কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২২ এ ১০:৩৭ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: কার্ত্তিক সাল: ১৪২৯ প্রকাশের তারিখ: ১৬-১০-২০২২
১৬ অক্টোবর ২০২২ বিশ্ব খাদ্য দিবস। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এ দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) তার জন্মকাল ১৯৪৫ সাল থেকে ১৬ অক্টোবরকে বিশ্ব খাদ্য দিবস হিসেবে উদ্যাপন করে আসছে। পৃথিবীর সব মানুষের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের জোগান নিশ্চিতকরণ, পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ এবং দরিদ্রতার মূলোৎপাটন করে ক্ষুধামুক্ত নির্মল পৃথিবী গড়ার কাজে ঋঅঙ নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৮১ সাল থেকে বিশ্ব খাদ্য দিবস প্রতিপাদ্যভিত্তিক পালিত হয়ে আসছে। এ বছর পতিপাদ্য ‘Leave no one behind. Better production,better nutrition,a better environment and a better life.’ এর ভাবার্থ ‘কাউকে পশ্চাতে রেখে নয়। ভালো উৎপাদনে উত্তম পুষ্টি, সুরক্ষিত পরিবেশ এবং উন্নত জীবন’ যা সময়োপযোগী।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কৃষি খাদ্য ব্যবস্থা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরবর্তী দেশ গঠনে এ উপলব্ধি করেছেন। জাতির পিতা প্রদর্শিত পথেই বর্তমান সরকার ধারাবাহিকভাবে কৃষি উন্নয়নে বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। ফলে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ আজ দানাদার খাদ্যের উদ্বৃত্ত দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশে^র প্রথম ১০টি দেশের কাতারে রয়েছে। মাছ, মাংস, ডিম উৎপাদনেও দেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ। আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এ সাফল্য এসেছে কৃষিক্ষেত্রে লাগসই জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও তার যথাযথ ব্যবহারে কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষক, কৃষি সম্প্রসারণবিদ, সুশীল সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে। বৈশ্বিক মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং নানাবিধ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আগ্রাসনের কারণে কৃষি খাদ্য ব্যবস্থা প্রভাবিত হচ্ছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সাফল্য অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও অধিক বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে সবার জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জন বিশ্ব খাদ্য দিবস প্রতিপাদ্যের মূল লক্ষ্য।
প্রিয় পাঠক, কৃষি মন্ত্রণালয় ও এফএও বাংলাদেশের উদ্যোগে বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২২ উদ্যাপিত হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে মাসিক কৃষিকথার বিশেষ সংখ্যা মুদ্রণ করা হচ্ছে। কৃষিকথা বিশেষ সংখ্যায় দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে দিকনির্দেশনামূলক বাণী এবং মানসম্পন্ন ও তথ্যপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ লেখা যারা দিয়েছেন তাদের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আশা করি তথ্য সংবলিত লেখাগুলো বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্যের সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্ব খাদ্য দিবস সফল হোক, সার্থক হোক এই কামনা। সবাইকে অফুরান শুভেচ্ছা।