কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ এ ০৭:৪৯ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: কার্ত্তিক সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৫-১০-২০২৫
শুকনা জমিতে সরাসরি বীজ বপনের (উঝজ) মাধ্যমে ধান উৎপাদন কৌশল
ড. শরীফ আহমেদ১ আবু আব্দুল্লাহ মিয়াজী২
সরাসরি ধান বপন (উঝজ) হলো বীজতলায় চারা উৎপাদন ও জমি কাদা করে চারা রোপণ ছাড়াই শুকনো ধান সরাসরি মূল জমিতে বপন করে ধান উৎপাদন করার একটি পদ্ধতি। সরাসরি ধান বপন সাধারণত কৃষকগণ হাতে ছিটিয়ে বুনে থাকেন। এক্ষেত্রে জমি চাষ, মই ও বীজ বপন একটি কষ্টসাধ্য ও সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। অথচ পাওয়ার টিলার চালিত বীজ বপন (পিটিওএস) যন্ত্রের মাধ্যমে এ কাজটি সহজেই করা যায়। এটি এমন এক বীজ বপন যন্ত্র যার দ্বারা চাষ, সারিতে বীজ বপন, বীজ ঢেকে দেয়া এবং মই দেয়ার মতো কাজগুলো একইসাথে হয়ে থাকে।
উঝজ পদ্ধতিতে ধান চাষের প্রয়োজনীয়তা
শ্রমিক সাশ্রয় : বীজতলায় চারা তৈরি ও পরিচর্যা, চারা উঠানো এবং মূল জমিতে চারা রোপণের মতো কাজ করতে হয় না বলে বিঘায় ৫-৬ জন শ্রমিক সাশ্রয় হয়।
পানি সাশ্রয় : কাদাকরণ ছাড়াই ধান সরাসরি শুকনা জমিতে লাগানোর ফলে পানি সাশ্রয় হয়। রোপণ পদ্ধতির মতো পানি দাঁড় করিয়ে রাখতে হয় না, মাটিতে প্রয়োজনমতো রস থাকলেই চলে, জমি ফেটে যায় না এবং অনেক সময় বৃষ্টির পানিতে ধান হয়ে যায়। তাই সরাসরি ধান বপনে রোপণের চেয়ে কমপক্ষে শতকরা ২০-৩০ ভাগ পানি সাশ্রয় হয়।
অর্থ সাশ্রয় : পিটিওএস মেশিনে স্বল্প খরচে ধান বপন করা যায়। এতে চারা তৈরি, উঠানো ও লাগানো এবং কাদা করার খরচ বেঁচে যায়। চাষ ও কাদাকরণের জন্য জ¦ালানি খরচও কমে যায়। প্রচলিত রোপণ পদ্ধতিতে যেখানে ৩-৪টি চাষ লাগে সেখানে পিটিওএস মেশিনে এক চাষে হয় বলে জমি চাষ ও জ¦ালানি খরচ কমে যায়।
সময়মতো ধান বপন : চারা রোপণের সময় আকাশের বৃষ্টি না হলে, আমন মৌসুমে চারা রোপণে বিলম্ব হয় এবং চারার বয়স বেড়ে যায়। এতে ফলন কমে যায়। সরাসরি ধান বপনের ক্ষেত্রে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা না করে মাটিতে রস থাকলেই সময়মতো মেশিনে বপন করে কাক্সিক্ষত ফলন পাওয়া যায়।
উঝজ পদ্ধতিতে ধান উৎপাদন কৌশল
জমি নির্বাচন : দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ, এঁটেল ও পলি দো-আঁশ যুক্ত উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি সরাসরি ধান বপনের জন্য নির্বাচন করতে হবে। তবে পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত মাঝারি উঁচু জমি সরাসরি ধান চাষের জন্য অধিকতর উপযোগী। আবার নিচু জমি নির্বাচন না করাই ভালো নতুবা বীজ বপনের পর বৃষ্টি হলে পানি জমে বীজ পচে যাবে অথবা কচি চারা মারা যাবে। লোনা বা বেলে মাটিতে সরাসরি ধান বপন করা মোটেই উচিত নয়।
মৌসুম ও সময় : আমাদের দেশে সাধারণত তিন মৌসুমে ধানের চাষ হয়ে থাকে। যথা- আউশ (২০ এপ্রিল-জুলাই), আমন (মধ্য জুন-নভেম্বর), বোরো (মধ্য নভেম্বর-এপ্রিল/মে)। সাধারণত সরাসরি বীজ বপনের জন্য আউশ ধানের ক্ষেত্রে বপনের উপযুক্ত সময় এপ্রিলের ২য় সপ্তাহ থেকে মে মাসের ১ম সপ্তাহ পর্যন্ত এবং আমন মৌসুমে বপনের উপযুক্ত সময় জুনের ১ম সপ্তাহ থেকে জুলাই মাসের ১ম সপ্তাহ পর্যন্ত)। তবে বোরো মৌসুমে (নভেম্বর ও ডিসেম্বর) যেসব এলাকায় অতিরিক্ত শীত থাকে, সেসব এলাকায় এ পদ্ধতিতে সরাসরি বীজ বপন করলে চারা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই সময় এ পদ্ধতিতে ধান উৎপাদন না করাই ভালো। তবে আগাম রবি শস্য কর্তনের পর অর্থাৎ জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সপ্তাহে সরাসরি বীজ বপন করে বোরো ধান চাষ করা যায় এবং ভালো ফলন পাওয়া যায়। বপনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করতে হবে। প্রথমতো বপন এমন সময় হওয়া প্রয়োজন যখন মৌসুমি বৃষ্টির পূর্বে অথবা মৌসুমি বৃষ্টির পর থেকে মাটিতে মোটামোটি রস এলেই বীজ বপন করতে হবে। দ্বিতীয়ত মৌসুমি বৃষ্টিপাত নিয়মিত শুরু হওয়ার আগেই যেন ফসল দাঁড়িয়ে যায় ও সঠিকভাবে আগাছা দমন করা যায়, তৃতীয়ত ধান পাকার সময়ে যেন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা না থাকে।
জাত নির্বাচন : ব্রি কর্তৃক কিছু জাত মৌসুমভেদে সরাসরি বপনের উপযোগী হিসেবে বের করা হলেও মাঠপর্যায়ে গবেষণায় ব্রি ও ইরি কর্তৃক সরাসরি বীজ বপন করে ধান উৎপাদনের আউশ মৌসুমের জন্য ব্রি ধান৪৮/৯৮/৮৩ ভাল তন্মধ্যে ব্রি ধান৯৮ সবচেয়ে বেশি ফলন পাওয়া যায়। বোরো মৌসুমের জন্য ব্রি ধান৯২ ব্রি ধান৯৬, ব্রি ধান১০২, ব্রি ধান১০৫, সরাসরি বীজ বপন করে ধান উৎপাদন করা গেলেও, দেরিতে বোরো ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে, ব্রি ধান৯৮ (যদিও আউশের জাত), ব্রি ধান৭৪ এবং ব্রি ধান৭৫ (যদিও আমনের জাত) ভালো ফলন পাওয়া যায়। আমন মৌসুমের জন্যে ভালো জাতগুলো হলো ব্রি ধান৭৫ এবং বিনা ধান-১৭। ব্রি ধান৭৫ স্বল্প জীবনকাল (১১০-১১৫ দিন) এবং এর ধান প্রিমিয়াম কোয়ালিটি হওয়ায় এবং জাতটি কর্তনের পর সহজেই আগাম রবি শস্য করা যায়। উত্তরাঞ্চলের বিশেষ করে রংপুর, নীলফামারী জেলায় আমন মৌসুমে সরাসরি বীজ বপন করে ধান উৎপাদন কৃষকের কাছে জাতটি বেশ গ্রহণ যোগ্যতা পেয়েছে।
পিটিওএস যন্ত্র দ্বারা চাষ : উঝজ পদ্ধতি পিটিওএস মেশিনের মাধ্যমে চাষাবাদের সময় স্বল্প চাষ ও ফালি চাষ দুইভাবে চাষ করা যায়।
স্বল্প চাষ : পিটিওএস মেশিনে ঘনভাবে সংযুক্ত ৪৮টি ফাল মাটিকে খুব ভালোভাবে চাষ করতে সক্ষম। তাই অতিরিক্ত চাষে খরচ বাড়ানোর কোনো মানে হয় না। শুধু পূর্ববর্তী ফসল কাটার অব্যহতি পর জোঁ অবস্থায় পিটিওএস মেশিন চালিয়ে সরাসরি বীজ বপন করা যায়। এ মেশিনে চাষ, ৬ সারিতে বীজ বপন, বীজ ঢাকা ও মইয়ের মতো কাজগুলো এক সাথে হয়ে থাকে। তবে জমিতে পর্যাপ্ত আগাছা থাকলে ঘাস দমনে অতিরিক্ত একটি চাষ দিয়ে ঘাস মেরে নিতে পারেন। অথবা অনির্বাচিত আগাছানাশক ৫-৭ দিন আগে প্রয়োগ করে পিটিওএস মেশিন চালিয়ে সরাসরি বীজ বপন করতে পারেন। অনির্বাচিত আগাছানাশক প্রয়োগের ক্ষেত্রে নি¤েœর কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
জমি অনেক দিন পতিত বা খালি থাকলে অথবা আগাছা খুব বেশি থাকলে হালকা পানি সেচ দিয়ে বা বৃষ্টি হওয়ার পর কয়েক দিন অপেক্ষা করলে মাটিতে লুকানো ঘাসের বাকি বীজগুলো গজিয়ে যাবে। তখন অনির্বাচিত আগাছানাশক ভালোভাবে স্প্রে করলে প্রায় ৪০-৬০% আগাছা দমন হবে। এ পদ্ধতিকে স্টেল সিড বেড (ঝঃধষব ংববফ নবফ) বলে।
বীজ বপনের ৫-৭ দিন পূর্বে রৌদ্রজ্জ্বল দিনে সিস্টেমিক ও অনির্বাচিত আগাছানাশক গ্লাইফোসেট গ্রুপের ঔষধ (রাউন্ডআপ, সানআপ ইত্যাদি) ৭৫-১৫০ মিলি ১০ লিটার পরিষ্কার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতক জমিতে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে। ঘাসের ঘনত্ব অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।
স্প্রে করার জন্য পরিষ্কার পানি ব্যবহার না করলে আগাছানাশকের কার্যকারিতা কমে যাবে। আগাছানাশক প্রয়োগের ৬ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টি হলে পুনরায় প্রয়োগ করতে হবে।
আগাছানাশক মেয়াদ উত্তীর্ণ কিনা দেখে নিতে হবে।
এই আগাছানাশকগুলো কোনোক্রমেই ফসলে ব্যবহার করা যাবে না নতুবা ফসল মারা যাবে। এগুলো শুধু উপরিস্তরের ঘাস মারার জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ফালি চাষ : ফালি চাষ হলো যে লাইনে বীজ পড়বে শুধু সে স্থানটুকু পিটিওএস মেশিনে সরু করে চাষ করে সরাসরি বীজ বপন করা হয় এবং বাকি অংশ অকর্ষিত থেকে যায়। এ পদ্ধতিতে ফলনের কোনো ঘাটতি হবে না বরং অকর্ষিত অংশের মাটি পর্যাপ্ত রস সংরক্ষণ করবে। ফালি চাষের ক্ষেত্রে পিটিওএস মেশিনের ৪৮টি ফাল খুলে প্রতি লাইনে মুখোমুখি করে ৪টি ফাল এমনভাবে সংযুক্ত করা হয় যার ফলে শুধু সরু করে লাইনটুকু চাষ হয়ে থাকে। এভাবে ৬ লাইনের প্রতিটিতে ৪টি করে মোট ২৪টি ফাল সংযুক্ত করা হয়। ফালি চাষ সাধারণত অকর্ষিত জমিতে করা হয়। জমিতে আগাছা থাকলে অনির্বাচিত আগাছানাশক ৫-৭ দিন আগে প্রয়োগ করে পিটিওএস মেশিন চালিয়ে ফালি চাষ করা হয়। এখানে স্বল্প চাষের মতো করে উপরিস্তরের আগাছা দমন করতে হবে।
ভালো বীজ বাছাই : ভালো বীজ ব্যবহার করলে ধানের ফলন শতকরা ১০-১৫ ভাগ বেশি পাওয়া যায়। পরিপুষ্ট, সুস্থ দাগ ও পোকামুক্ত, সমান আকৃতির এবং শতকরা ৮০ ভাগ গজাতে সক্ষম বীজ ১০-১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে ছেঁকে নিয়ে ছায়ায় শুকিয়ে নিয়ে বীজ বপন করে নিতে পারেন।
বীজ হার : ইনক্লাইনড প্লেট সংযুক্ত পিটিওএস দ্বারা বীজ বুনলে প্রতি বিঘায় ৩.৫-৪.০ কেজি বীজের প্রয়োজন পড়বে। যদি ফ্লুটেড টাইপ সংযুক্ত পিটিওএস মেশিন হয় তবে বীজের পরিমাণ হবে বিঘাপ্রতি ৪.০-৫.০ কেজি।
পিটিওএস মেশিন প্রস্তুতকরণ ও বীজ বপন পদ্ধতি : বীজ বপনের পূর্বে পিটিওএস মেশিনটি ঠিকঠাক আছে কিনা তা পরীক্ষা করে নিতে হবে। ফালি চাষ করতে চাইলে বপন যন্ত্রের ৪৮টি ফাল খুলে নিয়ে প্রতিটি লাইনে ৪টি করে মুখোমুখিভাবে লাগিয়ে নিতে হবে। এভাবে ৬ সারিতে মোট ২৪টি ফালের প্রয়োজন হবে।
প্রথমে বীজ বপন হার অনুযায়ী বীজ হার নির্ধারণ বা ক্যালিব্রেশন করে নিতে হবে। এ ছাড়া প্রতি লিনিয়ার মিটারে ৩০-৪০টি বীজ পড়লে বুঝতে হবে বীজ হার সঠিক রয়েছে। সব বীজনল দিয়ে সমান হারে বীজ পড়ছে কিনা তা অবশ্যই ঠিক করে নিতে হবে। নতুবা লাইনগুলো পাতলা অথবা ঘন দেখাবে।
জমিতে জোঁ অবস্থায় পাওয়ার টিলার চালিত বীজ বপন যন্ত্র বা পিটিওএস মেশিনটি চালিয়ে বীজ বপন করতে হবে। জমি অধিক শুকনা হলে বীজ গজাবে না তাই বীজ বপনের পূর্বে হালকা সেচ দিয়ে জোঁ অবস্থা আসলে বীজ বুনতে হবে। আর জমিতে রস বেশি থাকলে জোঁ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বীজ ২-৩ সেমি. (মোটামোটি ১ ইঞ্চি) গভীরে বপন করতে হবে। তবে জমির রসভেদে বীজ পড়ার গভীরতা কম বা বেশি করে নিতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০ সেমি. (৮ ইঞ্চি) ঠিক করে নিতে হবে।
লাইন সোজা রাখার জন্য জমির যে পাশের আইল সোজা রয়েছে সে পাশ দিয়ে শুরু করতে হবে। আইল সোজা না থাকলে রশি দিয়ে সোজা করে নিতে হবে। লাইন সোজা রাখলে বিভিন্ন পরিচর্যায় সুবিধা হবে এবং সুন্দর দেখাবে। বীজ বোনা শেষ হলে জমির মুড়ি ভালোভাবে মেরে দিতে হবে।
মেশিন চালানোর সময় লক্ষ্য রাখতে হবে, বীজ লিভার চালু আছে কিনা বা ঠিকভাবে বীজ পড়ছে কিনা। নতুবা সারি বাদ বা গ্যাপ দেখা দিবে। চারা বের হওয়ার পর পরই এরূপ লাইন বাদ বা গ্যাপ দেখা দিলে দেরি না করে হাত দিয়ে বীজ বুনে দিতে হবে।
সার ব্যবস্থাপনা : শুকনো বপন পদ্ধতির জন্য ইউরিয়া ব্যতীত অন্যান্য সারের পরিমাণ হবে রোপা ধানের মতো, তবে ইউরিয়া ২০% বেশি ব্যবহার করতে হবে। সবটুকু ইউরিয়া এবং এমওপি সারের তিনভাগের এক ভাগ ব্যতীত অন্যান্য সব সার ধান বপনের সময় প্রয়োগ করতে হবে। সারের মাত্রা মৌসুম, মাটির উর্বরতা এবং ধানের জাতভেদে কমবেশি হয়ে থাকে, তবে প্রতি বিঘার (৩৩ শতক) জন্য ইউরিয়া ২৫-৩৬ কেজি, টিএসপি ১০-১৫ কেজি, এমওপি ১৪-১৮ কেজি, জিপসাম ১০-১২ কেজি এবং জিঙ্ক সালফেট ১.৫ কেজি। বীজ বপনের ২ সপ্তাহ পর থেকে কাইচ থোড় শুরুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত মোট চারবার নাইট্রেজেন সার প্রয়োগ করতে হবে। মোট ইউরিয়া সারের শতকরা ২০ ভাগ বীজ বপনের ১৪-২০ দিনের মধ্যে ১ম কিস্তি, ৩০ ভাগ বপনের ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে ২য় কিস্তি, ৩০ ভাগ বপনের ৪৫-৫০ দিনের মধ্যে ৩য় কিস্তি এবং বপনের ৬০-৭৫ দিনের মধ্যে অথবা আসার ৫-৭ দিন আগে ৪র্থ কিস্তি ইউরিয়াসহ বাকি এক ভাগ এমওপি প্রয়োগ করতে হবে।
বীজ বপনপরবর্তী আগাছা দমন ব্যবস্থাপনা
বীজ বপনের অন্তত ৩০-৪০ দিন পর্যন্ত ধান ক্ষেত আগাছামুক্ত রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, সময়মত ও সঠিক পদ্ধতিতে আগাছা দমন করতে না পারলে বোনা ধানের ফলন ৭০-৮০ ভাগ কমে যেতে পারে। তাই ছিটিয়ে বপন হোক কিংবা পিটিওএস মেশিনে বপন হোক উভয় ক্ষেত্রে সফলতা নির্ভর করবে আগাছা দমনের উপর। আগাছা দমনের জন্য নিম্নোক্ত ধাপ অনুসরণ কেরতে হবে-
বীজ বপনের ১-২ দিনের মধ্যে প্রি-ইমার্জেন্স (ঘাস গজানোর আগে) আগাছানাশক পেন্ডিমিথালিন গ্রুপের ঔষধ যেমন পানিডা ৪০০ মিলি/৩৩ শতক জমিতে ভালভাবে স্প্রে করে মাটি ভিজিয়ে দিতে হবে।
বীজ বপনের ১৫-২৫ দিন পর পোস্ট-ইমার্জেন্স (ঘাস গজানোর পর) আগাছানাশক যেমন-প্রুন/ক্রিস (বিসপাইরিব্যাক সোডিয়াম) ৩০ গ্রাম বা ৩০ মিলি /৩৩ শতক। যদি ভাদলা জাতীয় আগাছা বেশি থাকে তবে প্রুন বা গ্রানাইট এর সাথে সানরাইস (ইথক্সিসালফিউরান) ১৫ গ্রাম/৩৩ শতক মিশিয়ে স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া জায়। পোস্ট-ইমার্জেন্স আগাছানাশকের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে মাটিতে উপযুক্ত রস বা ছিপছিপে পানি থাকা আবশ্যক। এরপরেও কিছু আগাছা দেখা দিলে ৪০-৪৫ দিনে হাত দিয়ে আগাছা তুলে ফেলতে হবে।
সেচ ব্যবস্থাপনা : সরাসরি ধান বপনে (আমন) সাধারণত বৃষ্টির পানি দিয়ে হয়ে যায়। তবে লক্ষ রাখতে হবে যেন শীষ বের হওয়ার সময় এবং দানা গঠনের সময় পানির ঘাটতি না হয়। আকাশের বৃষ্টি না হলে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। মাটিতে চুল-চেরা ফাটল দেখা দিলে পানি সেচের ব্যবস্থা নিতে হবে। এভাবে ৩-৫টি সেচের প্রয়োজন হতে পারে। ফসলের কুশির সময় (বীজ বোনার ৩০-৪৫ দিন পর) এবং দানা গঠনের সময় মাটির উপরের স্তর (০-১৫ সেমি) সবসময় জোঁ অবস্থায় রাখা প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজন বুঝে সেচ দিতে হবে।
শুকনো জমিতে সরাসরি বীজ বপনের (উঝজ) মাধ্যমে ধান উৎপাদন প্রযুক্তিটি সাশ্রয়ী, লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব। সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে এ দেশে ধান উৎপাদনে টেকসই উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
লেখক : ১পোস্ট ডক্টরাল ফেলো, কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা বিশেষজ্ঞ, মোবাইল : ০১৭২৩৯১৬৬৭৪, ই-মেইল : ংযধৎরভ.ধযসবফ@পমরধৎ.ড়ৎম, ২বিশেষজ্ঞ, কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা গবেষণা এবং সম্প্রসারণ, ওজজও মোবাইল : ০১৭১৮৬১৫৭২৫,