কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৩ এ ০৪:৪৬ PM

সম্পাদকীয়

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: কার্ত্তিক সাল: ১৪৩০ প্রকাশের তারিখ: ১৬-১০-২০২৩

সম্পাদকীয়

১৬ অক্টোবর ২০২৩ বিশ^ খাদ্য দিবস। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ঋঅঙ) ১৯৪৫ সাল থেকে ১৬ অক্টোবরকে বিশ^ খাদ্য দিবস হিসেবে উদ্যাপন করে আসছে। পৃথিবীর সব মানুষের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের জোগান নিশ্চিতকরণ, পুষ্টিহীনতা দূরীকরণ এবং দরিদ্রতার মূলোৎপাটন করে ক্ষুধামুক্ত নির্মল পৃথিবী গড়ার কাজে ঋঅঙ নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৯৮১ সাল থেকে বিশ^ খাদ্য দিবস প্রতিপাদ্যভিত্তিক পালিত হয়ে আসছে। এ বছর প্রতিপাদ্য ‘ডধঃবৎ রং ষরভব, ধিঃবৎ রং ভড়ড়ফ. খবধাব হড় ড়হব নবযরহফ.’ এর ভাবার্থ ‘পানি জীবন, পানিই খাদ্য। কেউ থাকবে না পিছিয়ে।’ যা পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক জলবায়ুতে সময়োপযোগী ও অর্থবহ।
পানি, জীব, অর্থনীতি, প্রকৃতির চালিকাশক্তি এবং মানুষের খাদ্যের ভিত্তি। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পরবর্তী দেশ গঠনে কৃষি ক্ষেত্রে পানির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছেন। ১৯৬০ এর দশকে প্রায় ৯৫ শতাংশ ভূউপরিস্থ এবং ৫ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার হতো। স্বাধীনতার পরবর্তীকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কৃষি উন্নয়নের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিএডিসি কর্তৃক  ক্ষুদ্রসেচ উইং বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচি গ্রহণ করেন। ভূগর্ভস্থ ও ভূউপরিস্থ পানির ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহারে আধুনিক সেচ ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ব্যবহার প্রচলন করেন। তাঁরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খাদ্য নিরাপত্তায় যুগোপযোগী পদক্ষেপ চলমান রয়েছে। ফলে বিশ^ মানচিত্রে বাংলাদেশ আজ দানাদার খাদ্যের উদ্বৃত্ত দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। মাছ, মাংস, ডিম উৎপাদনেও দেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ।
বর্তমানে বৈশি^ক মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং নানাবিধ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আগ্রাসনের কারণে প্রাকৃতিক সম্পদ পানি প্রভাবিত হচ্ছে। গত কয়েক দশকে জনপ্রতি স্বাদুপানি ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশ্বব্যাপী এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্তমান সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যায়ক্রমে নিরাপদ-সাশ্রয়ী খাবার পানি সর্বজনীন ও সমান অধিকার অর্জনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। পানির সমন্বিত ও পরিকল্পিত কার্যক্রম গ্রহণ, পরিবেশবান্ধব নীতি অবলম্বন, পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, অপচয় রোধ এবং সেচ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের মাধ্যমে উচ্চফলনশীল জাতের ফসল উৎপাদনসহ বাস্তবমুখী কার্যক্রম নিজ নিজ অবস্থান হতে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। এভাবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০৩০ সালের মধ্যে কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে নিরাপদ পানি সহজলভ্যতা ও স্যানিটেশন অর্জন সম্ভব হবে।
প্রিয় পাঠক, কৃষি মন্ত্রণালয় ও এফএও বাংলাদেশের উদ্যোগে বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৩ উদ্যাপিত হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে মাসিক কৃষিকথার বিশেষ সংখ্যা মুদ্রণ করা হচ্ছে। কৃষিকথা বিশেষ সংখ্যায় দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে দিকনির্দেশনামূলক বাণী এবং মানসম্পন্ন ও তথ্যপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ লেখা যারা দিয়েছেন তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আশা করি তথ্য সংবলিত লেখাগুলো বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্যের সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্ব খাদ্য দিবস সফল ও সার্থক হবে এই কামনা।

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন