কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ০২:৩৭ PM

মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় আমন ধান-আলু-ভুট্টা ফসলধারার সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: মাঘ সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ২০-০১-২০২৬

মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় আমন ধান-আলু-ভুট্টা ফসলধারার সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা
কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ মোবারক হোসেন
সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা (Integrated Nutrient Management, INM) হলো জৈব ও অজৈব উভয় ধরনের পুষ্টির উৎসের সম্মিলিত ব্যবহার, যাতে ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা যায়। এটি একটি সামগ্রিক পদ্ধতি যেখানে রাসায়নিক সার, জৈবসার, সবুজসার ও জীবাণু উৎসের সমন্বয় ঘটে। ফলে পুষ্টি সরবরাহের সাথে মাটিতে পুষ্টির ভারসাম্য পুনঃস্থাপন করে এবং ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ ও দীর্ঘমেয়াদে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে পারে। একক সার ব্যবস্থার তুলনায় ওঘগ ব্যবহারে ফলন ১.৩% থেকে ৬৬.৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। সুতরাং খাদ্য চাহিদা পূরণ ও পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্য পূরণে এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আমন ধান-আলু-ভুট্টা ফসলধারায় ওঘগ এর প্রয়োজনীয়তা : বাংলাদেশে আমন ধান-আলু-ভুট্টা উত্তরাঞ্চলের একটি জনপ্রিয় ধারা। এ ধরনের নিবিড় ফসলধারার ফলে মাটি থেকে নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম প্রভৃতি পুষ্টির চাহিদা ও নিষ্কাশন এত বেশি যে মাটির স্বাভাবিক মজুদ দ্রুত কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই কৃষকরা এসব চাহিদা পূরণে শুধু রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন। এতে বেশ কিছু পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি রয়ে যায় এবং ক্রমাগত ব্যবহারে মাটির জৈব পদার্থ কমে যায়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে ফলন স্থায়ীভাবে বাড়ছে না, বরং কোথাও কোথাও হ্রাস পাচ্ছে। শুধু ইউরিয়া নির্ভর চাষাবাদে মাটিতে সালফার ও জিঙ্কের মতো অণুপুষ্টির ঘাটতি লক্ষ করা গেছে, যা ফলন ও গুণমানের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এই ফসলধারায় বছরে তিনটি প্রধান ফসল উৎপাদন হয়। এর ফলে-
মাটির জৈব পদার্থ দ্রুত হ্রাস পায়; জমিতে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও জিঙ্কের ঘাটতি দেখা দেয়; মাটির অম্লতা ও লবণাক্ততা বাড়ে; পানি ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পায়, যা সেচের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
এ প্রেক্ষাপটে আমন ধান-আলু-ভুট্টা ধারায় মাটি স্বাস্থ্য রক্ষা ও স্থায়ী উৎপাদন বজায় রাখতে ওঘগ এর কোনো বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে ফসল কর্তৃক নিষ্কাশিত পুষ্টি বিভিন্ন উৎস থেকে পূরণ করা হয় এবং মাটির ভৌত ও রাসায়নিক গুণাবলি বজায় রাখা সম্ভব হয়। একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গেছে, ধান-আলু-ভুট্টা ধারায় রাসায়নিক সারের সঙ্গে পোল্ট্রি লিটার ৩ টন/হে. হারে মিলিয়ে প্রয়োগ না করলে মাটির উর্বরতা বজায় রাখা কঠিন। সুতরাং, এই ফসলধারায় ওঘগ প্রয়োগ করা কেবল মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার্থেই নয়, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থেও অত্যন্ত জরুরি।
ওঘগ উপাদানসমূহ এবং তাদের ভূমিকা : ওঘগ এর মূল উপাদানগুলো হলো রাসায়নিক সার, জৈবসার, সবুজসার এবং জীবাণু সার যা মিলিতভাবে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও ফসলের পুষ্টিচাহিদা পূরণে অবদান রাখে।
রাসায়নিক সার: ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম, জিঙ্ক সালফেট ইত্যাদি সরাসরি ফসলের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। যথোপযুক্ত মাত্রায় এসব সার প্রয়োগ করলে সঠিক ফলন পাওয়া যায়। তবে এসব সারের সুষম মাত্রা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ যাতে মাটিতে কোনো উপাদানের ঘাটতি বা অতিরিক্ততা না হয়। রাসায়নিক সারের অতিনির্ভরতা মাটির গুণাগুণ হ্রাস করে, তাই এটি জৈব উপাদানের সাথে ভারসাম্য করে ব্যবহার করাই ওঘগ এর মূলনীতি।
জৈবসার : গোবর, কম্পোস্ট, পোল্ট্রি লিটার, ভার্মিকম্পোস্ট ইত্যাদি জৈবসার মাটির জৈব পদার্থের মাত্রা বাড়ায় এবং বিভিন্ন পুষ্টি সরবরাহ করে। জৈবসার ব্যবহারে মাটির গঠন উন্নত হয়, মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা ও বায়ু চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং মাটিতে উপকারী অণুজীবের কার্যকলাপ বাড়ে। উদাহরণস্বরূপ, পোল্ট্রি সারের প্রয়োগ মাটির কার্বন ও নাইট্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং মাটির কাঠামোকে উন্নত করে।
সবুজসার : ধৈঞ্চা, সেসবানিয়া চাষ করে তা নির্দিষ্ট পর্যায়ে চাষ দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলে মাটিতে উল্লেখযোগ্য জৈব পদার্থ ও নাইট্রোজেন যুক্ত হয়, মাটির জৈব পদার্থের ঘাটতি পূরণ হয় এবং পরবর্তী ফসলের জন্য পুষ্টির যোগান তৈরি হয়। আমন ধান চাষের ক্ষেত্রে বর্ষার আগে স্বল্পমেয়াদি ধৈঞ্চা সবুজসার হিসেবে ব্যবহার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এটি মাটির নাইট্রোজেন বাড়িয়ে আমন ধানের ফলন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সবুজ সারের আরেকটি সুবিধা হলো এটি মাটির কাঠামো ও পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা পরবর্তী ফসল যেমন আলু বা ভুট্টার ফলনে সহায়ক হয়।
জীবাণু সার : উপকারী অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়া/শ্যাওলা মাটিতে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। যেমন: রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া ডাল ফসলের শিকড়ে বায়ুম-লের নাইট্রোজেন ধরে রাখে, অ্যাজোটোব্যাক্টর বা ব্লু-গ্রিন এলগি (অ্যাজোলা) ধানের জমিতে নাইট্রোজেন যোগায়, এবং ফসফেট দ্রবীকরণকারী ব্যাকটেরিয়া মাটির অদ্রব্য ফসফরাসকে উদ্ভিদের গ্রহণযোগ্য রূপে পরিণত করে। এগুলো ব্যবহারে রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরতা কমে, দীর্ঘমেয়াদে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে পুষ্টি সরবরাহ সম্ভব হয়।
ফসলভিত্তিক ওঘগ প্রয়োগ কৌশল : আমন ধান-আলু-ভুট্টা ধারায় প্রতিটি ফসলেই ওঘগ প্রয়োগ করা যেতে পারে। ধান রোপণের আগে জমিতে ধৈঞ্চা চাষ করে মাটিতে মিশিয়ে দিলে মাটির জৈব পদার্থ ও নাইট্রোজেনের মাত্রা বাড়ে যা ধানের বৃদ্ধি বাড়াবে। এছাড়া ধানের জমিতে আজোলা শ্যাওলা নাইট্রোজেনের যোগান দেয়। প্রতি মৌসুমে ধান কাটার পর অবশিষ্ট খড়কে পুড়িয়ে না ফেলে মাটিতে মিশিয়ে দিলে তা পরবর্তী আলু ফসলের জন্য জৈব পদার্থ সরবরাহ করবে। ইউরিয়া তিন কিস্তিতে দেয়া এবং সঙ্গে ফসফরাস, পটাশ ও প্রয়োজনীয় অণুপুষ্টি (যেমন জিঙ্ক) সুষম হারে প্রয়োগ করতে হবে। গোবর/কম্পোস্ট মূল জমি প্রস্তুতের সময় মাটির সাথে মিশিয়ে দিলে ফলন বৃদ্ধি পাবে সাথে মাটির স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।
আলুর জমি প্রস্তুতের সময় পর্যাপ্ত পচা গোবর/কম্পোস্ট/পোল্ট্রি লিটার মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, আলু রোপণের আগে প্রতি হেক্টরে ৩ টন পোল্ট্রি লিটার ও প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার দিলে আলুর ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। জৈব ও রাসায়নিক সারের এই সমন্বয় আলুর আকৃতি ও গুণগত মান উন্নত করে। ফসল তোলার পর মাটিতে অবশিষ্ট পুষ্টি ভুট্টা চাষের জন্য সহায়ক হয়। আলুর জন্য নাইট্রোজেন ও পটাশিয়ামের পর্যাপ্ত সরবরাহের দিকে জোর দিতে হবে, কেননা এসব উপাদানের অভাবে ফলন ও মান দুটোই কমে যায়। পাশাপাশি আলুর জমিতে ট্রাইকোডারমা ছত্রাক ব্যবহার করে মাটিবাহিত রোগ কমানো ও পুষ্টি বাড়ানো যায়।
ভুট্টার জন্য প্রচুর নাইট্রোজেন এবং পর্যাপ্ত ফসফরাস, পটাশিয়াম দরকার হয়। আলু তোলার পর জমিতে গোবর/কম্পোস্টের কিছু অংশ পড়ে থাকলে তা ভুট্টার কাজে লাগে। ভুট্টা বপনের সময় বেসাল ডোজ হিসেবে কিছু জৈব সার মাটিতে মিশিয়ে রাসায়নিক সার প্রয়োজন অনুসারে ভাগ ভাগ করে দিলে ফলন ভাল হয়। এক গবেষণায় শুধু রাসায়নিক সারের তুলনায় পোল্ট্রি সার ও রাসায়নিক সারের সমন্বয়ে প্রতি হেক্টরে ৬-৭ টনের বেশি ফলন পাওয়া গেছে। একই জমিতে একটানা ভুট্টা চাষ করলে নাইট্রোজেন ও পটাশ দ্রুত কমে যায় । তাই প্রতি তিন বছরে মাটি পরীক্ষা করে সার এবং শতাংশে চার কেজি হারে ডলোচুন প্রয়োগ করতে হবে। ভুট্টার সাথে ডাল জাতীয় ফসল অন্তর্ভুক্ত করলে মাটিতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন যুক্ত হবে। ভুট্টার অবশিষ্টাংশ মাটিতে মিশিয়ে দিলে মাটির জৈব পদার্থ বজায় থাকবে।
কৃষকের জন্য সুপারিশ ও নীতিগত দিক নির্দেশনা
মাটি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সারের মাত্রা নির্ধারণ করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মাটি পরীক্ষাগারগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং সুলভ সার সুপারিশ সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। মাটির স্বাস্থ্য কার্ড বা অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে কৃষককে সহজে নির্দেশনা প্রদান করা যেতে পারে। সঠিক জ্ঞান প্রয়োগের ফলে “অনুমানভিত্তিক” সার ব্যবহারের বদলে প্রয়োজন মাফিক ভারসাম্যপূর্ণ সার প্রয়োগে ফলন বাড়বে, উৎপাদন খরচ কমবে এবং মাটির স্বাস্থ্যে ঠিক থাকবে।
গ্রামীণ পর্যায়ে বড় আকারে কম্পোস্ট/ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে হবে। গবাদি পশুর গোবর ও পোল্ট্রি লিটারের ব্যবস্থাপনার জন্য স্থানীয় সরকার ও কৃষি বিভাগ সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারে । কৃষকদের নিজেদের খামারেই জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেয়া যেতে পারে। সরকারিভাবে কম্পোস্ট বা জৈবসারের মাননিয়ন্ত্রণ ও সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা চালু করলে বাজারে ভেজালমুক্ত কম্পোস্ট/জৈবসার পাওয়া নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি, ফসলের অবশিষ্টাংশ মাটিতে মিশিয়ে দেয়া বা বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের স্লারি সার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ফসলের আগে-পরে বিশেষ করে ধান লাগানোর পূর্বে ধৈঞ্চা/সেসবানিয়া/ডাল ফসলের অবশিষ্টাংশ মাটিতে মিশিয়ে সবুজসার তৈরি করতে উৎসাহিত করতে হবে। এতে অতিরিক্ত রাসায়নিক নাইট্রোজেনের প্রয়োজন কমবে এবং মাটির জৈব পদার্থ স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পাবে। ফসলাবশেষ পুড়িয়ে ফেলা নিরুৎসাহিত করতে আইনগত ও প্রচারণামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, কারণ পুড়িয়ে ফেললে মাটির জৈব উপাদান নষ্ট হওয়ার সাথে পরিবেশ দূষণও ঘটে। এর পরিবর্তে অবশিষ্টাংশ মাটিতে মিশিয়ে বা আংশিক পচিয়ে জমিতে মেশাতে হবে ।
জীবাণু সার যেমন রাইজোবিয়াম, আজোলা, অ্যাজোটোব্যাক্টর, পিএসবি ইত্যাদিও ব্যবহার বাড়াতে কৃষক পর্যায়ে প্রদর্শনী প্লট ও প্রশিক্ষণ চালু করা দরকার। সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে উন্নতমানের জীবাণু সার উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। জীবাণু সার ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন খরচ কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা বাড়ে এ বার্তা প্রচার করতে হবে। প্রতিটি উপজেলায় কিছু “মডেল কৃষক” তৈরি করা যেতে পারে যারা জীবাণু সার ব্যবহার করে সুফল পাবেন এবং অন্যদের উৎসাহিত করবেন।
ওঘগ সম্পর্কে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রশিক্ষণ কর্মশালা, কৃষক মাঠ স্কুল এবং পরামর্শ সেবা বাড়াতে হবে। ‘মাটির ডাক্তার’ নামে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কৃষক বা উদ্যোক্তা তৈরি করে গ্রামের মাঝে মাটির স্বাস্থ্য পরামর্শ সেবা সম্প্রসারণ করতে হবে। তারা স্থানীয়ভাবে মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে সার ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দিতে পারবেন। পাশাপাশি, কৃষকদের মধ্যে ওঘগ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রাপ্ত সুফলগুলো প্রচার করতে হবে।
রাসায়নিক সারের মতোই জৈব ও জীবাণু সারে ভর্তুকি প্রদান করা যেতে পারে, যাতে কৃষক অর্থনৈতিকভাবে উৎসাহিত হন। ডিএই’র মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়নে ওঘগ সংক্রান্ত বিশেষ ক্যাম্পেইন চালু করা যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এর সুফল কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হলেও, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা গ্রহণ করতে চান না। এজন্য অতিরিক্ত প্রণোদনা ও ভর্তুকি অতি জরুরি।
প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে মাটির স্বাস্থ্য ও ওঘগ চর্চাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষকরা যেন প্রচলিত একমুখী চাষাবাদ থেকে সরে এসে বিজ্ঞানভিত্তিক সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থার মাধ্যমে আমন ধান-আলু-ভ্ট্টুা ধারার দিকে অগ্রসর হতে পর্যাপ্ত সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও উৎসাহ পান সেই বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন নিশ্চিত করতে হবে।
সমন্বিত পুষ্টি ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের নিবিড় কৃষি ব্যবস্থায় মাটি স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতা ধরে রাখার এক অনন্য কৌশল। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি ফলন ও কৃষকের আয় বৃদ্ধি, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। প্রয়োজন কেবল সুষ্ঠু নীতি সহায়তা ও কৃষক পর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়ন। এপথে সকল অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগই আমাদের ভবিষ্যৎ কৃষিকে সমৃদ্ধ ও মজবুত করতে পারে।

লেখক : ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বাংলাদেশ গম ও ভ্ট্টুা গবেষণা ইনস্টিটিউট, নশিপুর, দিনাজপুর-৫২০০, মোবাইল : ০১৫৭৭-৩৬৯২৫৭, ইমেইল : mobarak.hossain@bwmri.gov.bd

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন