কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫ এ ১০:১৩ PM

বাংলাদেশে সুইট সরগমের রয়েছে অপার সম্ভাবনা

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: শ্রাবণ সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৫-০৭-২০২৫

  বাংলাদেশে সুইট সরগমের রয়েছে অপার সম্ভাবনা 
মো. আবু সাঈদ১  সাইফুল ইসলাম২ ড. গাজী মো. আকরাম হোসেন৩
সুইট সরগম জলবায়ুর বিরুপ প্রভাব (খরা, বন্যা, তাপ ও জাতভেদে লবণাক্ততা) সহনশীল একটি ঘাসজাতীয় ফসল যার বৈজ্ঞানিক নাম comSorghum bicolor. এর বীজ যেমনি সুস্বাদু তেমনি এর সিরাপ মিষ্টি খাবার তৈরিতে সারা বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত হয়। কা-ের রস থেকে জৈব জ্বালানি ইথানল এবং কা- থেকে চিনি, গুড়, গোখাদ্য, কাগজসহ বহু রপ্তানি পণ্য তৈরি করা যায়। বাংলাদেশে অপরিচিত ফসল হলেও এ ফসলটির রয়েছে অপার সম্ভাবনা। বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও খাদ্য তালিকায় মিষ্টি খাবার যেমন- কোমল পানীয়, কেক, মিষ্টি ও মিষ্টিজাত খাবার গ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় চিনি বা গুড়ের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। মাথাপিছু ১৩ কেজি চিনি ও গুড় ভোগ অনুযায়ী ১৬ কোটি ৯৪ লাখ মানুষের জন্য বছরে ২২ লাখ ২ হাজার ২০০ টন চিনি ও গুড়ের প্রয়োজন কিন্তু বাংলাদেশে চিনির উৎপাদন মাত্র ৩১,০০০ টন এবং গুড় উৎপাদন ৪ লাখ ৫০ হাজার টন।  অতএব, নিরুপায় হয়েই আমাদেরকে চিনি আমদানি করতে হয় প্রায় ১৭ লাখ ২১ হাজার টন। বাংলাদেশে প্রায় ৯১,০০০ হেক্টর চাষষোগ্য জমি অনাবাদি হিসেবে পড়ে আছে। এর মধ্যে রয়েছে চর, হাওর, লবণাক্ত, খরা, পাহাড়ি এলাকা। এসব চাষযোগ্য অনাবাদি এলাকার যদি এক তৃতীয়াংশও সুইট সরগম চাষ করা যায় তবে তা থেকে বছরে তিন মৌসুমে প্রায় ৪ লাখ টন সিরাপ ও ১ লাখ টন শস্য আহরণ সম্ভব। সামগ্রিক বিবেচনায় সুইট সরগম হতে পারে এক অপার সম্ভাবনাময় ফসল। 
বৈশিষ্ট্য : উচ্চ সালোকসংশ্লেষণ ক্ষমতাসম্পন্ন (ঈ৪)ফসল; পরিপক্ব সুইট সরগম গাছের ওজন অনুপাতে প্রায় ৭৫ ভাগ কা-, ১০ ভাগ পাতা, ৫ ভাগ বীজ এবং ১০ ভাগ মূল রয়েছে; উচ্চতা ৪ ফিট থেকে ১৩ ফিটেরও অধিক হয়ে থাকে; জাত ও ফলনভেদে ব্রিক্স ১৬-২৩% হয়ে থাকে; সিরাপের ব্রিক্স ৬৮-৭৬%; কা-ের গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৪০-৫০ টন; বীজের গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ১.৫-২ টন; রস আহরণের পরিমাণ হেক্টরপ্রতি ১৮০০০-২৭০০০ লিটার; সিরাপ আহরণের পরিমাণ হেক্টরপ্রতি ৪০০০-৬০০০ লিটার; গুড় আহরণের পরিমাণ হেক্টরপ্রতি ২-৪ টন। 
সারণি ১: প্রতি ১০০ গ্রাম সরগম সিরাপে পুষ্টি উপাদান
খাদ্য ও পুষ্টিগুণ বিবেচনায় সুইট সরগম সিরাপের কোন জুড়ি নেই। বাংলাদেশে চিনি ও গুড়ের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন মিষ্টান্ন যেমন- পিঠা, পায়েস, সন্দেশ ও মিষ্টিজাত খাবার তৈরিতে এর ব্যবহার হতে পারে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এক্ষেত্রে একদিকে যেমন চিনির আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে, অন্য দিকে ভেজাল চিনি ও গুড়ের বিকল্প হিসেবে জনগণ এ সিরাপ গ্রহণ করবে। কৃত্রিম উপায়ে তৈরি ক্ষতিকর জ্যাম, জেলি ও ভেজাল মধুর বিকল্প হিসেবে মানুষ পাউরুটি, রুটি দিয়ে অধিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ সুইট সরগম সিরাপকে খাদ্য তালিকায় স্থান দিতে পারে নির্দ্বিধায়।
সুজলা-সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদেরই সোনার দেশ বাংলাদেশ। এদেশের মাটি ও জলবায়ু মিষ্টি সরগম চাষাবাদের জন্য উপযোগী। বাংলাদেশের জামালপুর, শেরপুর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, পাবনা, বাগেরহাট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় মাত্র ৪০০০ হেক্টর জমিতে সরগম চাষাবাদ করা হয় যেখান থেকে ৩২০০ টন সরগম দানা শস্য পাওয়া যায়। যদি সরগম চাষাবাদ এলাকা বৃদ্ধি করা যায় তবে একই সাথে সিরাপ, ইথানল, দানাশস্য ও গোখাদ্য উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হবে। এক্ষেত্রে গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। লেখক : ১বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ২ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ৩মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, মৃত্তিকা ও পুষ্টি বিভাগ, বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঈশ্বরদী-৬৬২০, পাবনা। মোবাইল : ০১৭১২৫৫৫৪৬৬, ইমেইল : ধনঁংধুববফ১৫০২@মসধরষ.পড়স
 
 
ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন