কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৩ এ ০৪:৪৭ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: কার্ত্তিক সাল: ১৪৩০ প্রকাশের তারিখ: ১৫-১০-২০২৩
প্রশ্নোত্তর
কৃষিবিদ আকলিমা খাতুন
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
হাসানুল করিম, উপজেলা : নলছিটি, জেলা : ঝালকাঠী
প্রশ্ন : ‘হপার বার্ন’ কিভাবে বুঝতে পারবো? প্রতিকার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : বাদামি গাছফড়িং/কারেন্ট পোকা ধানের একটি মারাত্মক ক্ষতিকর পোকা। এ পোকা ধান গাছের গোড়ায় বসে রস শুষে খায়। ফলে গাছ পুড়ে যাওয়ায় বর্ণ ধারণ করে। আক্রান্ত ক্ষেতে বাজ পোড়ার মতো হপার বার্নের সৃষ্টি হয়।
আমন মৌসুমে আগস্ট মাসের শুরু থেকে নিয়মিত ধান গাছের গোড়া পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। পোকা থাকলে আক্রান্ত জমির পানি সরিয়ে দিয়ে ৭-৮ দিন জমি শুকনো রাখতে হবে।
আক্রান্ত জমিতে ২-৩ হাত দূরে দূরে বিলিকেটে সূর্যের আলো ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।
সঠিক দূরত্বে (সারি থেকে সারি ২০-২৫ সেমি. ও গুছি থেকে গুছি ১৫-২০ সেমি. লাইনে চারা রোপণ ও পদ্ধতি (১০ লাইন পরপর ১ লাইন ফাঁকা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
আলোক ফাঁদ ব্যবহার করা ও পরবর্তীতে নাড়া পুড়ে ফেলতে হবে।
জমির অধিকাংশ গাছে ৪টি ডিমওয়ালা পুর্ণবয়স্ক স্ত্রী পোকা বা ১০টি ছোট বাদামি গাছফড়িং দেখা গেলে অনুমোদিত কীটনাশক গাছের গোড়ায় দ্রুত স্প্রে করতে হবে।
বাদামি গাছফড়িং দমনে কার্যকরী কীটনাশক পাইমেট্রোজিন গ্রুপের ওষুধ পাইরাজিন ৭০ ডব্লিউ জি ৪ গ্রাম ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতক জমিতে স্প্রে করা অথবা আইসোপোকার্ব ৭৫ ডব্লিউপি (সপসিন/মিপসিন) = ০.২ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
মো: বজলুল হক, উপজেলা : কসবা, জেলা : ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
প্রশ্ন : সরিষা চাষের উপযুক্ত সময় ও উন্নত জাত সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : সরিষা বাংলাদেশের প্রধান ভোজ্যতেল ফসল। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে এর চাষাবাদ হয়। এটি একটি স্বল্পকালীন ফসল। বিভিন্ন জাতের সরিষা বীজে ৪০-৪৪% তেল থাকে। বিভিন্ন অঞ্চলের তারতম্য ও জমির জো অনুযায়ী যেসব জমিতে উফশী বোরো ধানের চাষ হয় সেসব জমিতে স্বল্পমেয়াদি সরিষা চাষ হয়। অধিকাংশ বীজ মধ্য আশ্বিন মধ্য কার্তিক মাস পর্যন্ত বপন করা যায়। সরিষার উন্নত জাতগুলো হলো বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৫, বারি সরিষা-১৭, বারি সরিষা-১৮ বিনা সরিষা-৪ ও বিনা সরিষা-৯, বিনা সরিষা -১০। বারি সরিষা ১৮ পরিমিত সার ও সেচ প্রয়োগে হেক্টরপ্রতি ১৮ মে.টন ফলন পাওয়া যায়। বিনা-৪ জাতের সরিষা উপযুক্ত ব্যবস্থাপনায় হেক্টরপ্রতি ১.৮৮-২.৫৫ মে. টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। বিনা সরিষা ৯ এর ফলন ১.৮ টন হেক্টর।
মো: নাজমুল, উপজেলা : শিবালয়, জেলা : মানিকগঞ্জ
প্রশ্ন : আনারসের জনপ্রিয় জাত এমডি-২ সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : ‘সুপার সুইট’ খ্যাত এমডি-২ আনারস ফিলিপাইনের একটি জাত। এটি অত্যাধিক চাহিদাসম্পন্ন অম্ল মধুর মিষ্টতায় (১৪% বিক্স)। দেশে প্রচলিত জাতের তুলনায় ৪ গুণ ভিটামিন ‘সি’ ছাড়াও ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘ কে’, ফসফরাস ও জিংক রয়েছে। বর্ষার পর অক্টোবর-নভেম্বর মাস চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। এ জাতের মুকুট ভাসা থাকায় ভক্ষণশীল অংশের পরিমাণ বেশি। সাকারের আকার অনুযায়ী ১২-১৬ মাসে উৎপাদিত হয়। প্রতিটি আনারস ১.৫-২ কেজি ওজনের হয়। ফলন গড়ে ৪০০০-৪৫০০ কেজি প্রতি বিঘায় তবে উপযুক্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ফলন প্রতি বিঘা ৮০০০-৯৫০০ কেজি হতে পারে।
মো: ইমরান হোসেন, উপজেলা : হরিরামপুর, জেলা : মানিকগঞ্জ।
প্রশ্ন : পুঁইশাকের পাতায় গোল গোল বাদামি দাগ পড়ে ও সমস্ত পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। দমন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : এটি একটি বীজবাহিত রোগ। বাতাস, বৃষ্টি ও সেচের পানি দ্বারা রোগটির জীবাণুর বিস্তার ঘটে। এটি পুঁইশাক পাতার দাদ রোগ নামে পরিচিত ও পবৎপড়ংঢ়ড়ৎধ নবঃরপড়ষধ নামক ছত্রাক দ্বারা সংঘটিত হয়।
আক্রান্ত পাতাগুলো তুলে নষ্ট করে ফেলতে হবে।
বপনের আগে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক (নোইন) দ্বারা শোধন করা প্রয়োজন। প্রতি কেজি বীজের জন্য ২.৫ গ্রাম ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে।
সুষম সার ব্যবহার ও পরিমিত সেচ প্রদান করতে হবে।
ছত্রাকনাশক ব্যবহারের আগে অব্যশই খাওয়ার উপযোগী পাতা তুলে নিতে হয়। স্প্রে করার ১ সপ্তাহ পর খাওয়ার জন্য পাতা সংগ্রহ করতে হবে।
সাওফা ফাতেমা, উপজেলা : রূপপুর, জেলা : নারায়ণগঞ্জ।
প্রশ্ন : লাউ ফসলের কৃত্রিম পরাগায়ন ব্যবস্থাপনা কিভাবে করতে পারি?
উত্তর : লাউয়ের পরাগায়ন প্রধানত মৌমাছি দ্বারা সম্পন্ন হয়। প্রাকৃতিক পরাগায়নের জন্য হেক্টরপ্রতি দু’টি মৌমাছির কলোনি স্থাপন করা প্রয়োজন। নানা কারণে লাউয়ের সব ফুলে প্রাকৃতিক পরাগায়ন ঘটে না এবং ফলন কমে যায়। হাত দিয়ে কৃত্রিম পরাগায়ন করেও লাউয়ের ফলন ৩০-৩৫% বৃদ্ধি করা সম্ভব। লাউয়ের ফুল ঠিক মতো রোদ পেলে দুপুরের পর ফোটা শুরু হয়ে রাত ৭-৮টা পর্যন্ত ফোটে। কৃত্রিম পরাগায়ন ফুল ফোটার দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত করা যায়। তবে পর দিন সকালে পরাগায়ন করলে ফল কম ধরে। কিন্তু ফুল ফোটার দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত যে কয়টা ফুলে পরাগায়ন হয় তার সবকটিতে ফল ধরে। কৃত্রিম পরাগায়নের নিয়ম হলো ফুল ফোটার পর পুরুষ ফুল ছিড়ে ফুলের পাঁপড়ি অপসারণ করা এবং ফুলের পরাগধানী (যার মধ্যে পরাগরেণু থাকে) আস্তে করে স্ত্রী ফুলের গর্ভমু-ে ঘষে দেয়া। একটি পুরুষ ফুল দিয়ে ২-৪টি স্ত্রী ফুলে পরাগায়ন করা যায়।
মো: আমজাদ মিয়া, উপজেলা : নবাবগঞ্জ, জেলা : ঢাকা।
প্রশ্ন : ফুলকপির চারার গোড়া কেটে দিচ্ছে। কী করণীয়?
উত্তর : কাটুইন পোকা পোকা রাতের বেলা চারা মাটি বরাবর কেটে দেয়। কাটুই পোকার আক্রমণে সকাল বেলা চারা মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ব্যবস্থাপনা
সকাল বেলা কেটে ফেলা চারার আশেপাশে মাটি খুঁড়ে পোকা বের করে মেরে ফেলতে হবে।
কেরোসিন (২-৩ লি:/হে:) মিশ্রিত পানি সেচ দেয়া প্রয়োজন।
জমি চাষ দিয়ে মাটি উলট-পালট করে পোকা নষ্ট করা যায়।
পাখি বসার জন্য জমিতে ডাল পুঁতে দেয়া প্রয়োজন।
জমিতে সন্ধ্যার সময় বিষটোপ ব্যবহার (১ কেজি চাউলের কুঁড়া/গমের ভুসির সাথে ২০ গ্রাম সেভিন কীটনাশক পানি/চিটাগুড়ের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা প্রয়োজন।
প্রতি লিটার পানিতে ক্লোরোপাইরিফস (ডার্সবান) ১.৫ মিলি হারে গাছের গোড়ায় ১০ দিন পরপর ৩ বার ব্যবহার করতে হবে।
লেখক : তথ্য অফিসার (পিপি), কৃষি তথ্য সার্ভিস,
খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৯১৬৫৬৬২৬২;
ই- মেইল : aklimadae@gmail.com