কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ১২:০৫ PM

সম্পাদকীয়

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: ফাল্গুন সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৬-০২-২০২৬

৮৫তম বর্ষ ড় ১১ম সংখ্যা ফাল্গুন-১৪৩২ (ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০২৬)

সম্পাদকীয়
ফাল্গুন মানেই বসন্ত ্রপ্রকৃতির রঙিন রূপ, কোকিলের ডাক আর মাঠজুড়ে ফসলের ব্যস্ততা। শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনের মাঝখানের এই সময়টি কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্র্ণ। এ সময় কৃষকের ব্যস্ততাতেই নির্ধারিত হয় আগামীর খাদ্যনিরাপত্তা।
বাংলাদেশের মাঠে ফাল্গুন মাসে বোরো ধানের চারা রোপণ ও পরিচর্যার কাজ তুঙ্গে থাকে। একই সঙ্গে গম, সরিষা, আলু, মসুর, খেসারি ও বিভিন্ন শীতকালীন সবজির সংগ্রহ শুরু হয়। ফসল তোলার আনন্দের পাশাপাশি বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য পাওয়ার চ্যালেঞ্জও সামনে আসে।
এই সময় আবহাওয়ার পরিবর্তন দ্রুত ঘটে। দিনের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে, কোথাও কোথাও শুষ্কতা দেখা দেয়। ফলে সেচ ব্যবস্থাপনা, সুষম সার প্রয়োগ এবং পোকা-মাকড়ের আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের হতে হয় আরও সতর্ক। বিশেষ করে বোরো ধানে মাজরা পোকা, লেদা পোকা ও বিভিন্ন রোগের আক্রমণ এ সময় বেড়ে যেতে পারে।
ফাল্গুন মাসে ফলের বাগানেও দেখা যায় নতুন প্রাণচাঞ্চল্য। আম, লিচু, কাঁঠালের মুকুলে ভরে ওঠে গাছ। তবে মুকুল ঝরা, রোগ ও পোকার আক্রমণ রোধে সময়মতো পরামর্শভিত্তিক ব্যবস্থাপনা জরুরি।
বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কৃষিকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করছে। তাই আধুনিক ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ, আবহাওয়া-ভিত্তিক কৃষি সিদ্ধান্ত এবং কৃষি সম্প্রসারণ সেবার কার্যকর ব্যবহার এখন সময়ের দাবি।
ফাল্গুন শুধু বসন্তের উৎসব নয়, এটি কৃষকের শ্রম ও প্রত্যাশার প্রতীক। এই মাসে কৃষকের সঠিক দিকনির্দেশনা, সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে দেশের কৃষি আরও সমৃদ্ধ হবে এটাই প্রত্যাশা।
প্রিয় পাঠক, কৃষি বিশেষজ্ঞদের সময়োপযোগী প্রবন্ধ, মাস উপযোগী ফসল উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তি, পুষ্টিবার্তা, আগামীর কৃষি ভাবনা, সফল কৃষকের গল্প, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবং নিয়মিত বিভাগ দিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের ফাল্গুন সংখ্যা। যারা এসব তথ্য-উপাত্তসমৃদ্ধ লেখা দিয়ে কৃষিকথাকে সমৃদ্ধ করেছেন তাদের প্রতি জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আশা করি কৃষিকথা কৃষির সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন