কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ এ ০৬:১৩ PM
কন্টেন্ট: কৃষি কথা মাস: ফাল্গুন সাল: ১৪৩১ প্রকাশের তারিখ: ১২-০২-২০২৫
প্রশ্নোত্তর
কৃষিবিদ ড. আকলিমা খাতুন
নিরাপদ ফসল উৎপাদনের জন্য আপনার ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ দমনে সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা অনুসরণ করুন।
জনাব মো: মমিনুল ইসলাম, উপজেলা : কিশোরগঞ্জ সদর, জেলা : কিশোরগঞ্জ
প্রশ্ন : তরমুজ চারার গোড়ার দিকে পানি ভেজা দাগ এবং শিকড় পচে যাচ্ছে এবং চারা নেতিয়ে পড়ে গাছ মারা যাচ্ছে, প্রতিকার কী?
উত্তর : এটি তরমুজের গোড়া পচা রোগ। এ রোগে আক্রান্ত চারার গোড়ার দিকে পানি ভেজা দাগ দেখা যায়। গোড়ায় সাদা ছত্রাকের জালি এবং অনেক সময় সরিষার মতো ছত্রাকের অনুবীজ পাওয়া যায়। শিকড় পচে যায় চারা নেতিয়ে পড়ে গাছ মারা যায়। স্যাঁতস্যেঁতে মাটি ও মাটির উপরিভাগ শক্ত হলে এ রোগের প্রকোপ বাড়ে। প্রতিকার হিসেবে পরিমিত সেচ ও পর্যাপ্ত জৈবসার প্রদান করা এবং পানি নিষ্কাশনের ভাল ব্যবস্থা রাখতে হবে। রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে ইপ্রোডিয়ন বা কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক যেমন- রোভরাল ২ গ্রাম বা ব্যাভিস্টিন ১ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করে মাটিসহ ভিজিয়ে দিতে হবে। এ ছাড়াও সরিষার খৈল ৩০০ কেজি হেক্টর হারে জমিতে প্রয়োগ করেও ভাল ফলাফল পাওয়া যায়। একই জমিতে বার বার তরমুজ চাষ হতে বিরত থাকতে হবে।
জনাব মো: রাজিব মিয়া, উপজেলা : মিরসরাই, জেলা : চট্টগ্রাম
প্রশ্ন : করলা গাছের পাতা কুঁকড়িয়ে যাচ্ছে এবং গাছ খাটো হয়ে যাচ্ছে, প্রতিকার কী?
উত্তর : এটি করলার লিফ কার্ল রোগ। এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাদা মাছি দ্বারা ভাইরাস এক গাছ হতে অন্য গাছে ছড়ায়। আক্রান্ত গাছ খর্বাকৃতি হয়। পাতার গায়ে ঢেউয়ের মতো ভাজের সৃষ্টি হয় এবং কুঁচকে যায়। বয়স্ক পাতা পুরু ও মচমচে হয়ে যায়। অতিরিক্ত শাখা প্রশাখা বের হয় এবং ফুল ফল ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। প্রতিকার হিসেবে আক্রান্ত গাছ সংগ্রহ করে ধ্বংস করতে হবে। ভাইরাসের বাহক পোকা দমনের জন্য ডায়মেথয়েট গ্রুপের টাফগর ৪০ ইসি বা ইমিডাক্লোরপিড গ্রুপের টিডো বা এসিফেট গ্রুপের এসাটাফ ৭৫ এসপি প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে বিকালে স্প্রে করতে হবে ১০ দিন পর পর ৩ বার এবং জমিতে সুষম সার ব্যবহার করতে হবে।
জনাব আলম মিয়া, উপজেলা : পীরগঞ্জ, জেলা : রংপুর
প্রশ্ন : আমের পাতায় দাগ দেখা যাচ্ছে এবং আমের মুকুল কাল হয়ে যাচ্ছে সাথে গুটিও ঝরে যাচ্ছে। এ অবস্থায় করণীয় কী?
উত্তর : এটি আমের এ্যানথ্রাকনোজ বা ফোস্কা রোগ নামে পরিচিতি। এই রোগ আম গাছের পাতা, বোঁটা, ডাল, পুষ্প মঞ্জরি ও ফলে আক্রমণ করে। পাতা ও ডালে বাদামি দাগ দেখা যায়। দাগগুলো পুরাতন হলে ফোস্কার মতো মনে হয়। আক্রান্ত স্থান কাল হয়ে শুকিয়ে যায়। আক্রান্ত ফলের গুটি ঝরে যায়। এক্ষেত্রে সময়মতো প্রুনিং করে গাছ ও বাগান পরিষ্কার রাখতে হবে। আক্রান্ত অংশ সংগ্রহ করে পুড়ে ফেলতে হবে। এই রোগ দেখা দিলে প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি টিল্ট (প্রোপিকোনাজল) বা ১ গ্রাম নোইন (কার্বোন্ডাজিম) বা ২ গ্রাম ডাইথেন এম-৪৫ (ম্যানকোজেব) মিশিয়ে ৭ দিন পর পর ৩-৪ বার স্প্রে করতে হবে।
জনাব আব্দুল আলীম, উপজেলা : ভালুকা, জেলা : ময়মনসিংহ
প্রশ্ন : চিচিঙ্গা চাষে শতক প্রতি বীজের পরিমাণ এবং মাদা তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : চিচিঙ্গা চাষের জন্য শতাংশ প্রতি ১৬-২০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। চিচিঙ্গার বীজ সরাসরি মাদায় বোনা যায়। এক্ষেত্রে প্রতি মাদায় কমপক্ষে ২টি বীজ বপন করতে হবে। তাছাড়া পলিব্যাগে (১০ী১২ সেমি.) ১৫-২০ দিন বয়সের চারা উৎপাদন করে নিলে বীজ কম নষ্ট হয়। চিচিঙ্গার জন্য ১.৫ মিটার দূরত্বে মাদা তৈরি করতে হবে। মাদায় বীজ বুনতে বা চারা রোপণ করতে হলে অন্তত ১০ দিন আগে মাদায় নির্ধারিত সার প্রয়োগ করে নিতে হবে। মাদার আয়তন হবে ৪০ী৪০ী৪০ সেমি.। চারা গজানোর পর একের অধিক গাছ তুলে ফেলতে হবে। বপনের আগে বীজ ২৪ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে নিলে বীজ তাড়াতাড়ি অঙ্কুরিত হবে।
জনাব প্রসান্ত কুমার, উপজেলা : বীরগঞ্জ, জেলা : দিনাজপুর
প্রশ্ন : ধানের পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে এবং ছড়া বের হতে পারছেনা, ভিতরে মোচড়ানো অবস্থায় থাকছে, কী করণীয়?
উত্তর : এটি ধানের কৃমিজনিত রোগ, উফরা রোগ নামে পরিচিত। এটি মাটি, নাড়া ও খড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। এ কৃমি ধান গাছের আগার কচি অংশের রস শুষে খায়, ফলে প্রথম পাতার গোড়ায় অর্থাৎ পাতা ও খোলের সংযোগস্থলে সাদা ছিটা ফোটা দাগের মতো দেখা যায়। সাদা দাগ ক্রমেই বাদামি রঙের হয় এবং পরে দাগগুলো বেড়ে সম্পূর্ণ পাতাটা শুকিয়ে ফেলে। ফলে অনেক সময় থোড় বা ছড়া বের হতে পারে না। অথবা ছড়া ভিতরে কুঁচকানো বা মোচড়ানো অবস্থায় থাকে। এ রোগ দমন করার জন্য ফসল কাটার পর আক্রান্ত ক্ষেতের নাড়া পুড়ে নষ্ট করতে হবে। বৎসরে ১ম বৃষ্টির পর জমি চাষ দিয়ে ১৫-২০ দিন ফেলে রাখলে কৃমি মারা যায়।
জনাব আলমগীর হোসেন, উপজেলা : বোদা, জেলা : পঞ্চগড়
প্রশ্ন : কাঁঠাল গাছে মুচি ছোট অবস্থায় পচে যাচ্ছে এবং ঝরে পড়তেছে। এ অবস্থায় করণীয় কী?
উত্তর : এটি কাঁঠালের একটি ছত্রাকজনিত রোগ। এ রোগের কারণে ছোট অবস্থায় মুচি পচে যায় এবং ঝরে পড়ে। এক্ষেত্রে আক্রান্ত মুচি ছিঁড়ে মাটিতে পুতে ফেলতে হবে। গাছ এবং গাছের নিচে জমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মুচি ধরার আগে ও পরে ১০ দিন পর পর ২-৩ বার বোর্দোমিকচার বা ম্যানকোজেব গ্রুপের ডায়থেন এম-৪৫ অথবা (ম্যানকোজেব+ মেটালঅক্সিল) গ্রুপের রিডোমিল গোল্ড প্রতি লিটার পানিতে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া টেবুকোনজল গ্রুপের ফলিকুর নামক ছত্রাকনাশক প্রতি ১০ লিটার পানিতে ৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে গাছে ফুল আসার পর থেকে ১৫ দিন পর পর ৩ বার স্প্রে করতে হবে।
জনাব হাবিবুর রহমান, উপজেলা : সিরাজদিখান, জেলা : মুন্সীগঞ্জ
প্রশ্ন : শসা গাছের পাতার উপরিভাগ সাদা পাউডারের মতো আবরণ দিয়ে ভরে গেছে। পাতা হলুদ হয়ে মারা যাচ্ছে। এ অবস্থায় করণীয় কী?
উত্তর : এটি শসার পাউডারি মিলডিউ রোগ এবং এটি ছত্রাকজনিত। এ ছত্রাকের আক্রমণে পাতা ও গাছের গায়ে সাদা পাউডারের মতো দাগ দেখা যায়, যা ধীরে ধীরে সমস্ত পাতায় ছড়িয়ে পড়ে। আক্রমণ বেশি হলে পাতা হলুদ বা কালো হয়ে মারা যায়। এক্ষেত্রে সালফার জাতীয় ছত্রাকনাশক (যেমন কুমুলাস ৪০ গ্রাম বা মনোভিট ২০ গ্রাম) অথবা কার্বেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক (যেমন- গোল্ডাজিম ৫ মিলি. বা কমপ্যানিয়ন ২০ গ্রাম) প্রতি ১০ লি. পানিতে মিশিয়ে ১০ দিন পর পর আক্রমণের শুরু থেকে মোট ২-৩ বার প্রয়োগ করতে হবে।
জনাব আরেফীন শিকদার, উপজেলা : সরিষাবাড়ী, জেলা : জামালপুর
প্রশ্ন : আমার আলু গাছের গোড়া এক ধরনের পোকা কেটে দিচ্ছে। আক্রমণে গাছ নষ্ট হয় এবং অনেক কীড়া আলু ছিদ্র করে দিচ্ছে।
উত্তর : এটি আলু কাটুই পোকার আক্রমণে হয়েছে। আক্রান্ত কাটা আলু গাছ দেখে তার কাছাকাছি মাটি উল্টে পাল্টে কীড়া খুঁজে সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে প্রতি লিটার পানির সাথে ক্লোরোপাইরিফস গ্রুপের কীটনাশক যেমন ডার্সবান ২০ ইসি ৫ মিলি হারে গাছের গোড়া ও মাটিতে স্প্রে করে ভিজিয়ে দিতে হবে। ১০ দিন পর পর ২-৩ বার শেষ বিকেলে স্প্রে করতে হবে। আলু লাগানোর ৩০-৪০ দিন পর স্প্রে করতে হবে। কাটুই পোকার উপদ্রব খুব বেশি হলে ফেরোমনট্রাপ ব্যবহার করতে হবে। পোকার সংখ্যা বেশি হলে ল্যামডা সাইহ্যালোথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক ১০ দিন পর পর ৩ বার ব্যবহার করুন।
জনাব কবির হোসেন, উপজেলা : সোনাগাজী, জেলা : ফেনী
প্রশ্ন : আমার কুল গাছের পাতার উপর সাদা সাদা ধূসর পাউডারের মতো দেখা যাচ্ছে এবং পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। করণীয় কী?
উত্তর : এটি কুল গাছের পাউডারি মিলডিউ রোগ এটি ঙরফরঁস ংঢ় নামক ছত্রাকের আক্রমণে হয়ে থাকে। আক্রমণ বেশি হলে প্রতি লিটার পানিতে প্রোপিকোনজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক টিল্ট ২৫০ ইসি ০.৫ মিলি মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পর পর ২-৩ বার শেষ বিকেলে স্প্রে করতে হবে। এ ছাড়াও বাগান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সুষম সার ব্যবহার করতে হবে এবং গাছের পরিত্যক্ত অংশ সংগ্রহ করে নষ্ট করে ফেলতে হবে।
লেখক : তথ্য অফিসার (উদ্ভিদ সংরক্ষণ), কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫। মোবাইল : ০১৯১৬৫৬৬২৬২; ই-মেইল : aklimadae@gmail.com