কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ এ ০১:৫৭ PM

সম্পাদকীয়

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: বৈশাখ সাল: ১৪৩৩ প্রকাশের তারিখ: ১৬-০৪-২০২৬

সম্পাদকীয়

৮৬তম বর্ষ ড় ১ম সংখ্যা বৈশাখ-১৪৩৩
(এপ্রিল-মে ২০২৬)
বাংলা নববর্ষের প্রথম মাস বৈশাখ আমাদের জীবনে নতুন সম্ভাবনা, নতুন পরিকল্পনা এবং নতুন উদ্যমের বার্তা নিয়ে আসে। প্রখর রৌদ্র, খরতাপ ও কালবৈশাখীর ঝ—-সব মিলিয়ে বৈশাখ প্রকৃতির এক বৈচিত্র্যময় রূপের প্রতিফলন। এই মাসটি যেমন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে, তেমনি কৃষি ও গ্রামীণ জীবনে নতুন সূচনার দ্বারও উন্মোচন করে।
কৃষির দৃষ্টিকোণ থেকে বৈশাখ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় বোরো ধান কাটার প্রস্তুতি শুরু হয় এবং গ্রামবাংলার অনেক অঞ্চল ফসল ঘরে তোলার আনন্দে মুখরিত থাকে। একই সঙ্গে খরিফ-১ মৌসুমের বিভিন্ন ফসল যেমন আউশ ধান, পাট, তিল ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করা হয়। তাই কৃষকদের জন্য এ মাসটি কর্মব্যস্ততার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়।
তবে বৈশাখের তীব্র্র তাপদাহ ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সেচ ব্যবস্থাপনা, মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ এবং রোগবালাই প্রতিরোধে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে খরতাপের সময় ফসলকে রক্ষা করতে সঠিক সময়ে সেচ প্রদান এবং মালচিং পদ্ধতি অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া কালবৈশাখীর ঝড় অনেক সময় পাকা ফসলের ক্ষতি করে থাকে। এজন্য আগাম সতর্কতা গ্রহণ, ফসল দ্রুত ঘরে তোলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা ছাঁটাই করা দরকার। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ও আবহাওয়ার পূর্বাভাসের প্রতি নজর দিলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
বৈশাখ শুধু কৃষির মাস নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীকও বটে। পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে আমরা নতুন বছরের অঙ্গীকার করি- প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার। কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতির সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
নতুন বছরের এই সূচনালগ্নে আমাদের প্রত্যাশা-কৃষিতে আধুনিকায়ন, জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির প্রসার এবং কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে বৈশাখ হয়ে উঠুক সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল প্রতীক।

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন