কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫ এ ০৫:৩১ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: অগ্রহায়ণ সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৬-১১-২০২৫
মাটির আর্তনাদ
মুন্সী আবু আল মো. জিহাদ
প্রাণের শুরু আমার থেকেই, আমার মাঝেই ইতি
তিনভাগ জলরাশির সাথে একভাগ মাটির বিস্তৃতি
সেই মাটিতে কৃষিকাজ আর ফল-ফসলের বাহার
প্রাণিকুলের ক্ষুধা মেটায়, জোগায় সবার আহার
মৃত্তিকা আজ বলছে ডেকে শোনো হে মানবকুল
বৈরিতা কেন আমার সাথে, কি করেছি ভুল?
বুকের পাঁজর ছিন্ন করে বিধাঁও বিষের শেল
কেতাবি তার নাম দিয়েছ ডিপ টিউবওয়েল
দিনে দিনে নিচ্ছ শুষে, দিচ্ছিও তো বেশ
পুনঃসঞ্চারের আশায় সদা, থাকি নির্ণিমেষ
কিঞ্চিৎ তার সুযোগ মেলে, পানি অনুপ্রবেশ মেলা ভার
বিস্তর মাঠ, জলাশয়, ঘাট দাওনি তো কিছুই ছাড়
ইট পাথরে সমান হারে আচ্ছাদিত ভূ-উপরিতল
কোথায় আমার ধূলিকণা, কোথায় শ্রাবণ ঢল?
কৃষক ভাইয়ের আলতো ছোঁয়ায় চলতো লাঙল বুকে
গুণেমানে ভরা সোনার ফসল বিলিয়ে দিতাম সুখে
এখন চলে কলের দানব, আলতো পরশ নাই
কোথা গেল সেই হালের বলদ, ট্রাক্টর পেল ঠাঁই
রাক্ষুসে জেদ, করে মাটি ভেদ, সাথে কি ভীষণ শব্দ
নিরুপায় আমি, নির্বাক আমি, কণ্ঠ আমার স্তব্ধ
পরিমিত ছিল রাসায়নিক সার, জৈবসারে ছিলাম সিক্ত
সুষম সারের অসম প্রয়োগে উর্বরতার দুহাত এখন রিক্ত
সব মৌসুমে শুধু চাই আর চাই, অর্থ লাভের ঝোঁক
লাগে যত সার, কর ব্যবহার, মাটির যা হয় হোক
এই যদি তবে মাটির প্রতি তোমাদের অভিপ্রায়
প্রকৃতি হারাবে ভারসাম্য আর উৎপাদন শূন্যের কোঠায়
টেকসই কৃষি, লাগসই প্রযুক্তি যতই আসুক পরে
মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখা চাই বিশ্বজনের তরে
শুনতে কি পাও মাটির কান্না, বুঝতে পারো ভাষা?
সুস্বাস্থ্য আর উর্বর পরিবেশ টিকিয়ে রাখার আশা
হৃদয় মাঝে যে সুর বাজে, আশা জাগানিয়া
“সজাগ দৃষ্টি, করবে সৃষ্টি পরম মিথস্ক্রিয়া”
লেখক : বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট, নশিপুর, দিনাজপুর। মোবাইল : ০১৬৮০৩২৬০২৫,