কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫ এ ০১:৪৪ AM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: জ্যৈষ্ঠ সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৫-০৫-২০২৫
সম্পাদকীয়
বাংলাদেশের ঋতু পরিক্রমায় জ্যৈষ্ঠ মাস বৈচিত্র্যময়। গ্রাম বাংলার জনমনের মাঝে তৈরি হয় অন্য রকম ছন্দ। প্রচ- খরতাপে প্রকৃতিতে নাভিশ্বাস অবস্থা থাকে। পাশাপাশি হরেক রকম ফসল ও মজার মজার ফল প্রাপ্তির কারণে আপামর জনসাধারণের মনপ্রাণ আনন্দরসে ভরপুর থাকে। গ্রামবাংলার সবুজ শ্যামল প্রকৃতিতে কৃষিজীবী ভাইবোনেরাও ব্যস্ত থাকে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায়। ফলে দেশে দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের সাথে অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।
মানবদেহে পুষ্টি চাহিদা পূরণে শাকসবজি অপরিহার্য। শাকসবজি ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও আঁশের উৎকৃষ্ট উৎস। বিশেষত রঙিন সবজিতে খাদ্যআঁশ, ফোলেট, বিভিন্ন রকমের ক্যারোটিনয়েড লাইকোপেন এবং ভিটামিন সি বিদ্যমান, যা দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বাংলাদেশের মাটি ও জলবায়ু শাকসবজি চাষের জন্য সহায়ক। উন্নত ও সুস্থ সবল বীজ, সঠিক পরিচর্যা ও জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের মাটিতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২২৫.৪০ লাখ মেট্রিকটন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৪১.৭৮ লাখ মেট্রিকটন শাকসবজি উৎপাদন হয়েছে, যা বিগত বছরের তুলনায় ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শিম বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় সবজি ফসল । ফসলটি আলো সংবেদনশীল হওয়ায় এর প্রাপ্যতা প্রধানত শীতকালে সীমাবদ্ধ। তাছাড়া শিম একটি আমিষ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি। জনগোষ্ঠীর পুষ্টির উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন আনয়নের লক্ষ্যে কৃষি বিজ্ঞানীগণ গ্রীষ্মকালীন জাত উদ্ভাবন করেছেন। বর্তমানে শিমের উৎপাদন ৯.৬৪ লাখ মেট্রিকটন, যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এ সম্পর্কে ‘শিম: পুষ্টিগুণে ভরপুর ও উৎপাদন প্রযুক্তি’ তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধটিতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এবারের কৃষিকথায়।
এ ছাড়াও কৃষি বিশেষজ্ঞগণের সময়োপযোগী প্রবন্ধ-নিবন্ধ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ আগামীর কৃষি ভাবনা, সফল কৃষকের গল্প ও নিয়মিত বিভাগ দিয়ে এবারের সংখ্যা সাজানো হয়েছে। কৃষিকথায় এসব মানসম্পন্ন ও তথ্যপ্রযুক্তি লেখা দিয়ে যারা সমৃদ্ধ করেছেন তাদের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আশা রাখছি কৃষির উন্নয়ন ও বিশ্বায়ন মোকাবিলায় উপযুক্ত কর্মকৌশল গ্রহণে সহায়ক হবে।