকে না। তাই প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা উত্তম। বীজতলা তৈরি করতে হলে বীজ বপনের আগে বীজতলার মাটি ভালোভাবে শুকানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া বীজতলার মাটি ৫% ফলমালিন দ্বারা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। (ম্যানকোজেব+ফেনামিডন) গ্রুপের ওষুধ সিকিউর প্রতি কেজি বীজের সাথে (২-৩) গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। জমি তৈরির পর ৬ সেমি. পুরু করে শুকনো কাঠের গুঁড়া বা ধানের তুষ বীজতলায় বিছিয়ে পড়াতে হবে। পরে কুপিয়ে বীজ বপন করতে হবে। বীজতলায় হেক্টরে ৫ টন হারে আধাপচা মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করতে হবে। বীজ বপনের (১৫-২১) দিন আগে জমিতে বিষ্ঠা পচানোর পর বীজ বপন করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। চারা লাগানোর ৩ সপ্তাহ আগে হেক্টরপ্রতি ৩০০ কেজি খৈল জমিতে প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশালে কা- পচা রোগের উপদ্রব কম হয়। এ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে গাছের কা-ের চারিদিকে ১% বর্দোমিকচার বা কপার অক্সিক্লোরাইড গ্রুপের ওষুধ মূলকক্স ৪% স্প্রে করতে হবে।
নাম : ভূষণ রায়, উপজেলা- গংগাছড়া, জেলা- রংপুর
প্রশ্ন: শীষকাটা লেদাপোকা ধানের শীষ কেটে ক্ষতি করছে। করণীয় কী?
উত্তর : ধানের শীষ আসার পর এ পোকার কীড়া শীষ কেটে ক্ষতি করে। মেঘলা আবহাওয়ায় এ পোকার বংশবৃদ্ধি বেশি হয়। ক্ষেত পরিষ্কার রাখলে ও ধান কাটার পর নাড়া পুড়িয়ে ফেললে বা জমি চাষ দিয়ে রোদে ফেলে রাখলে এ পোকার আক্রমণ কম হয়। আক্রমণ হওয়ার পর ক্ষেতে বেশি করে সেচ দিতে হবে। ক্ষেতে খাদক পাখি বসার ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষেতে অধিকাংশ গাছে প্রতি বর্গমিটারে গড়ে অন্তত একটি করে কীড়ার উপস্থিতি থাকলে বালাইনাশক ব্যবহার করতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি ক্লোরোপাইরিফস গ্রুপের কীটনাশক অথবা ২ গ্রাম কার্বারিল গ্রুপের কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
নাম : জনাব মো: নিয়াজ ভূঁইয়া, উপজেলা- ডিমলা, জেলা- নীলফামারী
প্রশ্ন : আমার লিচু গাছের লিচুর গায়ে প্রথমে বাদামি অথবা কালো দাগ দেখা যায়। পরবর্তীতে ফলের খোসায় আক্রমণ করে এবং ফল দ্রুত পচে যাচ্ছে। করণীয় কী?
উত্তর : এটি একটি ক্ষতিকারক ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে। এটি লিচুর পচা রোগ উরঢ়ষড়ফরধ ঝঢ় নামক ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে। রোগটি লিচুর বোঁটা থেকে শুরু হয়। গাছ থেকে লিচু পারার সময় যাতে আঘাতপ্রাপ্ত না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। বৃষ্টির দিনে লিচু পারা যাবে না। লিচু পারার পর গরম পানিতে ১০ মিনিট ডুবিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। গাছে থাকা অবস্থায় রোগের আক্রমণ দেখা দিলে প্রতি লিটার ২ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ বা ২ গ্রাম ইভামিল বা ১ গ্রাম ব্যাভিস্টিন মিশিয়ে ১০-১২ দিন অন্তর অন্তর ২-৩ বার শেষ বিকেলে স্প্রে করতে হবে।
নাম : জনাব ফাল্গুনী বিশ্বাস, উপজেলা- ভাঙ্গা, জেলা- ফরিদপুর
প্রশ্ন : আমার পটোল গাছের গোড়ায় ক্ষত হয়ে কালো বা বাদামি বর্ণ হয়ে যাচ্ছে এবং কা- ও পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিকার কী?
উত্তর : এটি পটোলের এ্যানথ্রাকনোজ রোগ। এটিColletotrichum sp. নামক ছত্রাক দিয়ে হয়। এ রোগটি কা- ও পাতায় আক্রমণ করে এবং ক্ষত সৃষ্টি করে। ক্ষেতের রং কালো বা বাদামি বর্ণের হয় এবং পরবর্তীতে কা-ে ও পাতা শুকিয়ে যায়।
প্রতিকার : রোগাক্রান্ত গাছ তুলে নষ্ট বা পুড়ে ফেলতে হবে।
রোগমুক্ত গাছ থেকে শাখা কলম (কাটিং) সংগ্রহ করতে হবে;
শাখা কলম কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক অটোস্টিন ২ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে;
রোগ দেখা দিলে প্রপিকোনাজল গ্রুপের টিল্ট ০.৫ মিলি হারে ৫ মিলি ১০ লিটার পানিতে বা ম্যানকোজেব গ্রুপের ডাইথেন এম-৪৫ ২ গ্রাম হারে ২০ গ্রাম ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করতে হবে।
নাম : জনাব মো: মজিদ, উপজেলা- সারিয়াকান্দি, জেলা- বগুড়া
প্রশ্ন : শসা গাছ হঠাৎ করে নেতিয়ে পড়তেছে। গাছের পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় করণীয় কী?
উত্তর : এটি শসার ছত্রাকজনিত ঢলে পড়া রোগ। Fusarium ozysporum নামক ছত্রাকের কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। এ ছত্রাকের আক্রমণে গাছ হঠাৎ নেতিয়ে পড়ে, পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যায় এবং শিকড় পচে যায়। দিনের বেলায় গাছ ঢলে পড়ে এবং রাতে কিছুটা সতেজ মনে হতে পারে। কিন্তু কয়েক দিনে গাছ সম্পূর্ণ মারা যায়। গাছের শিকড় জীবাণুর আক্রমণে নষ্ট হয়ে যায় ফলে শিকড় দিয়ে রস গাছের কা-ে পৌঁছাতে পারে না এর ফলে রসের অভাবে গাছ মারা যায়। এ রোগ প্রতিরোধে আক্রান্ত গাছ তুলে নষ্ট বা পুড়ে ফেলতে হবে। জমিতে ট্রাইকোডার্মা ব্যবহার করতে হবে। কার্বক্সিন+থিরাম গ্রুপের ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করে নিতে হবে রোপনের পূর্বে। রোগমুক্ত গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে। আক্রমণ দেখা দিলে কপার হাইড্রোক্রাইড ২ গ্রাম বা কপার অক্সিক্লোরাইড ৪ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় ৭/১০ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে।

লেখক : সম্পাদক (অ.দা.), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫, মোবাইল : ০১৭২৩৮১৬৫২২

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন