কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬ এ ১০:৪৯ AM

প্রশ্নোত্তর

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: চৈত্র সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৫-০৩-২০২৬

প্রশ্নোত্তর

রুপালী সাহা

জনাব মোঃ মকবুল হোসেন, উপজেলা : কুমারখালী, জেলা : কুষ্টিয়া।
প্রশ্ন : পোকা শসার পাতা খেয়ে জালের মতো করে ফেলছে, কী করণীয়?
উত্তর : শসার বিটল পোকা পাতা খেয়ে জালের মতো করে। পোকা কচিপাতা ও ডগা আক্রমণ করে এবং ওই সব অংশ খেয়ে গাছ নষ্ট করে।
এ পোকা থেকে রক্ষা পেতে ক্ষেতের আশপাশের আগাছা নষ্ট করতে হবে। হাতজাল দিয়ে পোকা ধরে মেরে ফেলতে হবে। পাতার ওপর ছাই ছিটিয়ে সাময়িকভাবে দমন করা যায়। চারা বের হওয়ার পর থেকে ২০-২৫ দিন পর্যন্ত মশারির জাল দিয়ে চারাগুলো ঢেকে রাখতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে প্রতি লিটার পানিতে যে কোনো একটি কীটনাশক সাইপারমেথ্রিন-১ মিলি, মিপসিন/সপসিন-২ গ্রাম, সেফিন-২ গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। সবজি সংগ্রহের অন্তত ১৫ দিন আগে কীটনাশক স্প্রে করা বন্ধ রাখতে হবে।
জনাব মোঃ আনারুল হক, উপজেলা : দৌলতপুর, জেলা : খুলনা।
প্রশ্ন : পটলের পাতায় ক্ষত সৃষ্টি হয়ে পাতা শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। কী করতে হবে?
উত্তর: পটলের এনথ্রাকনোজ রোগ ঈড়ষষবঃড়ঃৎরপষঁস ঝঢ়. নামক ছত্রাকজনিত রোগ। এ রোগ পটলের কা-, পাতা ও ফলে আক্রমণ করে এবং ক্ষত সৃষ্টি করে। ক্ষেতের রঙ কালো বা বাদামি বর্ণের হয়, পরবর্তীতে কা- ও পাতা শুকিয়ে যায়।
রোগাক্রান্ত গাছ নষ্ট বা পুড়ে ফেলতে হবে। রোগমুক্ত গাছ থেকে শাখা-কলম (কাটিং) সংগ্রহ করতে হবে। শাখা কলম কার্বেনডাজিম (অটোস্টিন) ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে শোধন করতে হবে। রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানি প্রোপিকোনাজল (টিল্ট) ০.৫ মিলি বা ২ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ বা অটোস্টিন বা নোইন ১ মিলি মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
জনাব মোঃ আল ইমরান, জেলা : দিনাজপুর, উপজেলা : ঘোড়াঘাট।
প্রশ্ন : আমার কলার পাতার উপরে ছোট ছোট হলুদ এবং পাতার নিচে গোলাপি ছত্রাকের মতো দেখা যাচ্ছে। বয়স্ক পাতাগুলো মারা যাচ্ছে। করণীয় কী?
উত্তর : এটি করলার ডাউনি মিলডিউ রোগ (উড়হিবু গরহনষবি ড়ভ ইরঃঃবৎ মধৎফ)। এটি চংবঁফড় চবৎবহড়ংঢ়ড়ৎধ ঈঁনবহংরং নামক ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে। এই রোগ দেখা দিলে গাছে ম্যানকোজেব+ ফেনামিডন গ্রুপের ছত্রাকনাশক সিকিউর ১-২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে অথবা ম্যানকোজেব+মেটালাক্সিল গ্রুপের ছত্রাকনাশক ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে অথবা ম্যানকোজে গ্রুপের ছত্রাকনাশক ডাইথেন এম-৪৫, ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ৭ দিন অন্তর অন্তর ২-৩ বার শেষ বিকেলে স্প্রে করতে হবে।
জনাব মোঃ হানিফ ম-ল, জেলা : লালমনিরহাট, উপজেলা : কালীগঞ্জ
প্রশ্ন : কাঁকরোলের এক ধরনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পোকা ধরেছে, পোকা গাছের পাতা ও কচি কা-ের রস শুষে নিয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে, করণীয় কী?
সমাধান : কাঁকরোলের জাবপোকার আক্রমণে এমনটি হয়ে থাকে। আক্রমণ বেশি হলে ওসরফধপষড়ঢ়ৎরফ ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক এমিটাফ/টিডো/ এডমায়ার ০.৫-১ মিলি প্রতি লিটার পানিতে ইমিডাক্লোরোপিড +এবামেকটিন গ্রুপের রোহিব ৩-৫ গ্রাম/১৬ লিটার পানিতে অথবা এবামেকটিন+বেটা সাইপারমেক্সিন গ্রুপের কীটনাশক। একামাইট প্লাস ১ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে শেষ বিকেলে স্প্রে করতে হবে। স্প্রে করার ১৪ দিনের মধ্যে সবজি খাওয়া বা বাজারে বিক্রি করা যাবে না। এ ছাড়াও জৈব বালাই নিমবিসিডিন ২-৪ মিলি প্রতি লিটার পানিতে স্প্রে করা যেতে পারে।
জনাব মোঃ রাকিব হাসান, জেলা : রংপুর, উপজেলা : রংপুর সদর
প্রশ্ন : ধানের থোড় বা ছড়া ভেতরের দিকে মোচড়ে থাকে, বের হতে পারে না, করণীয় কী?
উত্তর : ধানের থোড় বা ছড়া ভেতরের দিকে মোচড়ে থাকা উফরা রোগের লক্ষণ। এটি কৃমিজনিত রোগ। এটি মাটি, রোগ আক্রান্ত নাড়া ও খড়ে থাকে। এ কৃমি ধানগাছের আগার কচি অংশের রস শুষে খায়, ফলে প্রথম পাতার গোড়ায় অর্থাৎ পাতা ও খোলের সংযোগস্থলে সাদা ছিটা ফোটা দাগের ন্যায় দেখা যায়। দাগ ক্রমেই বাদামি রঙের হয় এবং পরে দাগগুলো বেড়ে সম্পূর্ণ পাতাটা শুকিয়ে ফেলে।
এ রোগ দমনের জন্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ফসল কাটার পর আক্রান্ত ক্ষেতের নাড়া পুড়ে নষ্ট করতে হবে। পরবর্তী বছর ওই জমিতে ধান চাষ করা যাবে না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জাত ব্যবহার করতে হবে। আক্রান্ত ক্ষেতের পানি অন্য ক্ষেতে দেওয়া যাবে না। বছরের ১ম বৃষ্টির পর জমি চাষ দিয়ে ১৫-২০ দিন ফেলে রাখলে মাটি শুকিয়ে কৃমি মারা যায়। কেডুসাফস গ্রুপের কীটনাশক রাগবি ১০জি নামক দানাদার বালাইনাশক বিঘাপ্রতি ২ কেজি চাষের সময় ব্যবহার করতে হবে।
জনাব মোঃ শাহজাহান আলী, জেলা : নওগাঁ, উপজেলা : সাপাহার
প্রশ্ন : আমের গায়ে ফোস্কার মতো কালো দাগ দেখা যায়। করণীয় কী?
উত্তর : ঈড়ষষবঃড়ৎরপযঁস মষড়বড়ংঢ়ড়ৎরড়রফবং নামক ছত্রাকের আক্রমণে আমের অ্যানথ্রাকনোজ বা ফোস্কা রোগ হয়। আমের পাতা, বোঁটা, ডাল, পুষ্পমঞ্জরি ও ফলে এ রোগ আক্রমণ করে। পাতা ও ডালে বাদামি দাগ দেখা যায়। দাগগুলো পুরাতন হলে ফোস্কার মতা মনে হয়। পরে আক্রান্ত স্থান কালো হয়ে শুকিয়ে যায়। আম আক্রান্ত হলে ফল ঝরে যায়। এ রোগ দমনের জন্য আক্রান্ত অংশগুলো সংগ্রহ করে পুড়ে ফেলতে হবে। আম বাগান পরিষ্কার রাখতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জাত ব্যবহার করতে হবে। বছরে দু’বার সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে। রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি. প্রাপিকোনাজল (টিল্ট) বা ১ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম (অটোস্টিন বা নোইন) মিশিয়ে ১২-১৫ দিন অন্তর স্প্রে করতে হবে।

লেখক : সম্পাদক (অ.দা.), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন