কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ০২:২২ PM

প্রশ্নোত্তর

কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: ফাল্গুন সাল: ১৪৩২ প্রকাশের তারিখ: ১৫-০২-২০২৬

প্রশ্নোত্তর

রুপালী সাহা

কৃষক : জনাব মো: রমজান মিয়া, উপজেলা : রায়পুরা, জেলা : নরসিংদী
প্রশ্ন : ধানের পাতায় ডিম্বাকৃতির দাগ দেখা যাচ্ছে, যার মধ্যভাগ কিছুটা সাদা বর্ণের। করণীয় কি?
উত্তর : এটি ধানের ব্লাস্ট রোগ যা চুৎরপঁষধৎরধ মৎরংবয় নামক ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে। এ রোগ ধান গাছের ৩টি অংশে হয়ে থাকে যথা- পাতা, কা- এবং শীষ। এ রোগের জীবাণু প্রথমে পাতায় ছোট ছোট ডিম্বাকৃতির দাগ সৃষ্টি করে যা পরে দু’প্রান্তে লম্বা হয়ে চোখের মতো দেখায়। দাগের চারিদিকের প্রান্ত গাঢ় বাদামি রঙের হয় এবং মধ্যভাগ সাদা ছাই রঙের দেখায়। পরবর্তীতে অনেকগুলো দাগ একত্রে মিশে পুরো পাতা ঢেকে ফেলতে পারে। এ রোগ কা-ের গিঁট আক্রান্ত করে এবং কালো দাগ পড়ে। আক্রমণ বেশি হলে কা- ভেঙ্গে পড়ে। একইভাবে দুধ অবস্থায় শীষের গোড়ায় পচন দেখা দিতে পারে এবং আক্রমণ বেশি হলে শীষ ভেঙ্গে পড়ে। ফলে ধান চিটা হয়। এ রোগ প্রতিরোধের জন্য রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে এবং রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করতে হবে এবং রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করতে হবে। বীজ বপনের পূর্বে কার্বোক্সিন + থিরাম গ্রুপের প্রভেক্স-২০০ প্রতি কেজি বীজের সাথে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করে নিতে হবে। জমিতে পানি ধরে রাখতে হবে। সুষম সার ব্যবহার করতে হবে বিশেষ করে ইউরিয়া কম ও পটাশ বেশি কিস্তিতে ব্যবহার করতে হবে। রোগ দেখা দিলে অনুমোদিত ছত্রাকনাশক যেমন- টেবুকোনাজল+ট্রাইফ্লক্সিস্ট্রবিন গ্রুপের নাক্টিভো ৭৫ ডব্লিউ জি ০.৬ গ্রাম/খ অথবা ট্রাইসাইক্লাজোল গ্রুপের ট্রুপার ৭৫ ডব্লিউ জি ০.৬ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করা যেতে পারে।
কৃষক : জনাব মো: রমজান আলী, উপজেলা : মির্জাগঞ্জ, জেলা : পটুয়াখালী
প্রশ্ন : ঢেঁড়শ চাষের সময় ও সার প্রয়োগ সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : সারা বছরই চাষ করা যায়। তবে সাধারণত : গ্রীষ্মকালে এর চাষ করা হয়। ফাল্গুন-চৈত্র ও আশ্বিন-কার্তিক মাস বীজ বোনার উপযুক্ত সময়।
সার ব্যবস্থাপনা :
সার প্রয়োগের নিয়ম
জমি তৈরি করার সময় ইউরিয়া সার বাদে বাকি সব সার মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। সার মেশানোর ১০-১৫ দিন পর জমিতে ঢেঁড়সের বীজ বপন করতে হয়। ইউরিয়া সার সমান দু’ কিস্তিতে ওপরি প্রয়োগ করতে হয়। প্রথম কিস্তিতে চারা গজানোর ২০-২৫ দিন পর এবং দ্বিতয়ি কিস্তি চারা গজানোর ৪০-৫০ দিন পর।
কৃষক : জনাব মো: খাইরুল ইসলাম, উপজেলা : পাবর্তীপুর, জেলা : দিনাজপুর
প্রশ্ন : মুগ গাছের পাতায় হলুদ ও সবুজ রঙের ছোপ ছোপ মোজাইকের মতো দাগ পড়ছে। এর সমাধান কী?
উত্তর : এটি মুগের হলদে মোজাইক রোগ। সাদা মাছি এ রোগের ভাইরাস বহন করে। এ রোগের আক্রমণ দেখা দিলে ডাইমেথোয়েট গ্রুপের কীটনাশক ১ মিলি বা ইমিডাক্লোপিড গ্রুপের কীটনাশক ০.৫ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০-১২ দিন অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। রোগ মুক্ত বীজ ব্যবহার করতে হবে। রোগ সহনশীল জাত (বারি মুগ ৫/৬/৭/৮) বপন করতে হবে। আক্রান্ত ক্ষেত হতে বীজ সংগ্রহ করা যাবে না। আক্রান্ত গাছ ও বিকল্প পোষক সংগ্রহ করে পুড়ে ফেলতে হবে।
কৃষক : জনাব মো: হাবিবুর রহমান, উপজেলা : রানীনগর, জেলা : নঁওগা
প্রশ্ন : পটোলের কা- ফেঁটে আঁঠা বের হচ্ছে, কী করণীয়?
উত্তর : পটোলের গ্যামোসিস বা কা- ফাটা ও রস ঝরা হলো একটি ছত্রাকজনিত সমস্যা যেখানে গাছের কা- থেকে কষ বা আঠা ঝরে এবং বাকল ফেটে কষ পড়ে। আস্তে আস্তে গাছ নষ্ট হয়ে যায়। আক্রান্ত গাছ তুলে নষ্ট করতে হবে। রোগমুক্ত গাছ থেকে কাটিং সংগ্রহ করতে হবে। কাটিং ছত্রাকনাশক দ্বারা শোধন করে রোপণ করতে হবে। আক্রান্ত গাছে বর্দোপেষ্ট (১০০ গ্রাম তুঁত+১০০ গ্রাম চুন+১ লিটার পানি) লাগাতে হবে এবং ১% বর্দোমিকচার বা সানভিট ৪ গ্রাম স্প্রে করতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে রিডোমিল গোল্ড ২ গ্রাম বা সিকিউর ১ গ্রাম ৭-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।

লেখক : সম্পাদক (অ. দা.), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৭২৩৮১৬৫২২;

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন